Saturday, September 23, 2017
আড়াই সেকন্ড
আর ভাই।
Note to self.
পুজোর ছুটি টুক করে শেষ হয়ে যাবে ভাই।
ফলত;
১. অফিসের পেন্ডিং ফাইলপত্তরগুলো মা ট্রাঙ্কে করে হিমালয় নিয়ে যাবেন না।
২. পুজোর ছুটির পর বস ডেস্কের ওপর নারকোল নাড়ু সমেত টিফিন বাক্স রেখে অপেক্ষা করবেন না।
৩. অফিসের কোনও কল্যিগ এগিয়ে এসে বলবেন না "পুজোর ক'দিন খুব লম্ফঝম্প গ্যাছে, তাই না ভাই? একটু জিরিয়ে নাও। এক্সেল ফাইলটা আমি সামলে নিচ্ছি। আমি বরং তোমার জন্য একটু ডাবের জল আনিয়ে দিই। কেমন"?
৪. অফিসটাইমের ভিড়ে শিউলির গন্ধ লেগে থাকবে না।
৫. কাশফুলের জেপেগ ইমেজ দেখে অফিস ইনবক্সের আনরেড ইমেল সংখ্যা কমানো যাবে না।
অতএব।
"পুজো আসছে, আই ক্যান্ট কীপ কূল" বলে কলার তুলব না।
Friday, September 22, 2017
পুরনো লেখা।
চিঠি লেখাটা অম্লানের অভ্যাস ও বাতিক।
ডিনারের পর। রোজ।
মিনিমাম দু'টো। ম্যাক্সিমাম চারটে।
সমস্তই সুতপার জন্য লেখা। সবগুলোই পোস্ট হয় রাতের ছাতের কোণ হতে নিচের ফুটপাথের দিকে। যেমন সুতপা নেমেছিল বছর কয় আগে। সে অবিশ্যি চিঠিদের মত ভেসে ভেসে নামেনি, সে নেমেছিল এক ঝপাতে। শেষ ঝপাতে।
খামে লেখা নাম ঠিকানা;
সুতিদেবী
ফুটপাথ, ল্যাম্পপোস্ট আর শিবুর পান দোকানের মাঝামাঝি, কলকতা ৭০০০৬৮।
তবে।
অভিমান কি সহজে ভোলার? রোজ আসেন সুতপা। চিঠি পোস্টের সময় যদি অম্লানকে ঠেলে ফেলে দেওয়া যায়, ছাত থেকে ওই ফুটপাথে।
ল্যাম্পপোস্ট আর শিবুর পান দোকানের মাঝামাঝি।
কিন্তু রোজকার লোভ আটকে দেয় সুতপাকে।
কালকের চিঠিতে কী কান্না বেশি না খুনসুটি? দুপুরের স্মৃতি? রাতের গল্প? সঞ্জীব কোটেশনে না বাউল সুরের গল্পগাছা?
চিঠির লোভে ক্রমশ পিণ্ডদান অনুভব করে চলে সুতপা।
প্রতি চিঠি ভাসিয়ে দেওয়ার সময় ঘাড়ে শীতল স্নেহ অনুভব করে অম্লান।
টুথপিকিফিকেশন
- মিস্টার ডেথ!
- কী চাই?
- টুথপিক হবে?
- কী? টুথপিক? আপনি আমার কাছে টুথপিক চাইছেন চোক্ক? আমি অন্ধকার! আমি বরফশীতল। আমিই আবার গনগনে আঁচ। আমি খুনে। আমি রক্তমাখা। আমি...।
- অথচ টুথপিক নেই? মাইরি!
- বাইপাসের পেশেন্ট হয়ে রাতে মাটন ঠেসে শুয়েছেন! অথচ আমার কাছে কিনা...।
- আছে? টুথপিক?
- প্রাণ ক্যাপচার করে ঘুড়ির মত ওড়াই তাহলে?
- প্রাণ সটকে নিলে আর টুথপিকের দরকার কিসের? আমার উইন উইন। আছে টুথপিক? না থাকলে আই ডেয়ার ইউ...।
- ডেয়ার কীসের!
- প্রাণ সরিয়ে নিন। মাইরি, জিভ পড়ছে একটা দাঁত অথচ আঙুল সেই দাঁত শুধু আঙুলে লোকেট করা যাচ্ছে না। আছে নাকি ভাই? টুথপিক? না থাকলে তুলে নাও।
- আমি এখনও ভাবতে পারছি না। আমার কাছে টুথপিক চাওয়া?
- নেই, তাই না ভায়া?
- না নেই!
- খুনে অথচ কী ইনএফিশিয়েন্ট।
- সরি চক্কোত্তিদা। আপনার ছেলের ঘরে আছে? তাহলে খুঁজে এনে দিই।
- ওর বিছানার মাথার কাছের দেরাজের নিচের ড্রয়ারে। কেমন?
- আচ্ছা।
- ও কী ভাই! অমন মন খারাপ করে যাচ্ছ কেন? টুথপিক এনে দিয়ে না হয় আমার হাপিস করে দিও। একটা টুথপিক ছাড়া এ জীবনে আর কিছুই চাহিদা ছিল না।
- নাহ। আজকে আপনার আত্মা নেওয়ার প্ল্যান ড্রপড। টুথপিক এনে দিয়ে আমি চলে যাব। আপনার তো সবে নাইনটু ট্যু চলছে, বছর পাঁচেক পরে আসব'খন।
- চেঞ্জ অফ মাইন্ড? হঠাৎ?
- আমার কেন রাত্রে টুথপিকের জন্য মন হুহু করে না চক্কোত্তিবাবু? আমার খুব চিন্তা হচ্ছে, আমি কি জ্যান্ত? কোনওদিনও জ্যান্ত ছিলাম? একটা টুথপিকের জন্য প্রাণপণ কেন করতে পারি না? ইন্ট্রোস্পেকশনে চললাম। আপনি আমার ক্লায়েন্ট। অন্য কোনও ডেথ এজেন্ট আপনকে টাচ করবে না আমি ফেরা না পর্যন্ত।
- ও কী ভাই বরফশীতল ডেথ? তুমি নিজেকে টুথপিকিফাই করতে পারোনি বলে কাঁদছ? এ কী বাবু!