Tuesday, April 24, 2018

গরম্য

এপ্রিল পেরোনোর আগেই কলকাতা তন্দুর সেঁকা হয়ে পড়বে। এ ভ্যাপসা গরম এমন বিটকেল যে প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরের সমস্ত ঘ্যাম ঘামে শুষে নেয়।

হাতের পাঁচ বলতে মাঝেমধ্যে আইআরসিটিসিতে লগ ইন করে শেয়ালদা টু নিউজলপাইগুড়ির টিকিট দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্য প্রাণ ঠাণ্ডা করা। গরম বাড়াবাড়ি রকমের দিকে গেলে অবশ্য উইকিপিডিয়ায় লাদাখের গল্প না পড়ে উপায় থাকে না। গুগল ইমেজেস আর ইউটিউবও যথেষ্ট কার্যকরী। গতবার আধঘণ্টা ধরে বরফে মোড়া কানাডায় ছবি ও ভিডিও দেখে সর্দি লেগে গেছিল।

অবস্থা আরো সঙ্কটজনক হলে অবশ্য দু'চার পেগ গেলা ছাড়া উপায় থাকেনা; বরফলেবুজলের পাতিয়ালা পেগ যে কত চিড়বিড়ে দুঃখকে চাবকে সোজা করার ক্ষমতা রাখে।

মূল সমস্যাটা শুরু হয় মে-মাসের মাঝামাঝি গিয়ে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের চোটে যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে, ট্রাম্পবাবু আর বছর খানেক মন দিয়ে চেষ্টা করলেই নর্থ পোলের কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে দিব্যি ফতুয়া গায়ে ঘুগনি-ডিমসেদ্ধ খাওয়া যাবে। তা গতবছর বৌ বলল এই সময় ফ্লুইড ইনটেক না বাড়ালে সমস্যা হতে পারে। আমি মাথা নেড়ে সাজেশন দিয়েছিলাম এই হরেন্ডাস গরমের নিজেদের হাইড্রেটেড রাখতে কিছুদিন আমাদের উচিৎ এক বাটি মাংস প্রতি মিনিমাম দু'বাটি করে ঝোল খাওয়া। সম্পর্কে সেই থেকে একটা বিশ্রী চাপা অবিশ্বাস ঢুকে গেল।

বিনোদবাবুর অম্বল

- শুনুন।
- আমায় ডাকছেন?
- র‍্যান্ডম ফায়ার করেছিলাম। আপনি ঘাড় ঘুরিয়ে জানতে চাইলেন। তা'হলে আপনাকেই ডেকেছি।
- ভিড় প্ল্যাটফর্মে ইয়ার্কি পেয়েছেন?
- এই দমবন্ধ করা ভিড় আর ভ্যাপসা গরমে ইয়ার্কি? প্রাণে অত ফুর্তি থাকলে কবি হতাম যে মশাই।
- মাফ করবেন, আপনি কবিদের চেনেন না। তারা দিব্যি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে পারে, দিনের পর দিন।
- আপনি কবি?
- পাগল নাকি! যাক গে, ডাকলেন কেন?
- তিন নম্বরের দিকে যাচ্ছেন?
- আপ কাটোয়া লোকাল তিনে দিয়েছে। অ্যানাউন্স করল তো। আপনার কি ওই লাইনেই?
- আমি? না। আমি কুদঘাট টু হাওড়া, হাওড়া থেকে ওয়াপস।
- হাওড়া? কুদঘাট থেকে? রেলের অফিসে চাকরী নাকি?
- না না, আমি রোজ স্টেশনে ঘুরতে আসি।
- স্টেশনে রোজ ঘুরতে আসেন?
- রোজ। সব প্ল্যাটফর্মে ঘুরি। বড় ঘড়ির তলায় দাঁড়াই। মাঝেমধ্যে পুরিভাজির দোকানের ব্যস্ততা দেখি। ঘণ্টা তিনেক পর ফের মিনিবাসে করে ওয়াপস।
- রোজ?
- অবভিয়াসলি রোববারে নয়। ওইদিনটা রেস্ট।
- আপনি তো নোবেলটোবেল পেয়ে যাবেন যে কোনো দিন।
- সারকাজম রয়েসয়ে ব্যবহার করতে হয়।
- গুল দিচ্ছেন না তো?
- গা ছুঁয়ে প্রমিস করব?
- অত বাড়াবাড়ির দরকার নেই।
- আমি অবশ্য চাইলেও গা ছুঁতে পারতাম না।
- মানে?
- আমার নাম রাধাকান্ত হাজরা। নিবাস, কুদঘাট। আগেই বলেছি। তা, আপনার নাম?
- বিনোদ দাস। বৈদ্যবাটি। ইয়ে চোরডাকাত নন তো? চেহারা দেখে তো তেমন মনে হয় না। তবে গা ছুঁতে পারবেন না কেন বলুন দেখি?
- আমার শরীর তো হাওয়া।
- ভূত?
- ধ্যাত্তেরি। সবেতেই বাঙালির ভূত ভূত বাতিক। হাওয়ার শরীর মানেই ভূত?
- যাব্বাবা, অশরীরী! ভূত নয়?
- আপনি কি ভূত? বিনোদবাবু?
- যাচ্চলে, আমি কি অশরীরী?
- আলবাত।
- ইয়ার্কি হচ্ছে?
- আপনার মূল দেহ আর আত্মা দু'টোই এখন কাটোয়া লোকালের হ্যান্ডেল ধরে হাফঘুমে ঢুলছে।
- আমার মাথা কেমন ঘোরাচ্ছে, নিজের গা হাত পা কেমন ছায়ার মত তিরতির করে কাঁপছে। আমি কি ভূত?
- ধুত্তোরিছাই। বললাম তো, আই রিপীট; আপনার আত্মা নিশ্চিন্তে আপনার দেহের মধ্যে রয়েছে। আপনার দেহ আপ কাটোয়া লোকালের চার নম্বর কামরায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঢুলছে।
- সর্বনাশ, তা'হলে আমি কে রাধাকান্তবাবু?
- আপনি আদতে বিনোদবাবু পুরোটা নন। আপনি বৈদ্যবাটির বিনোদবাবুর পুষে রাখা দাঁতকিড়মিড়। এই যেমন আমি ঠিক রাধাকান্ত নই। আমি রাধাকান্তের পোষ্য অপরাধ বোধ।
- কেমন গা গুলোচ্ছে রাধাকান্তবাবু।
- গা থাকলে তবে তো গোলাবে।
- তা ঠিক! কিন্তু কেসটা কী?
- আজ থেকে দেড় বছর আগে, আমি যাচ্ছিলাম কাটোয়া, পিসিমার বাড়িতে নেমন্তন্ন ছিল। এই কাটোয়া লোকালে উঠে জানালার লোভে আমি আপনাকে ঠেলে ফেলে আপনার পা মাড়িয়ে গিয়ে জানালা দখল করি। লজ্জার সঙ্গে আজ স্বীকার করছি সে জানালা আপনার প্রাপ্য ছিল। অথচ আপনি প্রতিবাদ করতেই আপনাকে বাপ তুলে খিস্তি করি। আপনি ঘাবড়ে চুপ করে যান। জানালার আনন্দ অবশ্য তেমন ভোগ করতে পারিনি। অপরাধ বোধে দগ্ধ হতে থাকি। সেই থেকে আমার অপরাধ বোধ রোজ কুদঘাট থেকে হাওড়া এসে আপনার মনের সেই পুরনো ব্যথা আর দাঁতকিড়মিড়ের খোঁজ করতে থাকে। কত  আর্তি নিয়ে ডাকি; "শুনুন"। এদ্দিন পর আজ সাড়া পেলাম। তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে ছুটে যাওয়ার সময় আপনি  আমার হাঁক শুনতে পান। ব্যস,  শুনতে পেয়েই আপনার অন্তরের পোষা সেই আমি-ঘটিত ব্যথা-আর-দাঁতকিড়মিড় বেরিয়ে আসে। বহুদিন আপনার খোঁজ করেছি স্যর, রোজ, হপ্তায় ছ'দিন। আমায় এ'বার মাফ করুন। বিনোদবাবু প্লীজ। আমি জানোয়ারের মত কাজ করেছিলাম।
- আমি যে কী বলব রাধাকান্তবাবু, আমি অভিভূত।  আর রাগ রইল না।
- গা ছুঁয়ে প্রমিস?
- হে হে হে।
- হে হে হে।
- ও কী, আপনি আবছা হয়ে পড়ছেন যে!
- স্বাভাবিক,  এ'বার আপনারও আর থাকার দরকার নেই; আপনিও গায়েব হচ্ছেন। সে'টা টের পাচ্ছেন কি?

***

বেলুড় আসার পর লোকের ওঠা নামার ধাক্কায় হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে থাকা হাফ ঘুমন্ত বিনোদ দাসের তন্দ্রা গেল চটকে।

আর ঠিক তখনি; একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলেন ভদ্রলোক। এদ্দিনের চাপা অম্বল আর বুকজ্বালা ভাবটা  দুম করে গায়েব। খানিক আগেও ছিল, এখন নেই। নতুন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারটার এলেম নাকি?

Monday, April 23, 2018

রবি আর আলো

- মোমবাতিটা কোথায় রেখেছ পটাদা?
- ড্রয়ারে। পড়ার টেবিলের।
- নেই। ভালো করে মনে করো দেখি।
- তোমার সেই চার ব্যাটারির টর্চটা কী হল?
- ফেলে এসেছি। তাসের আড্ডায়।
- ভেবে কী হবে আর ভাই রবি। বাথরুমের রাস্তাটুকু মাপা। আর খানিক পরেই ভোর হল বলে। লোডশেডিংকে লাই দিয়ে মাথায় তুলতে নেই। শুয়ে পড়।
- আলোর সোর্স হাতের কাছে নেই ভাবলে বড় অস্বস্তি হয় পটাদা। ঘুম আসতে চায়না।
- মেসে নতুন তো, আর দু'চারমাসে আলোর বদ অভ্যাস কেটে যাবে।
- মোমবাতিটা নিশ্চয়ই কোথাও..।
- খুব ভয় লাগলে বোলো, সিগারেট ধরিয়ে নেব। লাইটার আমার বালিশের নীচেই আছে। লাইটারের ফস আর তারপর বেশ একদানা আলো বিউটি স্পটের মত ঘরের অন্ধকারে মিনিট তিনেক জ্বলবে। শুয়ে পড়ো, নতুন চাকরী; উঠতে দেরী হলে কেলেঙ্কারি হবে। সকালের বাথরুমের লাইন কেমন পড়ে তা তো দেখেইছ। আর চ্যাটার্জী মশাই একবার ঢুকলে হয়ে গেল। দশটার আগে শেয়ালদা পৌঁছতে পারবে না।
- তোমার এই মেসে অনেকদিন হল, তাই না?
- থার্ড ইয়ার থেকে। তারপর মাস্টার্স। তিন বছর চাকরী।  মেস ছেড়ে লম্বা ছুটিতে বের হলে বেশ হোমসিক ফীল করি।
- পটাদা, লাইটারটা দেবে একবার?
- আলোর জন্য? ভয়টয় পেলে নাকি হে?
- না। এমনি। আচ্ছা থাক।
- এই নাও, লাইটার।
- না না, থাক।
- রাখো রাখো।
- থ্যাঙ্ক ইউ। আমি বারান্দা থেকে আসছি। কেমন?
- গোপনে সিগারেট খেতে চাইছ? সে কী!
- না না। এমনি।
- মাঝরাতের বারান্দাটা দেখছি তোমার এক বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

**

- আমি ভাবলাম আজ আর আসবে না...।
- আরে ধুস, ব্রীজের আড্ডায় টর্চটা ফেলে এসেছি। এ'দিকে মোমবাতিগুলো খুঁজে পাচ্ছি না। লাইটার দিয়ে ইন্টার গ্যালাক্টিক সিগনাল তৈরি করা কি চাট্টিখানি কথা?
- এই পাগলামি আর কদ্দিন রবি?
- যদ্দিন। তদ্দিন। ইলেয়া, এমন ভাবে জিজ্ঞেস করছ কেন?
- আমাদের গ্রহে টেকনোলজি আছে তাই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছি। তোমায় শেখাতে পেরেছি আলোর ব্যবহারে সিগনাল ট্রান্সমিশন। তবুও, ব্যাপারটা আমার জন্য বেআইনি। আর, তাছাড়া...।
- সবই জানি, তবু...। ইলেয়া, প্লীজ।
- আমার আর তোমার সময় সম্পূর্ণ আলাদা। এক অন্য সময়ের আমার সঙ্গে এক অন্য সময়ের তোমার এই যোগাযোগ। প্রেম। ভালোবাসা। স্নেহ। সমস্তই আলোর যাত্রাপথের ভাঁওতা।
- কিন্তু ইলেয়া...।
- সময়ের একই বিন্দুতে দাঁড়ালে তোমার জগতে আমি মৃত। আমার জগতে তুমি সুদূর ভবিষ্যৎ।
- যোগাযোগ বন্ধ কোরো না ইলেয়া, প্লীজ।
- যোগাযোগ? এ'টা একধরনের প্ল্যানচেট রবি! প্ল্যানচেট।
- যেওনা। প্লীজ।
- যেতে যে আমায় হবেই। সে'টা বলতেই তোমায় ডাকা।

**

খানিক হলেও অপরাধবোধ কিছুটা লাঘব হল পটা ওরফে পটলকুমার দত্তর। ডিস্ট্যান্ট ভেন্ট্রলোকুইজমের আর্ট এ দেশে প্রায় মরতে বসেছে। নিয়ার-ভেন্ট্রলোকুইজমের মত পুতুলের ডামিকে কথা বলানো নয়, ডিস্ট্যান্ট ভেন্ট্রোলোকুইজমে মনে হয় শব্দের উৎস দূরে কোথাও; পটলবাবুর নিজেরই নিজের পালটানো কণ্ঠস্বর দূর থেকে ভেসে আসছে ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়। সত্যি কথা বলতে  পটলবাবুর মত ডিস্ট্যান্ট ভেন্ট্রোলোকুইস্ট ভূভারতে আর দু'টো নেই। তবে এই শিল্পকে অবশ্য বাণিজ্যিক ভাবে কোনোদিনও ব্যবহার করতে চাননি তিনি, শুধু মেসের নতুন বান্দাদের গোপনে একটু হয়রান করেই সামান্য তৃপ্তি লাভ হয়।

তবে এই রবি ছোকরা একটু সহজেই ভেসে যাওয়ার উপক্রম করেছিল। কাজেই মানেমানে ইলেয়াকে বিদেয় দেওয়া ছাড়া পটল দত্তর আর কোনো উপায় ছিল না।

Saturday, April 21, 2018

কোজাগর

- বাবু।
- কিছু বলছিলে বাবা?
- কেন এসেছিস?
- মানে?
- বাড়ি ফিরলি কেন?
- উফ, একদিন মাত্র দেরী হয়েছে। তার জন্য এত চোপা করবে? রোজ দিব্যি ছ'টার মধ্যে ঢুকে যাই।
- কেন ফিরলি?
- কী হয়েছে তোমার?
- কেন? ফিরলি কেন?
- জেনে গেছ?
- তোর অফিসের সুপ্রিয় ফোন করেছিল। ওকে পুলিশ জানিয়েছে।
- বডিটা?
- ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে এসে পৌঁছবে।
- ওহ।
- কেন এলি?
- কোজাগর। উপন্যাসটা খান পঞ্চাশেক পাতা বাকি ছিল। ওরা আসার আগেই...।
- আচ্ছা।

***
- বাবা?
- হুঁ? পড়া হল তোর?
- একটু বেশি সময় লাগল। কী ইচ্ছে হল, মাধুকরীটা নামিয়ে কয়েক পাতা পড়লাম। কী সুন্দর শব্দটা, তাই না বাবা?
- বটেই তো। তোর মায়ের খুব প্রিয় উপন্যাস ছিল।
- হুঁ। যাক গে, এ'বার আমায় যেতে হবে। ওই, কলিংবেল বাজছে। সুপ্রিয়দারা এসে গেছে, তোমার নাম ধরে হাঁকডাক শুরু হয়ে গেছে। তুমি দরজাটা খোলো। আমি আসি, কেমন?
- দরজা? দরজা খোলা হবে না যে। ওদের ভাঙতেই হবে। আমার বডিটা দোতলায়, টেলিফোনের ঘরেই পড়ে আছে। দরজা খুলবে কে?

কানমলা

- ব্রাদার, জব ডান। 
- যাক। ক'টা খরচ হল?
- তিনটে। 
- সে কী! দু'টো মানুষের জন্য তিনটে। 
- একটা বুলেট মাথার ডান দিক ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। ব্লিডিং যা হচ্ছিল তা'তে রিস্ক নেওয়াই যেত, তবে...। আইপিএলের ম্যাচ চলছিল। গেইল প্যাঁদাচ্ছিল। তাই আর অপেক্ষা করতে ইচ্ছে হল না। দিলাম তিন নম্বর মাঠে নামিয়ে। 
- অপচয় হে জুনিয়র, অপচয়। নাইনটি থ্রীর দুর্ভিক্ষ দেখনি তো, তাই এত মেজাজ। গেইলের ব্যাটিং দেখতে গুলি নষ্ট। অথচ নাইনটি থ্রীতে আমরা মার্ডার টার্গেটের ইন্টারভিউ নিতাম, সে গুলির জন্য কোয়ালিফাই করছে কিনা দেখতে। নয়ত স্রেফ বাঁশ-পেটা করে কাজ সারতে হত। 
- ভয়ানক সময় তো। হিউমান রাইটস বলতে কিস্যু ছিল না ব্রাদার। 
- আর এখন আমরা গেইলের ব্যাটিং দেখতে খরচ করছি বাড়তি গুলি। 
- সরি ব্রাদার। 
- যাক গে, এক্সেল শিট আপডেট করে দাও। এ মাসের ট্যালি কত দাঁড়াল?
- বাহাত্তর জন। খরচ একাশি। 
- ওয়েস্ট। ওয়েস্ট। তা এ'টা কি গেইলের এ মাসের ন'নম্বর সেঞ্চুরি ছিল?
- তা কেন ব্রাদার। প্রেম করছি। তাড়া থাকে মাঝেমধ্যে। 
- ফের সেই নাইনটি থ্রির মন্বন্তরের গল্পই করি। তখন তুমি হামা দিচ্ছ। আমি তখন ওই আকালেও টপাটপ লাশ ফেলে বেড়াচ্ছি। রাঘববোয়ালের জন্য জমিয়ে রাখতে হয় বুলেট। তা একদিন আমার প্রেমিকা...। 
- তোমার প্রেমিকা ব্রাদার?
- কেন?
- তোমার দেখলে কেমন টেবিল চেয়ার মনে হয়। তোমার আবার প্রেম। 
- তখন দেখলে নার্ভাস হয়ে পড়তে জুনিয়র। সর্বক্ষণ বুকপকেটে রক্তের ছিটে। বুলেটের অভাবে সমস্ত সুপারিকিলার ছটফট করছে অথচ আমার পকেটে আধপেটা খাওয়া জোড়া পিস্তল। মাঝেমধ্যে নিজেকে আয়নার দেখে নিজেই ঢোক গিলতাম। 
- তা প্রেমিকার কেসটা কী হল?
- বারুইপুরে একটা পুরনো পেয়ারাবাগান কিনেছিলাম, লাশগুম করার একটা নতুন জায়গা দরকার ছিল। সে পেয়ারাবাগান প্রথমবার দেখতে গেলাম প্রেমিকাকে নিয়ে। প্রেমে কেমন লোকে মাথায় চড়ে বসে দেখো জুনিয়র, সে আমায় বলে কিনা বুলেটে ছুঁড়ে পেয়ারা পেড়ে দিতে? ওই বুলেট আকালের বাজারে? তবে প্রেমিকার কথা। ফেলতে পারিনি। পত্রপাঠ খরচ করেছিলাম একটা বুলেট। 
- একটা বুলেটে ক'টা পেয়ারা?
- জিরো। 
- সে কী! তুমি ক্র্যাকশট। এক বুলেটে পেয়ারা পাড়তে পারলে না?
- একটা বুলেট। জিরো পেয়ারা, একটা পেয়ার। 
- হুঁ? 
- প্রেমিকাকে দিয়েই সে লাশগুমস্থান পেয়ারাবাগানের উদ্বোধন করেছিলাম জুনিয়র। বললামই তো, দুর্ভিক্ষে মানুষ ক্যানিবালিজমের পর্যায় কী ভাবে নেমে আসে তা সে'বার বেশ টের পেয়েছিলাম। 
- আইব্বাস ব্রাদার। 
- তাই তো বলি জুনিয়র, রিসোর্স নষ্ট কোরো না। রিসোর্স নষ্ট কোরো না। তা সে বুলেট হোক বা প্রকৃতি। অনিষ্টকারীর কানমলা খেতে দেরী  হয় না। বুঝলে?