Monday, July 31, 2017
করোলারি
পুজো পুজো ইয়ে
- পুজো আসছে।
- চিরকাল তেমনটাই ঘটে ভাই।
- মানে?
- ডিসেম্বর মাসেও পুজো উলটো দিকে হেঁটে যায় না, এদিকেই এগিয়ে আসে।
- আই মীন, পুজো প্রায় এসে গেল আর কী।
- এসে যাওয়ার ডেফিনিশন কি?
- মানে ইয়ে, নেয়ার বাই।
- আমার আলিগড় পৌঁছেও মনে হয় দিল্লী বহুত দূর। ওদিকে সুভাষবাবুর বার্মায় এসে মনে হয়েছিল দিল্লীরর ছোলেকুলচের গন্ধ পাচ্ছেন।
- আমি বলতে চাইছি যে, বাতাসে একটা বেশ পুজো পুজো গন্ধ...।
- ইউ মীন, চারদিকে ঘেমো ভিড়ের গন্ধ?
- আরে উৎসবের মেজাজটা বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে...।
- ইলিশের দাম কমেছে?
- কই! না তো! তা'তে কী?
- ইলিশের দাম আগুন, এরপরেও আপনারা উৎসবের কারণ খুঁজে পান?
ভাজাভুজি
- এতক্ষণে আসার সময় হল হে রাখহরি?
- বৃষ্টি দেখেছেন চক্কোত্তিদা? ক্যাটস অ্যান্ড ডগস। আপনার অ্যাসিস্ট্যান্ট শিবু বাবাজীবনকে একটু বলুন দেখি এক কাপ দার্জিলিং সাপ্লাই দিতে। আমারটায় আবার শুগারফ্রী।
- কলিংবেল শুনেই সে ইন্সট্রাকশন চলে গিয়েছে শিবুর কাছে।
- আগের দিন পেঁয়াজিগুলো বড্ড কড়া করে ফেলেছিল। আজকে একটু কেয়ারফুলি ভাজতে বলবেন প্লীজ।
- আজ করলা স্পেশ্যাল ফ্রাই।
- করলা?
- অবহেলা কোরো না ভাই। করলার যে এমন ট্রান্সফর্মেশন হতে পারে সে'টা কামড় না বসিয়ে টের পাবে না। তিল, চালবাটা আর দু'চারটে সিক্রেট ইনগ্রেডিয়েন্ট মিলিয়ে...আমার স্পেশ্যাল রেসিপী আর শিবুর রান্নার হাতের কামাল।
- যা হোক। শিবুকে বেগুনীর কথাও বলে দিতে হয়। করলা যদি বাই চান্স মুখ থুবড়ে পড়ে?
- চান্স নেই। তবে বেগুনীতে কারুর কোনওদিন ক্ষতি হয়েছে বলে শুনিনি । সে ব্যবস্থা করা যাবে। যাক গে, এ'বারে গুছিয়ে বসো দেখি।
- চক্কোত্তিদা, আজ দিনটা বড় ভালো।
- শাঁসালো কাউকে জোটালে নাকি?
- বড়বাজারের ভুতোড়িয়া। ফ্যামিলির চার ভাইয়ের নামে চারটে পলিসি গছানো গেলো বেশ। মোটা প্রিমিয়াম। আমার এ কোয়ার্টারে আর চাপ রইল না।
- এত বড় একটা ব্যাপার, তাও খালি হাতে এলে হে রাখহরি?
- হরিহরের দোকান থেকে ডিমের ডেভিল আনার প্ল্যান ছিল চক্কোত্তিদা। কিন্তু অ্যাইসা বৃষ্টি...।
- বৃষ্টিকে অবহেলা করছ ভায়া?
- অবহেলা নয়। তবে কলকাতায় থেকে বৃষ্টি পোয়েটিক আবেগটাও টলারেট করা যায় না। আপনি জানেন পার্ক সার্কাসের কী অবস্থা আজ? আর দিন দশেক এমন বৃষ্টি চললে সে'খানে জাল ফেললে ইলিশ উঠবে। যা হোক, শিবুকে বলুন চা দিয়ে যেতে...।
- আর বাজে সময় নষ্ট নয়। টেবিলে এসো। একার কনসেন্ট্রেশনটা ব্যাপারটা মজবুত হচ্ছে না।
- ভিসিয়াস সাইকেল চক্কোত্তিদা। চা ছাড়া কনসেন্ট্রেট করতে পারছি না...আবার ও'দিকে...।
- কনসেন্ট্রেট করতে না পারলে চা জুটবে না...হে হে হে হে...। এসো এসো ভায়া। চেয়ারটা টেনে নাও।
- বেশ। এ'বার শুরু করুন। ইয়ে, আপনার আগের রাঁধুনি বিপ্রদাসের চেয়ে এ ব্যাটা শিবু কিন্তু অনেক ভালো।
- ভালো হবে না কেন? বিপ্রদাসের মৃত্যু পাতি তিন দিনের জ্বরে, মিডিয়াম ছাড়া সে নামবে কেন? ওকে নামিয়ে নিজেরই হ্যাপা বাড়ত।
- শিবু বোধ হয় ট্রেনে কাটা, না?
- ডাউন কাটোয়া, উত্তরপাড়ার কাছে। এক্কেবারে ছটফটে স্টেট! মিডিয়াম টিডিয়ামের ধার ধারে না, একটু আদর করে ডাকলে নিজেই লাফিয়ে চলে আসে। হে হে হে। আর ওর রান্না হাতটাও জম্পেশ ভায়া। আজ করলা ফ্রাইটা চেখেই দেখ না।
Sunday, July 30, 2017
নিশ্চিন্দি
রাত্রি এলেই রোখ চেপে যায়।
তরতরিয়ে চিঠি লেখা চলে। আত্মবিশ্বাসী ঝরঝরে ভাষা। টেবিল চাপড়ানো দাবী, লোফার মার্কা আদর। সিগারেটের নেশাটা নেহাত ধাতে সয় না, নয়তো অ্যাশট্রে উপচে একাকার কাণ্ড হত।
মাঝেমধ্যে পায়চারীতে জিরিয়ে নেওয়া। সে'সময় আবার মনের মধ্যে শাসনের ভাষাটুকু সাজিয়ে নেওয়া যায় যা'তে কলম ধরলেই পুরনো বাড়ির ঝুরঝুরে পলেস্তরার মত অভিমানটভিমান সমস্ত ঝরে পড়া যায়।
পুরীর রাস্তায় বিকেলের ক্যাঁচরম্যাচর ধরে এগোনো রিক্সার মত এগিয়ে চলে সেই সাড়ে সাত পাতার চিঠি। স্বর্গদ্বারের ভীড়ে এসে প্যাডেল নরম হয়ে রিক্সা থামে। দু'জনে টুপটাপ নেমে পড়ে, রিক্সায় আটকে পড়া নীল ছাপার শাড়ির আঁচলটা ছাড়িয়ে নেন সরু চেক হাফশার্ট।
খুব সাবধানে বন্ধ করা ছিটকিনির মত "ইতি তোমার..." টেনে দেওয়া চিঠির নীচে। বেশরম হয়ে দিনদুপুরে দুদ্দাড় ঘরের দরজা বন্ধ করে লোক জানান দেওয়ার বদমায়েশি বরদাস্ত করেন না নীল ছাপা। চেকশার্টের হয়েছে যত জ্বালা আর রয়েছে দু'টো খোলা বোতাম।
ভোরের দিকে বোধবুদ্ধির পোস্ট অফিস হাঁ করে দাঁড়ায়, কুচিকুচির স্টাম্প লাগিয়ে ফেলে দিলেই নিশ্চিন্দি।
