Monday, June 4, 2018

রাণু ভানু আর সুনীলবাবু



মানুষকে বোঝানোর দায় কত মানুষকে নুইয়ে দিল, কত সম্পর্ক মন্দ-উপাখ্যান হয়ে পড়ে রইল। কত গান, গল্প, কবিতার গায়ে আলো এসে পড়ল না। তবে এই সমস্ত অবান্তর সরিয়ে সুন্দরের গল্প বলতে সুনীলবাবুর মত কেউ খুব একটা পারেন না বোধ হয়। ইতিহাসের সৎ-সুবাস মাখানো ভালোবাসার গল্প। এ'দিকে সুনীলবাবুর ভাষায় বাড়াবাড়ি আবেগ নেই, কিন্তু অনুভূতির সুরগুলো কী স্পষ্টভাবে বুকে বাজে।  আবার বলা দরকার; এমন সহজ,সুন্দর, ভি-তে রাখা বাংলা যে কী অপূর্ব ভাবে প্রেমের ভাষা হতে পারে, তা টের পেতে সুনীলবাবুই সম্ভবত ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার।

ভানুদাদার মনখারাপে মনখারাপ।
রাণুর মনকেমনে মনকেমন।
সমস্ত ভানুদাদা আর রাণুর কপালে যদি সুনীলবাবুর কলম জুটত; তা'হলে কত গল্প আর কত গানের হিল্লে হয় যেত। ভানুদাদার "দুখজাগানিয়া" শব্দটা বুঝে উঠতে রাণুরও বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল; আমরা কোথাকার কে।

Sunday, June 3, 2018

ক্যালামিটি

*ক্যালামিটি*

অমিত রায়ের হাবেভাবে গায়ে পড়া ঘ্যানঘ্যান না থাকা,

উত্তমের উৎপল-কণ্ঠী ওথেলোতে সুচিত্রার চোখ ছলছল না থাকা,

আজহারের ব্যাটিং স্টান্সে গলার তাবিজের দুলুনি না থাকা,

আনন্দের শায়রির ডায়েরিতে শুকনো ফুলের স্মৃতি-ফসিল না থাকা,

'বুঝলে ভায়া'র আরামে পাহাড়ি সান্যালিস্ট আশ্বাস না থাকা,

আর

রাতের ফ্রীজে ক্ষীরকদম না থাকা।

ব্রডব্যান্ড ও কুরুক্ষেত্র


- মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের জয় হোক!
- আর ভাই সঞ্জয়! জয়ফয় বলে লেগপুল কোরো না। কুরুসেনা যে হারে প্যাঁদানি খাচ্ছে..।
- সবে তো শুরু মহারাজ। অত ইম্পেশেন্ট হলে চলবে কেন? গুড নিউজ আছে। কুরুক্ষেত্রে ট্রেন্ড পাল্টাচ্ছে।
- বটে? কী'রকম?
- শেষ খবর অবশ্য দু'ঘণ্টা আগে পেয়েছি মহারাজ। আজ পিতামহ মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দিয়েছেন। পাণ্ডব সৈন্য পালাবার পথ পাচ্ছে না। অর্জুন নিজে ভি-তে না খেলে বাধ্যে হয়ে দিলস্কুপ গোছের এলোপাথাড়ি তীর ছুঁড়ছে, তা'তেও লাভ হচ্ছে না। কৃষ্ণ রাগে ফেটে পড়ছে।
- পিজে টাইম, কৃষ্ণ রাগে ফেটে পড়লে কি ওকে ফাটাকেষ্ট বলে ডাকা যাবে?
- এল ও এল। এল ইউ এল জেড।
- যাক গে, দু'ঘণ্টা আগের খবর কেন? যুদ্ধ তো এখনও চলছে। স্ট্র‍্যাটেজিক টাইম আউট নিয়েছে একটা বড় জোর। লেটেস্ট স্টেটাস কী?
- ক্ষমা করুন মহারাজ। ব্যাসদেবের ব্রডব্যান্ড কনেকশন ডাউন চলছে।
- সর্বনাশ কাণ্ড। বলো কী? ইন্টারনেট ডাউন? রাউটারে থাবড়া মেরে রিস্টার্ট করে দেখেছ?
- লাভ হয়নি। কাস্টোমার কেয়ারে কম্পলেন করেছি, কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি।
- ব্যাসের যত বাতেলা। এত ডাউনলোড স্পীড রে, হ্যান রে, ত্যান রে। ধ্যার।
- স্যাড স্মাইলি ইনসার্ট করতাম চ্যাট উইন্ডো হলে।
- যাক গে। ব্রেইল পাশার সেট তৈরি হয়েছে কি? জলদি করো, ওই খেলা শুরু করতেই হবে। নয়ত একদিকে গান্ধারীর পলিটিকাল করেক্টনেসের স্টেনগান আর অন্যদিকে ওই বিদুরের চিকেন স্যুপ ফর সোল মার্কা লেকচার; আর নেওয়া যাচ্ছে না।

হোমওয়ার্ক

- একটা হোমওয়ার্ক দিচ্ছি তোকে।

- এই বয়সে হোমওয়ার্ক দেবে মামা?

- হোয়াই নট?

- শুনি।

- মতপার্থক্য প্রকাশে কোনো সিলিং নেই। এমন কী অমুকের অভিনয় বা তমুকের ব্যাটিং ভালো লাগে না; এমনটাও যত খুশি যতবার খুশি বলতে পারিস। কিন্তু রাগ বা হিউমর ঝাড়তে গিয়ে একটা ব্যক্তিগত খিস্তি দিতে হলে, অন্তত তিনজনের ব্যাপারে মন খুলে সবার সামনে প্রশংসা করতে হবে। ও হ্যাঁ, এমন তিনজনের গুণ গাইবি যাদের ব্যাপারে এর আগে পাবলিকলি তুই যথেষ্ট প্রশংসা করিসনি।  থ্রি ইস টু ওয়ান রেশিও মেন্টেন করতে হবে। অ্যাট অল টাইমস।

- বেশ। তা'হলে শোনো। বিমল জ্যাঠা চমৎকার রিদমে খৈনি ডলেন, ট্রীট ফর দ্য আইজ অ্যান্ড ইয়ার্স। মেজপিসি পনীর কুচিয়ে ভেজে তাতে পাঁপড় মিশিয়ে একটা ঝাল ঝাল রান্না করে, টেরিফিক। অখাদ্যকে উপাদেয় করে তুলতে মেজপিসিই পারে। পাশের পাড়ার গণেশ মাতাল গোপনে গান লেখে, বেশ জুতসই। এই গেল তিনটে প্রশংসা। আর এই তুমি, তোমার ভীমরতি হয়েছে। বুঝেছ মামা? ভীমরতি।

মহেন্দ্রবাবু


এই ধরুন,

তেলে টইটুম্বুর কড়াইয়ে ধবধবে লুচির ফুলে ফেঁপে ওঠা দেখতে দেখতে গেয়ে ওঠা 'সেই তো আবার কাছে এলে'।
সাইমার মটন টিকিয়ার রগরগে ঝোলের গড়িয়ে এসে রুমালি রুটির গায়ে এসে পড়া মাত্র জামার হাতা গুটিয়ে নেওয়া।

কিংবা

বালিশের তলা থেকে ছেঁড়াখোঁড়া মলাটের 'আরণ্যক' বের করে ভোরের অ্যালার্ম বন্ধ করা।
খটরমটর কফিহাউসি কবিতা-আড্ডার ভাঁওতা কাটিয়ে জানতে চাওয়া কারুর কাছে 'বিলির বুট'য়ের কমিক্স আছে কিনা।

আর
এ দুনিয়ার খটখটে রোদ্দুর সামাল দেওয়ার জন্য মহেন্দ্রবাবুর ছাতা মেলে ধরা; ভদ্রলোকের ম্যাচ শেষ করা ছক্কায়।