- এই যে বাঁহাতবাবু, শুনছেন!
- কী ব্যাপার? এত হল্লা করছেন কেন?
- সরি। দিব্যি টেবিলের উপর শুয়েছিলেন। আপনাকে ব্যতিব্যস্ত করতে একদম চাইনি। কিন্তু ব্যাপারটা এতটাই আর্জেন্ট..।
- আপনার পরিচয় জানতে পারি কি?
- আজ্ঞে আমি মগজচন্দ্র।
- অ। তা কী ব্যাপার?
- এমার্জেন্সি। ক্রাইসিস। আপনার সাহায্য দরকার।
- ব্যাপারটা কী শুনি!
- জ্ঞান। প্রচণ্ড জ্ঞান ফায়্যার হচ্ছে আমার দিকে।
- জ্ঞান?
- বোমার মত। মাছির বিরক্তিকর ভনভনের মত। হাড়ে ছুঁচ বেঁধানোর মত। ওই আমাদের সামনে যে মালটা বসে আছে; তখন থেকে জ্ঞান ঝেড়ে যাচ্ছেন মাইরি। হ্যান করা উচিৎ ত্যান বোঝা উচিৎ। ঘুরে ফিরে একটাই বক্তব্য ; আমি কত ডীপ তুমি কত গবেট। আমি মনুমেন্ট তুমি হাইড্রেন। আর নেওয়া যাচ্ছে না মাইরি। থাপ্পড় হয়ে উড়ে এসে ওর কলারবাবাজী টেনে ধরুন। প্লীজ।
- হিংসা? ভায়োলেন্স? নোংরা ব্যাপার তো।
- বাঁহাতবাবু, আপনি যদি কাজে পরিষ্কার ময়লা দেখেন তাহলে আমি কোথায় যাই।
- একটা উপায় আছে।
- কী রকম?
- আমি কড়ে আঙুল ফ্ল্যাশ করছি, আপনি পাবাবুদের বলুন নাচ বন্ধ করে সোজা বাথরুমের দিকে ছুটতে..।
- আর সে'খান থেকে পাখি যাবে উড়ে...ইউরেকা!
- ইউরেকা! এ'বার আসুন, আমি আমার কাজ করি।
Wednesday, July 5, 2017
জ্ঞান ও বাথরুম
Tuesday, July 4, 2017
আবেদন
ডিয়ার ভাইটু/বোনটি,
ফেসবুকের গোঁসা রাস্তায় বয়ে এনে মারধোর করবেন না প্লীজ। সম্প্রতি একটি গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে মারলে ব্যথা লাগে। চাপাতির কোপে গলা কেটে যাওয়ার মত ব্যাপার অবিশ্বাস্য মনে হলেও কিছু কিছু বৈজ্ঞানিক দাবী করেছেন যে গোপন এক্সপেরিমেন্ট হাতেকলমে দেখিয়ে দিয়েছে যে এমনটা ঘটলেও ঘটতে পারে।
অবশ্য পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলেই আমরা আশার ফ্লুরোসেন্ট আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারব। ডেটা বলছে যে মানবসভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে একজন মানুষও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার কারণে খুন হননি (যদিও প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে অন্তত দশ হাজার মানুষ কাঠবেড়ালির কামড়ে প্রাণ হারান)।
সম্প্রতি জার্মানীতে খুঁজে পাওয়া গেছে আলবার্ট আইনস্টাইনের হারানো ডায়েরি। সে'খানে হদিশ মিলেছে এমন এক ফর্মুলার যার তুলনায় ইইজুক্যালট্যুএমসিস্কোয়্যার নস্যির মলিকিউলের সেজছেলের সমানও নয়। আইনস্টাইন মাকালীর দিব্যি কেটে লিখে গেছেন টি ইজ নট ইকুয়াল টু আর অর্থাৎ টেররিজমের কোনও রিলিজিয়ন নেই। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলের মতে এই নতুন ফর্মুলায় মানুষের জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ধুয়েমুছে যাবে, সমস্ত পারমাণবিক বোমা ডিফিউজ করে ব্রণ দূর করার ক্রীম তৈরি করা যাবে শীগগিরই।
ইতি,
বংপেন।
পুনশ্চ : একটু ধমক দিয়ে কথা বললেই পোস্ট ডিলিট করব। মারধোর পর্যন্ত এগিয়ে নিজের হাত ময়লা করবেন না প্লীজ।
Monday, July 3, 2017
মোহনপ্রতাপের বিলাপ
বিয়ে আর যাই হোক পুরুষের হাতের মোয়া নয়, ব্যাপারটা আগে থাকতেই আঁচ করতে পেরেছিলেন মোহনপ্রতাপ। নিজের প্রিয় চৌকি ফেলে ডিভ্যান কেনার সময়ই তাঁর মনটা খচখচিয়ে উঠেছিল বটে। বিশাল খাটের পেটে ঢাউস তিনটে বাক্স। বিয়ের আগে নিজের পড়ার টেবিলের ড্রয়ারটাই এ জীবনে ভরতে না পেরে সে'টাকে মাঝেমধ্যে আশট্রে হিসেবে ব্যবহার করে ফেলতেন মোহনপ্রতাপ। স্টিলের আলমারি পেরিয়ে ডিভান ভরে ফেলতে এক প্লুটো-ভর্তি জিনিসপত্র কিনতে হবে; এই ভেবে বিয়ের আগের তিন রাতে আড়াই বাক্স সিগারেট আর ছয় বাক্স নিমকি শেষ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু বিপদ যে কতটা বেপরোয়া গতিতে ধেয়ে আসতে পারে সে'টা মোহনপ্রতাপ টের পেলেন বিয়ের দু'দিন পর। ফ্যানের রেগুলেটর কমানো বাড়ানো নিয়ে ঝগড়া করে ফুলশয্যার রাতটা কোনওক্রমে কাটিয়েই গায়ের সমস্ত বিরক্তি ঝেড়ে ফেলতে সকাল সকাল স্নান করতে ছুটলেন মোহনপ্রতাপ।
বাথরুমে ঢুকতেই মোহনপ্রতাপের মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। বাথরুমের র্যাকে প্রসাধনী বলতে এদ্দিন রাখা থাকত একটা নিম সাবান গোলাপি প্লাস্টিকের সাবানদানীতে, দাড়ি কামানোর জন্য একটা সস্তা শেভিং ক্রীম, ব্লেডের প্যাকেট, রেজার, ফটকিরি, টুথব্রাশ, কোলগেটের টিউব আর হারপিকের বড় ডিবে। নিজের বাথরুমের সেই আদি রূপকেই চণ্ডিমণ্ডপ জ্ঞানে চিনে এসেছেন মোহনপ্রতাপ।
কিন্তু সে'দিন যেন পৃথিবীটা ওলটপাল্ট হয়ে গুবলেট করে ফেলেছিল মোহনপ্রতাপের শান্ত দুনিয়াটুকু। যে চণ্ডিমণ্ডপের ছায়ায় দাঁড়িয়ে "গুরুদেব দয়া কর দীন জনে" গাইতেন মোহন, সে'খানে আজ একটা বিশ্রী যান্ত্রিক ল্যাবোরেটরি। র্যাক ময় বিভিন্ন রঙের শিশি বোতল, কোনওটা প্লাস্টিক কোনওটা কাঁচের; তাতে রংবেরঙের সমস্ত সলিউশন। মাথার ঝিমঝিমটা সয়ে আসতে ক্রমশ জিনিসপত্র জরীপ করতে শুরু করলেন মোহনপ্রতাপ।
শ্যাম্পু দুই বোতল, বিশ্রী কন্সেন্ট্রেশনের এক শিশি কন্ডিশনার, গা ধোয়ার সাবান, হাত ধোয়ার সাবান, চার পাঁচ রকমের অদ্ভুত রংচঙে শিশি যার মধ্যে কী আছে তা চেটে খেলেও মোহনপ্রতাপ ধরতে পারবেন না, মুখ ধোয়ার সাবান, মুখে মাখার প্যাক, মুখে লাগানোর লোশন, মুখে লাগানোর জেল, মুখে লাগানোর স্ক্রাব, মুখে লাগানোর তেল (ক্রমশ শুভদৃষ্টির মুহূর্তটাকে কারাওকেতে গাওয়া কিশোরকণ্ঠীর গান বলে মনে হচ্ছিল) আর আরও অন্তত বত্রিশ রকমের ক্রীম বা লোশন।
গা-বমি ভাবটা পাশ কাটিয়ে মোহনপ্রতাপের মাথাটা দুর্দান্ত রাগে চিড়চিড় করে উঠলো অন্য একটা ভয়াবহ দৃশ্যে। তাঁর ভালোবাসার নিমসাবানের ড্যালাসহ সাবানদানীটাকে র্যাক থেকে উৎপাটিত করে রাখা হয়ে প্যানের লাগোয়া জেটস্প্রে আর মগের মধ্যিখানের মেঝেতে।
মোহনপ্রতাপ দিব্যিদৃষ্টিতে দেখতে পেলেন তার চরিত্রের মুকুটখানা এক তুঘলকি শাসকের আগ্রাসী গাঁট্টায় ধুলোয় লুটিয়েছে। নিজের ডিএনএর পায়েসে কেরোসিন মিশে যেতে দেখে শিউরে উঠলেন তিনি।
রাগে উন্মত্ত মোহনপ্রতাপ গীজার বন্ধ করে দুদ্দাড় করে বাইরে এসে আহত সিংহের মত হাঁকলেন:
"কে করেছে বাথরুমের এ দশা? কে"?
মোহনপ্রতাপের কণ্ঠের গমগম তখনও এ দেওয়ালের মাকালী হার্ডওয়্যারের ক্যালেন্ডারে গোঁত্তা খেয়ে অন্য দেওয়ালে রাখা ভেঙ্গসরকারের পোস্টারে ধাক্কা খেয়ে চলেছে; এমন সময় একরাশ শিউলি বাতাস জুলাইয়ের খটখট অগ্রাহ্য করে ঘরে ভেসে এলো। সঙ্গে ছাপার শাড়ির বাপুজী কেকে কামড় দেওয়া মসমস।
"কী ব্যাপার, সাতসকালে এমন ষাঁড়ের মত চিৎকার কেন"?
"না মানে, ইয়ে, মানে...বাথরুমে..."।
"বাথরুমে কী"?
"বলছিলাম যে, আমার স্কিনটা এত ড্রাই টাইপের, কী ধরণের ফেসওয়াশ স্যুইটেবল হবে বলতে পারো গো"?
নীল
- নীল দানার মত যন্ত্রণা।
- নীল দানার মত?
- আজ্ঞে। স্পষ্ট দেখতে পেলাম। জ্বলজ্বল করছে নীল দানা।
- ঘুমোও।
- কিন্তু ওই নীল দানাটা?
- চকমকে নীল?
- চকমকে। তবে চোখ ধাঁধায় না। ফুঁড়ে দেয় না। মায়া আছে। নরম।
- তবে তো আচ্ছা মুশকিলে ফেললে দেখছি।
- মুশকিল?
- যন্ত্রণাটা বেদানার মত লাল দানায় দেখলে তাও হত। দিব্যি টিপ খুলে আয়নায় সেঁটে এসে তোমার সামনে বসতাম। তোমার স্বপ্ন থেকে বাড়ি ফিরে ফের কপালে লাগিয়ে নিলেই নিশ্চিন্দি। কিন্তু সিগারেট ঠুসে দেওয়া ফোস্কাটুকু ফেলে রেখে আসব কোথায়? আমার গয়নার বাক্সটাও যে আমার কাছে থাকে না!
Sunday, July 2, 2017
স্পেসশিপ
১
স্পেসশিপের এক কোণে নিজের বাঙ্কারে শুয়ে নোটবুকে তেলাপিয়া মাছের মোমোর রেসীপি লিখে রাখছিলেন ধনঞ্জয় সমাদ্দার। বিপদসংকুল পথ, কখন কী ঘটে যায় কোনও ঠিক নেই। তিনি না থাকলেও, এ নোটবুক যোগ্য কারুর হাতে একদিন না একদিন পড়বেই।
২
- মানিব্যাগটা আপনার?
- না।
- আই সী। তাহলে বোধ হয় যে ভদ্রলোক আগের স্টপেজে হুড়মুড়িয়ে নামলেন তাঁর। এই সীটেই পেলাম। গড়িয়াহাট থেকে তেলাপিয়া নিয়ে উঠেছিলাম, সাউথসিটি পেরিয়ে তবে জায়গা পেলাম। বসতে গিয়ে দেখি এই...।
- অ। আপনার হাতের প্যাকেটে মাছ! তাই ভোঁটকা একটা গন্ধ পাচ্ছিলাম। তা যেমন করে হুড়মুড়িয়ে নামলেন সে ভদ্রলোক, মানিব্যাগের আর দোষ কী! সেই হাওড়ায় উঠে থেকে ঘুমোচ্ছিলেন, কন্ডাক্টরের হাঁকে ঘুম ভাঙতেই ছুট। এমন ভাবে ছুট দিলেন যে আমার হাতের মোমোর বাক্সটাকে চেপ্টে দিয়ে গেলেন। ছোটমেয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম। যত্তসব।
- মোমো? সুবাস পাচ্ছিলাম বটে। তা এই মানিব্যাগ খুলে দেখব? ঠিকানা ফোননম্বর কিছু পাওয়া যায় কিনা?
- সে'টাই তো স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্র্যাক্টিস।
- এইত্যো। ভিজিটিং কার্ড। ভদ্রলোক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এজেন্ট। ধনঞ্জয় সমাদ্দার।
- তা'হলে আর কী। কল করুন।
৩
নিকষ কালো আকশের গায়ে অসংখ্য হীরের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে যেন, পৃথিবী থেকে এমন ঝকঝকে আকাশ দেখতে পাওয়া যায় না। নিবিষ্ট মনে তাকিয়ে ছিলেন ধনঞ্জয়বাবু। স্পেসস্যুটের পিঠে রাখা অক্সিজেন সিলিন্ডারের অ্যালার্ম বেজেছে কিছুক্ষণ আগেই; "টেন পার্সেন্ট অক্সিজেন লেফট"। কিছুক্ষণের মধ্যে স্পেসক্রাফটে ফেরত যেতে হবে। তবু এ আকাশের দিকে থেকে চোখ ফেরাতে মন চায় না। এই অচেনা গ্রহের চারদিকে জমাট হয়ে থাকা নারকীয় নিস্তব্ধতা ভুলিয়ে দেয় ওই আকাশের মন ভোলানো ঝিকমিক।
এমন সময় ওয়্যারলেস সক্রিয় হয় উঠল;
"হিউসটন কলিং মার্স রোভার্স, হিউসটন কলিং মার্স রোভার্স। স্যাম্যাড্ডার, ডু ইউ কপি?"
"কপিং", সমাদ্দার বুঝলেন; এমার্জেন্সি।
"সমাদ্দারবাবু, আপনার কি মানিব্যাগ হারিয়েছে"?