Friday, July 9, 2021

বর্ষা



- বৃষ্টিফৃষ্টি না নামলে যে আর পারা যাচ্ছে না..। যা গরম, উফ!

- বৃষ্টির কী দরকার? এইত্তো, দিব্যি বর্ষা এসে গেছে৷ গরম গন্।

- বৃষ্টি ছাড়াই বর্ষা এসে গেছে?

- টোটালি৷ আজ থেকে আমার বর্ষা শুরু৷ জমিয়ে বৃষ্টির গানটান শুনব৷ ডার্মিকুলের বদলে পন্ডস পাউডারে ফেরত যাব৷ মাথায় নবরত্নের বদলে কেয়োকার্পিন৷

- বৃষ্টি নামল না, এ'দিকে তুমি বর্ষা অ্যানাউন্স করে দিলে? নিজের মর্জিমত টেম্পারেচারকে কাঁচকলা দেখানো? গরমকে অগ্রাহ্য করা?

- আজ বাড়িতে সিজনের প্রথম ইলিশ এসেছে৷ কাজেই মনসুন ইজ হিয়ার৷ ও'সব টেম্পারেচার ক্যালেন্ডার বা ওয়েদার ফোরকাস্ট দেখিয়ে এই ক্লাসি মেজাজকে বাগে আনার চেষ্টা কোরো না৷

লুচিবাজ



- বুঝলে ব্রাদার..।

- ফের নেশা করে এসেছেন বিধুদা? মেসের পরিবেশ এ'ভাবে..।

- আহ...নেশা নয়৷ আমায় কি তুমি মাতাল পেয়েছ? পোয়েটিক ইন্সপিরেশন।

- তা কী বলছিলেন..?

- বলছিলাম ব্রাদার..রাত দু'টো সময় লুচির কথা মনে পড়লেই ক্যালামিটি৷

- খিদে পেয়েছে? এক বাক্স খাজা আর এক ডিবে মুড়ি স্টকে আছে৷ চলবে?

- টেস্ট ম্যাচের জন্য মন আনচান হচ্ছে বলে কি লুডোর বোর্ড পেতে বসবে ব্রাদার? 

- যেহেতু খিদে পেয়েছে আপনার..।

- মাঝরাত্তিরে লুচি লুচি মনকেমনের জন্য খিদের কী দরকার। 

- তা বটে।

- ভারী ডেঞ্জারাস সেই লুচি লুচি মনকেমন ব্রাদার৷ ভারী ডেঞ্জারাস৷ প্রেমট্রেমের ব্যথা রাতবিরেতে বুকে ধাক্কা দিলে তাও ট্রীটমেন্ট আছে৷ আফটার হল হৃদয় ইজ হাইলি ধুরন্ধর। খানিকক্ষণ কিশোরকুমার শুনে বা ছাতে পায়চারি করে প্রেমের হুহুকে বাগে আনা যায়৷ বাট দ্য বাগ অফ লুচি ইজ মার্ডারাস বিকজ নোলাকুমার হৃদয়বাবাজীর মত হিসেবি নয়৷ নোলা হলো বাউল..কখন আলুথালু হয়ে ভেসে যাবে..কেউ বলতে পারে না৷

- আপাতত তা'হলে ক্র‍্যাশ করুন৷ কাল সকালে লুচি না হোক, সুরভী সুইটসের কচুরি আর ছোলার ডালের ব্যবস্থা করা যাবে। 

- তুমি ছিলে তাই এই কেঠো মেসবাড়িটাকেও সংসার মনে হয় ব্রাদার। যাক, কাল সকালের কচুরির দায়িত্ব তোমার৷ আর আজ রাত্রে কিশোরকণ্ঠী হয়ে আমিই তোমার শুশ্রূষা করি বরং। 

- এর মানে?

- বললাম তো৷ আমার লুচি হাহাকারের কেসটা মেজর৷ সে আনচান সামাল দেওয়া যাবে না৷ কিন্তু তোমার হৃদয়-ভাঙচুরটা খানিকটা মেরামত করতে পারব, গান গেয়ে৷ চলো ছাতে৷ পায়চারিও হবে, কিশোরকুমারের গানও হবে। 

- আমার হৃদয়-ভাঙচুরের সমাচারটা আপনাকে কে দিল? মন্টু?

- নিজের সংসার। খবর না রেখে উপায় আছে? তবে ভেবো না৷ হিল্লে হয় যাবে। প্রেমই তো ভেঙেছে, রাতবিরেতে লুচির জন্য তো বুক ফাটছে না৷

লোনের ফোনে



- হ্যালো।
- নমস্কার। আমি কি মিস্টার দত্তর সঙ্গে কথা বলছি?
- হ্যাঁ। বলছি। আপনি?
- আমি অমুক ব্যাঙ্ক থেকে দীপিকা বলছি। 
- বলুন।
- স্যার, আপনি আমাদের ব্যাঙ্কে একটা লোনের জন্য আবেদন করেছিলেন।
- হ্যাঁ।
- লোনের জন্য আমাদের ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করার জন্য ধন্যবাদ স্যার। আমি কি আপনার মূল্যবান সময় থেকে দু'মিনিট নিতে পারি?
- কেমন একটা অদ্ভুত বাংলায় বললেন যেন। তবে সময়ের ব্যাপারে কোনও চিন্তা নেই। বাড়ির ওয়াইফাই ভোগে, হাতে অঢেল সময়। বলুন। 
- আপনি গত মাসের বাইশ তারিখে লোনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাই তো?
- একদম।
- অমুক ব্যাঙ্কের তরফ থেকে মিস্টার মনোজ হালদার আপনার সঙ্গে কথা বলছিলেন৷ 
- রাইট। ভেরি ব্রাইট ফেলো, বলতেই হয়। মাত্র তিনচারটে ফর্ম কুড়ি মিনিটের মধ্যে ভরে নিয়ে সমস্ত প্রসেস করে নিল। প্রম্পটনেস একেই বলে। 
- অমুক ব্যাঙ্কের বিজ্ঞাপন দেখেছেন নিশ্চয়ই। নিয়ম পরে, গ্রাহকদের সুবিধে আগে।
- বিউটিফুল।  এ'টাই তো চাই। এক হপ্তার মধ্যেই লোন এলিজিবিলিটির কনফার্মেশন ইমেলও পেয়ে গেছি। আমি যাকে বলে সুপার ইম্প্রেসড।
- থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। তাহলে আপনি আমাদের সার্ভিসকে এক থেকে পাঁচের মধ্যে কত নম্বর দেবেন? 
- সাড়ে পাঁচ।
- মাফ করবেন স্যার। আপনাকে এক থেকে পাঁচের মধ্যেই একটা সংখ্যা বেছে নিতে হবে।
- ইট ওয়াজ আ জোক৷ অবভিয়াসলি৷ আমার তরফ থেকে আপনাদের সার্ভিসের জন্য রইল পাঁচে পাঁচ। 
- অনেক ধন্যবাদ স্যার৷ এ'বারে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে একটা জরুরী তথ্য আপনাকে জানাত চাই। 
- লোনের টাকাটা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বুঝি? তা'হলে সামনের হপ্তার মধ্যেই বাড়ির রেজিস্ট্রিটা সেরে ফেলা যাবে।
- ঠিক তা নয়...।
- তবে?
- আপনার লোনের আবেদনটা নাকচ হয়ে গেছে। 
- কী?
- রিজেক্টেড, স্যার।
- সে কী! তবে সেই লোন এলিজিবিলিটির ইমেল? 
- আপনার আশা পূরণ করতে বা পারার জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব..।
- আবার সেই খটমটে বাংলা। যাক গে। ইমেলে ভুল খবর? আপনি জানেন আমি আপনাদের নামে কেস ঠুকতে পারি?
- কেসের বিষয়ে কোনও কথা বলতে হলে আপনাকে আমাদের লীগাল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
- বেশ! আপনি তা'হল সেই লীগ্যাল ব্যাটাদের জানিয়ে দেবেন যে গোলক দত্ত ব্যাঙ্কের নামে কেস ঠুকবে।
- লীগাল ডিপার্টমেন্টকে তো আমরা জানাতে পারব না স্যার।    সে নিয়ম নেই।
- আপনাদের লীগাল টীমের সঙ্গে যোগাযোগ কী'ভাবে করব?
- মাফ করবেন স্যার। গ্রাহক হিসেবে আপনি শুধু আমাদের কাস্টোমার রিলেশন টীমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। 
- ইয়ার্কি হচ্ছে নাকি? উকিলের চিঠি যখন যাবে তখন বুঝবেন। 
- অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে উকিল বা আইন সম্বন্ধে কোনও কথা বলতে হলে আপনাকে..।
- আপনাদের লীগাল ডিপার্টনমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে?  সেই ডিপার্টমেন্ট যাদের সঙ্গে গ্রাহকদের যোগাযোগ করার নিয়ম নেই?
- আপনাকে সমস্ত কিছু স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই এই কাস্টোমার সার্ভিস কল। 
- ধেত্তেরি মাইরি। আমার লোনের অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হল কেন?আমার গ্যারেন্টর রিলায়েবল নয়?
- না, সে'খানে কোনও সমস্যা নেই।
- আমার মাইনে যথেষ্ট নয়? সে জন্য আমি এলিজিবল নই?
- আপনাকে তো ইমেল করে জানানো হয়েছে যে আপনি লোনের জন্য এলিজিবল। ইমেল রেফারেন্স নম্বর একুশ ড্যাশ এস তিন বাই এস এক্স ফিফটি থ্রি বাই রোমান সেভেন ডেটেড সাতাশে জুন দু'হাজার একুশ। 
- তা'হলে লোনটা নাকচ হচ্ছে কেন?
- কারণ আপনার আবেদনপত্রটা সঠিকভাবে ভরা হয়নি। 
- সে কী! ফর্মে কিছু ভুল লিখেছি?
- না স্যার৷ আপনি ফর্মে কিছু ভুল লেখেননি। সে জন্যই তো ব্যাঙ্কের তরফ থেকে আপনাকে এই লোনের জন্য এলিজিবল ঘোষণা করে ইমেল করা হয়েছে।  বিশদে জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে ইমেল রেফারেন্স নম্বর একুশ ড্যাশ এস তিন বাই এস এক্স ফিফটি থ্রি...।
- আরে থামুন! তা'হলে গোলমালটা হল কোথায়? এলিজিবল হয়েও লোন পাচ্ছি না কেন?
- কারণ আপনার ফর্মে লিখতে গিয়ে সামান্য ভুল করেছেন আপনার অমুক ব্যাঙ্ক রিলেশনশিপ ম্যানেজার মিস্টার মনোজ হালদার!
- আচ্ছা হতচ্ছাড়া তো। তা সে যদি ভুল করে থাকে তো তার কান মুলে শুধরে নিলেই হয়। 
- সে'টা সম্ভব নয়। 
- কেন?
- কারণ মনোজ হালদার অমুক ব্যাঙ্কের চাকরী ছেড়েছেন গত পরশু। ব্যাঙ্কের কোনও ফর্ম তাকে দেওয়া আর সম্ভব নয়। অতএব, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আপনার হোম লোনের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। 
- কী মুশকিল। জলে পড়ব যে। বাড়ি কেনার সমস্ত কথাবার্তা পাকা। আরে মনোজ নেই তো অন্য কাউকে দিয়ে আর একটা ফর্ম ভরিয়ে নিলেই তো হয়..। কুড়ি মিনিটের তো ব্যাপার..। আমি নিজে না হয় আপনাদের ব্যাঙ্কে চলে যাব..।
- মাফ করবেন স্যার। আমাদেত অমুক কোনও ব্যাঙ্কে লোনের আবেদন নাকচ হলে আগামী ছ'মাস আপনি নতুন কোনও লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এ'টাই নিয়ম। 
- আমি আপনাদের কোর্টে নিয়ে যাব! বলে রাখলাম।
- কোর্ট, উকিল, কেস; এ সমস্ত ব্যাপারে শুধু আমাদের লীগাল টীম কথা বলতে পারে। আমি অপারগ স্যার। তবে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আমাদের সার্ভিসকে পাঁচে পাঁচ রেটিং দেওয়ার জন্য। আপনার দিন ভালো কাটুক৷ মনে রাখবেন, অমুক ব্যাঙ্ক সবসময় আপনার পাশে রয়েছে।

নতুন বই

*নতুন বইয়ের খবর পাওয়া গেল*

দু'সেকেন্ডের মাথায়ঃ
গুডরীডস ঘেঁটে দেখা বইটা সম্বন্ধে কে কী বলছে।

আড়াই মিনিটের মাথায়ঃ
গুগলে অন্যান্য রিভিউয়ের খোঁজ৷

সতেরো মিনিটের মাথায়ঃ
বন্ধুকে ফোনঃ ওই বইটা পড়েছিস ভাই? কেমন বল দেখি? অমুক বইটার তুলনায় কেমন? তমুক বইটার তুলনায়? তুই নিশ্চিত ভালো? মা কালীর দিব্যি? দ্যাখ! কিনে ফেলছি কিন্তু।

বাইশ মিনিটের মাথায়ঃ
অন্য বন্ধুকে ফোনঃ হ্যাঁ রে ভাই, ভটকাই বলছে বইটা বেশ ভালো৷ ওর কথা বিশ্বাস করাটা ঠিক হবে কি? অন্যের বোলিংয়ে ব্যাটা একদম মন দিয়ে ফিল্ডিং করত না কিনা..তুই বলছিস বইটা ভালো? সিরিয়াসলি? 

তেত্রিশ মিনিটের মাথায়ঃ
আমাজনে (বা অন্য কোথাও) অর্ডার। 

দু'দিনের মাথায়ঃ
আমাজনের প্যাকেটটা রাক্ষুসে ভাবে ছিঁড়ে ফেলে বইটা বের করে হুড়মুড় করে চার পাতা পড়ে, 
তাকে সাজিয়ে রেখে;
স্নান করতে যাওয়া/হাতের জরুরী কাজ সেরে ফেলা/খেতে বসা। 

আড়াই বছর পরঃ
তাকে রাখা সে বইটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস; সামনের মাসের মধ্যে বইটা পড়ে না ফেললেই নয়৷

রোব্বারের খেদ

এ'বার থেকে ঠিক করেছি রোববার রাত্রে সময়মত শুয়ে পড়ব৷ সোমবার সকালে এক্কেবারে "ফ্রেশ" মেজাজে অফিস-আলো করে না বসলেই নয়৷ যেমন ভাবা তেমনি কাজ৷ 

প্রথমত, চটজলদি ডিনার সেরে নেওয়া৷ রাত নটার মধ্যে৷ 

দ্বিতীয়ত,  দশটার মধ্যে বিছানা পরিপাটি করে শুতে আসা৷ হাতের কাছে জলের বোতল, মশলা জোয়ানের কৌটো।

তৃতীয়ত, রাত পৌনে দুটোয় এসে একটানা অকারণ মোবাইলে স্টিক ক্রিকেট খেলার পাগলামোটা বন্ধ করা।

(অবশ্যই এক রোববার রাতের লেখা)

চতুর্থত, স্টিক ক্রিকেট বন্ধ করে স্টিক টেনিস খেলতে শুরু করা৷