Tuesday, September 7, 2021

সিলেকশন

- আমি অরূপ দত্ত।
- আমি সুনীল গাভাস্কার।
- আজ্ঞে?
- আপনার নাম জেনে আমাদের কী হবে?
- ও। সরি। আসলে ইন্টারভিউয়ের জন্য এসেছি তো..।
- কী ভাবলেন। আপনার নাম উত্তমকুমার বা হরিদেবপুর হলেই আপনাকে চাকরীতে বহাল করা হত?
- সরি।
- দেখুন। এপলজেটিক মানুষজনকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
- ওহ, না না। ঠিক সরি বলতে চাইনি..। আসলে..।
- ফের আমতা আমতা। আবার দু'নম্বর কাটা গেল।
- কত নম্বরের পরীক্ষা?
- বাহাত্তর।
- বাহাত্তর?
- অপছন্দ?
- না না। বাহাত্তর বেশ তো। তা, কত নম্বরে পাশ?
- সাতানব্বই।
- বাহাত্তরে সাতানব্বই পেতে হবে?
- গেল বছর একজন দু'শো বাইশ স্কোর করেছিল।
- ওহ।
- নার্ভাস লাগছে?
- অল্প।
- ফের নম্বর কাটা গেল।
- আর কাটবেন না প্লীজ।
- যে কাজের জন্য আবেদন করেছেন, সে'টা সম্বন্ধে পড়াশোনা করে এসেছেন?
- অবশ্যই। হপ্তাখানেক ধরে নিয়ম করে বিভিন্ন বই জার্নাল ঘেঁটে।
- আপনার দ্বারা হবে না, বুঝলেন। আপনি আসুন।
- এ কী স্যার! পড়াশোনা করে ভুল করেছি?
- বাদ দিন। আপনার স্ট্যাটিসটিকসে আগ্রহ আছে?
- থাকা উচিৎ কি?
- উম। হিসেব কষে পালটা প্রশ্নের বাতিক আছে দেখছি৷ ফের নম্বর কাটা গেল।
- কিন্তু শুনুন...।
- ইতিহাসে আগ্রহ আছে?
- আছে। নেই। আছে। মানে..নেই। মানে...।
- উফ! আপনি মশাই ডোবাবেন। মনের মধ্যে লজিক সাজাতে চেষ্টা করছেন দেখি। এহ্। আপনি যান মশাই। অকারণ সময় নষ্ট করে কী লাভ। নেক্সট ক্যান্ডিডেট প্লীজ।
- স্যার। চাকরীটা আমার বড় দরকার৷ বড্ড দরকার। আর একটা চান্স দিন।
- দেব?
- প্লীজ।
- একটা গুল মারুন।
- গ..গুল?
- কষিয়ে।
-মারাদোনা আমার মেসোমশাই।
- প্রমাণ কী?
- প্রমাণ? ইয়ে, মানে..। এ'টা গুল ছিল তো।
- ও মা। এই আপনার মিথ্যের দম? একটা বাড়তি প্রশ্নেই কুপোকাত?
- কিন্তু প্রমাণ যে সত্যিই নেই।
- প্রমাণে কী হয় অরূপ দত্ত?
- মানে, দুম করে একটা ক্লেম করে বসলাম। প্রমাণ না থাকলে কেমন দেখাবে না?
- ধুর। ও'সব নেকু বুদ্ধি নিয়ে এ চাকরী আপনার জুটবে ভেবেছেন? আপনি জানেন কলকাতার মনুমেন্ট দেখে সম্রাট অশোক 'তোফা' বলেছিলেন?
- হে হে হে হে।
- এমনভাবে হেসে আপনি কাকে ইনসাল্ট করছেন? কলকাতাকে? মনুমেন্টকে? সম্রাট অশোককে? উড়িষ্যাকে? বৌদ্ধ ধর্মকে?
- যাহ্। কী সব বলছেন?
- জুতিয়ে মুখ ভেঙে দেব শালা।
- মানে..।
- হারামজাদা!
- শুনুন..এমন অকারণ..।
- এখুনি সরি বল্ নয়ত জুতিয়ে কলকাতা থেকে বের করে দেব।
- সরি।
- গুড।
- এ'বার আমি আসি।
- কী! প্রমাণ করার দরকার পড়ল? মনুমেন্ট আর সম্রাট অশোকের গুল প্রমাণ করার দরকার পড়ল কি?
- না মানে..।
- কোনও রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া সৈনিক হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার না। এ চাকরী সবার জন্য নয়৷ কেমন? আসুন৷ নেক্সট ক্যান্ডিডেট প্লীজ।

বংপেন, ওয়ারেন হেস্টিংস এবং গুপ্তধন



প্রকাশকের অফিস থেকে ফোন।

- তন্ময়?
- বলুন।
- একটা জরুরী ব্যাপার!
- বংপেন ৭৫য়ের এই এডিশন শেষ?
- হে হে হে। রিল্যাক্স৷
- বংপেন আরও ৭৫য়ের এই এডিশন খতম?
- মুড়ি চপ নিয়ে বসেছি ভাই, অমন হাসিও না প্লীজ৷
- তা'হলে ওই জরুরী ব্যাপারটা..।
- বলছি৷ ব্যাপারটা ইয়ে..একটু কনফিডেনশিয়াল..।
- ও।
- গুপ্তধনের ব্যাপারে ইন্টারেস্ট আছে?
- ইয়ে, কীসের ব্যাপারে?
- গুপ্তধন৷ বাক্স বাক্স হীরে, বস্তা বস্তা স্বর্ণমুদ্রা..।
- হ্যাঁ মানে, সে তো বেশ রহিসি ব্যাপার৷
- ওয়াল্টার হ্যামন্ডের গুপ্তধন সম্বন্ধে কোনও দিন কিছু শুনেছ?
- ওয়াল্টার হ্যামন্ড? ওই নামটাই আমি শুনিনি৷
- স্বাভাবিক৷ কারণ তার নাম মুছে দেওয়া হয়েছে ইতিহাস থেকে৷ স্বয়ং হেস্টিংস তাকে মুছে সাফ করে দিয়েছেন৷
- হে..হেস্টিংস?
- ওয়ারেন হেস্টিংস৷ গভর্নর জেনারেল। এই ওয়াল্টার সাহেব হেস্টিংসের পার্সোনাল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছে বছর তিনেক৷ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের মানুষ৷ ভারী করিতকর্মা৷ অবশ্য, সরকারি দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে দেখলে সে নাম আর দেখতে পাওয়া যাবে না।
- হেস্টিংস৷ হ্যামন্ড৷ গুপ্তধন৷ কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে৷
- স্বাভাবিক৷ সহজে বুঝিয়ে দিই৷ এই ওয়াল্টার হ্যামন্ড সাহেব গুপ্তধনের হদিস পেয়েছিলেন। জগৎ শেঠের পরিবারের কেউ সে গুপ্তধন কোনও গোলমেলে জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন৷ ওয়াল্টার খুড়ো কী'ভাবে সে সম্পত্তির হদিস পেয়েছিলেন, সে'টা অবিশ্যি কেউ জানে না৷ কিন্তু সে'সব কথা তিনি হেঁয়ালি বেঁধে নিজের ডায়েরীতে লিখে গেছিলেন৷
- বটে৷
- ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরী হেস্টিংসের হাতে পড়ে৷ আর তারপর যা হয়৷ লোভে অন্ধ হয়ে ওয়াল্টার সাহেবকে সরিয়ে ফেললেন হেস্টিংস৷ ভাবলেন সমস্ত সোনাদানা নিজেই হজম করবেন। এমন কি সমস্ত সরকারি দলিল থেকেও ওয়াল্টার সাহেবের নাম উড়িয়ে দেওয়া হল৷ পাছে সেই গুপ্তধনের খবর ছড়িয়ে পড়ে৷ বহুদিন বন্দী রেখে শেষে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল ওয়াল্টারকে৷
- সে'সব আপনি জানলেন কোথা থেকে?
- কোতল হওয়ার আগে পর্যন্ত আধো-অন্ধকার কুঠুরিতে বসে অনেক হিজিবিজি লেখালিখি করে গেছেন ওয়াল্টার সাহেব৷ হেস্টিংসের বাপ-মা তুলে খিস্তি করেছেন এন্তার৷ নতুন করে গুপ্তধনের সংকেতও লিখে রেখে গেছেন৷ লিখেছেন নেটিভদের সম্বন্ধে তার অনেক মতামত৷ ভাবতে পারো যে ভদ্রলোক সে'সময় বসে প্রেডিক্ট করে গেছিলেন যে নেটিভরা একদিন ক্রিকেটের মাঠে সাহেবদের নাকে দড়ি দেবে?
- আরিব্বাস৷
- আর একটা ব্যাপার বলে গেছেন সাহেব তার দ্বিতীয় সেই ডায়েরিতে৷ তিনি নাকি নিশ্চিত যে হেস্টিংসের চোদ্দপুরুষের ক্ষমতা নেই সে গুপ্তধনের হেঁয়ালি ভেদ করার৷ ধুরন্ধর নেটিভরাই পারবে সে হেঁয়ালিতে দাঁত ফোঁটাতে৷
- সে ব্যাপারটা আপনি জানলেন কী করে?
- কারণ..কারণ সে ডায়েরি আমাদের অফিসে আছে৷
- অ্যাঁ?
- হ্যাঁ! অবশ্য ব্যাপারটা মাপা সিক্রেট৷ গুপ্তধন উদ্ধারের সম্ভাবনাটা যেহেতু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না..।
- সে তো বুঝলাম..কিন্তু হঠাৎ এ'সব কথা আমায় জানাচ্ছেন কেন..।
- বাধ্য হয়ে৷
- মানে?
- ওই ডায়েরিটা আমরা কয়েক কপি ছাপিয়েছিলাম৷ নিজেদের টীমের মধ্যে বিলি করব বলে৷ সবাই মিলে মগজ খাটিয়ে যদি ওয়াল্টার সাহেবের ধনসম্পত্তির খোঁজ পাওয়া যায়৷ ব্যাপারটা যেহেতু সেনসিটিভ তাই একটু গোপনীয়তা মেন্টেন করতেই হয়েছে৷ বংপেন ৭৫ আর বংপেন আরও ৭৫য়ের কয়েকটা বাড়িতে জ্যাকেট ছাপাখানায় পড়েছিল। কাজেই ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরিটা বইয়ের আকারে খানকুড়ি কপি ছেপে আমরা ওই বংপেনের মোড়কেই মুড়ে রেখেছিলাম৷ টপ সিক্রেট কোড আর কী৷
- ওহ, কিন্তু আমি তা'হলে..।
- একটা মাইনর সমস্যায় পড়া গেছে৷
- কীরকম?
- ইয়ে, ওই কয়েকদিন পর ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরি ছাপা বইগুলো তাক থেকে নামিয়ে বিলি করতে গিয়ে আকাশ থেকে পড়লাম৷ তাকে যেগুলো পড়ে রয়েছে সেগুলো বংপেনের মধ্যে বংপেনের লেখা৷ কী বিরক্তিকর! এ'দিকে ওই কুড়ি কপি ওয়াল্টার হ্যামন্ডের ডায়েরী বংপেনের জ্যাকেটে বাজারে চালান হয়ে গেছে৷ আমাদের শোরুমে রাখা তোমার বইগুলোতেই সে দুর্লভ ডায়েরির কপিগুলো নেই৷ ও'গুলো এখন খোলা বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷
- মাই গুডনেস!
- ক্যালামেটি ভাই৷ একেই বলে ক্রাইসিস। তা বলছিলাম, কেউ কি তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে? বংপেন ৭৫ বা বংপেন আরও ৭৫ কিনে তোমার লেখার বদলে কোনও হিজিবিজি ডায়েরি পেয়েছে বলে অভিযোগ করে?
- এখনও তেমন কোনও খবর পাইনি৷
- একটু চোখ কান খোলা রেখো ভায়া৷ গুপ্তধন বলে কথা৷ রিসেন্টলি যারা কিনছে তাদের মধ্যেই হয়ত কেউ..।
- বুঝেছি৷ কোনও খবর পেলেই আমি জানাব। কেমন?
***
ইদানিং যদি কেউ 'বংপেন ৭৫' অথবা 'বংপেন আরও ৭৫' কিনেছেন? বা কেনার প্ল্যান করছেন? আর সে বই হাতে পেয়ে পাতা উলটে যদি বংপেনের গল্পের বদলে ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরি আর গুপ্তধনের হদিস খুঁজে পান, আমায় প্লীজ ইনবক্সে জানাবেন৷ আমি ওয়াল্টার সাহেবের ডায়েরির কপি সংগ্রহ করে আপনার হাতে আদত বংপেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব৷
আর, বই দু'টো কেনার লিঙ্ক কমেন্টে দেওয়া রইল৷ ইয়ে, মানে বুঝতেই পারছেন৷ ব্যাপারটা একটু সিরিয়াস।

ছবি বিশ্বাস



ছবির ভালো-মন্দ বুঝিনা। সুন্দর-অসুন্দর বুঝি না। আমার ফ্রেম-বোধ আমার ভাষাজ্ঞানের মতই গোলমেলে। আলোর জ্ঞানের দিক দিয়ে আমার মনের মধ্যে প্রকাণ্ড একদলা অন্ধকার। আই-এস-ও, অ্যাপারচার; এই'সব শুনলে পেটের মধ্যে গুড়ুম গুড়ুম শব্দ হয়। ইন্সটাগ্র্যাম ঘেঁটে দমাদম ফিল্টার চাপিয়ে দিয়ে ফটোর গায়ে জুনের গরমে কম্বল চাপিয়ে থাকি।
তবু।
আমার ছবি তোলার অন্ত নেই৷ বিশেষত গাড়ি সিগনালে দাঁড়ালেই অজস্র সাবজেক্ট খুঁজে পাই। আদতে সে'সব আগাগোড়াই গুরুত্বহীন। তবু, সুযোগ পেলেই রাস্তায় মোবাইল ক্যামেরা বের করে ঘ্যাচাং-ঘচ। রাস্তার পাশে ফুল, মেট্রোর পিলারের গায়ে মধুবনী মাছের ঝাঁক, অথব অন্ধকার আলো করে হুস করে বেরিয়ে যাওয়া এক উজ্জ্বল লাল টোটো; ক্যামেরার কবল থেকে কারুরই রক্ষে নেই।
ক্যামেরা বাটনে ক্লিক করবার আগে পর্যন্ত মনে হয়, "আহ্, কী চমৎকার একটা ক্যাপচার হতে চলেছে। হাইক্লাস৷ মাপা। এলিগ্যান্ট। লাখটাকার মুহূর্ত"। অথচ ছবি তোলার পর দেখি বাঁকাচোরা একটা ছবি, বেমক্কা জরুরী ব্যাপারস্যাপার সব কেটেকুটে গায়েব। সে ছবি হয় বাড়তি আলোয় ঝলসেছে অথবা অঙ্কে ফেল খোকার মুখের মত অন্ধকার।
তা সেই ভাঙাচোরা ছবির দল অদরকারী। তবুও, গুগল ফটোসে তারা টিকে থাকে। আর, বছরখানেক পর সে'সব ছবি ফিরে আসে বুকমার্ক হয়ে।
এই যে সন্ধের আবছা আলোয় একটা অদরকারী ল্যাম্পপোস্টের ছবি। সে ছবির অন্যের কাছে হিজবিজবিজ কিন্তু আমার কাছে স্মৃতির কোড। সে'দিন হয়ত কোনও বন্ধুর সঙ্গে জোর আড্ডা জমেছিল৷ ওই গোবেচারা ল্যাম্পপোস্টের মধ্যে লুকিয়ে আছে সে বন্ধুর " আরে ব্যাটা আর আধঘণ্টা বস না, অত হুড়মুড় কিসের"! বন্ধুটি আজও হয়ত আছে, কিন্তু আড্ডার অবসর বড় সহজে জোটে না।
অথবা ধরা যাক কেউ চপ ভাজছেন। কাঁপা ছবি, কিন্তু স্মৃতি স্পষ্ট৷ সে দোকানের চপ আমি কোনওদিনও চেখে দেখিনি। তবে সেই চপভাজিয়ের ছবি যে'বিকেলে তুলেছিলাম, সে'দিন রাত্রেই অকারণ মনকেমন। সেই মনকেমনের সুরাহা হয়েছিল বাবুঘাটের হাওয়ার ঝাপটা মুখে লাগিয়ে দু'জোড়া ডিমসেদ্ধ খেয়ে। বছর চারেক পরও সেই চপ-ভাজিয়ের ছবিটা সহজেই বাবুঘাটের ফুরফুরে হাওয়ার আমেজ ফিরিয়ে আনে।
আসলে, কোনও ছবিই বোধ হয় মিথ্যে নয়। কোনও ছবিই ফেলনা নয়। ছবি পুরনো হলেই সে'টার বাজে ফ্রেম, ঝাপসা রঙ বা অন্যান্য যাবতীয় ভুলত্রুটি হাপিস হয়ে যায়। পড়ে থাকে জবরদস্ত ভালোবাসা, নিজের প্রতি। আমরা বোধ হয় প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে নিজের কাছে বিভূতিভূষণের ভাষায় জবাবদিহি করে থাকি।

২.০



- নমস্কার মিস্টার মিট্টার৷
- মগনলাল!
- ওয়েলকাম টু মাই প্রাইভেট আশ্রম৷
- প্রাইভেট সার্কাসটা তা'হলে ত্যাগ করেছেন?
- উ'সব আমার ডার্ক ডেজ কি বাত মিস্টার মিট্টার৷ ইয়াদ করিয়ে তকলিফ দিবেন কেন? আমি এখন ট্রান্সফর্মড মানুষ৷ হে হে হে৷ অনলি চ্যারিটি৷ নো গোলমাল৷ মগনলাল ২.০।
- তা মগনলালজি, আপনার ২.০ ভার্সনেও দেখছি কিডন্যাপ করে তুলে আনার ব্যাপারটা পাল্টায়নি৷
- ডিসাইপলদের হ্যাবিট ওভারনাইট চেঞ্জ ক্যায়সে হোবে? আপনিই বোলেন৷ একটু টাইম দিন৷ তখন আর আপনাকে কিডন্যাপ করে নয়, রামচরিতমানস শুনিয়ে হিপনোটাইজ করে লিয়ে আসবে৷ হে হে হে৷
- আই সী৷ তা আপনার তো এখনও জেলে থাকার কথা৷
- আপনার ভি তো এখন ক্যালক্যাটায় আঙ্কিলের সঙ্গে সমোসা খাওয়ার কথা৷ লেকিন আপনি গোরখপুরের আউটস্কার্টে মগনলাল ২.০-র প্রাইভেট আশ্রমে বসে। কিসমত তো আর মছলিবাবা নয় যে প্রাইভেট ডিটেকটিভের দিমাগকে পরোয়া করবে৷
- কী প্রয়োজনে আমায় এখানে আনা হয়েছে জানতে পারি?
- জাস্ট টু কনভে দ্যাট আই অ্যাম আ চেঞ্জড ম্যান। মগনলাল ২.০। তুলসি লীফ ওয়াশড ইন দ্য গ্যাঞ্জেস ওয়াটার৷
- সে তো ভালো কথা৷ তার জন্য আমার মাথায় গুঁতো মেরে অজ্ঞান না করলেই চলছিল না? তারপর এই ভাবে তুলে আনা। মাথাটা এখনও টনটন করছে৷
- আপনার মাথায় হিট করল? রাসকালস, তিন মহিনেকা তনখওয়া কাট লেঙ্গে৷ দেখিয়ে লিবেন আপনি৷ মাই এপলজিস মিস্টার মিট্টার৷ আপনার সামনে সরবত রাখা আছে, প্লীজ ড্রিঙ্ক। একদম রিফ্রেশড ফীল হবে৷ গ্যারেন্টি৷
- বাহ্৷ আপনার সরবতের স্বাদ দেখছি সে বেনারসের মতই রয়েছে৷
- সরবতেএ স্বাদ কন্সট্যান্ট৷ লেকিন মগনলাল তো ট্রান্সফর্মড মিস্টার মিট্টার৷ মগনলাল ২.০।
- প্রাইভেট সার্কাসের বদলে প্রাইভেট আশ্রম। ট্রান্সফর্মেশন তো বটেই।
- হে হে হে..মিস্টার মিট্টার..। শুনেন, মগনলাল ২.০'র অফার করা উ সরবতে ভিষ আছে..। জরুর আছে।

Tuesday, August 17, 2021

সামান্য প্রতিবাদ



- প্রটেস্ট করব ঘোষদা?

- এ ছাড়া আর উপায় কী আছে বল৷

- মানে, একটা লিখিত রিকুয়েস্ট দেওয়া যেতেই পারে৷ আমরা সবাই মিলে যদি ম্যানেজমেন্টকে কনসিডার করতে বলি, মানে..একটু নরম সুরে যদি..। 

- অনুরোধ কাকুতিমিনতি তো কম করা হয়নি। জানিস তো সব৷ 

- কিন্তু তাই বলে অফিসের মধ্যে দিনদুপুরে স্লোগান হেঁকে সিন ক্রিয়েট করব? 

- সিন ক্রিয়েট? কী বলছিস! তুই খুব ভালোভাবেই জানিস যে বিমলদার চাকরিটা যাওয়াটা উচিৎ হয়নি। অন্যায়টা আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে৷ এর পরেও তুই হেসিটেট করছিস কেন?

- তোমার কী ধারণা? অফিসে হইহট্টগোল করলে বিমলদাকে ওরা ফিরিয়ে নেবে?

- মে কাইন্ডলি কনসিডার বলে ঝুলোঝুলি করলে লাভ হবে কি?

- তাই বলে..। শোনো ঘোষদা, এ'রকম একটা হঠকারি কিছু করলে শেষে আমাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়তে পারে৷ তার চেয়ে বরং আমরা সবাই মিলে যদি কিছু টাকাপয়সা কন্ট্রিবিউট করে বিমলদাকে সাহায্য করি..।

- মৃণাল৷ এ'দিককার স্লোগান হইহল্লা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না৷ তুই তোর টেবিলে ফেরত যা৷ ভাবিসনা আমি রেগে বলছি, রিস্কটা আমি জানি, বুঝি। এবং, সে রিস্ক নিতে না চাওয়াটা যে অপরাধ নয় সে'টাও বিশ্বাস করি৷ শুধু একটা রিকুয়েস্ট, তুই অন্তত বিমলদাকে টাকা অফার করিসনা, কেমন?