Wednesday, January 24, 2018

ডার্ক

- দশটা সাবজেক্টের মধ্যে সাতটায় ফেল করেছি। বাবা পিঠের চামড়া গুটিয়ে মাদুরে মলাট দেবে রে ভাই।

- সর্বনাশ। আর তোর বাবার যা মেজাজ!

- গতকাল মেজদা র'য়ে ড়'য়ে গুলিয়েছিল বলে বাবা বারো খানা গাঁট্টা কষালে। এই রেজাল্ট দেখলে আমার নামে মামলা না ঠুকে দেয়। কী যে বলব বাবাকে...।

- একটা যুক্তি দিতে পারিস, আজকাল পাবলিকে সে'টা খাচ্ছে বেশ।

- বলছিস?

- আলবাত।

- কী যুক্তি?

- রেজাল্ট দেখিয়ে গম্ভীর মুখে বল 'ডার্ক হিউমর'। কাকু তোকে আনন্দের চোটে কাফকাটাফকার বই কিনেটিনে দিতে পারেন।

আপ বঙ্গালী হ্যায়?

- আপ বঙ্গালী হ্যায়?

- কেয়সে পতা চলা? ওয়েট, লেট মি গেস...।

- হাঁ কিজিয়ে গেস।

- বিকজ আই ওয়াজ টকিং আবাউট মিস্টার ঘটকস মুভি মেকিং স্টাইল?

- ঘাটাক সাহাব তো ইন্টারন্যাশনাল ফিগার হ্যায়।

- ও। বিকজ আই আস্কড ফর ফিশ?

- না না, ফিশ ভি আজকল কাফি কসমোপলিটান হ্যায়।

- ফির? ক্যাইসে পতা চলা যে ম্যায় বাঙালি?

- ইহা পে সব লোগ শেয়ার মার্কেট ক্র‍্যাশ লেকে পরেশান হ্যায়। লেকিন উধর আপকে অপোজিট সাইডকে ওয়াল পে যো অগলা সাল কা ক্যালেন্ডার হ্যায়, আপ উয়ো ক্যালেন্ডারকে বারা মহিনে মে সিরফ অক্টোবর কা ডেটস ঘুর রহে থে। অউর হস রহে থে।

- ওহ, না মানে আসলে....ওই কী বলে যেন; শেয়ারফেয়ার তো হাতের ময়লা হ্যায়। কৃষ্ণ আগর বেঙ্গলি হোতা তো উয়ো কেয়া বোলতা পতা হ্যায়? কর্মটর্ম তো হোতা রহেগা, আগে পুজোর প্ল্যানফ্ল্যান লেকে  ডিসেম্বর সে চিন্তাভাবনা শুর কর দেনে কা।

Monday, January 22, 2018

সিলভার লাইনিং


- এই যে মিস্টার প্ল্যাটিরিঙ্কোস! ডেটা তৈরি? 
- ইয়েস ম্যাডাম। স্প্রেডশিট আর সামারি তৈরি।
- শুনি। হাইলাইটস।
- আপনার পায়ের কাছে এ বছর যা যা বই ডিপোজিট হয়েছে সে'টা অ্যানালিসিস করে একটা ব্যাপার স্পষ্ট। ট্রেন্ড এ বছরেও পাল্টায়নি। বাহান্ন শতাংশ বই অঙ্কের।
- ধুস। অঙ্ক ভুল ভাবে শিখিয়ে শিখিয়ে আমরা একের পর এক ভিতু জেনারেশন তৈরি করছি। এ আর পাল্টানোর নয়। 
- স্পেশ্যাল ট্রিভিয়া ম্যাডাম। জমা পড়া অঙ্কের বইয়ের মধ্যে বত্রিশ শতাংশ বই হচ্ছে গাইড বই আর সাজেশনের খাতা। যা কিনা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ছয় শতাংশ বেশি। 
- এর মানে খবরের কাগজে জ্যোতিষ আর তুকতাকের বিজ্ঞাপন বেড়েছে, তাই না মিস্টার প্ল্যাটিরিঙ্কোস? 
- ইনক্রেডিবল। জ্যোতিষ চর্চার বিজ্ঞাপন ঠিক সাড়ে ছয় শতাংশ বেড়েছে। ইয়ার অন ইয়ার।
- কনেকশনটা স্পষ্ট ভাই প্ল্যাটিরিঙ্কোস। এত হিন্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। সব জলে। সবাই কুল খাওয়ার ডুজ অ্যান্ড ডোন্টস নিয়ে পড়ে আছে। নাহ্, এ'সব ডেটা নিয়ে পড়ে থেকে লাভ নেই। ও স্প্রেডশিট আমার ডেস্কটপে এক কপি সেভ করে দিও। খামোখা প্রিন্টট্রিন্ট নিয়ে ফাইল মোটা করতে যেও না। সিলিভার লাইনিং কিস্যু নেই কোথাও।
- ইয়ে।
- কী ইয়ে?
- একটা মাইনর অ্যানোমালি আছে ম্যাডাম। 
- মাইনর? কী?
- না মানে, এ'টা সিলভার লাইনিং কিনা জানিনা। আপনার পায়ের কাছে জমা পড়া সমস্ত কেতাব দস্তাবেজের মধ্যে খান তিরিশেক ইয়ে...পাওয়া গেছে।
- আবার ইয়ে?
- কয়েকটা মেনুকার্ড। তিনটে আরাসালান, পাঁচটা সিরাজ, দু'টো আমিনিয়া এট সেটেরা...। আর কয়েকটা ট্র‍্যাভেল ব্রশার...কুণ্ডু ট্র‍্যাভেলস টাইপের। ব্যাপারটা কী ভাবে যে ইন্টারপ্রেট করব ম্যাডাম...!
- ফাদার অফ সিলভার লাইনিং মিস্টার প্ল্যাটিরিঙ্কোস! আশা আছে, ডেফিনিটলি আছে।


ভেবেটেবে

অনেক ভেবেটেবে দেখলাম।

ভালোলাগা গানের শেষের ফুড়ুৎ করে বেরোনো 'আহা',
হুড়মুড়ের মধ্যিখানে ফোনের ও'পাশে মায়ের 'খেয়েছিস?',
পুজো আসছের মন ফুরফুরে 'এইব্বারে জমবে',
জমাটি শীতের রাতে মনপসন্দ বইয়ের শেষে পাতায় পৌঁছনো 'আইব্বাস',
পুরী যাওয়ার ওয়েটলিস্ট টিকিট কনফার্ম হওয়ার 'ইউরেকা',
হাজারবার প্ল্যান করেও জমানো চিঠি ছিঁড়ে কুচিকুচি না করতে পারার 'ধ্যাত্তেরি',
ছোটবেলার ইয়ারদোস্তের গায়ে পড়া 'আরে বল না বে কী হয়েছে',

এ'গুলো কিছুতেই যাওয়ার নয়।

অতএব,
'সিটিসি'র পায়ে দড়ি পরিয়ে 'ছোটিসি আশা'র বাঁশের খুঁটিতে বাঁধতে পারলেই নিশ্চিন্দি।

(ইয়ে, 'বাঁশ'য়ের খুঁটির রেফারেন্স দিলাম কেন কে জানে)।

Sunday, January 21, 2018

সুবিমলবাবু

- সুবিমলকে একটু ডেকে দেবেন?
- কে?
- আমি মনোময় দত্ত। ও আমার সঙ্গে অক্রুর দত্ত লেনের মেসবাড়িতে টানা অনেকদিন ছিল।
- না না, আপনি কাকে খুঁজছেন বললেন?
- সুবিমল। সুবিমল মৈত্র। ডেকে দিতে পারবেন কি?
- এ'খানে ওই নামে কেউ থাকেন না।
- ওহ। ডাকতে পারবেন না তা'হলে।
- থাকেনই না কেউ ওই নামে।
- আমিও তো তাই বললাম। সুবিমল তা'হলে এখন নেই।
- আরে! বলছি সুবিমল নামে কেউ এ বাড়িতে থাকেই না।
- আমি কি আপত্তি করেছি?
- তাহলে বলছেন কেন যে সুবিমলকে আমি ডেকে দিতে পারব না।
- পারবেন কি? ডেকে দিতে? এখন?
- ইয়ার্কি হচ্ছে! ওই নামে কেউ কস্মিনকালেও এ'খানে থাকেনি।
- অত ঘুরিয়ে বলছেন কেন? জানতে চাইলাম সুবিমলকে ডেকে দিতে পারবেন কিনা। পারবেন না, ল্যাঠা চুকে গেল!
- পারার প্রশ্নটা আসছে কোথা থেকে? যে এ'খানে নেই তাকে ডাকবই বা কী করে?
- মহামুশকিল। সে যদি এখানেই থাকবে, তা'হলে তাকে খামোখা ডাকতে বলবই বা কেন? এখানে নেই, তাই বলেই তো জিজ্ঞেস করলাম যে সুবিমলকে ডেকে দিতে পারবেন কিনা।
- না মানে, কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে।
- স্বাভাবিক। আমি এক প্রশ্ন করছি অথচ আপনি কী সব আগডুমবাগডুম উত্তর দিয়ে চলেছেন। পারবেন কি সুবমিলকে ডেকে দিতে?
- সুবিমল? আপনার মেসের বন্ধু?
- এই তো। দিব্যি চেনেন। পারবেন ডেকে দিতে?
- আমি তো সুবিমল বলে কাউকে চিনি না। মাইরি। আমার নাম হরিহর দত্ত। আমার বাপ দিবাকর গত হয়েছেন বছর দশেক। আমি এক ছেলে, বিয়েথা করিনি। একাই থাকি।
- ফের অদ্ভুত যুক্তি। আপনার বাপের নাম দিবাকর বলে আপনি সুবিমলকে ডাকবেন না? উইলে লিখে গেছিলেন নাকি আপনার বাবা?
- আমার কেমন গোলমাল ঠেকছে মনোময়বাবু।
- ঠেকছে না? আপনার কথাবার্তায় আমারও তেমনই মনে হচ্ছে হরিহরবাবু।
- আচ্ছা, ডেকে দেখব? সুবিমলকে?
- ক্ষতি তো নেই। থ্যাঙ্ক ইউ।
- কিছুই বলা যায় না, বলুন?
- পয়েন্ট।
- তা'হলে ডাকি? সুবিমলবাবুকে?

**

"সুবমিলবাবু" বলে বার চারেক হাঁক পাড়তেই পুঁটিরাম সুট করে সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে মনোময় দত্তর কোলে উঠে বসল। মনোময় শুকনো থ্যাঙ্ক ইউ বলে বেরিয়ে গেলেন।

মাস ছয়েকের পরিচয়েই পুঁটিরামকে বড় আপন করে নিয়েছিলেন হরিহরবাবু। কিন্তু আজ স্পষ্ট বোঝা গেল যে পুঁটিরাম হরিহরবাবুকে আদৌ নিজের ভাবতে পারেনি। যাকগে, একা থাকার কপাল হরিহরবাবুর,  তাঁর ভাগ্যে অমন আদুরে বেড়ালের সঙ্গ-সুখ সইবে কেন?