Tuesday, September 7, 2021

কী অত বিচার করা

আমার মোবাইলে মান্না দে 'ও আমার মন যমুনার' গাইছেন৷
আমার হাতের কাছে আধবাক্স উত্তম-হাসি পাওয়ারের হাইক্লাস মাইসোর-পাক৷
খাটের পাশেই এক বোতল জল, যে'টা আধঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে বের করা হয়েছে আর এখন ঘেমেনেয়ে নিখুঁত টেম্পারেচারে রয়েছে৷
নাকের কাছে খোকার গন্ধ আর বুকের কাছে পাশবালিশ৷
মাথার কাছে আধখোলা একটা জমজমাট বই, শেষের দিকে৷ দুম করে শেষ না হয়ে যায়, তাই ধীরেসুস্থে শেষের পাতাগুলোয় এগোতে হচ্ছে।
কাল সকালের অ্যালার্ম দেওয়ার নেই৷
এত ভ্যানতারা না কষে সোজাই বলে দিতে পারতাম;
আমিই সুপারম্যান৷

রিপোর্টনগরী



- সান্যাল, ক্যুইক৷ একটা ছোট রিপোর্ট চাই৷ অন দ্য মার্কেট প্রস্পেক্টস অফ আওয়ার নিউ প্রডাক্ট৷
- ওকে স্যর৷ ইয়ে, কত ছোট রিপোর্ট?
- নট মোর দ্যান আ পেজ৷ এক পাতার বেশি কেউ আজকাল পড়তে পারে না৷ হাফ পাতা হলে আরও ভালো।
- বেশ বেশ৷ তা কবে চাই?
- কবে কী৷ আজই৷ আধ ঘণ্টার মধ্যে৷
- বেশ৷ তা, প্রডাক্ট সম্বন্ধে কিছু ইনপুট যদি পাওয়া যেত স্যর..।
- অফকোর্স। এই ফাইলে সব আছে।
- এই ফাইলে?
- এই ফাইলে।
- এই ফাইলে অন্তত পাঁচশো পাতা রয়েছে তো।
- ছ'শো এগারো৷
- আধ পাতা লেখার জন্য ছ'শো পাতার ইনপুট? আধ ঘণ্টায়?
- কুড়ি মিনিটে হলে ভালো হয়।
- কিন্তু..।
- ব্রাইট ইয়ং চ্যাপদের মুখে কিন্তু শব্দটা বড্ড বেমানান সান্যাল।
- কিন্তু স্যর..।
- ক্যুইক৷ ক্যুইক। গেট গোয়িং৷ জানো তো সাইমন সাইনেক কী বলেছেন?
- কর্পোরেট কোটেশনে মোটিভেশন সইবে না স্যর৷ আমি রিপোর্টটা বানিয়ে আনছি।
- বাহ্। সাইমন সাইনেকের নামে বেশ কালীর মানতের স্ট্রেন্থ আছে দেখছি। কেমন হাতে গরম মোটিভেশন পেলে বলো..।
**
- সান্যাল, রিপোর্ট তো দিব্যি হয়েছে৷ কিন্তু এইসব প্রজেকশন আর নম্বর তো গুল। রিপোর্টে এত গুল দেওয়া কি ঠিক হল?
- গুল?
- ডাহা গুল৷ এক্কেবারে নির্জলা গুল। টেনিদাকেও লজ্জায় ফেললে দেখছি৷ এই সব নম্বরগুলো পেলে কোথা থেকে?
- কেন? আপনার দেওয়া ওইসব ইনপুট থেকে।
- আমার দেওয়া ইনপুট?
- ওই যে৷ ছ'শো পাতার ফাইল৷
- ও'তে এইসব সংখ্যা দেওয়া আছে?
- আলবাত৷ পেজ তিনশো বাইশ রেফার করে দেখুন..।
- সর্বনাশ! ওই ফাইলে এইসব নম্বর রয়েছে?
- আপনি জানতেন না?
- তোমায় কী বলেছিলাম সান্যাল? আজকাল মানুষের হাতে অত বাজে সময় নেই যে একপাতার বেশি পড়বে৷ আমি কি বোকা যে ওই ছ'শো পাতা পড়ে দেখব? আর তোমাকেও বলিহারি, এই ফাইল পুরো পড়তে গেলে?
- ও মা, আপনি তো ইনপুট হিসেবে দিলেন, কয়েক পাতা পড়ে দেখব না?
- তুমিও চাইলে আমিও দিলাম৷ প্রটোকল৷ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্র্যাক্টিস৷ কিন্তু দিলাম বলেই পড়তে হবে? তোমার লাজলজ্জা নেই ভাই সান্যাল? এই অ্যাটিচিউড নিয়ে তোমার কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে ভেবেছ?

সামান্য

স্টেজ ১ঃ
"অল্প ভাত, হাফ বাটি৷ অল্প ঝোল৷ অল্প তরকারি৷ ফিটনেসের দিখে নজর রেখেছি, বুঝলে তো"৷

স্টেজ ২ঃ
"খাওয়াদাওয়ার আধঘণ্টা পর সামান্য মিষ্টি কিছু হলে যেন ভালোই হয়৷ মানে, জরুরী নয়৷ তবে ওই যৎসামান্য হলে ক্ষতি কী৷ তা, সামান্য বোর্বোন বিস্কুট হলেই চলবে৷ এক পিস৷ তার বেশি নয়"।

স্টেজ ৩ঃ
" গল্প করতে করতে যা হয় আর কী৷ কোন ফাঁকে যে খান পাঁচেক ক্রিমবিস্কুট উড়ে গেল৷ আসলে এই জন্যেই এক পিস মিষ্টি থাকলেই ভালো, নয়ত ডজন ডজন বিস্কুট গিলেও তৃপ্তি পাওয়া যাবে না৷ বুদ্ধি করে মেপে খেতে হবে৷ এক পিস সন্দেশ, তা'তেই হবে৷ নয়ত বোর্বোন ক্যালামিটি ঘটে যাবে"।

স্টেজ ৪ঃ
"জোম্যাটোয় সন্দেশ দিচ্ছে৷ আর কী চাই৷ এক্কেবারে অল্প আনানো হোক৷ এক্কেবারে অল্প৷ পারলে আধখানা ভেঙে খাব'খন৷ তবে অর্ধেক কোনও রসের মিষ্টিও চেখে দেখা যেতেই পারে৷ ওই, পরিপূর্ণ তৃপ্তির জন্য যে'টুকু দরকার"৷

স্টেজ ৫ঃ
" না, না, না! কিছুতেই না৷ তিনটে সন্দেশ আর চারটে রসগোল্লা? তাও আবার অতগুলো ক্রিম বিস্কুটের পরে? জাস্ট ক্রিমিনাল৷ ক্রিমিনাল! আর একটাও নয়৷ একটাও নয়"।

স্টেজ ৬ঃ
"মুখটা কেমন বিস্বাদ ঠেকছে৷ বলছিলাম, স্টকে তালমিছরি আছে কি"?

সিলেকশন

- আমি অরূপ দত্ত।
- আমি সুনীল গাভাস্কার।
- আজ্ঞে?
- আপনার নাম জেনে আমাদের কী হবে?
- ও। সরি। আসলে ইন্টারভিউয়ের জন্য এসেছি তো..।
- কী ভাবলেন। আপনার নাম উত্তমকুমার বা হরিদেবপুর হলেই আপনাকে চাকরীতে বহাল করা হত?
- সরি।
- দেখুন। এপলজেটিক মানুষজনকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
- ওহ, না না। ঠিক সরি বলতে চাইনি..। আসলে..।
- ফের আমতা আমতা। আবার দু'নম্বর কাটা গেল।
- কত নম্বরের পরীক্ষা?
- বাহাত্তর।
- বাহাত্তর?
- অপছন্দ?
- না না। বাহাত্তর বেশ তো। তা, কত নম্বরে পাশ?
- সাতানব্বই।
- বাহাত্তরে সাতানব্বই পেতে হবে?
- গেল বছর একজন দু'শো বাইশ স্কোর করেছিল।
- ওহ।
- নার্ভাস লাগছে?
- অল্প।
- ফের নম্বর কাটা গেল।
- আর কাটবেন না প্লীজ।
- যে কাজের জন্য আবেদন করেছেন, সে'টা সম্বন্ধে পড়াশোনা করে এসেছেন?
- অবশ্যই। হপ্তাখানেক ধরে নিয়ম করে বিভিন্ন বই জার্নাল ঘেঁটে।
- আপনার দ্বারা হবে না, বুঝলেন। আপনি আসুন।
- এ কী স্যার! পড়াশোনা করে ভুল করেছি?
- বাদ দিন। আপনার স্ট্যাটিসটিকসে আগ্রহ আছে?
- থাকা উচিৎ কি?
- উম। হিসেব কষে পালটা প্রশ্নের বাতিক আছে দেখছি৷ ফের নম্বর কাটা গেল।
- কিন্তু শুনুন...।
- ইতিহাসে আগ্রহ আছে?
- আছে। নেই। আছে। মানে..নেই। মানে...।
- উফ! আপনি মশাই ডোবাবেন। মনের মধ্যে লজিক সাজাতে চেষ্টা করছেন দেখি। এহ্। আপনি যান মশাই। অকারণ সময় নষ্ট করে কী লাভ। নেক্সট ক্যান্ডিডেট প্লীজ।
- স্যার। চাকরীটা আমার বড় দরকার৷ বড্ড দরকার। আর একটা চান্স দিন।
- দেব?
- প্লীজ।
- একটা গুল মারুন।
- গ..গুল?
- কষিয়ে।
-মারাদোনা আমার মেসোমশাই।
- প্রমাণ কী?
- প্রমাণ? ইয়ে, মানে..। এ'টা গুল ছিল তো।
- ও মা। এই আপনার মিথ্যের দম? একটা বাড়তি প্রশ্নেই কুপোকাত?
- কিন্তু প্রমাণ যে সত্যিই নেই।
- প্রমাণে কী হয় অরূপ দত্ত?
- মানে, দুম করে একটা ক্লেম করে বসলাম। প্রমাণ না থাকলে কেমন দেখাবে না?
- ধুর। ও'সব নেকু বুদ্ধি নিয়ে এ চাকরী আপনার জুটবে ভেবেছেন? আপনি জানেন কলকাতার মনুমেন্ট দেখে সম্রাট অশোক 'তোফা' বলেছিলেন?
- হে হে হে হে।
- এমনভাবে হেসে আপনি কাকে ইনসাল্ট করছেন? কলকাতাকে? মনুমেন্টকে? সম্রাট অশোককে? উড়িষ্যাকে? বৌদ্ধ ধর্মকে?
- যাহ্। কী সব বলছেন?
- জুতিয়ে মুখ ভেঙে দেব শালা।
- মানে..।
- হারামজাদা!
- শুনুন..এমন অকারণ..।
- এখুনি সরি বল্ নয়ত জুতিয়ে কলকাতা থেকে বের করে দেব।
- সরি।
- গুড।
- এ'বার আমি আসি।
- কী! প্রমাণ করার দরকার পড়ল? মনুমেন্ট আর সম্রাট অশোকের গুল প্রমাণ করার দরকার পড়ল কি?
- না মানে..।
- কোনও রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া সৈনিক হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার না। এ চাকরী সবার জন্য নয়৷ কেমন? আসুন৷ নেক্সট ক্যান্ডিডেট প্লীজ।

বংপেন, ওয়ারেন হেস্টিংস এবং গুপ্তধন



প্রকাশকের অফিস থেকে ফোন।

- তন্ময়?
- বলুন।
- একটা জরুরী ব্যাপার!
- বংপেন ৭৫য়ের এই এডিশন শেষ?
- হে হে হে। রিল্যাক্স৷
- বংপেন আরও ৭৫য়ের এই এডিশন খতম?
- মুড়ি চপ নিয়ে বসেছি ভাই, অমন হাসিও না প্লীজ৷
- তা'হলে ওই জরুরী ব্যাপারটা..।
- বলছি৷ ব্যাপারটা ইয়ে..একটু কনফিডেনশিয়াল..।
- ও।
- গুপ্তধনের ব্যাপারে ইন্টারেস্ট আছে?
- ইয়ে, কীসের ব্যাপারে?
- গুপ্তধন৷ বাক্স বাক্স হীরে, বস্তা বস্তা স্বর্ণমুদ্রা..।
- হ্যাঁ মানে, সে তো বেশ রহিসি ব্যাপার৷
- ওয়াল্টার হ্যামন্ডের গুপ্তধন সম্বন্ধে কোনও দিন কিছু শুনেছ?
- ওয়াল্টার হ্যামন্ড? ওই নামটাই আমি শুনিনি৷
- স্বাভাবিক৷ কারণ তার নাম মুছে দেওয়া হয়েছে ইতিহাস থেকে৷ স্বয়ং হেস্টিংস তাকে মুছে সাফ করে দিয়েছেন৷
- হে..হেস্টিংস?
- ওয়ারেন হেস্টিংস৷ গভর্নর জেনারেল। এই ওয়াল্টার সাহেব হেস্টিংসের পার্সোনাল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছে বছর তিনেক৷ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের মানুষ৷ ভারী করিতকর্মা৷ অবশ্য, সরকারি দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে দেখলে সে নাম আর দেখতে পাওয়া যাবে না।
- হেস্টিংস৷ হ্যামন্ড৷ গুপ্তধন৷ কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে৷
- স্বাভাবিক৷ সহজে বুঝিয়ে দিই৷ এই ওয়াল্টার হ্যামন্ড সাহেব গুপ্তধনের হদিস পেয়েছিলেন। জগৎ শেঠের পরিবারের কেউ সে গুপ্তধন কোনও গোলমেলে জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন৷ ওয়াল্টার খুড়ো কী'ভাবে সে সম্পত্তির হদিস পেয়েছিলেন, সে'টা অবিশ্যি কেউ জানে না৷ কিন্তু সে'সব কথা তিনি হেঁয়ালি বেঁধে নিজের ডায়েরীতে লিখে গেছিলেন৷
- বটে৷
- ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরী হেস্টিংসের হাতে পড়ে৷ আর তারপর যা হয়৷ লোভে অন্ধ হয়ে ওয়াল্টার সাহেবকে সরিয়ে ফেললেন হেস্টিংস৷ ভাবলেন সমস্ত সোনাদানা নিজেই হজম করবেন। এমন কি সমস্ত সরকারি দলিল থেকেও ওয়াল্টার সাহেবের নাম উড়িয়ে দেওয়া হল৷ পাছে সেই গুপ্তধনের খবর ছড়িয়ে পড়ে৷ বহুদিন বন্দী রেখে শেষে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল ওয়াল্টারকে৷
- সে'সব আপনি জানলেন কোথা থেকে?
- কোতল হওয়ার আগে পর্যন্ত আধো-অন্ধকার কুঠুরিতে বসে অনেক হিজিবিজি লেখালিখি করে গেছেন ওয়াল্টার সাহেব৷ হেস্টিংসের বাপ-মা তুলে খিস্তি করেছেন এন্তার৷ নতুন করে গুপ্তধনের সংকেতও লিখে রেখে গেছেন৷ লিখেছেন নেটিভদের সম্বন্ধে তার অনেক মতামত৷ ভাবতে পারো যে ভদ্রলোক সে'সময় বসে প্রেডিক্ট করে গেছিলেন যে নেটিভরা একদিন ক্রিকেটের মাঠে সাহেবদের নাকে দড়ি দেবে?
- আরিব্বাস৷
- আর একটা ব্যাপার বলে গেছেন সাহেব তার দ্বিতীয় সেই ডায়েরিতে৷ তিনি নাকি নিশ্চিত যে হেস্টিংসের চোদ্দপুরুষের ক্ষমতা নেই সে গুপ্তধনের হেঁয়ালি ভেদ করার৷ ধুরন্ধর নেটিভরাই পারবে সে হেঁয়ালিতে দাঁত ফোঁটাতে৷
- সে ব্যাপারটা আপনি জানলেন কী করে?
- কারণ..কারণ সে ডায়েরি আমাদের অফিসে আছে৷
- অ্যাঁ?
- হ্যাঁ! অবশ্য ব্যাপারটা মাপা সিক্রেট৷ গুপ্তধন উদ্ধারের সম্ভাবনাটা যেহেতু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না..।
- সে তো বুঝলাম..কিন্তু হঠাৎ এ'সব কথা আমায় জানাচ্ছেন কেন..।
- বাধ্য হয়ে৷
- মানে?
- ওই ডায়েরিটা আমরা কয়েক কপি ছাপিয়েছিলাম৷ নিজেদের টীমের মধ্যে বিলি করব বলে৷ সবাই মিলে মগজ খাটিয়ে যদি ওয়াল্টার সাহেবের ধনসম্পত্তির খোঁজ পাওয়া যায়৷ ব্যাপারটা যেহেতু সেনসিটিভ তাই একটু গোপনীয়তা মেন্টেন করতেই হয়েছে৷ বংপেন ৭৫ আর বংপেন আরও ৭৫য়ের কয়েকটা বাড়িতে জ্যাকেট ছাপাখানায় পড়েছিল। কাজেই ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরিটা বইয়ের আকারে খানকুড়ি কপি ছেপে আমরা ওই বংপেনের মোড়কেই মুড়ে রেখেছিলাম৷ টপ সিক্রেট কোড আর কী৷
- ওহ, কিন্তু আমি তা'হলে..।
- একটা মাইনর সমস্যায় পড়া গেছে৷
- কীরকম?
- ইয়ে, ওই কয়েকদিন পর ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরি ছাপা বইগুলো তাক থেকে নামিয়ে বিলি করতে গিয়ে আকাশ থেকে পড়লাম৷ তাকে যেগুলো পড়ে রয়েছে সেগুলো বংপেনের মধ্যে বংপেনের লেখা৷ কী বিরক্তিকর! এ'দিকে ওই কুড়ি কপি ওয়াল্টার হ্যামন্ডের ডায়েরী বংপেনের জ্যাকেটে বাজারে চালান হয়ে গেছে৷ আমাদের শোরুমে রাখা তোমার বইগুলোতেই সে দুর্লভ ডায়েরির কপিগুলো নেই৷ ও'গুলো এখন খোলা বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷
- মাই গুডনেস!
- ক্যালামেটি ভাই৷ একেই বলে ক্রাইসিস। তা বলছিলাম, কেউ কি তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে? বংপেন ৭৫ বা বংপেন আরও ৭৫ কিনে তোমার লেখার বদলে কোনও হিজিবিজি ডায়েরি পেয়েছে বলে অভিযোগ করে?
- এখনও তেমন কোনও খবর পাইনি৷
- একটু চোখ কান খোলা রেখো ভায়া৷ গুপ্তধন বলে কথা৷ রিসেন্টলি যারা কিনছে তাদের মধ্যেই হয়ত কেউ..।
- বুঝেছি৷ কোনও খবর পেলেই আমি জানাব। কেমন?
***
ইদানিং যদি কেউ 'বংপেন ৭৫' অথবা 'বংপেন আরও ৭৫' কিনেছেন? বা কেনার প্ল্যান করছেন? আর সে বই হাতে পেয়ে পাতা উলটে যদি বংপেনের গল্পের বদলে ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরি আর গুপ্তধনের হদিস খুঁজে পান, আমায় প্লীজ ইনবক্সে জানাবেন৷ আমি ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরির কপি সংগ্রহ করে আপনার হাতে আদত বংপেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব৷
আর, বই দু'টো কেনার লিঙ্ক কমেন্টে দেওয়া রইল৷ ইয়ে, মানে বুঝতেই পারছেন৷ ব্যাপারটা একটু সিরিয়াস।