Friday, November 2, 2018

বনমালী কন্ডাক্টরের বাস

১।

স্ট্রীট ল্যাম্পের ঘোলাটে হলুদ আলো ভেদ করে ডাবলডেকার বাসটা টুপ করে উদয় হল। প্রায় নিঃশব্দে। প্রথমে বিভূবাবু বিলকুল টের পাননি, তারপর হঠাৎ যেন বাসটা রাস্তা বেয়ে ভেসে উঠলো। তা'তে ঘাবড়ে যাননি বিভূবাবু; এ বাস এমনভাবেই আসে। 

যাক, এ'বার অন্তত রাতভর বাসস্টপের বেঞ্চিতে হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হবে না। অবশ্য বাসের অপেক্ষায় রাতভর বাসস্টপে পায়চারী করার অভিজ্ঞতা নতুন নয়;  অন্তত হাজার দেড়েক রাত এইভাবে কেটেছে। 

সে হাজার দেড়েক রাতের মধ্যে বড় জোর বার চারেক এসেছে এই বাস। কাজেই রাতভর অপেক্ষা করার অভ্যেস তার নতুন নয়।

২।

ফিস শব্দে সে বাস এসে দাঁড়ালো বিভূবাবুর সামনে। যথারীতি ড্রাইভারের সীট খালি; স্টিয়ারিংটা ট্যাওটুই করে এ'দিক সে'দিক পাক খাচ্ছে। এ'বাসে এমনটাই হয় বটে। আগেরবারগুলোর অভিজ্ঞতায় এ'সব হালচাল দিব্যি বুঝে গেছেন তিনি। তাও ভালো, হাজারখানেক রাতের চেষ্টায় অন্তত বারচারেক এ বাসে চড়ে হাওয়া খেয়ে বেরিয়েছেন তিনি। 

বিভূবাবুর চেনাজানা প্রায় কেউই এ বাসের খোঁজ পাননি। এমন কী গিন্নীকেও এ বাসের খবর দিতে গিয়ে রীতিমত 'ছিটগ্রস্ত' বলে চোপা শুনতে হয়েছে।

এদ্দিনে তিনি দিব্যি বুঝেছেন যে এ খবর নিয়ে বেশি আলোচনা না করাই ভালো। বাসেই অবশ্য একবার অফিসের দিলু প্রামাণিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিল; সেই থেকে মাঝেমধ্যে লাঞ্চের সময় চাপা গলায় বাসযাত্রা নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনা তাঁদের মধ্যে।

বিভূবাবুর ধারণা, কলকাতা শহরে আরো অন্তত জনা কুড়ি লোক আছেন যারা এ বাসের খবর জানেন। রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় আশেপাশের মানুষজনকে মন দিয়ে জরীপ করেন তিনি, যদি সেই অদ্ভুত ডাবলডেকার বাসের কোনো সহযাত্রীর দেখা পাওয়া যায়। যদি।

৩।

কন্ডাক্টর বনমালীর একগাল হাসি দেখলেই বুকের ভার লাঘব হয়ে আসে। ঢলা পাজামা আর গোলাপি ফতুয়া পরা বনমালী খৈনি ডলতে ডলতে শুধোয়;

- আরে বিভূতি যে!

- এ বাসের খোঁজে হন্যে হয়ে রাত কাটে গো বনমালীদা, দেখা পাই কোথায় রোজ।

- খোলামকুচি যে নয় ভায়া। খোলামকুচি নয়। 

- তা তো বটেই। 

- তা এ জয়রাইডে তো তুমি নতুন নয় হে। দেরী না করে সোজা দোতলায় উঠে জানালার পাশে বসে পড়ো। আমি ড্রাইভারদাদাকে বলি বাস ছাড়তে...।

- ড্রাইভারদাদাকে দেখা যায় না যে বনমালীদা। এ বাস আপনি চলে না?

- তুমি দেখতে পাওনা বলে কি তোমার পিঠের আঁচিলটা  নেই ব্রাদার?

- ও। ঠিক। ঠিক।

সুড়সুড় করে বাসের ওপরের তলায় উঠে এলেন বিভূবাবু। এ বাসের এ'টাই মজা, সবার জন্য দোতলার জানালা। 

৪।

এ যাত্রায় বাসে আরো জনা দশেক লোক দেখতে পেলেন তিনি। সবার চোখে ঢুলুঢুলু আলসেমি, ঠোঁটে মাখাসন্দেশের মত নরম হাসি। কেউ মাথা নেড়ে নিজের মনে বেজে চলা সুরে তাল দিচ্ছেন, কেউ কেউ স্থির হয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে; মিঠে বাতাসে সবার চুলে ফুরফুর। পছন্দমত জানালা বেছে বসে পড়লেন বিভূবাবু।

আহ্, বসামাত্রই হাওয়ার ঝাপটায় বড় গান পেল ভদ্রলোকের। তুলতুলে নরম সীটে গা এলিয়ে দিলেন তিনি; নাকে এলো বিকেলের জিলিপি শিঙাড়ার সুবাস।

জানালার বাইরে অন্ধকার, তা'তে টুপটাপ জোনাকির দানা ভেসে বেড়াচ্ছে। 

৫।

বিমলের কথা তরতরিয়ে বিভূবাবুর মনের মধ্যে এসে পড়লো। কী সুন্দর বেহালা বাজাতো ছেলেটা, বাজারের মাছ চেনার জুড়ি ছিল না ওর, আর ক্যারমটা বড় ভালো খেলত। সবচেয়ে বড় কথা বিভূবাবুর প্রাণের বন্ধু ছিল বিমল। সেই ক্লাস সেভেন থেকে। 

ছিল। ছিল। এখন নেই।

বিকম পাশ করে দু'জনে মিলে একটা ব্যবসা শুরু করেছিলেন; লোহার স্ক্র‍্যাপ কেনাবেচা৷ টু পাইস পকেটে আসতে শুরু করেছিল। দিব্যি চলছিল সবকিছু। তারপর কীভাবে যেন বিমল পালটে গেল; ঠকিয়ে হাতিয়ে নিলো ব্যবসাটা। অনটনের সংসারে ভার ছিল বটে ওর কাঁধে, কিন্তু তাই বলে নিজের বন্ধুকে এমন ভাবে ঠকাবে? গা গনগনে রাগ আর বিশ্রী ঘেন্না নিয়ে সরে এসেছিলেন বিভূবাবু। বছর তিনেক পর একবার বিমল ফিরেছিল; অপরাধীর মত। একমিনিটের জন্যেও তাকে বরদাস্ত করতে পারেননি বিভূবাবু।

কদ্দিন আগেকার কথা, অন্তত বছর কুড়ি কেটে গেছে তারপর। বিমলের সঙ্গে আর কখনও কোনো যোগাযোগ হয়নি।

৬।

বাস থেকে নেমে প্রতিবারের মত এ'বারেও তিনি সোজা এসে পড়েছেন বিছানায়। পাশে গিন্নী তখনও ঘুমে কাদা। জানলা দিয়ে ভোরের নরম আলো গায়ে এসে পড়ছে।

ভালোলাগায় বড্ড আলুথালু বোধ করছিলেন বিভূবাবু।ততক্ষণে তিনি মনেমনে ঠিক করেই ফেলেছেন যে আজ অফিসে না গিয়ে তিনি সোজা যাবেন বেলঘরিয়া; বিমলের বাড়ি। নিশ্চয়ই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাবে সে'খানে। আর এ'বার দেখা হলে আর কোনো ছাড়াছাড়ি নয়, এমন কী বিমল নিজে ফসকে বেরিয়ে যেতে চাইলেও তাকে ছাড়া হবে না। জাপটে জড়িয়ে রাখবেন বিভূবাবু। ঠিক আছে, বিমল না হয় একবার একটা বড় ভুল করেই ফেলেছে, কিন্তু তা বলে ছোটবেলার অমন বন্ধুত্ব গোটা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে যাবে? বিভূবাবুর বন্ধুত্ব কি অতই খেলো? রাগধাপ গজরগজর অনেক হয়েছে; বিমলকে কম কথা শোনাননি বিভূবাবু। এ'বার সব ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। আজ বিমলের বেহালা বাজানো শুনেই ছাড়বেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, কথা জমানো আড্ডা সাতপুরনো রাগের পাল্লায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে; এর একটা হিল্লে করা দরকার।

তবে অফিসের বদলে বেলঘরিয়া যাওয়ার প্ল্যান  গিন্নীকে এখনই বলা যাবেনা, বিমলের নাম শুনলেই সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবে। জ্বলে উঠবেই। তার জন্য অবশ্য  গিন্নীকে দোষ দেওয়া যায়না। আর যাই হোক, সে বেচারি তো আর বনমালী কন্ডাক্টরের বাসের খোঁজ পায়নি।

মা ও সাকরেদ

মামাবাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় ইলিশ রান্না হয়। আমাদের বাড়িতে নেতিপেতি ফর্ম্যাটে নিরামিষ। তবে সে নিরামিষে থাকে মায়ের রান্না ভুনোখিচুড়ি। নারকোল কুচি, ভাজা বাদাম আর ফুলকপি দেওয়া; তার কোয়ালিটিতে ইলিশের অভাব তেমনটা বোধ হয়না।

মা নিজে গোটাদিন উপোসী থাকে, তা'তে রান্নার ফোকাস বাড়ে কিনা কে জানে; কিন্তু লক্ষ্মীপুজোর দিন রাঁধা খিচুড়ির টেস্টের সঙ্গে অন্যদিনগুলোর তুলনা চলেনা। বাড়িতে শ'দেড়েক প্রতিবেশী ভোগ খেতে আসেন; খিচুড়ি, পাঁচমেশালি তরকারি, লম্বা করে কাটা বেগুনভাজা, গোল আলুভাজা, পায়েস, চাটনি আর মিষ্টি। সবার শেষে পুজোর ঘরে বাড়ির লোকেরা থালা নিয়ে বসে। আমি শুধু খিচুড়ি আর বেগুনভাজায় ফোকাস করি; থালাজুড়ে ইয়াব্বড় খিচুড়ির ঢিপি, তার পাশে লেতকে পড়তে থাকা ডাঁটাওলা বেগুনভাজা। পুজোর ঘরের ধুপধুনো ফলমূল প্রসাদের সুবাস অদৃশ্য দলা পাকিয়ে সে খিচুড়িতে এসে মেশে। দু'তিন গ্রাস মুখে দেওয়ার পরেই মনের মধ্যে ভক্তি ফ্লো করতে শুরু করে। দুধভাত না থাক; এমন খিচুড়ি যেন বছরে অন্তত একবার পাতে এসে পড়ে। পুজোর পরের দিন জলখাবারেও যে এই খিচুড়িই ঠাণ্ডা খাওয়া হবে, তা বলাই বাহুল্য। 

মা এ'বার একজন অনুগত সাকরেদ পেয়েছে; সে মায়ের লেজুড় হয়ে ঘুরেছে গোটাদিন। এ'দিকে আমি  কলকাতা এয়ারপোর্টে কেএফসির সামনে বসে, মনের মধ্যে মায়ের রান্না খিচুড়ির সুবাস ঘুরঘুর করছে। কেএফসির উইংস চিবুতে যে কী বিশ্রী লাগছে।

সান্যালের দাওয়াই

অন্ধকার গলিটায় ঝুপ করে উদয় হলেন সুমন সান্যাল। জমাট নিস্তব্ধতা  ভেদ করে একটা ফস্ শব্দ; সিগারেট ধরালেন ভদ্রলোক। ইলেক্ট্রিক বাতি আর আকাশে চাঁদ সত্ত্বেও এ অন্ধকার বেশ সমীহ করার মত।

হাতঘড়ির দিকে ঘনঘন তাকিয়েও লাভ হচ্ছে না, সময় চলছে কলকাতার ট্র‍্যাফিক জ্যামে পড়া মিনিবাসের গতিতে। রাত সোয়া দু'টো বাজতে এখনও মিনিট তিনেক দেরী।

উফ। তর সইছে না।

'মিস্টার সানিয়াল'! ঘড়ঘড়ে কণ্ঠস্বরটা পরিচিত; রোবুনকেম্প। সেও যেন মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে হুট করে, 'প্লীজ মিস্টার সানিয়াল, স্মোকিং ব্যানঢো ক্রুন'। রোবুনকেম্পের বাংলা বোঝা চাট্টিখানি কথা নয়, তবে সান্যালবাবু অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সদ্য জ্বালানো সিগারেটটা ফেলে দিয়ে রোবুনকম্পের হাত টেনে সামান্য ঝাঁকুনি দিলেন তিনি "ওয়েলকাম টু আর্থ রোবুনকেম্প মশাই, ওয়েলকাম"।

- সানিয়াল, অনেক ডিন পরে দেকা হল।

- তা অনেকদিনই বটে। অন্তত সাড়ে বাইশ বছর তো বটেই।

- ঠুমি তো এখুনও জোয়ান ডেকচি।

- জোয়ান ডেকচি?

- ডুক্কিতো। তোমায় দেকে একুনও জোয়ান মনে হয়।।

- আপনাদের সেই উন্নত গ্রহের ওষুধ। জোয়ান না থেকে উপায় আছে? অবশ্য জোয়ান থাকার চেয়েও বড় সুবিধে হল হুটহাট যে কোনো জায়গায় উড়ে যেতে পারছি৷ ট্রেন বাস রিক্সার খরচ নেই বললেই চলে। আপনার ওষুধের জবাব নেই রোবুনকেম্পবাবু। অনেস্টলি বলছি। স্রেফ সে'টার জোরেই এই দু'শো বাহাত্তর বছর বয়সেও দিব্যি দিনে অন্তত বারো মাইল হাঁটছি।

- ডুরোন্টো। টবে আমরাও টুমার কাচে কৃটজ্ঞ। টুমি সাপ্লাই না ডিলে আমরা বিপডে পড়টম। আমাডের ঘ্রহ ডকে উটতো। টুমাকে এ অষুড ডিটে পেরে আমরা আনন্ডিট।

- আরে ও কিছুই নয়৷ যাক গে, এনেছেন? আপনাদের ওষুধের শিশি?

- হুঁ। এইকানে আচে। আর টুমার সাপ্লাই? সেটা?

- এনেছি। এ'বার একটু বেশি করে এনেছি। আগামী তিরিশ চল্লিশ বছর কেটে যাবে। কোনো  ধুমকেতু আপনাদের গ্রহকে ছুঁতে পারবে না। অব্যর্থ মাদুলি।

- ডোন্নোবাড সানিয়াল্।

- আরে ধুর। আমি এ'টুকু করব না? 

- এ'টা অনেক। লাইফ অ্যান্ড বার্থ-য়ের সাইকেল বন্দ হওয়ার পর আমাদের ঘ্রহ টেকে প্রটেকশন গেল উটে। রোবটের হাটে টেকনলজি আচে, অ্যান্টি ডুমকেটু প্রটেকশন নেই। 

- আহা রে। পৃথিবীর মানুষ যদি জানত, কী ম্যাজিকে পৃথিবী আর সৌরমণ্ডল উবে যাচ্ছে না৷ সবাই শুধু জানে ফিজিক্স।

- পিজিক্স। ও টো আউটডেটেড জ্ঞানের গুডাম। আমাডের ঘ্রহের সবাই সেটা জানে।

- আমরাও জানব রোবুনকেম্পদাদা। আর শ'খানেক বছর যাক। তবে বেশি জেনে ফেলে আবার যেন আপনাদের হাল না হয়।

- টাই যেন হয় সানিয়াল।

- এই যে এই ডিবেতে রয়েছে আপনার সাপ্লাই। আপনার গ্রহের মাদুলি। ফিরে গিয়ে ছড়িয়ে দেবেন গ্রহের চারদিকে। তিরিশ চল্লিশ বছরের জন্য ধুমকেতু বাবাজীরা জব্দ। এফেক্ট কমে এলে আমায় সিগন্যাল পাঠাবেন, তখন ফের এ গলিতে দেখা হবে। কেমন? 

এক কৌটা ভরা "আমি মায়ের কাছে যাব"র আকুতি রেকর্ডিং রোবুনকেম্পের হাতে গুঁজে দিলেন সান্যালবাবু। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ভাষায় যা সংগ্রহ করা। বেচারাদের গ্রহে মা নেই কিনা, সুমন সান্যালের দেওয়া মাদুলি ছাড়া রোবুনকেম্পেরা টিকে থাকবে কী করে?

পুজোর রোল

যাদের কপালে বাড়ি ফেরার ছুটি জোটেনি, যাদের পুজো কাটবে এমএস-এক্সেলে মুখ গুঁজে গজরগজর করে। যাদের খোকাখুকুরা বাইরে বলে মনখারাপ, ঘনঘন পুরনো পুজোসংখ্যাগুলো হাতড়ে খোকার প্রিয় লেখাগুলো উল্টেপাল্টে পড়ে চলেছেন।

পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত যে মানুষটার 'উৎসব' শুনলে মুখে তেতো স্বদ খেলে যায়, পুজোর ছুটি যার কাছে যন্ত্রণার মত।

পুজোর বাতাস বুকে এলে যার পুরনো চিঠির কথা মনে পড়ে, 'কেমন আছিস' মার্কা ফোন করার সাহস আর অধিকার হারিয়েছে যে সাইকেল-সম্রাট।

যার খুব মায়ের কথা মনে পড়ছে। বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে রাখার নিশ্চিন্দি হাতড়ে চলেছে যে বেআক্কেলে। 

পুজোয় তাদের সবার জন্য, কোথাও না কোথাও,নিশ্চয়ই একটা এগরোল ভাজা হচ্ছে। ভালোবাসার চাটুতে নেড়েচেড়ে, স্নেহের তেলে উল্টেপাল্টে। তাদের সবার কামড় সে রোলে এসে পড়ুক না পড়ুক, পুজোয় তারাও থাকুক।

শিউলি ও হামানদিস্তা

প্রেমে প্যানপ্যান ঘ্যানঘ্যান করলেই হবে?

যে রোগে যেমন ওষুধ। 

ছোটমামা দুম করে চলে আসায় চিলেকোঠার গোপন সাক্ষাৎ ভেস্তেছে? বুকের মধ্যে চড়া সুরের হাউহাউ? অ্যান্টিডোট একটাই; দু'প্যাকেট বাদামভাজা প্লাস লঙ্কা মেশানো বিটনুন।

ঘণ্টাদুয়েক মণ্ডপে থেকেও নীলশাড়ি একবারটির জন্যেও ভলেন্টিয়ারগিরির প্রাণপাত করা দৌড়োদৌড়িটা খেয়াল করে বাহবা-হাসি ছুঁড়ে দেয়নি? সে মনভার উড়িয়ে দেওয়ার জন্য চট করে জোগাড় করে নিতে হবে মশলাদার মটরভাজার প্যাকেট।

আবহাওয়া দপ্তরের অভয়বাণীর কানমলে নেমে আসা বৃষ্টিঝড়ে অষ্টমীর হাঁটতে যাওয়ায় প্ল্যান ডকে উঠেছে? কপালে রয়েছে বন্ধুদের বাঁকা আওয়াজ আর টুয়েন্টি নাইন? বুক বেয়ে ভসভসিয়ে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাসকে রুখতে দরকার কাঠিভাজার মিউজিকাল মুচমুচ।

সাতপাতা লম্বা 'তোমায় ছাড়া বাঁঁচব না' মার্কা চিঠির জবাবে চাঁচাছোলা চিরকুট এসেছে? হেডস্যারকে বলে দেওয়ার ধমক? আদা লজেন্সকে সর্বিট্রেটের মত জিভের তলে ফেলে চুষতে হবে, যতক্ষণ না বুকের ধড়ফড় কমছে।

ডায়েরীর সমস্ত কবিতা জলে গেছে? সে জানলো না পর্যন্ত? রাস্কেলচন্দ্র ফার্স্টবয়ের সঙ্গে সে প্যান্ডেল আলো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে? ঘুরে দাঁড়ানোর একটাই টোটকা; আড়াই প্যাকেট মৌরি লজেন্স।

বাদাম-লজেন্সওয়ালারা ডিস্পেন্সারি কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। আর তা না চিনলে; প্রেমের শিউলিকে খুনে-দুনিয়ার হামানদিস্তার নীচে ফেলতেই হবে।