Sunday, April 15, 2018

নব

- হ্যালো।
- হুঁ।
- বাবু!
- হুঁ।
- শুভ নববর্ষ।
- ন্যাকা।
- কেমন আছিস?
- বহুত খুব।
- পুরনো পাড়ায় যাস এখনও?
- নাহ্। সময় কই।
- ও। তা বটে। তুই কত ব্যস্ত।
- খুব ব্যস্ত। বড্ড দৌড়ঝাঁপ। হুড়মুড়।
- অফিসের খুব চাপ?
- ওই। তুই কেমন আছিস?
- দিব্যি। একটা নতুন অ্যাসাইনমেন্ট। বেশ ইন্টারেস্টিং জানিস।
- বাহ্।
- আমার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না?
- না।
- রাখি?
- রাখ।
- রাখব না।
- আচ্ছা।
- পাড়ায় ফিরিস না কেন?
- ওই যে। ব্যস্ত।
- ন্যাকা।
- ফোনটা রাখবি?
- ফিজিক্স টিউশনের পর রোজ বাদাম খাওয়াতাম তোকে। ঘাটের পাশে। দু'বছর ধরে। প্রতি শনি আর বুধ। মাঝেমধ্যে বোনাস হিসেবে বিপিনকাকার ঘটিগরম। নিজের টিউশনির টাকায়। ভুলে গেলি? নেমকহারাম! রাস্কেল!
- গাল পাড়তে ফোন করলি?
- বেশ করব। যাস না কেন? পাড়ায়?
- এমনি।
- ঘাটের আশপাশটা বড় দেখতে ইচ্ছে করে বাবু। কদ্দিন দেখিনা। তোর মনে পড়ে? ওই কচুবন আর গঙ্গামাটি মেশানো গন্ধ? মনে পড়ে তোকে প্রবাবিলিটি শিখিয়েছিলাম? এই রকমই, সংক্রান্তির বিকেলে।
- স্নব। তুই অঙ্ক স্নব।
- তাই কথা বলিস না আমার সঙ্গে?
- আমাদের কথা বলতে নেই।
- তোর মুণ্ডু।
- ফোন রাখবি এ'বার? আমি ব্যস্ত।
- বাজে কথা। পাড়ায় ফিরবি একদিন? ঘাটে যাবি বাবু? বলবি কতটা বদলে গেছে জায়গাটা? কচুবন আছে এখনও? বিপিনকাকা সাইকেলে ঘটিগরম নিয়ে ঘাটের পাশ দিয়ে যায়? তিন নম্বর সিঁড়িটা, যে'খানে আমরা বসতাম, সে'টা আগের মতই...।
- আমি এক কলিগের সঙ্গে আছি। খুব ব্যস্ত। রাখি?
- একদিন ঘাটে গিয়ে ফোন করবি আমায়? বাবু?
- না।
- তুই একটা ইডিয়ট! আস্ত গাধা!
- হোয়াট আর দ্য অডস?
- এ'রকম কেন করিস? কথা কেন বলিস না?
- কল্যিগ। অফিসের কাজ। রাখছি।
- আয়। সাবধানে থাকিস।
- হুঁ। শুভ। নববর্ষ।
- ন্যাকা। রাখ। দ্যাখ কল্যিগ কী বলছে। কাজ কর।

***

- কার ফোন ছিল গো?
- ভূতের।
- ঘাটে বসে আছ পা ছড়িয়ে, অথচ অফিসে আছ বললে। নির্জলা মিথ্যে।
- বিপিনকাকা, তুমি ঘটিগরমের ব্যাপারী,  ভূতের খবরে তোমার কাজ কী? আর এক ঠোঙা ঘটিগরম বানাও বরং। আর ইয়ে, প্রবাবিলিটির অঙ্ক জানো তুমি?

Friday, April 13, 2018

সুইসাইড নোট



নীল বিষের বড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাথায় কেমন ঝিম ধরে গেছিল।
কী ভীষণ মায়া। কেমন ছায়াময় ভালো লাগা।

তবু। যেতেই হবে। নিজেকে খতম না করতে পারলে এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। হতে পারে না। মারা যযাওয়ার আগে পিতা পইপই করে বলেছিলেন সে ভয়ঙ্কর জিনিসপাতি না ঘাঁটতে। এত্তটুকুন দানা, সে'টুকু বুকপকেটে রেখে জীবন কাটিয়ে চলে যাওয়া। পড়ে থাকত অন্তত অন্ধকার আর সেই দানাটা।

কিন্তু ওই। একা থাকতে থাকতে বেয়াকুবের মত কাজটা করে ফেলেছিলেন তিনি। বুকপকেট থেকে দানাটা বের করে দু'আঙুলে চাপ দিতেই ঘটে গেছিল বিস্ফোরণ। সে এক চোখ ধাঁধানো মুহূর্ত।

প্রথম আলো দেখেছিলেন তিনি,
সে যে কী আনন্দ।

সেই প্রথম আলো দেখেছিলেন তিনি,
চোখ ধাঁধানো,
মনপ্রাণ ভাসিয়ে নেওয়া;

আলো।
পদার্থ।

তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল আগামী;
প্রাণ, সুর, কথা, গান, কবিতা, ভোট, ট্যাক্স।
সমস্তটাই।
ক্রমশ চোখের সামনে আগামীর সিস্টেম গড়ে উঠিতে শুরু করল।

একবার মনে হল পিতা খামোখাই ভয় পাইয়েছিলেন। মন চনমন করে উঠেছিল। প্রাণের ফুরফুর, সুরের ঝরঝরানি, কথার কলকল, গানের ঝিরিঝিরি, কবিতার টুংটাং,  ভোটের ঠুকুরঠুক আর ট্যাক্সের ধুপুরধাপুড় মিলে সে এক মনোগ্রাহী সিস্টেম।

কিন্তু সে আনন্দ কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে গেল। দিব্য দৃষ্টিতে তিনি টের পেলেন এ ভালোমানুষি সিস্টেমের মূল অভিপ্রায় আসলে কী।

সমস্ত বোঝার পর পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তাঁর। সমস্ত আলো আর সমস্ত পদার্থ মিলে যে ভালোমানুষি সিস্টেমের মায়াজাল; তার একটাই লক্ষ্য;
সেই খুকির লাশ। খুকির ছিন্নভিন্ন দেহ। তার থেঁতলে যাওয়া মাথা। তার গা মাথা থেকে চুইয়ে পড়া রক্তে মিশে যাওয়া  যত গান, কবিতা, ভোট আর ট্যাক্সের ময়লা

শিউরে উঠেছিলেন তিনি। ককিয়ে উঠেছিলেন।

সৃষ্টির গোড়াতেই অসহায় ঈশ্বর নিজের মুখে পুরেছিলেন সেই নীল বিষের পুরিয়া। অন্যহাতের মুঠোর ধরা ছিল আগামীর দিকে ভাসিয়ে দেওয়ার চিরকুট ;

"আমায় ক্ষমা করিস না খুকি।
আমিই খুনি"।

Wednesday, April 11, 2018

বালিশের ওয়াড়

বালিশের ওয়াড় হবে আবছা গোলাপি, তা'তে লাল সুতোর ডিজাইন।
ধবধবে সাদা বিছানার চাদর।
গায়ে দেওয়ার সাদা কালো চেক ভাগলপুরী চাদর।
বাটিক প্রিন্টের ওয়াড় দেওয়া পুষ্ট পাশবালিশ।
খাটের মাথার কাছে টেবিল। সেই টেবিলে কাঁচের গেলাস ভরা জল, কাঠের কোস্টারে ঢাকা। পাশে পুরনো কাচের স্কোয়্যাশ বোতলে জল।
জলের বোতলের পাশে এক শিশি মিষ্টি আমলকি।
আর বালিশের পাশে পকেট রেডিওতে নজরুল। 

আর বুকের ওপর সঞ্জীব।
মাথার ভিতর সদ্য পড়া 'রাবণবধ'।
হাতের নাগালে বেডস্যুইচ।

ভেবেটেবে

অনেক ভেবেটেবে দেখলাম।

ভালোলাগা গানের শেষের ফুড়ুৎ করে বেরোনো 'আহা',
হুড়মুড়ের মধ্যিখানে ফোনের ও'পাশে মায়ের 'খেয়েছিস?',
পুজো আসছের মন ফুরফুরে 'এইব্বারে জমবে',
জমাটি শীতের রাতে মনপসন্দ বইয়ের শেষে পাতায় পৌঁছনো 'আইব্বাস',
পুরী যাওয়ার ওয়েটলিস্ট টিকিট কনফার্ম হওয়ার 'ইউরেকা',
হাজারবার প্ল্যান করেও জমানো চিঠি ছিঁড়ে কুচিকুচি না করতে পারার 'ধ্যাত্তেরি',
ছোটবেলার ইয়ারদোস্তের গায়ে পড়া 'আরে বল না বে কী হয়েছে',

এ'গুলো কিছুতেই যাওয়ার নয়।

অতএব,
'সিটিসি'র পায়ে দড়ি পরিয়ে 'ছোটিসি আশা'র বাঁশের খুঁটিতে বাঁধতে পারলেই নিশ্চিন্দি।

(ইয়ে, 'বাঁশ'য়ের খুঁটির রেফারেন্স দিলাম কেন কে জানে)।

জ্ঞান দেব?

- জ্ঞান দেব?
- না।
- দিই?
- না।
- প্লীজ।
- আহ্। দাদা! বললাম তো। এখন না।
- প্লীজ। দু'একটা ভালো ভালো কথা। টুকটাক জেনারেল নলেজ। মাপা ইমোশন। হালকা হিউমর। আর এ সব কিছুর আড়ালে কিছু মেজর লার্নিং।
- এখান থেকে যাবি এ'বার?
- এত ইম্পেশেন্ট হচ্ছিস কেন বল তো? জ্ঞানে এত অনীহা কেন?
- আমাকেই কলার টেনে জ্ঞান দিতে হবে কেন?
- ওয়াইফাই চলছে না। ডেটা প্যাক শেষ। উপায় নেই ভাই। একটু শোন। পছন্দ না হলে 'লাইক' বলে উঠে যাস, কিছু মনে করব না। কেমন?