Monday, October 5, 2020

সেল্ফ হেল্প

যে সেলফ হেল্প বইগুলো আমি পড়তে চাই -  

১। দ্য সেভেন হ্যাবিটস অফ হাইলি এফেক্টিভ ল্যাদিস্টস।

২। হাউ টু উইন এক্ট্রা ফাউস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স ফুচকাদাদাস।

৩। দ্য পাওয়ার অফ "ভাল্লাগছেনা"।

৪। দ্য সাটল আর্ট অফ "সোফা ছেড়ে উঠব না"। 

৫। দ্য ম্যাজিক অফ থিঙ্কিং বিরিয়ানি।

নেশা ও সলিউশন


- এই যে অনির্বাণ। ও'দিকে কোথায় ছুটে যাচ্ছ। এ'দিকে এসো। 

- বড়সাহেবের চেম্বারে দিকে যাচ্ছিলাম। জরুরী তলব।

- ব্রাদার। হিউম্যান রিসোর্সে থেকে অমন তাড়াহুড়ো করতে নেই। 

- বস তাড়া দিলেও নয়?

- তা'হলে তো একেবারেই নয়। সিনিয়রদের লাই দিয়ে মাথায় না তোলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

- সান্যালদা, কী যে বলেন আপনি মাঝেমধ্যে। 

- বাইশ বছর এই কোম্পানিতে আছি হে। আজ পর্যন্ত একটা প্রমোশনও মিস করিনি। কাজেই আমি যখন যাই বলি, জানবে সে'গুলো আদতে বাণী। 

- একটু বুঝিয়ে বললে সুবিধে হয় সান্যালদা।

- বড়সাহেব কেন ডেকেছেন। সে'টা জানা আছে?

- কোম্পানির অবস্থা তো সবই জানেন। গতমাস থেকে ফ্যাক্টরির সমস্ত লেবারদের সবার মাইনেকড়ি আটকে আছে। সামনের হপ্তায় কিছু টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ফিনান্স থেকে আজ জানালে আগামী মাসখানেক তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। এ'দিকে আজ বিকেলে খেপচুরিয়াস ইউনিয়নের নেতারা আসছেন বড়সাহেবের সঙ্গে মিটিং করতে। তাঁদের কী ভাবে শান্ত করা যায়..সে'সব নিয়ে আলোচনা করতেই আমায় ডেকেছিলেন বড়সাহেব।

- আই সী। তা, কী ভাবে তাঁদের শান্ত করবে? মিটিংয়ে শিঙাড়া জিলিপি আর সল্টেড কাজুবাদাম খাইয়ে? 

- সান্যালদা। সিচুয়েশনটা বেশ যাকে বলে..অগ্নিগর্ভ। 

- তা, কী সলিউশন অফার করবে বড়সাহেবকে? উনি নিশ্চয়ই তোমায় কফি বিস্কুট খাওবেন বলে ডাকেননি।

-  সলিউশন তো একটাই৷  বকেয়া মাইনে মেটানো৷ 

- কোম্পানির ফিনানশিয়াল স্টেটমেন্টগুলো দেখেছ?

- জানি, পরিস্থিতি আদৌ ভালো নয়। মনে হয় না আগামী তিনমাসের মধ্যে লেবারদের কোনওরকম কিছু দেওয়া যাবে।

- বটে। তিনিমাস মাইনে না হলে, তোমার বড়সাহেবকে টিকতে দেবে কারখানার শ্রমিকরা? আর বড়সাহেব না থাকলে আমাদের টিকিজোড়াই বা আমরা কোথায় বাঁধব?

- লেবারদের কি কোনও ভাবেই ঠাণ্ডা রাখা যায়না?

- এতগুলো মানুষের পেটের খিদেকে কী'ভাবে ঠাণ্ডা করবে বাবু হিউম্যানরিসোর্স? সেল্ফি কন্টেস্ট ঘোষণা করে না স্লোগান রাইটিং কম্পিটিশন অর্গানাইজ করে?

- জাস্ট ছিঁড়ে খাবে কিন্তু আমাদের। আফটার অল, আমাদের মিসম্যানেজমেন্টের জন্যই তো ওদের আজ এই অবস্থা। ফ্যাক্টরির প্রডাকশনে তো কোনও অসুবিধে হয়নি।দে হ্যাভ বিন কোয়াইট এফিশিয়েন্ট।

- সলিউশন ছাড়াই বড়সাহেবের ঘরে ঢুকবে অনির্বাণ? 

- কিন্তু এই সিচুয়েশনে আর তো কোনও উপায়ও নেই সান্যালদা। শ্রমিকদের খাওয়া জুটছে না৷ তারা আমাদের কথা শুনবে কেন?

- শ্রমিকরা তোমার কথা শুনবে না। কিন্তু ইউনিয়ন শুনবে।

- ইউনিয়নই বা আমাদের হয়ে কথা বলবে কেন?

- যুক্তির ভরসায় থাকলে চলবে না। উহাদেরকে ওপিয়াম জোগান দিতে হইবে।

- ওপিয়াম? ঘুষটুষ দিতে বলছেন নাকি?

- ঘুষ খুব পাতি ব্যাপার অনির্বাণ।  ও'দিয়ে এক'দুজন ধান্দাবাজকে কেনা যায়। জনতার আগুন মেজাজকে বশে আনা যায়না।

- তা'হলে ওপিয়ামটা কি?

- বসন্ত ভৌমিক। ওই যে, এই ইউনিয়নের উঠতি নেতা। গত  মাসে ফ্যাক্টরিতে নাইটশিফট করে ফেরার পথে কিছু লুম্পেনদের খপ্পরে পড়ে৷ মারধোর খায়। মোটোরবাইক, রিস্টওয়াচ আর মানিব্যাগ খোয়ায়। 

- তার সঙ্গে আমাদের সমস্যার কী সম্পর্ক?

- পেশেন্স অনির্বাণ।  পেশেন্স। 

- বেশ। বলুন। 

-মাসখানেক পরেও পুলিশ সেই লুম্পেনদের  পাকড়াও করতে পারেনি। লোকাল থানার ওসি সুবিমলবাবু ভারী মাইডিয়ার। আমার সঙ্গে পুরনো যোগাযোগ।  বড়সাহেবের তরফ থেকে সামান্য নজরানা প্রায়ই যায় তার কাছে। তিনি আমাদের সাহায্য করবেন। আমি তার সঙ্গে একপ্রকার সমস্ত কথাবার্তা বলে রেখেছি।

- কী কথা সান্যালদা?

- পুলিশ আজ দুপুরে রাইভাল ইউনিয়নের অমল সমাদ্দারকে অ্যারেস্ট করবে।

- অমল সমাদ্দারকে অ্যারেস্ট করবে? কেন? সে বসন্ত ভৌমিকের রাইভাল নেতা হতে পারে৷ সমাদ্দার লোকটা যে বিশেষ সুবিধের তাও নয়। কিন্তু তাই বলে সে বসন্তবাবুকে মারধোর করার বান্দা নয়৷ আর চোর তো নয়ই।

- আমি নিশ্চিত অমল সমাদ্দার এ কাজ করেনি৷ তবে তা বিচার করার দায় তোমার আমার নয়৷ পুলিশ দুপুরে তাকে তুলে নিয়ে যাবে। দুই ইউনিয়নের মধ্যে খামচাখামচি শুরু হবে। একে অপরকে সন্দেহ করবে। গসিপ করবে। গুজব ছড়াবে। লোকাল নেতারা সে হল্লায় সামিল হবে। আজ বিকেলে যখন আমাদের ইউনিয়নের নেতারা আসবে, তখন মাইনের চেয়েও বেশি আলোচনা হবে অমল সমাদ্দারের শয়তানি নিয়ে। বড়সাহেব বলবেন যে তিনি আমাদের শ্রমিকদের ইউনিয়নের নেতা বসন্ত ভৌমিকের এমন হেনস্থা কিছুতেই বরদাস্ত করবেন না। উই উইল অফার এভ্রি কাইন্ড অফ হেল্প টু আওয়ার ফ্রেন্ডস ফ্রম দি ইউনিয়ন। আমরা উকিল দেব, পুলিশ লাগাব।

- মাইনে নিয়ে আলোচনাটা তা'হলে এ যাত্রা বোধ হয় থামানো যাবে। তাই না সান্যালদা?

- আমাদের তিনমাস দরকার অনির্বাণ। তিনমাস পর খালিপেট থেকে আধপেট হলেই তারা বর্তে যাবে। তারপর কে আসল লুম্পেন সে'টা জানা যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে ভেবে আমাদের কাজ নেই।

- আপনি জিনিয়াস সান্যালদা।

- যুক্তির চেয়ে নেশায় কাজ দেয় বেশি। এই বেদবাক্যটা চিরকাল মনে রেখ হে। এ'বার পা চালোও, বড়সাহেব অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছেন।

প্রজাপতি

কলকাতা সরগরম।
ফুটপাত জমজমাট।
সন্ধ্যের হইহট্টগোল, ট্রামের ঘরঘর, 
বাসের হর্ন আর অটোর হুড়মুড়। 
ভীড়। ঠেলাঠিল। 
"আরে দাদা, একটু দেখে পা ফেলবেন তো" গোছের খোঁটা।

ব্যস্ততার স্রোত বয়ে যায়, সন্ধ্যের এই সময়টা শ্বাস ফেলার ফুরসৎটুকু পায় না কলকাতা। আহা, মানুষের দল বাড়ি ফিরছে। শহরের গায়ে যে কী অবিশ্বাস্য গতি লেগে থাকে এই সময়।

সেও ছুটছিল। 
অবিশ্বাস্য গতিতে। 
তবে কলকাতার উল্টো দিকে। 

কলকাতা ডাইনে ছুটলে, সে এগোচ্ছে বাঁয়ে। 
কলকাতা ছড়া কাটলে, সে ধরছে খোলতাই টপ্পা।
কলকাতা ধুরন্ধর চালে কিস্তিমাত করতে চাইলে, সে চালছে দু'ছক্কা পাঁচ।
কলকাতার কভার ড্রাইভের জবাবে তার বাইসাইকেল কিক।
কলকাতা উত্তম হাসি হাসলে, সে ভাসিয়ে দিচ্ছে তুলসী চক্কোত্তি মার্কা 'বাপ রে বাপ রে বাপ'।

মোদ্দা কথা হল কলকাতার বয়ে চলা অগ্রাহ্য করে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে বইছিল সে। গোটা শহরটাকে এক অন্য ডাইমেনশনে ফেলে রেখে অন্য জগতে এসে পড়েছিল সে।

সে ছুটছিল। 
একহাতে কাগজের ঠোঙায় ডিমপাউরুটি৷ পাউরুটি, ডিম আর সর্ষের তেলে ভেজা কাগজের গন্ধ মিলেমিশে তার নাকেবুকে নহবত বসিয়েছিল যেন। অন্য হাতে একজোড়া প্রজাপতি বিস্কুট। 

ডিমরুটির নরম আর প্রজাপতি বিস্কুটের মিঠে মুচমুচ ব্যালেন্স করে সিকি মাইল ছুটে গিয়েছিল সে। শার্টে ঘাম, বুকে ধুকুরপুকুর, আর আলো আলো মুখ। সে ছুটে যাওয়াটা কলকাতার দৃষ্টিগোচর হয়নি। 

তার ছুটে আসা যে দেখেছিল একজোড়া ঝাপসা চোখ। 

- এই যে।

- এ'গুলো কী?

- দু'দিনের জন্য শহরে ঘুরতে আসো। পিটারক্যাটফিটারক্যাট মার্কা লারেলাপ্পাতে কাটিয়ে ওয়াপিস চলে যাও । তাই এই ডিমপাউরুটি। আর চায়ের দোকানের বয়াম থেকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া বিস্কুট। দ্যাট ট্যু প্রজাপতি। কলকাতা মেড-ইজি ফর ইউ।

- তুমি ছুটে আনতে গেলে?

- ডিমপাউরুটির উষ্ণতাটা রিটেন করার জন্য। তাছাড়া, তোমার সময় কম। ছুটলে দু'মিনিট বাঁচে। 

ঝাপসা-চোখজোড়ার শাড়ির আঁচল টেনে ধুকুরপুকুর-বুক নিজের কপালের ঘাম মুছতে চেয়েছিল।
সাহসে কুলোয়নি।

সে সাহসের অভাবটুকুও কলকাতার দৃষ্টিগোচর হয়নি।

Wednesday, September 2, 2020

ধপাস

সাঁইসাঁই।
সাঁইসাঁই।
সাঁইসাঁই।

পড়ছি তো পড়ছিই।
পড়ছি তো পড়ছিই।
পড়ছি তো পড়ছিই।
পড়ছি তো পড়ছিই।

বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপাৎ' শব্দে; এসে নামলাম নরম স্যাঁতসেঁতে শ্যাওলাধরা মাটির ওপর। 

এ'খানে দিনের আলো এসে পৌঁছয় বলে মনে হয়না। চারদিকে গুমোট অন্ধকার, চরম অস্বস্তিকর একটা পরিবেশ। 

খানিকটা ধাতস্থ হওয়ার পর চারপাশটা জরীপ করার চেষ্টা করলাম। কোমরের চিনচিনে ব্যথা একটা আছে বটে, তবে সে'সব পাত্তা দিলে চলবে কেন?

ও মা। 

এই গর্তে আমি একা নই। আর এক ম্যাদামারা ভদ্রলোক থেবড়ে বসে। তিনিও যে সদ্য ধপ্ করে ল্যান্ড করেছেন তা বলে দিতে হবেনা। একটি সঙ্গী পেয়ে বুকে সামান্য বল পেলাম। 

এগিয়ে গেলাম আলাপ করতে।

- এই যে। শুনছেন? হ্যাঁ৷ আপনাকেই বলছি।

- কে? কে কথা বলে?

- এই যে। আমি। আমিও এইমাত্র এই গর্তে এসে পড়লাম।

- অ। আপনিও। 

- হ্যাঁ। নমস্কার।

- পেন্নাম।

- দেখা যখন হয়েইছে তখন আলাপটাও সেরে নেওয়া যাক। আমার নাম কনফিডেন্স। আর আপনি?

- আমি? আমি জিডিপি। 

Monday, August 24, 2020

জন্মদিন আর চাকরীর গল্প


- বায়োডেটাখানা তো মন্দ নয়।

- থ্যাঙ্ক ইউ।

- ফীডব্যাক নাম্বার ওয়ান। আপনার পশ্চারটা ঠিক নয়৷ ইয়ং ম্যান, ইউ আর স্লাউচিং। এ'রকম সিরিয়াস ইন্টারভিউয়ের সে'টা মোটেও বরদাস্ত করা যায়না। 

- ওই। সামান্য গা ম্যাজম্যাজ, তাই আর কী। যাকগে। বলুন।

- এই চাকরীর জন্য আমরা একজন চটপটে ক্যান্ডিডেট খুঁজছি। সামান্য ম্যাজম্যাজে গা এলিয়ে দেওয়া শখের প্রাণ গড়ের মাঠ মার্কা মানুষ দিয়ে আমাদের চলবে না।

- আপনার চোখ তো থার্মোমিটার নয়। ম্যাজম্যাজটাকে সামান্য বলে কোয়ালিফাই করাটা কি ঠিক হচ্ছে?

- এঁড়ে তর্কের টেন্ডেন্সি। ফীডব্যাক নাম্বার ট্যু।

- ও'টাকে আমি স্ট্রেন্থ বলেই জানি। বরাবর।

- আপনি কোনওদিন বোর্ডরুমে প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন?.

- আপনি কোনওদিন কফি হাউসে আড্ডা দিয়েছেন?

- এ'টা আমার প্রশ্নের উত্তর নয়।

- কর্পোরেটে আপনারা আদত উত্তর এড়িয়ে চলার জন্য পাওয়ারপয়েন্টে প্রেজেন্টেশন ব্যাবহার করেন।  ওই একই প্রয়োজনে আমি কবিতা লিখি। দু'একটা লেখায় সুরও দিয়েছি। শুনবেন নাকি? 

- তার চেয়ে বরং আপনার প্যাশনের ব্যাপারে শুনি৷ কী করতে ভালো লাগে আপনার?

- আপনি কি সত্যিই আমার ভালোলাগাগুলো জানতে চাইছেন? না আমার অধ্যবসায় নিয়ে কিছু বললে খুশি হবেন?

- যে কোনও বিষয়ে ভালোবাসা থাকলে অধ্যবসায় তৈরি হবেই।

- আপনার এ ধারণা ভুল। আমাদের ফুটবল কালচারের দিকেই দেখুন না৷ ভালোবাসা? ডেফিনিটলি আছে। অধ্যবসায়?  ডিবেটেবল।

- ভালোবাসাগুলোকে অধ্যবসায় দিয়ে গড়েপিটে নিতে না পারলে সে ভালোবাসার আদৌ কী দাম বলতে পারেন।

- দিব্যি আড়াই বছর প্রেম করলাম। কিন্তু স্টার্টিংয়ে সামান্য এগারোশো দেওয়া চাকরিটাও ম্যানেজ করতে পারলাম না। ওই, ভালোবাসার জন্য পার্কে যাওয়ার হুজুগটুকু ছিল অথচ চাকরীর জন্য পড়াশোনার করাটা যে সংসার স্থাপনের জন্য জরুরী অধ্যবসায়, সে'টাই গুলিয়ে ফেললাম। সে প্রেমিকা এখন আমাকে সাইডে রেখে বিয়েথা সেরে কসবায় সেটলড। 

- ট্র‍্যাজিক।

- যে'কোনও ব্যাপার ট্র‍্যাজেডির ফিল্টারে প্রেজেন্ট করলে লোকে খায়। এই যেমন এ ক্ষেত্রে আপনিও খেলেন। তাই না?

- সো ইউ আর নট অ্যাভার্স টু সেলিং ইওরসেল্ফ।

- আদৌ নয়। আফটার অল, আমি সন্ন্যাসী নই। তবে কী জানেন স্যার, ডিমান্ড কার্ভ আর সাপ্লাই কার্ভের ইন্টারসেকশনেই যে সমস্ত সত্যি লুকিয়ে আছে, এ কথাকে অমোঘ সত্য বলে মেনে নিতে মন সরে না।

- ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের কদর করেন না বলছেন?

- কদর যে একদম করিনা তা নয়। নয়ত চাকরীর জন্য হন্যে না হয়ে একটা টিউশনি খুঁজতে বেরোতাম। তবে ওই, ও'টুকুই শেষ কথা হতে পারেনা।

- আপনি ছাত্র পড়ান? সাহিত্য নিশ্চয়ই?

- অঙ্ক। 

- আপনি তো কবিতার মানুষ। অঙ্কের হার্ড লজিক বরদাস্ত হয়?

- লজিক নিরেট নয়। হিমশীতল নয়। 

- কোরাপশন সম্বন্ধে আপনার কী মতামত? 

- কোরাপশনের জন্য শুধু লোভই যথেষ্ট নয়। তার জন্য ধক লাগে। 

- লোভ আর ধক,এ দু'টো আপনার মধ্যে কতটা পরিমাণে রয়েছে?

- লোভ সাড়ে ষোলো আনা। কিন্তু সাহসটা বেশ কম জানেন। আর ভীতুর লোভে কোরাপশন কতটা আছে জানিনা, শয়তানি রয়েছে ঢের। 

- আপনার বায়োডেটা বলছে আজ আপনার জন্মদিন।

- আপনি বায়োডেটা আর সার্টিফিকেটে বিশ্বাস করেন?

- করা উচিৎ নয় বলছেন?

- পলিটিশিয়ানদের বক্তৃতা।  আর ভদ্রলোকের বায়োডেটা৷ চোখ বুজে বিশ্বাস করলে ঠকবেন।

- তবু। নিরেট লজিক মেনে নিয়েই বলি; হ্যাপি বার্থডে মিস্টার কলকাতা। আর শুনুন। আপনাকে আমার ভালো লেগেছে৷ এ চাকরীটা আপনি পাচ্ছেন।

- ইমিডিয়েট জয়নিং?

- অফকোর্স।

- আসলে, আজ রাস্তায় বিশ্রী গরম ছিল। ফেউফেউ করে ঘোরাঘুরি করতে করতে দেখলাম চামড়া জ্বলে যাওয়ার উপক্রম। তাই এয়ার কন্ডিশনিংয়ে ঘণ্টাখানেক কাটানোর জন্য এই ইন্টারভিউ দিতে ঢুকে পড়লাম। হাতে বায়োডেটা থাকায় কোনও অসুবিধেও হলনা। এ চাকরী আমি নিতে পারব না। মাস দুয়েকের জন্য ঘুরতে বেরোব ভাবছি। 

- স্টার্টিংয়ে কিন্তু আমরা এগারোশোর চেয়ে বহুগুণ বেশি দেব।

- গুপ্ত প্রেসের পঞ্জিকা আর কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো, দু'টোই আমি নিয়মিত কনসাল্ট করি। আর দু'টোই বলছে যে ডিমান্ড কার্ভ আর সাপ্লাই কার্ভের ইন্টারসেকশনে পা দিলেই আমার কপালে বিশাল ফাঁড়া প্লাস বুর্জোয়া ক্যালামিটি। আজ আসি স্যার। 

- ওয়েল। ওকে। অ্যান্ড ওয়ান্স এগেন, মেনি হ্যাপি রিটার্ন্স অফ দ্য ডে।