Friday, July 9, 2021

ছিদ্রান্বেষী


লোকজন বড্ড বেশি ছিদ্রান্বেষী হয়ে পড়েছে। কথায় কথায় শুধু খুঁত ধরে গপ্প ফাঁদা। গা জ্বলে যায়। ইচ্ছে করে দি কষিয়ে দু’ঘা। এই সবে একটু বাজারে বেরিয়েছি টপ কোয়ালিটি পাবদা খুঁজতে। সবেমাত্র খান-সাতেক দোকান ঘোরাঘুরি করে পাবদার পাশাপাশি সামান্য চিংড়িও তুলে নিয়েছি। সবে একটু দেশী মুর্গির খোঁজ করব কিনা ভাবতে ভাবতে একটা চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একটা স্পেশ্যাল আদা চা অর্ডার করেছি। সবে ভাবতে শুরু করেছি ফেরার পথে সামান্য রাবড়ি আর জিলিপি নিয়ে ফিরব। এমন সময় নজরে পড়ল; কী বিশ্রী ভিড় বাজারে। 

কী বিশ্রী ভীড়। দেশে আলফা বিটা গামা ল্যাম্বডা আর কত রকমের বিশ্রী করোনা ভ্যারিয়ান্ট নেচে বেড়াচ্ছে অথচ লোকে যেন সাপের পাঁচ দেখে রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। এ ওর গায়ে ঢলে পড়ছে, এ ওর সঙ্গে গপ্প জুড়েছে; যেন কল্পতরু মেলা। মাছের দোকানে ভীড়, মুর্গির দোকানে ভীড়, মাংসের দোকানে ভীড়, রাস্তায় অটো আর রিক্সার ভীড় – যাচ্ছেতাই! আরে এ’দিকে দেশে যে প্যান্ডেমিক চলছে সে’বিষয়ে কারুর কোনও হেলদোল নেই। এই ইনডিসিপ্লিনের জন্যই এ দেশের কিস্যু হল না আর হবেও না। অকারণে এত লোকের বাইরে বেরোনোর দরকারটা কী? দিব্যি ভাবলাম ফাঁকায় ফাঁকায় অল্প মাছ আর যৎসামান্য মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাব – কিন্তু তার কি আর উপায় আছে?

চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে তৃপ্তি পেলাম বটে কিন্তু মনে স্বস্তি ফিরল না। আশেপাশের মানুষজনের ওপর একটা বিশ্রী রাগ তৈরি হচ্ছিল। এমন লারেলাপ্পা পপুলেশন নিয়ে দেশের প্রগ্রেস ঘটবে কী করে? লোকে মাস্কটাও ঠিক করে পরছে না! রাবিশ! এ দেশে দরকার ডিকটেটরিয়াল শাসন। এক্কেবারে কড়া হাতে শাসন না করলে এ সমাজ যে লাটে উঠবে। বিরক্তি যখন চরমে উঠল তখন দু’নম্বর চায়ের কাপের অর্ডার দিয়ে চায়ের দোকানের সামনে রাখা বেঞ্চিতে বসে পড়লাম। খুব খারাপ লাগছিল দেশের এবং দশের কথা ভেবে। এমন অবক্ষয় দেখলে মাস্টারদা বড় কষ্ট পেতেন, সুভাষবাবু বোধ হয় লজ্জায় প্লেন থেকে স্বেচ্ছায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন; অবশ্যই মাস্ক পরে তবে প্যারাসুট ছাড়া। গান্ধীজী সুতো বোনা ছেড়ে আনমনে চরকায় তেল দিয়ে যেতেন শুধু। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো বুক থেকে। 

ভাবনার মধ্যে সবে একটা পোয়েটিক ফ্লো এসেছে, এমন সময় অনিরুদ্ধর সঙ্গে দেখা। ছোকরা আমার চেয়ে বয়সে ছোট, একসময় আমার পাশের ফ্ল্যাটে থাকত। ভারী মুখচোরা ছিল এক সময়। তবে বাবুটি এখন লায়েক হয়েছেন, কী’সব এনজিওর সঙ্গে মিলেমিশে এদিকওদিক ফোঁপরদালালি করে বেড়ায়। কথায় কথায় ডোনেশন চায় বলে আমি সচরাচর এড়িয়ে চলি। কিন্তু আজ এক্কেবারে দুম করে সামনে চলে এলো, পাশ কাটাতে পারলাম না। 

যেই না “আরে অনি যে” বলে আমি নিজের মাই-ডিয়ার স্টাইলে খেজুর করতে এগিয়ে গেছি, অমনি সে’ব্যাটা ফস করে বলে উঠলে, “এ বিচ্ছিরি সময়ে এমন রসিয়ে মাছের বাজার না করলেই নয় দাদা? আর ভীড়ের মধ্যে নিজে মাস্ক নামিয়ে চা গিলছেন গিলুন, অমন হা-হা করে আমার দিকে এগিয়ে আসার কী আছে। আমি একটা টীম নিয়ে এসেছি এ এলাকাটা ডিসইনফেক্ট করতে। চায়ের দোকানে বসে রকের আড্ডা পরে হবে’খন। আপনিও এ’ভাবে গা এলিয়ে বসে না থেকে বাড়ি ফিরে যান”। 

সাধে কি বলি লোকজন বড্ড বেশি ছিদ্রান্বেষী হয়ে পড়েছে? কথায় কথায় শুধু খুঁত ধরে  আর গপ্প ফাঁদে! আমি সাদা-মনে-কাদা-নেই সাতে-নেই-পাঁচে-নেই মানুষ, অনিরুদ্ধর এমন সব শুচিবাই ডায়লগ শুনে আমার গা জ্বলবে না? যত্তসব!

মিটিংবাজ



কারণে অকারণে মিটিং ডাকাটা একটা রোগ৷ স্যাটাস্যাট কাজকর্ম ফিনিশ হচ্ছে৷ তরতর করে সবকিছু এগোচ্ছে৷ এমন সময় কারুর কারুর মিটিং-মিটিং মনকেমন শুরু হবে। অমনি চারদিকে দৌড়ঝাঁপ৷ সক্কলে সন্ত্রস্ত৷ মিটিং হবে! হাবিজাবি প্রিন্ট আউট বেরোচ্ছে, দুদ্দাড় করে কেউ এজেন্ডা দাঁড় করাচ্ছে, কেউ কফি বিস্কুটের অর্ডার দিচ্ছে, কেউ "উই মাস্ট বি অন টাইম" বলে খামোখা চেল্লামেল্লি করছে, কেউ "আমি তাহলে ভোট অফ থ্যাঙ্কসটা দেব'খন"? বলে নব্য-কফিহাউস কবি মাফিক মিউমিউ করছে;মিটিং হবে! এককথায় রথের মেলা বসে যাবে৷ অবশ্য নিউনর্ম্যাল জমানায় আবার কনফারেন্স রুম ঝেড়েপুছে সাফ করারও দরকার পড়েনা৷ সোজা জুম লিঙ্কের চাক্কুতে এফোঁড়ওফোঁড়৷ মোদ্দা কথা হল মিটিং শুনলেই পাবলিককে বুলেট-প্রুফ জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে ইয়ারবাড হাতে যুদ্ধ শুরু করতে হবে৷ 

"ওগো শুনছো" দিব্যি পাশ কাটানো যায়৷ কিন্তু মিটিংয়ে আপত্তি মহাপাপ৷ কাজকর্ম দু'চার আনা কম-বেশি হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু মিটিং ডেকে মার্তণ্ড-মার্তণ্ড-মার্তণ্ড স্টাইলে এক্সেলেন্স-এক্সেলেন্স-এক্সেলেন্স না করলে দুনিয়াটাই জলে। 

আর আউটপুট? যে কথা দিব্যি ফোন করে আড়াই মিনিটে সেরে নেওয়া যায়, তার জন্য বসবে আড়াই ঘণ্টার মোচ্ছব৷ ব্রেন-স্টর্মিং- অর্থাৎ একে অপরকে রকমারী কর্পোরেট ক্লীশের মুগুর দিয়ে পিটিয়ে শায়েস্তা করা৷  আড়াই ঘণ্টা ধ্বস্তাধস্তিতে সেই আড়াই মিনিটের সহজ-সরল ব্যাপারটা এমন গুবলেট হবে যে আগামী আড়াই হপ্তাতেও সে জট ছাড়বে না; মিটিংয়ের সার্থকতা সেখানেই৷

বর্ষা



- বৃষ্টিফৃষ্টি না নামলে যে আর পারা যাচ্ছে না..। যা গরম, উফ!

- বৃষ্টির কী দরকার? এইত্তো, দিব্যি বর্ষা এসে গেছে৷ গরম গন্।

- বৃষ্টি ছাড়াই বর্ষা এসে গেছে?

- টোটালি৷ আজ থেকে আমার বর্ষা শুরু৷ জমিয়ে বৃষ্টির গানটান শুনব৷ ডার্মিকুলের বদলে পন্ডস পাউডারে ফেরত যাব৷ মাথায় নবরত্নের বদলে কেয়োকার্পিন৷

- বৃষ্টি নামল না, এ'দিকে তুমি বর্ষা অ্যানাউন্স করে দিলে? নিজের মর্জিমত টেম্পারেচারকে কাঁচকলা দেখানো? গরমকে অগ্রাহ্য করা?

- আজ বাড়িতে সিজনের প্রথম ইলিশ এসেছে৷ কাজেই মনসুন ইজ হিয়ার৷ ও'সব টেম্পারেচার ক্যালেন্ডার বা ওয়েদার ফোরকাস্ট দেখিয়ে এই ক্লাসি মেজাজকে বাগে আনার চেষ্টা কোরো না৷

লুচিবাজ



- বুঝলে ব্রাদার..।

- ফের নেশা করে এসেছেন বিধুদা? মেসের পরিবেশ এ'ভাবে..।

- আহ...নেশা নয়৷ আমায় কি তুমি মাতাল পেয়েছ? পোয়েটিক ইন্সপিরেশন।

- তা কী বলছিলেন..?

- বলছিলাম ব্রাদার..রাত দু'টো সময় লুচির কথা মনে পড়লেই ক্যালামিটি৷

- খিদে পেয়েছে? এক বাক্স খাজা আর এক ডিবে মুড়ি স্টকে আছে৷ চলবে?

- টেস্ট ম্যাচের জন্য মন আনচান হচ্ছে বলে কি লুডোর বোর্ড পেতে বসবে ব্রাদার? 

- যেহেতু খিদে পেয়েছে আপনার..।

- মাঝরাত্তিরে লুচি লুচি মনকেমনের জন্য খিদের কী দরকার। 

- তা বটে।

- ভারী ডেঞ্জারাস সেই লুচি লুচি মনকেমন ব্রাদার৷ ভারী ডেঞ্জারাস৷ প্রেমট্রেমের ব্যথা রাতবিরেতে বুকে ধাক্কা দিলে তাও ট্রীটমেন্ট আছে৷ আফটার হল হৃদয় ইজ হাইলি ধুরন্ধর। খানিকক্ষণ কিশোরকুমার শুনে বা ছাতে পায়চারি করে প্রেমের হুহুকে বাগে আনা যায়৷ বাট দ্য বাগ অফ লুচি ইজ মার্ডারাস বিকজ নোলাকুমার হৃদয়বাবাজীর মত হিসেবি নয়৷ নোলা হলো বাউল..কখন আলুথালু হয়ে ভেসে যাবে..কেউ বলতে পারে না৷

- আপাতত তা'হলে ক্র‍্যাশ করুন৷ কাল সকালে লুচি না হোক, সুরভী সুইটসের কচুরি আর ছোলার ডালের ব্যবস্থা করা যাবে। 

- তুমি ছিলে তাই এই কেঠো মেসবাড়িটাকেও সংসার মনে হয় ব্রাদার। যাক, কাল সকালের কচুরির দায়িত্ব তোমার৷ আর আজ রাত্রে কিশোরকণ্ঠী হয়ে আমিই তোমার শুশ্রূষা করি বরং। 

- এর মানে?

- বললাম তো৷ আমার লুচি হাহাকারের কেসটা মেজর৷ সে আনচান সামাল দেওয়া যাবে না৷ কিন্তু তোমার হৃদয়-ভাঙচুরটা খানিকটা মেরামত করতে পারব, গান গেয়ে৷ চলো ছাতে৷ পায়চারিও হবে, কিশোরকুমারের গানও হবে। 

- আমার হৃদয়-ভাঙচুরের সমাচারটা আপনাকে কে দিল? মন্টু?

- নিজের সংসার। খবর না রেখে উপায় আছে? তবে ভেবো না৷ হিল্লে হয় যাবে। প্রেমই তো ভেঙেছে, রাতবিরেতে লুচির জন্য তো বুক ফাটছে না৷

লোনের ফোনে



- হ্যালো।
- নমস্কার। আমি কি মিস্টার দত্তর সঙ্গে কথা বলছি?
- হ্যাঁ। বলছি। আপনি?
- আমি অমুক ব্যাঙ্ক থেকে দীপিকা বলছি। 
- বলুন।
- স্যার, আপনি আমাদের ব্যাঙ্কে একটা লোনের জন্য আবেদন করেছিলেন।
- হ্যাঁ।
- লোনের জন্য আমাদের ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করার জন্য ধন্যবাদ স্যার। আমি কি আপনার মূল্যবান সময় থেকে দু'মিনিট নিতে পারি?
- কেমন একটা অদ্ভুত বাংলায় বললেন যেন। তবে সময়ের ব্যাপারে কোনও চিন্তা নেই। বাড়ির ওয়াইফাই ভোগে, হাতে অঢেল সময়। বলুন। 
- আপনি গত মাসের বাইশ তারিখে লোনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাই তো?
- একদম।
- অমুক ব্যাঙ্কের তরফ থেকে মিস্টার মনোজ হালদার আপনার সঙ্গে কথা বলছিলেন৷ 
- রাইট। ভেরি ব্রাইট ফেলো, বলতেই হয়। মাত্র তিনচারটে ফর্ম কুড়ি মিনিটের মধ্যে ভরে নিয়ে সমস্ত প্রসেস করে নিল। প্রম্পটনেস একেই বলে। 
- অমুক ব্যাঙ্কের বিজ্ঞাপন দেখেছেন নিশ্চয়ই। নিয়ম পরে, গ্রাহকদের সুবিধে আগে।
- বিউটিফুল।  এ'টাই তো চাই। এক হপ্তার মধ্যেই লোন এলিজিবিলিটির কনফার্মেশন ইমেলও পেয়ে গেছি। আমি যাকে বলে সুপার ইম্প্রেসড।
- থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। তাহলে আপনি আমাদের সার্ভিসকে এক থেকে পাঁচের মধ্যে কত নম্বর দেবেন? 
- সাড়ে পাঁচ।
- মাফ করবেন স্যার। আপনাকে এক থেকে পাঁচের মধ্যেই একটা সংখ্যা বেছে নিতে হবে।
- ইট ওয়াজ আ জোক৷ অবভিয়াসলি৷ আমার তরফ থেকে আপনাদের সার্ভিসের জন্য রইল পাঁচে পাঁচ। 
- অনেক ধন্যবাদ স্যার৷ এ'বারে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে একটা জরুরী তথ্য আপনাকে জানাত চাই। 
- লোনের টাকাটা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বুঝি? তা'হলে সামনের হপ্তার মধ্যেই বাড়ির রেজিস্ট্রিটা সেরে ফেলা যাবে।
- ঠিক তা নয়...।
- তবে?
- আপনার লোনের আবেদনটা নাকচ হয়ে গেছে। 
- কী?
- রিজেক্টেড, স্যার।
- সে কী! তবে সেই লোন এলিজিবিলিটির ইমেল? 
- আপনার আশা পূরণ করতে বা পারার জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব..।
- আবার সেই খটমটে বাংলা। যাক গে। ইমেলে ভুল খবর? আপনি জানেন আমি আপনাদের নামে কেস ঠুকতে পারি?
- কেসের বিষয়ে কোনও কথা বলতে হলে আপনাকে আমাদের লীগাল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
- বেশ! আপনি তা'হল সেই লীগ্যাল ব্যাটাদের জানিয়ে দেবেন যে গোলক দত্ত ব্যাঙ্কের নামে কেস ঠুকবে।
- লীগাল ডিপার্টমেন্টকে তো আমরা জানাতে পারব না স্যার।    সে নিয়ম নেই।
- আপনাদের লীগাল টীমের সঙ্গে যোগাযোগ কী'ভাবে করব?
- মাফ করবেন স্যার। গ্রাহক হিসেবে আপনি শুধু আমাদের কাস্টোমার রিলেশন টীমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। 
- ইয়ার্কি হচ্ছে নাকি? উকিলের চিঠি যখন যাবে তখন বুঝবেন। 
- অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে উকিল বা আইন সম্বন্ধে কোনও কথা বলতে হলে আপনাকে..।
- আপনাদের লীগাল ডিপার্টনমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে?  সেই ডিপার্টমেন্ট যাদের সঙ্গে গ্রাহকদের যোগাযোগ করার নিয়ম নেই?
- আপনাকে সমস্ত কিছু স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই এই কাস্টোমার সার্ভিস কল। 
- ধেত্তেরি মাইরি। আমার লোনের অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হল কেন?আমার গ্যারেন্টর রিলায়েবল নয়?
- না, সে'খানে কোনও সমস্যা নেই।
- আমার মাইনে যথেষ্ট নয়? সে জন্য আমি এলিজিবল নই?
- আপনাকে তো ইমেল করে জানানো হয়েছে যে আপনি লোনের জন্য এলিজিবল। ইমেল রেফারেন্স নম্বর একুশ ড্যাশ এস তিন বাই এস এক্স ফিফটি থ্রি বাই রোমান সেভেন ডেটেড সাতাশে জুন দু'হাজার একুশ। 
- তা'হলে লোনটা নাকচ হচ্ছে কেন?
- কারণ আপনার আবেদনপত্রটা সঠিকভাবে ভরা হয়নি। 
- সে কী! ফর্মে কিছু ভুল লিখেছি?
- না স্যার৷ আপনি ফর্মে কিছু ভুল লেখেননি। সে জন্যই তো ব্যাঙ্কের তরফ থেকে আপনাকে এই লোনের জন্য এলিজিবল ঘোষণা করে ইমেল করা হয়েছে।  বিশদে জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে ইমেল রেফারেন্স নম্বর একুশ ড্যাশ এস তিন বাই এস এক্স ফিফটি থ্রি...।
- আরে থামুন! তা'হলে গোলমালটা হল কোথায়? এলিজিবল হয়েও লোন পাচ্ছি না কেন?
- কারণ আপনার ফর্মে লিখতে গিয়ে সামান্য ভুল করেছেন আপনার অমুক ব্যাঙ্ক রিলেশনশিপ ম্যানেজার মিস্টার মনোজ হালদার!
- আচ্ছা হতচ্ছাড়া তো। তা সে যদি ভুল করে থাকে তো তার কান মুলে শুধরে নিলেই হয়। 
- সে'টা সম্ভব নয়। 
- কেন?
- কারণ মনোজ হালদার অমুক ব্যাঙ্কের চাকরী ছেড়েছেন গত পরশু। ব্যাঙ্কের কোনও ফর্ম তাকে দেওয়া আর সম্ভব নয়। অতএব, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আপনার হোম লোনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। 
- কী মুশকিল। জলে পড়ব যে। বাড়ি কেনার সমস্ত কথাবার্তা পাকা। আরে মনোজ নেই তো অন্য কাউকে দিয়ে আর একটা ফর্ম ভরিয়ে নিলেই তো হয়..। কুড়ি মিনিটের তো ব্যাপার..। আমি নিজে না হয় আপনাদের ব্যাঙ্কে চলে যাব..।
- মাফ করবেন স্যার। আমাদেত অমুক কোনও ব্যাঙ্কে লোনের আবেদন নাকচ হলে আগামী ছ'মাস আপনি নতুন কোনও লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এ'টাই নিয়ম। 
- আমি আপনাদের কোর্টে নিয়ে যাব! বলে রাখলাম।
- কোর্ট, উকিল, কেস; এ সমস্ত ব্যাপারে শুধু আমাদের লীগাল টীম কথা বলতে পারে। আমি অপারগ স্যার। তবে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আমাদের সার্ভিসকে পাঁচে পাঁচ রেটিং দেওয়ার জন্য। আপনার দিন ভালো কাটুক৷ মনে রাখবেন, অমুক ব্যাঙ্ক সবসময় আপনার পাশে রয়েছে।