Saturday, July 22, 2017
কলকাতার মেসিয়াহ্ - ৫
এই মেঘলা
- বৃষ্টি থামার কোনও চান্স দেখছি না ভাই। আকাশের যা অবস্থা মেঘ সহজে কাটবে বলে মনে হচ্ছে না।
- তা'তে ম্যাদা মেরে যাওয়ার কী আছে ভায়া? দুপুরে খিচুড়ি। সন্ধেবেলা বেগুনী। ইলিশ ভাজা রাতে। এঞ্জয়। এ'টাই তো সময়!
- আসলে হয়েছে কী...।
- আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে, গুনগুন করে ওঠো। রোম্যান্স ভুললে চলবে?
- অসুবিধেটা হচ্ছে...।
- এই মেঘলা দিনে একলা...আহা! মেঘলা দিন ছাড়া এমন ক্লাসিক মেজাজ জেনারেট হবে কী করে? এত নেগেটিভ হলে চলে ভায়া? বি পসিটিভ! বর্ষাকে ভালো না বেসে থাকা যায়?
- গেঞ্জি জাঙিয়া ইমিডিয়েটলি না শুকোলে কিছুতেই পসিটিভ হওয়া যাচ্ছে না স্যার। ইন্সটাগ্রামে বৃষ্টি নিয়ে আহাউঁহু শুনলেই লাইকের পাশে কানমলার বোতাম আছে কিনা খুঁজে দেখছি।
মালিশের ছয়
সেলুনে মাথা মালিশ করানোর সময় যে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো মাথায় রাখা দরকার:
১. তেল ছাড়া মাথা মালিশ মিথ্যে।
২. নবরত্ন ছাড়া সব তেল মিথ্যে।
৩. মালিশদাদা মিউট মোডে মালিশ করবেন না। চ্যাঁচাবেন না। স্রেফ গুনগুনিয়ে কথা বলে যাবেন। মোদী, মমতা, ম্যানহোল, মার্কিন কন্সপিরেসি; সমস্তই থাকতে পারে। থাকবে না শুধু প্রশ্ন।
৪. এফএমের বিজ্ঞাপন মালিশ-নির্বাণ বিনষ্ট করে। দরকার হলো এম্পিথ্রিতে নাদিম-শ্রবণ। অথবা "কী উপহার সাজিয়ে দেব" লেভেলের সুর।
৫. মালিশ নরমে গরমের ব্যাপার। গুঁতোগাঁতা নয়, তুলতুল নয়। মালিশকরনেওলার অপ্টিমাম বোধ মালিশখানেওলার অপ্টিমাম বোধের সঙ্গে মিলেমিশ না গেলেই গোটা ব্যাপারটা থাবড়ানোতে নেমে আসবে।
৬. সেমিনারে অফিস রিভিউতে পকেটে রাখা ফোন বেজে উঠুক ক্ষতি নেই। কিন্তু সেলুন-মালিশের সময় ফোনটি স্যুইচড অফ মোডে ভাইটি। ম্যান্ডেটরি। সাইলেন্ট ফাইলেন্ট না। বন্ধ।
নিষ্পাপ মালিশ মুহূর্তগুলো, শুধু নিজের জন্যে রাখা থাক।
Thursday, July 20, 2017
দ্রোণ পর্ব
চারদিকে ধুন্ধুমার যুদ্ধ।
অবশ্য গোটাটাই এক তরফা। দ্রোণাচার্য পাণ্ডব সৈন্য দেখলেই বেগন স্প্রে ঝেড়ে আরশোলা মারার মেজাজে কুপিয়ে যাচ্ছেন।
নকুল ইতিমধ্যে মেট্রোজিলের খোঁজ শুরু করে দিয়েছিল। সহদেব "শিবিরে লাইটার ফেলে এসেছি, ক্যুইকলি নিয়ে আসছি" বলে সেই যে হাওয়া হয়েছে এখনও পাত্তা নেই। ভীম গদার ডাঁটি দিয়ে পিঠ চুলকে যাচ্ছিলেন। অর্জুন সিলেবাসের বাইরের কোশ্চেন পেপার দেখে কৃষ্ণের ওপর তম্বি শুরু করেছিলেন 'শুরুতেই সম্মানজনক এগজিটের ব্যবস্থা করেছিলাম, তা নয়। বাবু এলেন গীতাগিরি করতে। এ'বার হ্যাপা সামলাও'। যুধিষ্ঠির লুকিয়ে অ্যাডাল্ট জোকসের বই পড়ে নার্ভ ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করছিলেন।
কেষ্ট দেখলেন কিছু একটা না করলেই নয়।
পাণ্ডবদের ডেকে বললেন "আউট অফ বক্স সলিউশন ভাবো"।
নকুল দরাজ গলায় অফার দিলে "সহদেব খুব ভালো আউট অফ দ্য বক্স ভাবতে পারে। আমি বরং শিবিরে ফিরে যাই, যদি ওকে আউট অফ শিবির ভাবানো যায়"।
যুধিষ্ঠির বললেন "দুর্যোধনকে অনলাইন রামিতে চ্যালেঞ্জ করে দেখব"?
অর্জুন বললেন "বাক্সটা দেখছি না কেন ভাই কেষ্টা'?
ভীম বললেন "মেনহিরটা কাজের সময় খুঁজে পাই না কেন বলো তো"?
অগত্যা কেষ্টকেই সলিউশন বাতলে দিতে হল। সত্যবাদী যুধিষ্ঠির মিথ্যে বললেই দ্রোণ পিলে চমকে গোল বাঁধাবেন। সেই সুযোগেই কাজ সেরে ফেলতে হবে। যুধিষ্ঠির অল্প আপত্তি জানাতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তারপর মনে হল আইডিয়ালিজমের চেয়ে রাজসিংহাসনে রেভিনিউ বেশি। অতএব রাজী হয়ে গেলেন।
কেষ্ট যুধিষ্ঠিরের কানে কানে মিথ্যে বলার প্ল্যান এ আর প্ল্যান বি বুঝিয়ে দিলেন।
যথারীতি দ্রোণকে দেখেই যুধিষ্ঠির প্ল্যান এ ফায়ার করে।বললেন "অশ্বত্থামা হত, বিপ বিপ"। শুনে দ্রোণ বললেন "স্যাড, ভেরি স্যাড। তাহলে এসো তোমাদের ডাবল প্যাঁদানি দিই"।
ভয়ে আমসি হয়ে পড়েছিলেন যুধিষ্ঠির, কোনওক্রমে প্ল্যান বি মনে করে চালিয়ে দিলেন তিনি
"আই হ্যাভ রেড অল দ্য অফার ডকুমেন্টস কেয়ারফুলি বিফোর ইনভেস্টিং"।
ধর্মরাজের মুখে এমন ডাহা মিথ্যে শুনে পর্যুদস্ত বোধ করলেন দ্রোণ। নিজেকে সামলাতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। চুপিসারে কাজ সেরে ফেললেন ধৃষ্টদ্যুম্ন।
অমনি চার পাঁচটা স্মাইলি দিয়ে ব্যসদেবকে হোয়্যাটস্যাপ করলেন ধর্মরাজ "স্যার, প্ল্যান বি'র রেফারেন্সটা মূল স্ক্রিপ্ট থেকে বাদ দেওয়াই ভালো, কেমন"?
Tuesday, July 18, 2017
কুন্তলা ও বাবা
১
- তুমিই অজয়?
- আজ্ঞে অজয় নয়। অরুণাভ।
- অরুণাভই হও বা অমল পালেকর। কোনও লাভ আছে কি?
- লাভ?
- প্রফিটের কথা বলেছি। নেদু হয়ো না।
- না মানে...।
- না মানে না। নো মীনস নো।
- কাকু, মানে স্যার...ইয়ে...বলিছিলাম যে মান্তু আর আমি...।
- মান্তু? বাড়ির বাইরের বেয়াড়া কেউ ওই নামে কেন ডাকবে? কুন্তলা বলো। মিস কুন্তলা চ্যাটার্জিও বলতে পারো।
- ওই কুন্তলা। মানে, ওর সঙ্গে...।
- জানি। যে তুমি ওর পিছনে ঘুরঘুর করছ। তা'তে ও একটু নরমও হয়েছে। কিন্তু আমার মত নেই।
- মানে...কাকু...স্যার...ইয়ে...ঘুরঘুর করছি আমরা দু'জনেই। মিউচুয়ালি।
- বেশ। কাল থেকে আর মিউচুয়ালি ঘুরঘুর করবে না।
- না মানে...। মাইনর রিকুয়েস্ট...একটা অ্যাপ্রুভাল অন্তত যদি দিতেন। আফটার অল আপনি কুন্তলার বাপ...আই মীন বাবা। তবে আপনার ওপিনিয়নের কোনও দাম নেই, সে'টা বোঝেন তো?
- কুন্তলার আশেপাশে যদি ফের ঘুরঘুর করতে দেখেছি তা'হলে পুলিশ ডাকব।
২
- কী ব্যাপার অমৃতেন্দু! কাল ওয়ার্নিং দিলাম, সে'টা ভ্রুক্ষেপ না করে তোমরা দু'জনে আজ পার্কের বেঞ্চিতে বসে সুডোকু সলভ করছিলে?
- আপনি সে'টাও দেখেছেন?
- আবার পালটা প্রশ্ন?
- সরি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি ফেরেব্বাজ নই।
- তোমার আইকিউ কম।
- আদৌ নয়।
- যাদের আইকিউ কম তারা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না যে তাদের আইকিউ কম। থাম্ব রুল।
- কুন্তলার আইকিউ হাই।
- কুন্তলার আইকিউ ধুয়ে জল খাবে?
- মানে, কম পড়লে। ও ম্যানেজ দেবে।
- কুন্তলা কি তোমার ম্যানেজার? ফিউডাল মাইন্ডসেট তো হে তোমার। আর খবরদার যেন কুন্তলার আশেপাশে না দেখি।
- নইলে পুলিশ ডাকবেন?
- দত্ত দারোগার আমার ক্লাসমেট সে'টা জানো?
৩
- এ কী? তুমি ছাদে থেবড়ে বসে কেন?
- আপনি এখানেও?
- আমি খুব ফ্লেক্সিবল। ভূত হওয়ার এ'টাই সুবিধে।
- আপনার তো খুশি হওয়া উচিৎ। পুলিশ ডাকার দরকার পড়ল না। কুন্তলা আর আমার মুখ দেখবে না।
- একটা চড়ে চোয়াল ভেঙে দেব রাস্কেল। আমার মেয়ের নামে উল্টোপাল্টা কথা? সে তোমায় ভালোবাসে, সে কিনা তোমার মুখ দেখবে না? আর আমি কি সাধে তোমার পিছনে ঘুরঘুর করি? আমার মেয়ে তোমায় পছন্দ করেছে। তোমায় নিস্তার দিই কী করে? তোমাদের মধ্যে একটু ঝগড়া হয়েছে, হতেই পারে। তাই বলে মুখ দেখাদেখি বন্ধ? হাতের মোয়া নাকি? মেয়েটা সকাল থেকে কেঁদে চলেছে। তুমি না গেলে ওকে সামলাবে কে?
- আপনি বুঝতে পারছেন না কাকু...আই মীন..স্যার। ওর সঙ্গে ঝগড়ায় এমনিতেই মনমরা হয়ে ছিলাম। আজ ভোরের দিকে অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তা ক্রস করতে গিয়েই...মিটে গেল...। ট্রাক। এক্কেবারে পেস্ট। আমার বডিট তেমাথার মোড়ে পড়ে এখনও। মর্গের গাড়িটা এলো বলে। তাই বলছিলাম...।
- নিনকম্পুপ। মাথা মোটা বাইসন কোথাকার। শুরুতেই বুঝেছিলাম তুমি একটা লো আইকিউ আহাম্মক। মানছি মান্তুর সঙ্গে তোমার আলাপ মাত্র মাস দুয়েকের কিন্তু...। আমায় ভূত হিসেবে দিব্যি চিনে ফেলছ অথচ মান্তুমাকে এখনও চিনতে পারো নি? আরে বাবাজীবন, আমরা দু'জনেই ছিলাম সেই আগুনে! যাক গে। আজ সকালে দেখলাম পঞ্জিকার হিসেবে সামনের হপ্তায় ভালো দিন আছে বিয়ের। আমি ভাবলাম শুভস্য শীঘ্রম। দিলাম তোমায় ট্রাকের নীচে ঠেলে। ওয়েলকাম টু দ্য ফ্যামিলি সান!