Thursday, May 18, 2017

মার্কেট

- সারকাস্ম কেন মন্দ হতে যাবে মামা? বঙ্কিম সারকাস্ম চালিয়ে বাংলাদেশ তোলপাড় করে ফেললেন। আর আমি সারকাস্টিকালি কিছু বললেই তুমি এত ইয়ে কর কেন?

- বঙ্কিম ফেদার টাচে প্রাণে মারতে পারতেন। আর তুই কোদাল দিয়ে ঘামাচি খুঁটিস। মনে রাখিস; সারকাস্ম সঠিক লোকের হাতে চন্দ্রহার, ভুল পাবলিকের হাতে লুঙ্গির গিঁট।

- ধ্যের। আধুনিক হিউমর সম্বন্ধে তোমার কোনও আইডয়াই নেই। আমার লেখায় টপাটপ কত লাইক পড়ে জানো?

- লাইক? তুই বংপেনে লাইক গুনিস রে?

- তা'তে কী?

- তুই পার্টটাইম গুড়ের ব্যবসা কর। আজকাল এক্সপোর্ট হচ্ছে শুনেছি। ভালো মার্জিন।

- মার্কেট ফীডব্যাককে উড়িয়ে দিচ্ছ মামা? আঁতলামি?

- মহামুশকিল রে। এই যে তোর মার্কেট। এই নিয়ে বড় মুশকিল।

- মার্কেট কী দোষ করল?

- মার্কেট অর্ধেক লোকজনকে বলছে লিটল ম্যাগে কবিতা লিখে নিজের লেখা নিজে পড়তে, অর্ধেক লোককে বলছে ফেসবুকে লাইক গুনতে, আর অপেক্ষায় রয়েছে যে বাকিরা তার পিছনে আসবে। তোর মার্কেট বড় একা রে বাবু। গুড়ের মার্কেটে আয়। আমার কন্ট্যাক্ট আছে। একটু কাজের কাজ অন্তত হবে।

Monday, May 15, 2017

ক্ষুদ্র

মোহন সিংহ চেষ্টা করছিলেন ছোট হওয়ার। বেশ ছোট।

ক্ষুদ্র।

অ্যালবামের হলদে গ্রুপ ফটোটার এক কোণে বসে থাকা খোকার মত একরত্তি। বড্ড রোগা, জংলি ঘাসের ওপরে একটা স্মাইলি বসিয়ে দিলে যেমনটা হওয়া উচিৎ আর কী। ডেসিমালের মত কুচি।

ক্ষুদ্র।

'মোহনকুমার সিংহ" বানানে হোঁচট খাওয়া খোকাটির সর্বস্ব ওই ফিক হাসি। তার সিঁথি,  যত্নে পাট করে আঁচড়ানো। এক খাবলা নারকোল তেল মাথায় রগড়ে, কুয়োর ঠাণ্ডা জলে ঝপাংঝপ স্নান করিয়ে, ঘসঘসিয়ে গামাথা মুছে; তারপর; তারপর যত্ন করে আঁচড়ে দেওয়া। যত্নে, ছায়াছায়া গন্ধে।

মোহন সিংহ মনে মনে পতপত করে উড়তে থাকেন, চারদিকে হুহু। আহা, যদি হওয়া যেত; ক্ষুদ্র।

**

"ধেড়ে গোবিন্দ হয়েই গোল পাকালি রে মোহন,  তুই ওইটুকুনি হলে দিব্যি তোর চুল পাট করে করে আঁচড়ে দিতাম"।

"মায়ের মত, বল"?

Sunday, May 14, 2017

র‍্যান্ডম

মা মানে গান। ছাপার শাড়ি। সন্ধ্যেবেলার পার্পল প্যাচ; খেলে ফেরা আর পড়তে বসার মাঝের মিনিট চল্লিশটুকু। মা মানে সবার আগে ওইটুকু।

স্টিলের গ্লাসে গরম ধোঁয়া ওঠা কম্পল্যান হাতে আমি। ঠাকুমার ঘর থেকে ভেসে আসা ধুনোর গন্ধ। আর হারমোনিয়ামের পাশে মা।

বাটিচচ্চড়িতে মা পিয়ারলেস। আর বেগুন দিয়ে ইলিশের ঝোলে। আর আধ ফালি করা হাঁসের ডিমের ঝোলে। আর সজনের চচ্চড়িতে।

দিদার হাতের রান্না আরও ভালো ছিল। তবে দিদার বয়ে আনা ঢাকার গন্ধ কিছুটা হলেও এখনও মায়ের হাতে রয়ে গেছে।

ওহ্। মায়ের হাতের আলু সেদ্ধ মাখা। ঘি সর্ষের তেল আর শুকনো লঙ্কা ভাজা দিয়ে। স্বপ্নের মত।

মা ঝগড়াকে ভয় পায়। যুদ্ধকে ঘেন্না করে। চিৎকারকে এড়িয়ে চলে। মায়ের মধ্যে নরম গামছা গোছের একটা ব্যাপার আছে।

মা অভাব দেখেছে। চিনেছে। আত্মস্থ করেছে। সে'সব দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে আজও মা নুয়ে পড়ে, প্রণাম করে, সমীহ করে। অনটন মাকে তেতো করতে পারেনি, না পাওয়াগুলো ন্যুব্জ করে দেয়নি।
না পাওয়াগুলোকে ঘিরে কত অজস্র সুখস্মৃতি যে সাজিয়ে চলে মা, ভাবলে অবাক হতে হয়।

বিস্কুটের টিন

- মা।
- চুপ।
- মা!
- চুপ। চুপ।
- খিদে।
- চুপ।
- ওই উল্টোদিকের দেওয়ালে..।
- কী?
- তাকে বিস্কুটের টিন। ওই যে, হলুদ টিনটা।
- টিনে বিস্কুট না থাকলে? কার না কার বাড়ি। আর কয়েক ঘণ্টা মাত্র লুকিয়ে থাকতে হবে খোকা।
- ফাঁকা টিন কেউ সাজিয়ে রাখে?
- ভালো করে দেখ। ওই তাকের দিকে যেতে হলে ওই কাচের জানালা পেরিয়ে যেতে হবে। যদি সৈন্যরা দেখে ফেলে?
- দেখে ফেললেই গুম গুম গুড়ুম?
- ঠিক।
- কিন্তু খুব খিদে পাচ্ছে মা। কাল রাত্তির থেকে কিছু খাইনি।
- আর কিছুক্ষণ খোকা। সন্ধ্যে নামলেই সৈন্যরা এ অঞ্চল থেকে বেরিয়ে যাবে। তখন এ'খান থেকে দিব্যি পালানো যাবে। বিস্কুটের টিনটাও নিয়ে নেব, কেমন?
- আর কতদিন পালিয়ে থাকতে হবে?
- যদ্দিন যুদ্ধ চলবে।
- কদ্দিন যুদ্ধ চলবে?
- বিদেশ থেকে সৈন্য আসবে, মিত্রপক্ষের। আমাদের বাঁচাতে। আর মাত্র ক'দিন।
- ওরা আজকেই এসে পড়ছে না কেন? এখুনি এসে পড়ছে না কেন মা? আমার বড্ড খিদে। বড্ড।
- খোকা। আর একটু। ওই তাকের দিকে গেলেই জানলা পেরোতে হবে। আশেপাশেই সৈন্য।
- পারছি না মা।
- ঘুমো।
- খিদে মা। বিস্কুট। ওই যে। একটা।
- আর একটু খোকা। আর একটু।

খোকার 'খিদে খিদে' গোঙানি ক্রমশ ঝিমিয়ে এসেছিল ক্লান্তির ঘুমে। কতক্ষণ জানা নেই, তবে ঘুম ভেঙেছিল কান ফাটানো শব্দে।

খোকা অবাক হয়েছিল তার মাথার কাছে হলুদ বিস্কুটের টিনটা গড়াগড়ি যেতে দেখে। দূর থেকে ছুঁড়ে ফেলায় টিনের ঢাকনা খুলে কয়েকটা বিস্কুট ছড়িয়ে পড়েছিল মেঝেতে। খোকার প্রিয় বাদাম বিস্কুট।

খানিক দূরে জানালার সামনে ভাঙা কাচ ছড়িয়ে রয়েছে। সে'খানেই মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে মা, মায়ের সাদা জামার পিঠে লাল ছোপ।

Friday, May 12, 2017

জাস্ট ইন

উইকিপিডিয়া বলছে জাস্টিন বীবারের বয়স তেইশ। তেইশ বছরের একজনকে নিয়ে আমরা বেশ খিল্লিটিল্লি করলাম। কারণ ওর গান গান নয়।

যদিও ওর শোয়ের টিকিট না কেটেও থাকা যায়। যদিও নিজের প্লেলিস্টে ওর গান রেখে বরদাস্ত করতেই হবে তেমন দিব্যি কেউ দেয়নি। তবু। খিল্লি বড় টেম্পটিং। আমার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা আরও বড় ছিল। ওর একটাও গান না শুনে আমায় খিল্লি করতে হয়েছে। পিয়ার প্রেশার। বীবারের প্রতি খিল্লি, বীবার ভক্তদের প্রতিও।

খিল্লির থীম? ওই; ওর গান গান নয়।

এই তেত্রিশ বছর বয়সেও বাপে দু'টো কড়া কথা বললে মনখারাপ হয়ে ল্যাটোরপ্যাটোর অবস্থা হয়। আর এই তেইশ বছরের ছেলেটাকে কী লেভেলের খিল্লি যে ম্যানেজ দিতে হয় কে জানে।

অবশ্য শোবিজনেসে খিল্লি থাকবেই। সে'টাই স্বাভাবিক।

তবে ইয়ে, ওই বয়সটা। তেইশ। ও এ'রকম লাইমলাইটে রয়েছে বছর পনেরো বয়স থেকে।

তেইশের আমি? মাকে কিছুদিন দেখতে না পেলেই নুনের জ্যাকেট গায়ে জোঁকের মত ছটফট করছি।

আর তেইশের বীবারকে একটা বহু মানুষ প্রাণপণে ভালোবাসছে। অনেকে আবার খিল্লিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে ব্যাটাকে।

কারণ ওর গান গান নয়।

এর আগে কার কার গানকে গান নয় বলে নস্যাৎ করা হয়েছে যেন?