Friday, July 9, 2021

নতুন বই

*নতুন বইয়ের খবর পাওয়া গেল*

দু'সেকেন্ডের মাথায়ঃ
গুডরীডস ঘেঁটে দেখা বইটা সম্বন্ধে কে কী বলছে।

আড়াই মিনিটের মাথায়ঃ
গুগলে অন্যান্য রিভিউয়ের খোঁজ৷

সতেরো মিনিটের মাথায়ঃ
বন্ধুকে ফোনঃ ওই বইটা পড়েছিস ভাই? কেমন বল দেখি? অমুক বইটার তুলনায় কেমন? তমুক বইটার তুলনায়? তুই নিশ্চিত ভালো? মা কালীর দিব্যি? দ্যাখ! কিনে ফেলছি কিন্তু।

বাইশ মিনিটের মাথায়ঃ
অন্য বন্ধুকে ফোনঃ হ্যাঁ রে ভাই, ভটকাই বলছে বইটা বেশ ভালো৷ ওর কথা বিশ্বাস করাটা ঠিক হবে কি? অন্যের বোলিংয়ে ব্যাটা একদম মন দিয়ে ফিল্ডিং করত না কিনা..তুই বলছিস বইটা ভালো? সিরিয়াসলি? 

তেত্রিশ মিনিটের মাথায়ঃ
আমাজনে (বা অন্য কোথাও) অর্ডার। 

দু'দিনের মাথায়ঃ
আমাজনের প্যাকেটটা রাক্ষুসে ভাবে ছিঁড়ে ফেলে বইটা বের করে হুড়মুড় করে চার পাতা পড়ে, 
তাকে সাজিয়ে রেখে;
স্নান করতে যাওয়া/হাতের জরুরী কাজ সেরে ফেলা/খেতে বসা। 

আড়াই বছর পরঃ
তাকে রাখা সে বইটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস; সামনের মাসের মধ্যে বইটা পড়ে না ফেললেই নয়৷

রোব্বারের খেদ

এ'বার থেকে ঠিক করেছি রোববার রাত্রে সময়মত শুয়ে পড়ব৷ সোমবার সকালে এক্কেবারে "ফ্রেশ" মেজাজে অফিস-আলো করে না বসলেই নয়৷ যেমন ভাবা তেমনি কাজ৷ 

প্রথমত, চটজলদি ডিনার সেরে নেওয়া৷ রাত নটার মধ্যে৷ 

দ্বিতীয়ত,  দশটার মধ্যে বিছানা পরিপাটি করে শুতে আসা৷ হাতের কাছে জলের বোতল, মশলা জোয়ানের কৌটো।

তৃতীয়ত, রাত পৌনে দুটোয় এসে একটানা অকারণ মোবাইলে স্টিক ক্রিকেট খেলার পাগলামোটা বন্ধ করা।

(অবশ্যই এক রোববার রাতের লেখা)

চতুর্থত, স্টিক ক্রিকেট বন্ধ করে স্টিক টেনিস খেলতে শুরু করা৷

সব চুকেবুকে গেলে



সব চুকেবুকে গেলে, লঞ্চে চড়ে হাওয়া খেতে বেরোনো যাবে।  

সে টিকিটঘর দেশলাই বাক্সের চেয়ে সামান্য বড়।আর সেই টিকিট যেমন সরু, তেমনই পাতলা - সামান্য অসাবধান হলেই  বাবাজী ফুড়ুৎ।  

দাঁড়ানো লঞ্চে হ্যাংলার মত উঠে পড়ার মানেই হয় না। ছুটির বিকেল খরচ হবে রসিয়ে রসিয়ে৷ জেটিতে এসে আগে দরকার এক ঠোঙা ঘটিগরম। সুখা মুখে জেটিতে বসে থাকা মানে ইডেনের গ্যালারিতে বসে এলসিএম জিসিএম কষা- সে অন্যায় ঘটতে না দিলেই মঙ্গল।

লঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেই জেটির ব্যাস্ততা হাওয়া। তখন একটু নজরুল আর অল্প আর ডি বর্মন গুনগুন করা যেতেই পারে। গলায় সুর না থাকলেও, মন এক্কেবারে নিয়মিত রেওয়াজ করা ওস্তাদ। 

মুখে গঙ্গার মিঠে বাতাস, পকেটে পুরনো চিঠি। দু'একটা সস্তা চুটকি মনে পড়ায় হুট করে হেসে ফেলাই যাবে। রোব্বারের বিকেলের জেটির আশ্রয়ে কাউকে তো আর কৈফিয়ৎ দেওয়ার নেই৷ 

একসময়, ও'দিকের ঘাট ছুঁয়ে লঞ্চ ব্যাটা ফের এসে জুটবে। অমনি জেটিতে ব্যস্ততার হাওয়া। লঞ্চে ওঠার মুখেই মোবাইল বেজে উঠবে হয়ত। ফোনার ওপার থেকে অফিসের কোনও তাবড় কর্তা জিজ্ঞেস করবেন, "কোথায় আছ মুকর্জি"?

ঘটিগরম আর নজরুলে পুষ্ট উত্তর যাবে তৎক্ষনাৎ, "জিমে ঢুকছিলাম যে। সানডে এইসময়টা আই ইনভেস্ট ইন মাইসেল্ফ"।

মিটার

- মনটন বেজায় খারাপ ব্রাদার৷

- সে কী! কারণ?

- ঠিক ধরতে পারছি না৷ একজন গোয়েন্দা লাগাতে হবে দেখছি সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে।

- ডিটেকটিভ?

- ফেলু মিত্তিরের সঙ্গে আড্ডা জমাতে পারলে বেশ হত।

- অন্য মিত্তির সাজেস্ট করতে পারি৷ সে মিত্তির কারণটারণ খুঁজে সময় নষ্ট করার বান্দা নয়৷ সোজা মনখারাপ তাক করে ঢিঁশকাও!

- পি সি মিটার নয়? অন্য মিটার?

- এস মিটার৷ শ্যামল মিত্তির৷

ফুটবলিষ্ঠ



- হ্যাঁ রে গুপে, টিভিতে আজকাল কোনও ফুটবল ম্যাচট্যাচ কিছু হচ্ছে নাকি?

-  ফুটবল?

- ফুটবল। 

- ভটকাইদা, তোমার হঠাৎ ফুটবলের খবরে কী দরকার?

- ফুটবল কি জাহাজ? আমি কি আদার বিজনেস করছি?

- তেমনটাই তো জানি। সে'বছর পাড়ার মাঠে হঠাৎ ফুটবল খেলতে নেমে গোলকিপারের এগেন্সটে লেগ বিফোর উইকেটের অ্যাপীল করে রেফারি স্বদেশ জ্যেঠুর গাঁট্টা খেয়েছিলে মনে নেই?

- আরে ওটা রিফ্লেক্সে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছিল। তবে ফ্র‍্যাঙ্কলি বলি গুপে, খেলতে নেমে অমন গায়ে পড়াপড়ি আমার ধাতে সয় না৷ যাকগে, আমি ফুটবল খেলতে চাইছি না৷ দেখতে চাইছি।

- কিন্তু হঠাৎ ফুটবল দেখার শখ হলই বা কেন? ও'দিকে তোমার আদৌ কোনও ইন্টারেস্ট আছে কি? কোনও ফুটবলারকে চেনো?

- আলবাত চিনি। পেলে। মারাদোনা। কৃশানু।  মেসি। চীমা। গোষ্ঠ পাল। 

- বাহ্। তা, নিয়মিকানুন সব জানা আছে?

- গোল দেওয়া আর খাওয়া। মাঝে এন্তার ধ্বস্তাধস্তি। কুস্তির আবার নিয়মফিয়ম কী? আর তোর অত কৈফিয়তেই বা কাজ কী? এ'বার থেকে ফুটবল দেখব। ব্যাস। 

- ইউরো চলছে। কোপ আমেরিকা চলছে। লট অফ ফুটবল অন টেলিভিশন। 

- এ তো চেনা সব টুর্নামেন্টের নাম। লাভলি। বলছি, রোনাল্ডো এখনও খেলে?

- সুপারস্টার তো। 

- এই বয়সেও খেলতে পারছে? হাড়ে জোর আছে বলতে হবে। টাকটা মেন্টেন করছে না চুল বাগিয়েছে?

- টাক? তুমি কি ব্রাজিলের রোনাল্ডোর কথা বলছ?

- অফ কোর্স। ফুটবলের থাম্বরুল তো দুটোই। ব্রাজিল জিন্দাবাদ। ইস্ট বেঙ্গল হিপ হিপ হুররে। 

- পর্তুগালের রোনাল্ডো এখন মাঠ কাঁপাচ্ছে ভটকাইদা। নট দ্য ওয়ান ফ্রম ব্রাজিল। 

- দেশ পালটে ফেললে? কেপলার ওয়েসলসের মত? 

- উফ! না রে বাবা। এ আলাদা রোনাল্ডো।

- স্ট্রেঞ্জ৷ এ যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়াসিম। ফ্যাসিনেটিং। ঠিক আছে৷ কিছুটা পড়াশোনা করতে হবে দেখছি।

- অত সাতপাঁচ না ভেবে ম্যাচ দেখে ফুর্তি করলেই তো মিটে গেল৷ পড়াশোনা করার দরকারটা কী? এ তো এগজ্যামিনেশন নয়। 

- ও মা। আকাটের মত দেখে হাততালি দিলে ফেসবুকে লিখব কী করে গুপে? খেলায় গোলটোল হলে শক্তির পোয়েট্রি কোট করে এসোটেরিক একটা কিছু বলে দেওয়াই যায় অবশ্য৷ তবু..।

- তুমি হঠাৎ ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবল নিয়ে পড়লে কেন বলো তো?

- টেস্ট ফাইনালের হারটা ডাইজেস্ট করতে পারছি না রে ভাই৷ উইলিয়ামসনের ভালোমানুষ মুখটা মনে করে মনের মধ্যে "খেলায় হারজিত আছেই, স্পিরিট ইজ ইম্পর্ট্যান্ট" গোছের স্লোগান তোলার চেষ্টা করছি বটে...কিন্তু প্রাণে সইছে না। অন্য স্পোর্টসে ডাইভার্সিফাই না করলেই নয়৷

- তুমি ক্রিকেটের দুঃখে ফুটবল দেখবে?

- তেমনটাই ইচ্ছে। তবে আরও একটা ব্যাপার আছে বুঝলি৷ হোয়্যাটস্যাপ গ্রুপগুলোতে আজকাল এত ফুটবল আলোচনা আর তর্ক চালাচ্ছে শালা ফুটবল পাগলের দল, সামান্য ফুটবল এ'বার না দেখলেই নই। খেলা বুঝেটুঝে কাজ নেই, কিন্তু স্রেফ ইনফর্মেশনের অভাবে তর্কে পার্টিসিপেট করব না...এ যন্ত্রণা বরদাস্ত করা যায় রে গুপে? অসম্ভব!