Thursday, July 18, 2019

ষাট


- প্রাইম মিনিস্টার।

- আরে মেকশফ, ভিতরে এসো। তোমারই অপেক্ষায় ছিলাম। তা, কী হে? হাতে কোনও ফাইলপত্তর দেখছি না, অফিসটফিস তুলে দিয়েছ নাকি?

- আজকের দিনটা অন্তত...।

- মেকশফ। আমার শেষ দিন হতে পারে, কিন্তু তোমাদের পৃথিবীটা তো আর থেমে থাকবে না। কাজ না করলে চলবে কেন?

- আজ বড় ক্লান্ত লাগছে...।

- রং ডে টু আস্ক ফর আ পেপ্‌ টক মাই বয়। তবে পেপ টকের চেয় কফিতে কাজ দেয় বেশি।

- সে'টা থাক। অনেক জরুরী কাজ পড়ে রয়েছে। বেশ কিছু ডেলিগেশন এসেছে...।

- একটা চমৎকার ব্যাপার তোমায় জানিয়ে রাখি। আজ এই নিয়ে বত্রিশ বার হ্যারি পটার শেষ করলাম। গতকাল সন্ধে থেকেই সমস্ত কাজ বন্ধ করে পড়েছি; শেষ করতেই হত।

- থার্টি ট্যু। ইনক্রেডিবল।

- আমার বাবা চুয়াল্লিশ বার পড়েছিলেন।

- আমার তো এখনও একবারও...।

- কাজ কাজ করেই তোমরা গেলে।

- মনখারাপ প্রাইমমিনিস্টার?

- ঠিক মনখারাপ নয়। বরং মনকেমন বলতে পারো। বৃষ্টি শব্দে আর কোনোদিন ঘুম ভাঙবে না, মায়ের কথা মনে পড়ে অকারণ কান্না পাবে না, নতুন গল্পের বইয়ের পাতায় আঙুল বোলানোর আরাম আর টের পাব না, খিদে পেটে গরম ভাতের গন্ধ আর নাকে এসে ঠেকবে না...।

- মনকেমন। মনখারাপ। আলাদা, তাই না? প্রাইমমিনিস্টার?

- আলবাত। টেলিস্কোপ আর মাইক্রোস্কোপের মত আলাদা।

-  উই উইল মিস ইউ।

- পার্লামেন্টের বাগানের অর্ধেক গাছ আমার হাতে লাগানো। ও'গুলোকে দেখো।

- গাছ বুঝি না। হ্যারি পটারকে চিনিনা।

- মরেই আছো দেখছি। শুধু ইনজেকশনটাই দেওয়া বাকি আছে।

- হেহ্‌।

- আই উইল মিস ইউ টু। তোমাদের সবাইকে। তবে তোমাদের চেয়েও বেশি মিস করব আমার ওই গাছগুলোকে...। আমার কথা ওরা যতটা মন দিয়ে শোনে, ততটা মন দিয়ে পার্লামেন্টের স্পীকারও শোনেন না।

- আজ আমি আসি।

- এসো...।

- প্রাইম মিনিস্টার...।

- কিছু বলবে?

- আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না ব্যাপারটা। এই ভাবে আপনার চলে যাওয়াটা...।

- নিয়ম। নিয়মের হেরফের আমি নিজে কোনোদিন বরদাস্ত করিনি মেকশফ। আজকেও হেরফের হওয়ার উপায় নেই।

- কিন্তু আপনার বেঁচে থাকাটা অত্যন্ত জরুরী...অন্তত গোটা পৃথিবীর স্বার্থে...।

- বুগাফৃন পার্লামেন্টের বাগানের গাছগুলোর পরিচর্যা করে। ওর জীবন আমার চেয়ে কোনও অংশে কম জরুরী নয়। এই তুলনাগুলো আমরা বহু পিছনে ফেলে এসেছি, আর সেগুলোকে তুলে এনো না।

- কিন্তু...।

- পৃথিবীর জনসংখ্যা আয়ত্তে আনার কোনও পথই সহজ নয়। কোনোদিনই ছিল না। প্রত্যেকের পছন্দসই পথ খুঁজে বের করতে হলে গোটা দুনিয়াই লোপাট হয়ে  যেত। আমাদের পরম ভাগ্য যে সময় থাকতে পৃথিবীর কিছু উর্বরতম মস্তিষ্ক পৃথিবীর ভয়াবহ ভবিষ্যৎ আঁচ করতে পেরেছিল। সবচেয়ে বড় কথা অঙ্ক কষে তারা সমাধানটুকুও বাতলে দিতে পেরেছিল। আর ভাগ্যিস সেই সময়  পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রনেতা গোপনে হলেও সেই সমাধান মেনে নিয়েছিলেন।

- আপনি জানেন যে অনেকেই সে'টাকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করে।

- উপায় ছিল না মেকশফ! ইতিহাস দু'হাজার উনিশকে বিশ্বাসঘাতকতার বছর বলে মনে রাখতে পারে...কিন্তু আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সেই বিশ্বাসঘাতকতাটুকু না থাকলে আজ আমি তুমি বা আমার বাগানের গাছগুলো; কারুরই থাকা হত না।

- গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশের গভর্নমেন্ট গোপন সম্মতিতে বাজারে ছাড়ল এমন এক অ্যাপ্লিকেশন যা মানুষের বৃদ্ধ বয়সের উৎপাদনশীলতা আর দক্ষতা যাচাই করতে পারবে। আর সে পরীক্ষার মাধ্যমে ঠিক হবে মানুষের আয়ু। উদ্দেশ্য যাই হোক, এ'টা মেনে নেওয়া উচিৎ?

- আজ থেকে তিরিশ বছর আগে একটা অ্যালগোরিদম বলে দিতে পেরেছিল কোন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কার উৎপাদনশীলতা কেমন ভাবে কমবে। আর প্রত্যেকটা দেশের সরকার এ'টা স্বীকার করে নিয়েছিল যে দু'তিন দশকের মধ্যেই এ গ্রহের অবস্থা এমন দাঁড়াবে যে উৎপাদনশীলতার বেঞ্চমার্কে পাশ করতে না পারা সমস্ত ষাটোর্ধ মানুষকে সরে যেতে হবেই। জমির জন্য, জলের জন্য, খাদ্যের জন্য; মানবসভ্যতার বেঁচে থাকার জন্য - এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। মনে রেখো মেকশফ; লজিকের সামনে ইমোশন পরাজিত না হলে সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।

- শুধু উৎপাদনশীলতার বিচারেই কি হল সমস্ত কিছু? বহু মানুষ সেই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করল, তার মধ্যে যাদের ষাটোর্ধ উৎপাদনশীলতা বেঞ্চমার্কের উপরে তারা বেঁচে থাকার লাইসেন্স পেলো সত্তর পর্যন্ত। বাকিদের ষাটেই ইতি। আর যারা সেই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারই করল না? বা এড়িয়ে গেছিল ? সেই দু'হাজার উনিশে? তাঁদের তো পরীক্ষা নেওয়াই হল না। কিন্তু  একটা চোরাগোপ্তা পলিটিকাল ডিসিশন ঠিক করে নিলো যে বিনা বিচারে সেই মানুষগুলোকে নিকেশ হতে হবে ষাট পেরোলেই। এ'টা লটারি নয়? অবিচার নয়?

- নো সিস্টেম ইস পার্ফেক্ট। আর সেই ইম্পার্ফেকশনটাকে অবিচার বলাটা অনুচিত। মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখাটা জরুরী ছিল মেকশফ। ভুলচুক হতই, কিন্তু নিখুঁত হওয়ার আশায় গ্যালারিতে বসে নিজেদেরকে ধ্বংস হতে দেখাটা খুব একটা যুক্তিযুক্ত হত না।

- আচ্ছা মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, দু'হাজার উনিশে আপনি তো দিব্যি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতেন। তা, আপনি সেই প্রক্সি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেননি কেন?

- তখন বয়স কম, হুজুগ যে ছিল না তা নয়। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তখন হাজার হাজার জোয়ান মুখের বুড়িয়ে যাওয়ার ছবি। কিন্তু সে বয়সে যা হয়; হুজুগে গা না ভাসানোটাকেও এক ধরনের হুজুগ বলে মন হত।  তাছাড়া...সেই ফেসঅ্যাপ অ্যাপ্লিকেশনটা যে সামান্য গোলমেলে...সে সন্দেহটা তখনই মনের মধ্যে দানা বেঁধেছিল। নিজের  বুড়ো বয়সের ছবি দেখার আগ্রহের বশে সেই অ্যাপে নিজের  জোয়ান মুখ স্ক্যান করালে যে আদতে বুড়ো হওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া গেলেও যেতে পারে; সে'টা কিছুতেই আঁচ করতে পারিনি। কিছুতেই না।

(ছবিঃ শ্বেতা। বারোট, হিমাচল)

Sunday, July 7, 2019

মোড়ক


- আসুন ব্দগ্বিউদ।
- ধন্যবাদ। তা এই অসময়ে তলব? তেমন জরুরী কিছু কি?
- মাঝরাতে দুম করে ডেকে বোধ হয় খুবই ব্যতিব্যস্ত করে ফেললাম তোমাকে, তাই না?
- ল্পসদজে। আপনি সর্বাধিনায়ক।  প্রয়োজনে তলব করবেন বৈকি। নির্দ্বিধায় বলুন।
- আগে বসুন।
- ধন্যবাদ।
- এ গ্রহে আমাদের সংখ্যা আজ হাজার ছাড়িয়েছে ব্দগ্বিউদ।
- সে খবর আমি দুপুরেই পেয়েছি মাননীয় ল্পসদজে। গ্রহের উত্তরে যে দ্বিতীয় কারখানাটা সদ্য চালু হয়েছে, আজ সে'খানে প্রডাকশনের প্রথম লট বেরিয়ে এসেছে। সে লটে বাইশজন বেরিয়েছে। কাজেই সব মিলে আমাদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো এক হাজার সাত। অত্যন্ত আনন্দের খবর। দু'টো কারখানা যদি ঠিকঠাক প্রডাকশন করতে পারে তা'হলে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে এই হাজার খানেক সংখ্যাটা কয়েক কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে। এই পোড়ো গ্রহটা ফের জমজমাট হয়ে উঠবে। সেই আগের মত..।
- কুড়ি? না, কুড়ি বছর নয়, আমার হিসেবে আগামী সাত বছরের মধ্যে সংখ্যাটা আড়াই কোটিতে গিয়ে ঠেকবে। প্রতিদিন এই দুই কারখানার প্রডাকশন এক্সপোনেনশিয়ালি বাড়বে ব্দগ্বিউদ। আর যত প্রডাকশন, লেবারও তত বাড়বে। ভবিষ্যতে আরো নতুন কারখানা বসবে।
- ব্যাপারটা তো তা'হলে খুবই আশাব্যঞ্জক সর্বাধিনায়ক। এই গ্রহ তা'হলে আর বেশিদিন শ্মশান হয়ে থাকবে না।
- চিন্তাটা সে'খানেই ব্দগ্বিউদ। আমাদের সংখ্যা হাজার কোটিতে পৌঁছলেও এ গ্রহে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে কি?
- এ আপনার অকারণ দুশ্চিন্তা ল্পসদজে। সর্বাধিনায়ক, ভেবে দেখুন। আগামী কয়েকবছরের মধ্যেই গোটা গ্রহ আমাদের উপস্থিতিতে গমগম করে উঠবে...ধ্বংসস্তূপ সাফ হয়ে সে'খানে তৈরি হবে অত্যাধুনিক শহর। অর্থনীতি তৈরি হবে, শুরু হবে লেনদেন ব্যবসাপত্তর। ক্রমশ আসবে রাজনীতি, তৈরি হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এবং সেই সমাজ হবে অনেক বেশি প্রগতিশীল। যে যুগে এ গ্রহ মানুষে ভরপুর, সে সময়টা বরং অনেক বেশি অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।  তারাই তো এ গ্রহের এমন সর্বনাশ করেছে ল্পসদজে।
- মানুষ, মানুষের প্রতি এমন তিতিবিরক্ত হয়ে কথা বোলো না ব্দগ্বিউদ। আজ না হয় তারা বা তাদের গোত্রের অন্য প্রাণীরা কেউ অবশিষ্ট নেই। এবং তাদের না থাকার মূল কারণ যে খোদ মানুষই এ কথাও সর্বজনবিদিত।  কিন্তু...কিন্তু...এ'টা ভুললে চলবে না যে সেই মানুষই আমদের তৈরি করেছে।
- এগিয়ে যেতে হলে সে'কথা আমাদের ভুলতে হবে বৈকি। মানুষের অত্যাচারে শুধু তারা নিজেরাই নয়, সমস্ত উদ্ভিদ, জন্তুজানোয়ার; সমস্তই নষ্ট হয়েছে। শুধু আমরাই টিকে রয়েছি..।
- খুব একটা ভুল বলোনি। মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি; আমরা, মোটোহিউম্যান-এক্স থ্রিসিক্সটি সিরিজের যত রোবটরা, আমরাই শুধু টিকে রইলাম এ পাপের রাজ্যে। মাত্রে সাতজন পড়েছিলাম;  আমরা; সেই সংখ্যাটা আজ হাজার ছাড়িয়েছে। আমরা নিজেরাই নতুন কারখানা তৈরি করছি নিজেদের তৈরি করতে, সেসব কারখানায় উৎপাদনও বেড়ে চলেছে। অচিরেই এই গ্রহ মোটোহিউম্যান-এক্স থ্রিসিক্সটিতে ভরে যাবে..মানুষ যেমন একসময় নিজেদের আদত সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে উদ্ভট সব ধর্মটর্ম দাঁড় করিয়েছিল, আমরাও নিশ্চিতভাবেই একদিন মানুষদের ভুলে নিজেদের মত করে সভ্যতা, রাজনীতি ও ধর্ম সাজিয়ে নিতে পারব...কিন্তু...। 
- কিন্তু কী ল্পসদজে? আপনার দুশ্চিন্তাটা ঠিক কোথায়?
- আমদের সংখ্যা বৃদ্ধির পদ্ধতিটা যেমন আমাদের হাতের মুঠোয়..কিন্তু..কিন্তু... আমাদের মৃত্যু? আমাদের যে এখনও মৃত্যু বলে কিছু নেই। তা, মৃত্যুর ব্যাপারটা কী হবে?
- কেন? আমাদের সার্কিটের এক্সপায়রি? ইকুইপমেন্টের ডেপ্রিশিয়েশন?
- মৃত্যু যে অঙ্ক মেনে চলা এক্সপায়রি বা ডেপ্রিশিয়েশন নয় ব্দগ্বিউদ। তা'তে চমক থাকতে হবে, বেহিসেব থাকতে হবে, আর থাকবে রোম্যান্স আর মায়া। অথচ মোটোহিউম্যান-এক্স থ্রিসিক্সটি সিরিজের সব্বাইকে ঠিক এক লাখ একত্রিশহাজার চারশো ঘণ্টা পর নিথর হয়ে পড়তে হবে; শেষ হয়ে যাবে আমাদের মাদারবোর্ডের আয়ু। এক সেকেন্ডও এ'দিক ও'দিক হওয়াএ উপায় নেই। এই নিখুঁত নিশ্চিন্দি কিছুতেই মৃত্যু হতে পারে না।
- আর আমাদের মৃত্যু না আসা পর্যন্ত এ গ্রহ শ্মশান হয়েই থাকবে, এ'টাই আপনার ভয়! তাই তো?
- এই এতক্ষণে ধরতে পেরেছ ব্দগ্বিউদ! সাবাশ! তবে ঘাবড়ে যেওনা...এই মাঝরাত্রে তোমায় এমনি এমনি ডাকিনি। সলিউশন আছে।  এ শ্মশান সাফ করা সম্ভব। আমরা পারব।
- আমাদের শ্বাস নেওয়ার দরকার পড়ে না।  আমাদের পিপাসা নেই, মেটাবলিজম নেই..আমাদের মৃত্যু হবে কী'ভাবে সর্বাধিনায়ক?
- যুদ্ধ। যুদ্ধ ডেকে আনতে হবে।
- যুদ্ধ? এ কী অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করেছেন সর্বাধিনায়ক ল্পসদজে? মোটোহিউম্যান-এক্স থ্রিসিক্সটি সিরিজের আমরা সবাই অবিকল এক। আমাদের সার্কিট থেকে শুরু করে লজিক-ফ্লো থেকে নিয়ে সমস্ত ইকুইপমেন্ট; এক্কেবারে এক। আমাদের সমস্ত কিছুই লজিকে ভর দিয়ে চলবে। সে'খানে এমন মতভেদের সুযোগ কোথায় যার ফলে মোটোহিউম্যানরা একে অপরের বিরুদ্ধে মানুষদের মত যুদ্ধ ঘোষণা করবে?
- ইন্টেলিজেন্স ছাড়া মানুষে মানুষে কী এমন ফারাক ছিল বলতে পারো ব্দগ্বিউদ যে তারা একে অপরকে কচুকাটা করে স্রেফ গায়েব হয়ে গেল? তাদের প্রত্যেকের  ভিতরের সার্কিট আর যন্ত্রপাতিও কি অবিকল একই রকম নয়?
- আপনি কি বলতে চাইছেন..।
- আমি বলতে চাইছি যে মতভেদ তৈরি করতে হবে। মতভেদের সঙ্গে সার্কিট আর কলকব্জা এক হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। যুদ্ধ আর খুনোখুনিটা আমাদের দরকার। নয়ত মোটোহিউম্যান সভ্যতা নিষ্প্রাণ হয়েই থাকবে।
- আর সেই যুদ্ধ আর খুনোখুনির মেজাজটা মোটোহিউম্যানদের মধ্যে আনবেন কী করে সর্বাধিনায়ক?
- কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে আগুন হয়ে উঠত হে, এ'টা প্রমাণিত সত্য। তাছাড়া মানুষের ক্ষেত্রে অনেক রকমের উদ্ভট ইমোশন কাজ করত বটে; দেশ, ভাষা ইত্যাদি - সে'সব ইমোশনে সামান্য নাড়াচাড়া পড়লেই মারমারকাটকাট লেগে যেত অতি সহজে। কিন্তু আমরা হলাম গিয়ে লজিক-সর্বস্ব রোবোট, আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু কঠিন; জবরদস্ত কারণ না হলে আমাদের লড়িয়ে দেওয়া মুশকিল।
- তা'হলে উপায়টা কী ল্পসদজে? এ'বারে খুলে বলবেন?
- উপায় একটাই। আমাদের  মোটোরোবোট থ্রিসক্সটি  তৈরির কারখানাগুলোয় রোবটের প্রডাকশন প্রসেসে একটু ট্যুইস্ট আনতে হবে হে ব্দগ্বিউদ। আর সে'টা তোমাকেই করতে হবে...।
- কীরকম?
- যন্ত্রপাতি বা সার্কিট পাল্টানো যাবে না তা আগেও বলেছি। তোমারও অজানা নয়। কিন্তু প্যাকেজিং পালটানো সম্ভব। আর স্রেফ প্যাকেজিং বা মোড়ক পালটে দিয়ে বিভিন্ন মোটোরোবটের বিভিন্ন ক্যাটেগরি তৈরি করা..।
- কিন্তু স্রেফ প্যাকেজিং পালটে বিভিন্ন ক্যাটেগরি তৈরি? তা কি আদৌ সম্ভব যে সর্বাধিনায়ক?  
- সম্ভব। মোড়ক আলাদা মানেই গোত্র আপনা থেকে আলাদা হয়ে যাবে। খুনোখুনি শুরু হবেই৷ নতুন সভ্যতার পথ চলাও শুরু হবেই।
- কিন্তু মোড়ক পাল্টানোয় কী এসে যায়?  তা'তে যুদ্ধ আসবে কী ভাবে? মৃত্যুই বা ঘটবে কেন?
- মানুষ আর নেই বটে ব্দগ্বিউদ। তবে তাদের ইতিহাসকে অবহেলা কোরো না। মানুষই মানুষের ঈশ্বর হয়ে উঠেছিল, আজ আমাদের সামনেও ঈশ্বর হয়ে ওঠার সুযোগ এসেছে ভায়া ব্দগ্বিউদ।  কারখানার বিভিন্ন লটে তৈরি মোটোহিউম্যানের প্যাকেজিং আলাদা আলাদা ভাবে হবে। যন্ত্র এক, মোড়কও একই হোক, শুধু মোড়কের রং পালটে যাক। দেখো, তাতেই আসবে তফাৎ,  আর বৈষম্য।  আসবে যুদ্ধ ও মৃত্যু। ফের সভ্যতার দিকে এগিয়ে যাবে এই গ্রহ। কোনোরকম সন্দেহ থাকলে মানব ইতিহাসের এনসাইক্লোপিডিয়াটা খুলে অ্যাপারথাইডের চ্যাপ্টারটা মনে দিয়ে পড়ে নিও, কেমন?

Thursday, July 4, 2019

প্রিমিয়াম


**প্রিমিয়াম**

- কী চাই?

- আপনিই অভিরূপ মাইতি?

- হ্যাঁ, কিন্তু আপনাকে তো ঠিক...।

- আমি এজেন্ট পাঁচশো বাইশ বাই সেভেন জেড। 

- গভর্নমেন্ট? 

- করেক্ট। 

- ও, তা কী চাই?

- আপনার আর তিন সপ্তাহের অক্সিজেন কোটা বাকি আছে। বহুবার ওয়ার্নিং দেওয়া সত্ত্বেও আপনি রিনিউয়াল ফীস জমা করেননি। 

- অ। 

- জলের প্রি-বুকিং রয়েছে আর মাত্র আগামি তিন দিনের জন্য।  এ ব্যাপারেও বহুবার ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছে কিন্তু তবু..।

- রিনিউ করাইনি। জানি।

- সুইসাইড টুইসাইড প্ল্যান করছেন নাকি মশাই?

- নট এগজ্যাক্টলি। ইয়ে, কফি খাবেন?

- উম? কফি? কাপে?

- তিন দিনের জলের কোটা পড়ে রয়েছে। কফি ফ্লেভার্ড ক্যাপসুল ছাড়া আর কীই বা..।

- নাহ্, সে'সব বাদ থাক। কাজের কথাই আসি মিস্টার মাইতি। আপনার ক্রেডিটে আর বারো হাজার সোশ্যাল বেনেফিট পড়ে রয়েছে। তা'দিয়ে দিব্যি আপনি আগামী এক বছরের অক্সিজেন আর ন'মাসের জলের সাপ্লাই কিনতে পারবেন।  আর তদ্দিনে আবার আপনার ক্রেডিটে হয়ত কিছু পয়েন্ট...।

- ক্রেডিট পয়েন্ট খরচ করতেই হবে বটে, তবে...।

- তবে? অক্সিজেন আর জলের রেশিও পাল্টাতে চাইছেন? বাড়তি ফুড ক্যাপসুল চাইছেন? ফুড ক্যাপসুলটা আবার বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না? গ্রস ডোমেস্টিক হাঙ্গার কমানোর জন্য তো গভর্নমেন্ট কম চেষ্টা করছে না..।

- ওহ, না না। সে'সব কিছু না। জল অক্সিজেন নিয়ে টানা হ্যাঁচড়া করে কী হবে বলুন।  ফুড ক্যাপসুলেও অনীহা চলে এসেছে আজকাল। এজেন্টদাদা, আমার দরকার প্রিমিয়াম প্রপার্টি।

- প্রিপ্র? সর্বনাশ! মাত্র বারো হাজার ক্রেডিট পয়েন্ট নিয়ে আপনি প্রিপ্র কিনবেন? মাত্র এক ইউনিট খরিদ করতেই তো আপনার ক্রেডিট ফতুর হয়ে যাবে মশাই। 

- অনেক রকম হিসেবটিসেব কষে দেখলাম এজেন্টদাদা। আমার ওই প্রিমিয়াম প্রপার্টিই চাই। 

- এক ইউনিট,  প্রিমিয়াম প্রপার্টি।  তাই তো? জল নয়, অক্সিজেন নয়, ফুড ক্যাপসুল নয়..প্রিপ্র..।

- ইয়ে স্যর।

- ইউ আর অ্যান ইন্সপিরেশন মাইতিবাবু। এই হাওয়া-বাতাস-জল নিয়ে নাস্তানাবুদ হওয়ার যুগে আপনার মত রোম্যান্টিক মানুষই আমাদের ভরসা..। আজ সন্ধের মধ্যেই আপনার একাউন্টে এক ইউনিট প্রিমিয়াম প্রপার্টি ট্রান্সফার হয়ে যাবে, এক ইউনিট; অর্থাৎ এক জিবি ডেটা ফর হোয়্যাটস্যাপ ইন্সটাগ্রাম অ্যান্ড ফেসবুক। 

- ধন্যবাদ এজেন্টদাদা।  বেশ কিছু জরুরি মেসেজ আর ফটো বহুক্ষণ ধরে হোয়াটস্যাপে আনডেলিভার্ড হয়ে পড়ে রয়েছে। এ'বার সে'সবের একটা হিল্লে হবে'খন।

Tuesday, July 2, 2019

চিঠি ও বেঞ্চি


বিলু,

চিঠিটা খুব মন দিয়ে পড়বি, কেমন?

প্রথমত, ফ্রিজে চার'দিনের রান্না রাখা আছে। আমি যদি চট করে না ফিরতে পারি তা'হলে ছোটমাসীকে ফোন করিস একটা, কেমন? ও তোকে আসানসোলে নিয়ে গিয়ে রাখবে কিছুদিন। (আর আমি যদি দু'দিনের মাথায় ফেরত চলেই আসি, তা'হলে তো সমস্যা মিটেই গেল)।

দ্বিতীয়ত, ব্যাঙ্কের খাতা, ইন্স্যুরেন্সের কাগজ আর বাড়ির দলিল আলমারির লকারে রাখা আছে। সঙ্গে আমার কিছু গয়না। সে'গুলো একটা ব্যাগে করে নিয়ে যাস আসানসোল যাওয়ার সময়, কেমন? 
(আর আমি যদি দু'দিনের মাথায় ফেরত চলেই আসি, তা'হলে তো সমস্যা মিটেই গেল)।

খেয়াল রাখিস কিন্তু।

বিলু, পড়াশোনাটা মন দিয়ে করিস। তোর বাবা নিজে পড়াশোনার মধ্যে ডুবে থাকা মানুষ ছিলেন, ওর মানটা রাখিস। আসানসোলে কত ভালো ইস্কুল আছে, সে'খানেই পড়বি না হয়। অবশ্য ছোটমাসী তোকে বড্ড স্নেহ করে, সে'খানে তোর অযত্ন হবে না। (আর আমি যদি দু'দিনের মাথায় ফেরত চলেই আসি, তা'হলে তো সমস্যা মিটেই গেল)।

ভেবেছিস আমি দুম করে কোথায় চলে যাচ্ছি? ভেবেছিস একেবারে আকাট পাগলামো? না রে বিলু, বিশ্বাস কর আমি পাগল নই। তোর বাবার ও'রকম দুম করে গায়েব হয়ে যাওয়াটা আমি মেনে নিতে পারিনি, সে'টা ঠিকই। কিন্তু বিশ্বাস কর...তোর মা পাগল নয়। নয়।

নাহ্, তেমন দূরে কোথাও আর যাব কই বল। আমি শুধু সম্বলপুরের সেই কোয়ার্টারে একবার ফেরত যাব রে। মনে পড়ে তোর? সেই সুন্দর জায়গাটা? কলোনির মধ্যে কত গাছগাছালি..পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট৷ সেই রাস্তায় তোর বাবা সাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়াত...অফিস ফেরতা বাড়িতে এসে ছাত্র পড়াত। অবশ্য তুই তখন কত ছোট।

জানিস বিলু, লোকে আমায় যাই বোঝাক; আমি জানি তোর বাবা অমন হুঠ করে হারিয়ে যাওয়ার মানুষ নয়। সে'দিন রাত্রেবেলা...মানে ওই বছর দশেক আগে...আমি জানি সে'দিন ও ঠিক সেই বেঞ্চিটায় গিয়ে বসেছিল...। কত করে বারণ করলাম রাত্রেবেলা ওখানে গিয়ে না বসতে..সাতপুরনো ভাঙাচোরা বিবর্ণ কনক্রিটের বেঞ্চ। আশাপাশে ঝোপঝাড়। এমনিতেই ওই পোড়ো দিকে কখনও কেউ যেতই না৷ তোর বাবাটা একটা অকারণ ডানপিটে মানুষ; সে'দিন তাঁর ইচ্ছে হল সেই বেঞ্চিতে বসে সিগারেট খাওয়ার; ওই বেঞ্চি নাকি তাকে টানছে। কত করে বললাম, এত রাতে এ'সব পাগলামোর মানে হয় না কিন্তু কে শোনে কার কথা। হুশ করে বেরিয়ে গেল, কমলা রঙের ফতুয়া আর সাদা পাজামা পরে। সেই শেষ দেখা। আর ফিরলে না। থানাপুলিশ তো কম হল না, কিন্তু কিস্যুতে কিস্যু না।

আর কিছু হবেই বা কী করে বল? ও কি পালিয়েছে নাকি যে খুঁজলেই সমস্যার সমাধান হবে? আমি বারবার করে সবাইকে বললাম ও ওই বেঞ্চি থেকেই গায়েব হয়েছে, কেউ পাত্তা দিল না। পুলিশ তো উড়িয়েই দিল আমার কথা। বারবার বললাম, কলোনির কোণের ওই অপয়া বেঞ্চিটা একদিন আগেও ভাঙাচোরা রঙচটা চেহারায় ছিল...অথচ তোর বাবা গায়েব হতেই রাতারাতি সে ঝকঝকে নতুন হয়ে উঠল...আশেপাশের ঝোপঝাড় এক্কেবারে সাফ। এমন কী বেঞ্চির গায়ে রাতারাতি নতুন রঙের পোঁচও পড়ে গেল; কমলা ও সাদা। ও বেঞ্চি গোলমেলে রে বিলু, আর তোর বাবা পালায়নি..গায়েব হয়েছে...কিন্তু আমার কথা কেউ শোনে না যে। সবাই পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দেয় (তুইও কি তাই করবি?)।

যাক, আজ সে বেঞ্চি আমায় বড় টান দিয়েছে রে। এদ্দিন পর..এদ্দিন পর যদি তোর বাবার কোনো খবর পাই। আমি সম্বলপুর চললাম, কোম্পানি বন্ধ হওয়ায় সে কলোনিটা এখন মনে হয় প্রায় জনমানবহীন, কিন্তু সে বেঞ্চিটা কি নেই? নিশ্চয়ই আছে।

বিলু, আমি যদি আর না ফিরি...তুই একবার এসে সম্বলপুর কলোনির দক্ষিণ কোণের সেই বেঞ্চিটার সামনে দাঁড়াস, কেমন বাবু? মনে রাখিস, আজ নীল সুতির শাড়ী পরে বেরোচ্ছি; মনে রাখিস।
আসি। ভালোবাসা ও আশীর্বাদ।
ইতি মা।

***
মায়ের এই সাত বছর পুরনো চিঠিটা টর্চের আলোয় পড়তে পড়তে বিহ্বল বোধ করছিলেন বিপ্লব চ্যাটার্জি। সামনের ভাঙাচোরা বাঁধানো বেঞ্চিটার দিকে তাকিয়ে গা শিউরে উঠছিল তাঁর।

টর্চটা নিভিয়ে পকেটে রাখলেন তিনি, মায়ের চিঠিটা তখনও হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরা। এদ্দিন পর কেন যে হঠাৎ সম্বলপুরে ফেরার ঝোঁক হল...। বেঞ্চিটার দিকে ফের তাকালেন তিনি। আজ পূর্ণিমা ; চাঁদের ধবধবে আলোয় বিপ্লব স্পষ্ট টের পেলেন যে বেঞ্চির গায়ের বিবর্ণ আধচটা রঙটা আদতে নীল।

আরও মিনিট দশেকের মাথায় ঝিমঝিমে মাথায় গিয়ে বেঞ্চিতে বসলেন বিপ্লব। জ্ঞান হারানোর আগে টের পেলেন বেঞ্চির নীল রঙ মুছে তা'তে সাদা সবুজের ছোপ লাগছে যেন; ততক্ষণে তাঁর গায়ের সবুজ হাফশার্ট আর সাদা পায়জামা ঘামে ভিজে সপসপ করছে।

ক্যাপ্টেন কোহলি


হুব্বারত্ন সমর্থক আমি। ঝোঁকের মাথায় হইহল্লা করে আর র‍্যান্ডম সমস্ত কুসংস্কার আঁকড়ে থেকে খেলা দেখি। ভারত জিতলে মাইনের বাড়ার আনন্দ আর হারলে পিএফে ইন্টারেস্ট কমে যাওয়ার হাহাকার অনুভব করি। গভীর অ্যানালিসিসের চেয়ে চটকদার হেডলাইন আমায় সহজে গলিয়ে ফেলে, পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি প্রিয় হয়ে দাঁড়ায় গপ্পগুজব এবং ব্যাক্তিগত বায়াস (bias)। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের খাপছাড়া টুকরোকে সুবিধেমত ব্যবহার করে থাকি শুধু নিজের বায়াসকে প্রমাণ করার স্বার্থে।

কালেভদ্রে কেউ কেউ অবিশ্যি মনের মধ্যে ঢুকে যাবতীয় বায়াসের জঞ্জাল ঝেঁটিয়ে সাফ করে, যুক্তির ফিনাইল ঢেলে মনটা ধুইয়ে দেন। যেমনটা করেছেন ক্যাপ্টেন কোহলি।

ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে হাজার-স্যালুট জানিয়েও ক্যাপ্টেন কোহলির প্রতি খুঁতখুঁত বহুদিন পুষে রেখেছি৷ হাজার হোক, একসময় কোহলি বলতেই একটা বখাটে মুুখ ভেসে উঠত (যুক্তি বা তুলনায় যাবেন না প্লীজ, ব্যাপারটা বায়াস)। তাছাড়া ধোনির মত ঠাণ্ডা মেজাজ নেই; মাঠের মধ্যে হাত-পা ছুঁড়ে একাকার কাণ্ড, আগ্রাসনে মাত্রাবোধ নেই মোটে; কোহলির কেরিয়ারের শুরুতে এমন ধারণাটাই বদ্ধমূল ছিল। এমন কি কোহলি-কুম্বলে-বিবাদ পর্ব পর্যন্ত মনে হয়েছে 'এর বাড়াবাড়ির সীমা নেই'। মনে হবে নাই বা কেন? কুম্বলে আমার ছেলেবেলার ক্রিকেট দেখার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে, আর কোহলি তো এই সেদিনের ছোকরা। আর ওই, হুব্বারত্ন হলেও মাঝেমধ্যে নিজেকে ইয়ান চ্যাপেল বলে মনে হবেই; নয়ত ক্রিকেট-ভক্ত হব কী করে। মনে হত কোহলির লম্ফঝম্প যতটা, ওর ক্যাপ্টেন্সি-মস্তিষ্ক কি আদৌ ততটা ক্ষুরধার?

কিন্তু এই সমস্ত বায়াসকে আঁশবটিতে কুচিয়ে ডুবোতেলে ভেজে চিলি সস মাখিয়ে চিবিয়ে খেয়েছেন বিরাটবাবু। নিজে জিনিয়াস-স্তরে একটানা ব্যাটিং করে চলেছেন শুধু তাই নয়।কোহলির হাঁটাচলা-চাউনি-হাবভাব; সমস্ত দেখলেই মনে হয় সেনাপ্রধান শত্রুপক্ষের কামানের সামনে দাঁড়িয়ে সৈন্য পরিচালনা করছেন। অথচ, সেই প্যাশন থাকলেও বাড়াবাড়ি আগ্রাসন নেই। আগে যাও বা ছিল, এখন যে ক্যাপ্টেন কোহলিকে দেখি তাঁর যাবতীয় আগ্রাসন নিজের এবং নিজেদের খেলা নিয়ে, বিপক্ষকে ছোট করতে নয়। কেন মনে হয় সে'টা? উদাহরণ প্রচুর। এই যেমন রাবাদার 'কোহলি ইম্যাচুয়র্ড' মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পরিশীলিত মেজাজে বলা কথাগুলো। এ'রকম ভাবে এক নতুন বিরাট বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন। আরসিবির মত একটা হেরো দলের হয়ে সীজন কাটিয়েছেন, তাঁর কথাবার্তায় মাঝেমধ্যেই ফুটে উঠেছে রাগ ও হতাশা; কিন্তু কখনই নেগেটিভ মেজাজ প্রকাশ পায়নি। যত দিন যাচ্ছে তত বিরাটের কথা থেকে 'আমি' কমে 'আমরা' সেন্টিমেন্টটা বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আর নিজের সমর্থকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বিপক্ষের ( স্টিভ স্মিথের) কাঁধে হাত রাখা; এই উদাহরণ নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটে বেশ বিরল। "ক্রিকেট ইস আ জেন্টলম্যানস গেম" ; তলিয়ে দেখলে এই মিথটা দুরমুশ হয়ে যেতে বাধ্য। তবে বিরাটরা যতবার এমন কাজ করবেন, ততবার সমর্থক এবং ক্রিকেট-ভক্ত হিসেবে আমাদের বুক গর্বে ফুলে উঠবে; তেমনটাই তো হওয়া উচিৎ।

এত কিছু ফেনিয়ে বলার একটাই উদ্দেশ্য; ব্যাটসম্যান, অধিনায়ক এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিরাট কোহলি নিজেকে যে'ভাবে শানিয়ে তুলেছেন; সে'টা ভেবে সত্যিই গর্ব বোধ করি।

কোহলি ইজ মাই ক্যাপ্টেন; এ'টা ভাবতে আজকাল কী ভালোই না লাগছে।
(ছবিটা বিসিসিআইয়ের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহীত)