Sunday, June 3, 2018

সিনেমানস

মিডিওক্রিটির বোঝা কাঁধে নিয়ে বড় হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। আমি জানি।

কোনো চ্যাম্পিয়নসুলভ মুহূর্ত নেই, কোনো এক্সেলেন্সের জন্য জান লড়িয়ে দেওয়া নেই। সাফল্যের ডেফিনিশনকে নিজের স্কেলে বসিয়ে ফুর্তি করতে হয়। আমি বুঝি।

জীবনের প্রশ্নগুলোকে কানমুলে রাখতে হয়;
চাবকানি খেতে যাতে না হয়, পরীক্ষায় সেই বেসিক নম্বরটুকু পাব তো? কনসেপ্টটনসেপ্ট না বুঝলেও চলবে।
কোনোরকমে একটা চাকরী পাব তো? নিজের আগ্রহটাগ্রহের মত এলিটিস্ট ব্যাপারে না ভাবলেও হবে।
চাকরীটা টিকিয়ে রাখা যাবে তো? কাজে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা অতি বুর্জোয়া একটা খোয়াইশ।

খেলাধুলো? টিভির রিমোট।
এক্সট্রা কারিকুলার? ফোঁপরদালালি।

এই সব মিডিওক্রেসির ভিড়ে পিএফ-গ্র‍্যাচুইটির ইগলু বানিয়ে তার ভিতর নড়বড়ে আত্মবিশ্বাসের স্যান্ডো গেঞ্জি পরে বসে থাকা।

মধ্যমেধা, মধ্যমাপের শখআহ্লাদ, মধ্যরুচির চাহিদায় ভেসে বেড়ালে কী হবে। মাঝেমধ্যে কিছু সিনেমার মুহূর্ত সিনা চওড়া করে দেয়, বুকে দু'দণ্ড সাহসের বাতাস বয়।  আবহসঙ্গীত ভালোবাসা তৈরী করে। সাদামাটা একটা চরিত্র কেমন ঝকঝকে হিমাচলি আকাশের মত চোখ জুড়িয়ে দেয়। তার ভালো মন্দ নিজের বুকের মধ্যে বাজতে শুরু করে।

কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হয়; টুপ করে কয়েকটা ভালো কাজ করে ফেললে বেশ হয়। কোনো এক  দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে  আচমকা মনে হয় কাল থেকে ধান্দাবাজি ছেড়ে দেব।

নিজের মধ্যের অজস্র ভালো-হতে-না পারাগুলো চোখের উপর ছলছলিয়ে ওঠে। মনখারাপ হয়, মনভালোর চেয়েও সুন্দর যে মনখারাপ। ছবির মত, সেই সিনেমার মত।

মিনিট দশেক থাকে সেই মনখারাপ। সেই মিডিওক্রিটিকে কাঁচকলা দেখানো দশ মিনিটের জন্যই ভালো সিনেমা। খানিক পরেই অবশ্য চোখ ছলছল কেটে যায়, মনের মধ্যে ফের ডালডা পোড়া অফিস চালাকি আর পারিবারিক গসিপ; পায়ের তলায় ফিরে আসে গ্র‍্যাভিট, জিভে তিতকুটে ভাব।

সিনেমারা বেঁচে থাক।

বেঁচে থেকে কী হবে?

১।
হপ্তায় এই নিয়ে তিন নম্বর বেনামি চিঠি।
তিনটেই ইনল্যান্ড লেটারে। একই বয়ান, "বেঁচে থেকে কী হবে শুভময়বাবু"?

এ'টা কি হুমকি? না মাথায় হাত বুলোনো নিহিলিজম? পুলিশে যাওয়া ঠিক হবে?

২।
বাহাত্তর নম্বর বেনামি ইনল্যান্ড লেটার যখন পেলেন তদ্দিনে ভয়ডর কেটে গেছে। ব্যাচেলর জীবনের এক সঙ্গী হয় উঠেছে প্রতি হপ্তার খান তিনেক ইনল্যান্ড লেটার।
সেই একই বয়ান;
"বেঁচে থেকে কী হবে শুভময়বাবু"?
অপূর্ব হাতের লেখা,  মায়া পড়ে গেছে। কোনো হপ্তায় তিনটের কম চিঠি এলে মন খারাপ হয়। সামান্য অভিমানও যে হয় না তা নয়। একটা ইনল্যান্ড লেটারের গায়ে একটা মাত্র লাইন, তা'তে অত গড়িমসির কী আছে?
সমস্ত চিঠিগুলোকে আলমারির এক কোণে যত্নে জমিয়ে রাখছিলেন শুভময়বাবু।

৩।
দার্জিলিংয়ের প্ল্যানটা একরকম দুম করেই করে ফেলেছিলেন। একাই কয়েকদিন ঘুরে আসা। বাড়ি থেকে বেরোবার মুখে এক হাজার দু'শো সাঁইত্রিশতম ইনল্যান্ড লেটারটা পেলেন। সদর দরজায় তালা দেওয়া হয়ে গেছে, কাজেই চিঠিটা আর আলমারিতে রাখা হল না।

ট্রেনের সময় হয়ে আসছিল, চিঠিটা চটজলদি পকেটে গুঁজে ট্যাক্সির দিকে এগোলেন শুভময়বাবু।

৪।
কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কেমন ঘোর লেগে যায়। দু'দিন যাবৎ দার্জিলিংয়ের আকাশ একদম সাফ, নিরিবিলি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় মাঝেমধ্যেই দাঁড়িয়ে পড়ছেন শুভময়বাবু। কাঞ্চনজঙ্ঘার বেশ একটা মায়া আছে। মায়ার প্রসঙ্গে নিজের ট্রাউজারের পকেটে রাখা চিঠিটার কথা মনে পড়ল। এসে থেকে ট্রাউজার পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে মানিব্যাগের সঙ্গে চিঠিটাও এ পকেট থেকে ও পকেট চালান করে চলেছেন তিনি। তবু এ'বারের ইনল্যান্ড লেটারটা আলাদা করে পড়া হয়নি। প্রতি চিঠিতেই যদিও সেই একই লাইন, তবু বারবার পড়তে ইচ্ছে হয়। এমনই টান রয়েছে সে হাতের লেখায়।

ইনল্যান্ডলেটারের জন্য পকেট হাতড়ালেন শুভময়বাবু।

৫।

কী অদ্ভুত ব্যাপার। এই এক হাজার দু'শো সাঁইত্রিশতম চিঠিতে হাতের লেখা এক হলেও বয়ান উলটে গেছে।
"পৃথিবীটা বড্ড সুন্দর, তাই না শুভময়বাবু? এত ভালোবাসার সমস্ত কিছু ছেড়ে দুম করে চলে গেলেই হল নাকি? বেঁচে থাকাই নির্বাণ। তাই না"?

কেমন বিহ্বল লাগছিল শুভময়বাবুর। কেমন মন কেমন। নাকে হঠাৎ বয়ে আসা অস্বস্তিকর গন্ধটাই কি ভালোবাসা?

ইনল্যান্ড লেটারটা পকেটে ফেরত রাখতেই পিঠে বেপরোয়া ধাক্কাটা অনুভব করলেন শুভময়বাবু। বেসামাল হয়ে খাসের অতলে হারিয়ে যাওয়ার সময় দেড় সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন ভদ্রলোক, দেড় সেকেন্ডের মনখারাপ;
একহাজার দু'শো আটত্রিশতম চিঠিটার জন্য।

Sunday, May 27, 2018

মিতাউলি নদী

সাইড লোয়ার থেকে স্পষ্ট শুনতে পেলেন সুবিমল দত্ত। কান তার বরাবরই ধারালো। ফিসফিস কথার আওয়াজ ভেসে আসছিল উলটো দিকের আপার বার্থ থেকে।

এমনিতেই কিছুটা সাসপিশাস মনে হয়েছিল, সেই নিয়ামৎপুর স্টেশনে উঠে থেকে দেখেছেন ওই বার্থের  ভদ্রলোক চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে। এইসব গোপন ট্রিপে আরো সতর্ক থাকতে হয়; কম্পিটিটর কেউ জানতে পারলেই প্ল্যান পণ্ড করার জন্য লোক লেলিয়ে দিতে পারে। গুণ্ডা খপ্পরে পড়াও আশ্চর্যজনক নয়।

মনোহরগড়ের প্লটটা হাতানোর একটা জব্বর সুযোগ এসেছে, ডীলটা ফিক্সও হয়েছে গোপনে। মনোহরগড়ের পাহাড় ঘেঁষা অঞ্চল মেহেরপুর; সে'খানের মিতাউলি নদীর পাশে চমৎকার প্লট; একবার হাতাতে পারলে রিসর্টওলাদের কাছে বড় দাঁও মারা যাবে। গোপনে বিক্রির প্রপোজালটা গতকাল রাত্রে পেয়েছেন সুবিমলবাবু, চুপিসারে প্রস্তুতি সেরে আজকের ট্রেনেই রওনা। ডিসট্রেস সেল, জলের দরে পাওয়া যাচ্ছে। এমন মওকা হাতছাড়া করলে হাত কামড়ে ছিঁড়ে ফেলতে হবে। সবচেয়ে বড় চিন্তা ও প্লটের দিকে আলুওয়ালিয়ার নজর আছে, দু'একবার খুনের হুমকিও দিয়েছে তারা; যাতে ওই প্লটের লোভ সুবিমলবাবু ত্যাগ করেন। কিন্তু আলুওয়ালিয়ার ব্যাটা জানে না সুবমিল দত্তর দৌড়। ও'সব হুমকিতে মচকে যাওয়ার লোক তিনি নন। তবে ট্রেনে চোখ কানা খোলা রাখা দরকার বৈকি; গোপন ডীলে প্লট হাতানোর কথা জানতে পারলে আলুওয়ালিয়া খুনে গুণ্ডা লেলিয়ে দিয়ে পিছপা হবে না। অথবা এমন লোক লাগাবে যে সুবিমলবাবুর আগেই অকুস্থলে পৌঁছে দু'পাঁচ পারসেন্ট বেশি অফার করে সেই প্লট হাতিয়ে নিতে পারে।

মাঝরাত্তির। সাইড লোয়ারে শুয়েও পাশের আপার বার্থের চাদরমুড়ি দেওয়া লোকটা ফিসফিসে ফোনালাপের যে'টুকু সুবিমল দত্তর কানে এলো তা'তেই তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন ও লোক আলুওয়ালিয়ারই। ফোনে ফিসফিস করে বলা কথায় দিব্যি উঠে এলো মনোহরগড়ের কথা, মেহেরপুর, মিতাউলি নদী আর প্লটের কথা। হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল সুবিমলবাবুর। তীরে এসে তরী ডুববে? পকেট হাতড়ে এমার্জেন্সি কিটটা বের করলেন সুবিমলবাবু।

***

" কী স্ট্রেঞ্জ ব্যাপার দেখুন, সেই আননোন অ্যাসেইল্যান্ট ইঞ্জেকশনে অজ্ঞান করল অথচ বাক্সপ্যাঁটরা কিছু ছুঁয়েও দেখল না। কত বিচিত্র ঘটনাই যে এ দুনিয়ায় ঘটে। আরে মশাই হুশ এলো ঝাড়া সাত দিন পর, মনোহরগড়ের রেলের হাসপাতালে। কী কুক্ষণেই না মিতাউলি নদীর ধারে উইকেন্ড স্পেন্ড করব ভেবেছিলাম। সামনে পুজোসংখ্যায় লেখা জমা দেওয়ার প্রেশার আর এ'দিকে আমার রাইটার্স ব্লক, মাথা গুলিয়ে গেছিল। আমার ক্লাসমেটের বাড়ি এক্কেবারে মিতাউলির পাশেই, ভাবলাম নদীর কুলকুলে যদি মাথায় একটা জুতসই প্লট কিছু আসে। যাকগে, ঢের শিক্ষা হয়েছে; কলকাতার শেল্টারে থেকে প্লট আসলে আসবে, নয়ত লেখা ছেড়ে দেব। প্লটের সন্ধানে তিলোত্তমা ত্যাগ আর নয়"।

Saturday, May 26, 2018

করব লড়ব। আর ইয়ে। জিতব।

~~করব~~

১। হপ্তায় একটা করে বই শেষ করব। নেহাত কাজের হুড়মুড় গেলে একটা টিনটিন ফিরতি পড়ে নেওয়া।
২। পার্ফেক্টলি লুচি বেলতে পারা; নিখুঁত, সম্ভাবনায় টইটুম্বুর।
৩। প্রতিটা বোমারু ঝগড়ার শেষে থাকবে "বেশ বেশ, এ'বার দু'জনায় লেবুজল খাই চলো"।
৪। অজস্র প্রেমের চিঠি লিখে ছিঁড়ে ফেলে শ্যামল মিত্তিরে শেল্টার।
৫। গল্প শোনা, মন দিয়ে। কারুর দুরন্ত দরদামে ঝিঙের দাম কমানোর গল্প, কারুর বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলে ঘুষ দিয়ে নিজের জন্য একটা ছোটখাটো চাকরী জোগাড় করার গল্প, কারোর তোষকের নীচে চাপা দেওয়া মনখারাপের গল্প। গল্প, গুজব নয়। গল্প।

~~লড়ব~~

১। "ভয় পাস না, আমি আছি"গুলোকে চিনব। চিনবই। আর চেনাগুলোকে আঁকড়ে থাকব।
২। আব্রাকাডাব্রাকে 'মা, মা গো'র ক্যামোফ্লাজে ব্যবহার করে মুঠো শক্ত করব; বার বার।
৩। সঞ্জীবের বোরোলিনে ভিতরটা সুরভিত রাখব। রাখবই।
৪। ট্রেনের জানালার ব্যাপারে জমি ছাড়ব না কাউকে। নাহ্, পেয়াসার ওয়াহিদা রেহমানকেও নয়।
৫। নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা প্র‍্যাক্টিস করব। টুথপিক নিয়ে আয়নায় খোঁচা দেব। জলবেলুন ছুঁড়ে মারব চৌবাচ্চায় ভেসে ওঠা ছায়ায়।

~~জিতব~~

১। বালিশের তলে থাকবে কুমার শানুর বলিউডি গানের লিরিক্সে সুলভ বই।
২। বায়োডেটাতে বাড়তি পাতা জুড়ব; লিস্ট অফ 'না পাওয়াস' আর লিস্ট অফ 'যা যা ক্ষমতায় কুলোবে না'।
৩। খবরের কাগজ রাখব অরিগ্যামি প্র‍্যাক্টিস করতে।
৪। নিজের সমস্ত ওপিনিওন থেকে ঠ্যাঁটামি ফিল্টার করে বাদ দিয়ে নিয়মিত নিজের কান মুলব।
৫। চিঠি লিখব।

Wednesday, May 23, 2018

সাধক আত্মারাম

- আপনি ভূত?
- আজ্ঞে।
- প্রপার?
- সাড়ে তিন বছর হল।
- অপঘাত?
- ন্যাচুরালি।
- নাম?
- জেমস বন্ড।
- য্যাহ্।
- রিয়েলি।
- সাহেব ভূত?
- বাঙালি। বজবজ।
- অথচ নাম জেমস বন্ড?
- নিজে দিয়েছি। ভূতের নাম বাদল চক্রবর্তী হলে মানায়?
- ও। আমি তান্ত্রিক। বহুদিন ধরে চেষ্টা করছি; আত্মা নামানোর।
- এই এক অদ্ভুত রোগ মানুষের। খালি ভূতের ন্যাজ ধরে টানা।
- লেজ?
- রেটোরিকাল। আপনি সত্যিই তান্ত্রিক?
- আজ্ঞে। সাধক আত্মারাম।
- মেটা নাম। তবে তান্ত্রিকটান্ত্রিকে আমার বিশ্বাস নেই।
- সে কী। ভূত হয়ে তান্ত্রিকে বিশ্বাস করেন না?
- ও'সব বুজরুকি মশাই।
- আপনি তো কম্পলিকেটেড ভূত দেখছি।
- খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তো? চট করে বশীকরণ, অর্শরোগ সারানোর মাদুলি; এ'সব অফার করেন নিশ্চয়ই?
- না করলে চলবে কেন?
- ওই কাগুজে বুজরুকি আমার ভালো লাগে না।
- বুজরুকি?  ইয়ার্কি হচ্ছে? বুজরুকি হলে আপনার মত বজবজে ভূতকে আমার এই ড্রয়িং রুমে টেনে আনলাম কী করে? এ'টা অবশ্য ঠিক যে এত বছরে আপনাকেই প্রথম নামাতে পারলাম।
- নামালেন মানে?
- আমি। আপনাকে নামালাম। বহুদিনের সাধনার ফল।
- ধ্যুত। যত ন্যাকামো। আমি নিজে নেমে এসেছি।
- আমার মন্ত্রবলে আপনি নামেননি?
- নো স্যার। আমি আপনার মন্ত্রভুলে নেমেছি।
- মানে?
- এই আশেপাশে ঘুরঘুর করছিলাম, আচমকা আপনার বাড়ি থেকে সংস্কৃত শব্দের ভুল উচ্চারণ শুনে কেঁপে উঠলাম। উচ্চারণের কোয়ালিটি শুনে আমি বুঝতে পারি কার বানানের দৌড় কদ্দূর। এক রকমের সুপারপাওয়ার বলতে পারেন। জ্যান্ত থাকতেও এ কাজই করে বেড়াতাম। আপনার উচ্চারণ যা শুনলাম মশাই, আপনার ণত্ব বিধান ষত্ব বিধান তো ডেফিনিটলি ডকে। অন্যদিকে তো অনেক জল মেশানো আছেই।
- বানানটা আমার একটু কাঁচা বটে...।
- বললাম তো, একটুঠেকটু নয়। অত্যন্ত কাঁচা। এমন চলতে থাকলে খবরের কাগজে গোলমেলে বিজ্ঞাপন দিয়েই কাটাতে হবে। বুজরুকি ছেড়ে এ'বার কিছু একটা করুন।
- যাই বলুন। টেকনিকালি তো ভূত নামিয়েছি।
- আমি নেমেছি। ইচ্ছে করে।
- ভুল বানান, ভুল উচ্চারণের জোরে নেমেছেন।
- স্বেচ্ছায়।
- রাইট। তেনারা, আই মীন আপনারা, স্বেচ্ছায় নামতে না চাইলে তো নামানো যায় না।

***

- আপনি বাদল চক্রবর্তী?
- না।
- থুড়ি, আপনিই জেমস বন্ড?
- আজ্ঞে।
- ভূত?
- অবভিয়াসলি। আপনি?
- ভূত। অবভিয়াসলি। মনোজ হালদার। তা, আত্মারামের খাঁচায় আপনিও ভর্তি হলেন? আমার এখানে মাস ছয় হয়েছে।
- মহাফেরেব্বাজ। ইয়ে, এই খাঁচার ভূতের দল নিয়ে কি ব্যাটা সত্যিই ভূতের রেটোরিকাল থার্ড রাইখ বানাচ্ছে?
- নয়ত আপনার আমার মত গ্রামার নাজি ভূতদের ফাঁদ পেতে ধরছে কেন বলুন।
- মতলবটা কী?
- আর্মি মজবুত হলে সবাইকে লেলিয়ে দেওয়া সমস্ত ভুল বানানের দিকে। প্রতিটা বানান ভুল বেছে বেছে এলিমিনেট করা হবে। বিশ্বজোড়া স্পেলচেকের ফাঁদ। বানানভুল করা মাত্র ভূতে এসে কান মলে যাবে।
- মহা বিটকেল মানুষ তো। নমস্য। বেশ ভক্তি তৈরি হচ্ছে।