Tuesday, January 30, 2018
রাধাবিনোদের ইচ্ছে
Friday, January 26, 2018
বইমেলাফিকেশন
(পুরনো লেখা)
- দাদা রে, কাল যাবি?
- কোথায়?
- যেখানে যাওয়া উচিৎ। অবিলম্বে। চটপট। তুরন্ত।
- রান্নাঘর? পায়েসের ট্রায়াল মা অ্যালাউ করা শুরু করেছে?
- উফ। না রে।
- তা'হলে? অমন মনোহারিণী সুবাসে ঘর ভরে গেছে। তোর ব্রেন পায়েস ছাড়া অন্য কোনও ইনফর্মেশন প্রসেস করতে পারছে রে?
- দাদা। খাইখাই একটু বাদ দে।
- তুই ডেঁপোমিটা বন্ধ কর।
- আমার সঙ্গে যাবি কিনা বল।
- কোথায়? শুনি।
- বইমেলা। কাল। প্লীজ।
- কাল টিট্যুয়েন্টি আছে।
- বইমেলা বলে কথা। চ'না, তুই না গেলে আমার যাওয়া হবে না।
- বই? বাড়ির তাকে, বাবার আলমারিতে, তোর স্কুলের আর আমার কলেজের লাইব্রেরীতে, বন্ধুদের শেল্ফে, ফ্লীপকার্টে; চারিদিকে একগাদা বই পড়ে আছে তো। অবশ্য ধুলোবালি আর ভিড়ের ঠ্যালাঠেলি যদি তোর সাইডডিশ হিসেবে দরকারি মনে হয়, তাহলে সেটা আলাদা কথা।
- তুই যাবি না?
- বললাম তো। টিটুয়েন্টি।
- মামা আমায় দু'হাজার টাকা দিয়েছে।
- মামা? তোকে দু'হাজার? আর আমি এক প্যাকেট হজমিগুলি চাওয়ায় গাঁট্টা মারলে?
- তুই তো আর মাধ্যমিকে আমার মত রেজাল্ট করিসনি।
- তুই বড্ড এলিটিস্ট হয়ে যাচ্ছিস। কথায় কথায় অমন বাতেলা ভালো নয়। যাক গে, দুহাজার নিয়ে কী বলছিলিস?
- বলছিলাম তোমায় বইমেলা থেকে ফেরার পথে রোল না হয় আমি খাওয়াবো।
- অত ইজি না চাঁদু। এক আমার এক তোর।
- মামা আমায় ভালোবেসে টাকাটা দিয়েছেন।
- কংসকেই বল তাহলে,তোকে বইমেলা ঘুরিয়ে আনবে।
- বেশ, এক হাজার তোর। কিনিস বই।
- সরি। বইমেলায় আমি বই কিনি না। আমার ফ্লিপকার্ট আর কিন্ডল বেঁচে থাক।
- তবে?
- সোল অফ বইমেলা কী? জানিস তো?
- বই অফ কোর্স।
- কচুপোড়া।
- নয়তো কী?
- বইমেলার প্রাণ ভোমরা রয়েছে বেগুনী আর বেনফিশে। বেশক্। বেফিকর।
- বেশ। তুই কাল আমার সঙ্গে গেলে আমার ফান্ডের পঞ্চাশ পার্সেন্ট বেগুনিতে আর বেনফিশে। এবার কাটাতে পারবি টিট্যুয়েন্টির মায়া?
- টিট্যুয়েন্টি আবার ক্রিকেট নাকি? টেস্ট ম্যাচ হলে বইমেলা ক্যানসেল করার কথা ভাবতাম। কাল তাহলে দুপুর দুপুর বেরিয়ে পড়ব, কেমন?
দেশের দশের
দেশের জন্য দশের জন্য মাঝেমধ্যে ভাবতে ভালো লাগে।
মন কেমন হয়ে যায়।
জানালার বাইরের আকাশের দিকে চেয়ে মনভার খানিকটা লাঘব হয়। আহা এমন উজ্জ্বল আসমানি রঙ কী অবলীলায় একই সঙ্গে মনভালো আর মনখারাপ মিশিয়ে দেয়।
দেশ। মা। চোখের পাতা তিরতির করে কাঁপতে থাকে। মা। দেশ।
সমস্ত কালিমাটালিমা যে আমাদেরই মুছতে হবে। আমাকেই মুছতে হবে। গানের ধাপে ধাপে হাতের মুঠো শক্ত হয়, সোফা-কুশন খামচে ধরি।
"মা গো, ভাবনা কেন"।
ঠিক তখুনি বিশ্রী চিৎকার ভেসে আসে;
"দিনের বেলাতেও লাটসাহেবের বাথরুমের আলো জ্বালা চাই। অথচ বাথরুম থেকে বেরোনোর সময় বাতি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তাই না? আর কল ভালো করে বন্ধ করলে কি ঠাকুর পাপ দেয় না পাঁজিতে বারণ"?
মায়ের গজরগজর।
ডিসগাস্টিং।
Wednesday, January 24, 2018
রুথলেস
সে'খানে বেশ শীত।
মাঝে মধ্যে জানালার কাচ তুলে একটু বাতাস নাকে নেয় বিনু। কনকনে হাওয়া, তবু। আরাম লাগে। মুখে ট্রেনে ফুঁড়ে আসা হাওয়ার ঝাপটা লাগলেই বিনুর বাড়ি ফেরার কথা মনে পড়ে।
ট্রেনের জানালা বেয়ে আসা হাওয়ার ঝাপটা যে কী ভালো। আর কী "রুথলেস"।
বিনু এখনও মাঝেমধ্যেই বাড়িতে যায়। সেই কাঁসার থালায় গরম ভাত বেড়ে দেয় একজন হাড়হিম করা ভূত যে একটা প্রাণের নির্মম বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। ভূতকে মা বলে ডাকতে বিনুর বড় কষ্ট হয়।
রাতের মত ভালো
বালিশের ওয়াড় হবে আবছা গোলাপি, তা'তে লাল সুতোর ডিজাইন।
ধবধবে সাদা বিছানার চাদর।
গায়ে দেওয়ার সাদা কালো চেক ভাগলপুরী চাদর।
বাটিক প্রিন্টের ওয়াড় দেওয়া পুষ্ট পাশবালিশ।
খাটের মাথার কাছে টেবিল। সেই টেবিলে কাঁচের গেলাস ভরা জল, কাঠের কোস্টারে ঢাকা। পাশে পুরনো কাচের স্কোয়্যাশ বোতলে জল।
জলের বোতলের পাশে এক শিশি মিষ্টি আমলকি।
আর বালিশের পাশে পকেট রেডিওতে নজরুল।
আর বুকের ওপর সঞ্জীব।
মাথার ভিতর সদ্য পড়া 'রাবণবধ'।
হাতের নাগালে বেডস্যুইচ।
