Tuesday, May 9, 2017

থার্ড ডিগ্রী

কৌতুহল অতি বিষম বস্তু। হজম শক্তি কমে আসে। বাঁ কানের পিছনে চুলকানি শুরু হয়। মাথার ভিতরে একটা অসোয়াস্তিকর ঝুনঝুনুন বেজে চলে একটানা।

বিনয় মল্লিকের কৌতুহলটা বরাবরই বাড়াবাড়ির দিকে, আর মরার পরেও ব্যাপারটা কমেনি আদৌ। নরকে চেক্ ইন করেছেন ঘণ্টা খানেক হল। দিব্যি সিস্টেমে চলে সবকিছু এ'খানে। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তার পাপের ক্যাটেগরি-ওয়াইজ লিস্ট হাতে পেয়ে গেছেন। তিনটে পাপের ক্যাটেগরি;
ফার্স্ট ডিগ্রী অর্থাৎ হিংসে, লোভ, পরনিন্দা,  অন্যের পিছনে কাঠি ইত্যাদি। শাস্তি হিসেবে দিনে দেড়শো থেকে দেড় হাজার বার বিছুটি লাগানো মুগুর-পিটুনি, টানা দেড় হাজার বছর । বিনয়বাবুর কপালে জুটেছিল দিনে সাড়ে তিনশো ঘা।

সেকেন্ড ডিগ্রিতে খুন রাহাজানির শাস্তি। দিনে মিনিমাম দু'ঘণ্টা করে উনুনে পিঠ রেখে শুয়ে খবরের কাগজ পড়া। সে শাস্তি অবশ্য বিনয়বাবুকে ভোগ করতে হবে না।

সবার ওপরে থার্ড ডিগ্রী, এর থেকে নিস্তার জোটেনি বিনয়বাবুর। এক স্যুইমিং পুল ফুটন্ত তেলে বাটারফ্লাই স্ট্রোকে ঘুরে বেড়ানো, দিনে দশ ঘণ্টা; আগামী আড়াই হাজার বছর ধরে। শিউরে উঠতে হয় ভাবলেই। কিন্তু এ'খানে ডিসিশন রিভ্যিউ সিস্টেম নেই। সবচেয়ে মুশকিল হল লিস্টে থার্ড ডিগ্রী শাস্তি কোন অপরাধের জন্য সে'টা লেখা নেই।

এনকোয়্যারি অফিস খুঁজেপেতে বের করে বিনয়বাবু জানতে চাইলেন তাঁর থার্ড ডিগ্রী অপরাধ কী। কিন্তু কাউন্টারের পেত্নী ঝেড়ে কাশলেন না। এ'টুকুই জানা গেল যে থার্ড ডিগ্রী অপরাধ একটাই। কিন্তু তা এতটাই গুরুতর যে সেটার কথা মুখে আনাও পাপ, লিস্টে লেখা তো দূরের কথা। তবে ফুটন্ত তেলের স্যুইমিং পুলে নামার আগে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

কৌতুহল এতটাই বিষম যে প্রথম দিন সবার আর থার্ড ডিগ্রিই বেছে নিলেন বিনয়বাবু। সেই আগুন স্যুইমিং পুলে নামার মুখে তার কানে কেউ ফিসফিস করে বলে দিল; "থার্ড ডিগ্রীর পাপ; লহ প্রি-ফিক্স না লাগিয়ে রবীন্দ্রনাথকে প্রণাম জানানো"।

অশোকবাবুর ডেডবডি


অশোকবাবুর আঙুলের ডগার  তিরতিরে কাঁপুনিটা অনুভব করতে পারছিলেন। পিঠের নিচে কাঠের খরখরে ভাবটাও দিব্যি টের পাচ্ছিলেন। কিন্তু চোখ খোলার সাহস হচ্ছিল না। চারিদকে হাউমাউ চলছে উত্তাল সুরে। এ সময় দুম করে চোখ মেললে ঢিঢি পড়ে যেতে পারে।

ইলেক্ট্রিক চুল্লিতে ঢোকার আগে এমন বদখত ভাবে বাঁশের ওপর শোয়ায় কেন? অসোয়াস্তি। অবিশ্যি মড়ার তো অসোয়াস্তি বোধ থাকতে নেই। মুশকিল হল অশোকবাবু দিব্যি টের পাচ্ছিলেন যে তাঁর জ্ঞান ফিরছে। অর্থাৎ তিনি মারা যাননি।

তবুও। স্যাট করে চোখ মেলতে সাহস হচ্ছিল না।


- বাবা!
- উঁউঁউঁ!
- ও বাবা!
- ধ্যাত্তেরি। সকাল থেকে একটানা বাবা বাবা বাবা। দেখছিস না আমি কাঁদছি? বাপ মারা যাওয়ায় দু'দণ্ড প্রাণ খুলে কাঁদব তারও উপায় নেই। তখন থেকে ব্যাবা ব্যাবা ব্যাবা। কী ব্যাপার?
- দা...দাদুর আঙুল নড়ল এই মাত্র। বাঁ হাতের!
- কী?
- দাদুর আঙুল নড়ে উঠল।
- চুপ কর স্টুপিড। যত্তসব বাজে কথা।
- ওই দ্যাখো, আবার নড়লো।
- কই!
- ওই যে। আবার!
- ও সামান্য হয়, মড়া মাঝেমাঝে নড়াচড়া করে। বাজে কথা না বলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদ দেখি। কাজের বেলার লবডঙ্কা,  এ'দিকে যত আজেবাজে কথা।
- বাবা! দাদুর চোখের পাতা নড়ছে। হুই দ্যাখো।
- চোপ হারামজাদা ছেলে! উইল জাল করার হ্যাপা জানিস?
- উইল?
- ফের বাজে প্রশ্ন? এক চড়ে চোয়াল উড়িয়ে দেব। কাঁদ, দাদু মরেছে তোর! কাঁদ!


- এই যে! এ'দিকে শুনুন।
- বলুন।
- আমাদের মড়া চুল্লিতে কখন ঢুকবে?
- একটা পোড়ানো প্রায় শেষ হয়ে এলো বলে। আপনার বাবার বডির আগে আরও দু'টো মড়া আছে। আপনার বাবারটা তারপরে।
- ভাইটি। এরপরেই আমার বাবার বডিটা চুল্লিতে দিতে হবে যে।
- লাইনে আসতে হবে স্যার। নিয়ম!
- পাঁচশো দেব।
- শ্মশানে ঘুষফুষ চলেনা।
- ঘুষ না। উপঢৌকন।  পাঁচ হাজার।
- টাকা?
- ডলার দিলে ভাঙাবে কোথায়?
- বডি রেডি করুন।


- বাবা! দেখেছ?
- আবার কী!
- দাদুর ঠোঁটে বাঁকা হাসি।
- হাসি?
- হাসি! চুল্লির মুখে। তোমায় অপদার্থ বলার সময় যে হাসি দাদু হাসত, অবিকল সে'রকম।
- আজ তোকেই কোতল করব রাস্কেল!

Monday, May 8, 2017

ঝন্টুমামার শিক্ষা

দূর সম্পর্কের মামা কাম ছেলেবেলার পার্সোনাল কন্সলাট্যান্ট ঝন্টুমামার মত হচ্ছে "যত পারবি এডুকেট করবি। যেটুকু জানিস, সে'টুকু বিলিয়ে দে"। আর ঝন্টুমামা এই "এডুকেট" করা ব্যাপারটা মন দিয়ে প্র‍্যাক্টিস করে থাকে।

যথা ১
"সুনিয়ে ফুচকা দাদা। আলুঠো ভালো করে মাখনেকা থা। অভি ভি থোড়া ড্যালা ড্যালা মুখে ঠেকতা হ্যায়। আর ইয়াদ রখিয়ে জনাব, তেঁতুলকা টক হি আখরি বাত নহি হ্যায়। গন্ধরাজ ইঞ্জেক্ট কিয়া কিজিয়ে, নহি তো অপটিমাইজেশন নহি হোগা"।

যথা ২
"সই প্লীজ। তবে ইয়ে, অটোগ্রাফটা আমার জন্যে নয়। আমার ভাগ্নের জন্য। ব্যাটার ক্রিকেট নিয়ে একটু বাড়তি মাতামাতি আছে। আর ইয়ে বলছিলাম কী, আপনার ফ্রন্টফুট মুভমেন্টে প্রবলেম আছে স্যার। বাউন্সি ট্র‍্যাকে অমন দমাদম কমিট করে দেবেন না প্লীজ। ইজ দ্যাট ওকে? থ্যাঙ্কস ফর দ্য সই বাই দি ওয়ে"।

যথা ৩
"তুই শেষ পর্যন্ত পকেট কাটতে গিয়ে ধরা পড়লি মন্টে? পাড়ার নাম ডোবাবি যে তুই। নিশ্চই সস্তার ব্লেড ব্যবহার করেছিস! ওরে আর্টে অত ওয়ান পাইস ফাদার মাদার দেখলে হয় না। সেভেনওক্লক্ ছাড়া ব্লেড ইউজ করা মানেই গুস্তাখি"।

যথা ৪
প্রেমট্রেম মামা কোনওদিনই ম্যানেজ করতে পারেনি। শেষ প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ সেই কলেজের থার্ড ইয়ারে। তাঁকে মামা এগরোল ধরার সঠিক গ্রিপ শেখাতে দু'টো  সন্ধ্যে নষ্ট করেছিল বলে শোনা যায়।

যথা ৫
মামার চাকরী গেছিল বসকে 'এডুকেট' করতে গিয়ে।
"আপনার জুতোর রঙ দেখে বুঝতে পারি যে আপনি অত্যন্ত কেয়ারলেস ভাবে শুপালিশ ব্যবহার করেন। সমস্ত এলোপাথাড়ি স্ট্রোকস। দামী ওয়াইন গিলে এলিট হতে গিয়েই আপনি মরলেন। আপনার জুতো জোড়া আমারটার চেয়ে দামী অথচ আপনারটা বেয়াড়া পালিশের খপ্পরে পড়ে কেমন ম্যাদা মেরে থাকে দেখুন। আর এদিকে আমার জুতোর ঝলকানিটা নোটিস করুন। মিয়ানো জুতো ইম্পলাইজ মিয়ানো কনফিডেন্স স্যার। ডু সামথিং"।

এহেন বহুবিধ এডুকেশনের ঠ্যালায় মামার চাকরী নট হয়েছিল, বসবাবুর সে ক্ষেত্রে অন্তত কনফিডেন্সের অভাব ঘটেনি।

যথা ৬
ঝন্টুমামার সঙ্গে শেষ দেখা পার্ক স্ট্রিটে হট কাটিরোলের সামনে। বছর সাতেক আগে। মামার সঙ্গে সুতপার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলাম সে'দিন।
অদ্ভুত ভাবে তারপর থেকে ঝন্টুমামা বেমালুম বেপাত্তা হয়ে গেল।
আমিও ওর কথা ভুলতে বসেছিলাম প্রায়। এমন সময় আচমকা ওর পোস্টকার্ড, সুতপার সঙ্গে আমায় বিয়ের ঠিক দেড় মাসের মাথায়। পোস্টকার্ড এসেছে দেওঘর থেকে।

"বিট্টা,

তোর বিয়ের খবর পেয়েছি। সুতপা বড় ভালো মেয়ে। আগে বলার সুযোগ হয়নি। এখন জানিয়ে দিই। তোর বর্তে যাওয়া উচিৎ।  ভালো রাখিস ওকে।

একটা মাইনর ব্যাপার। ওর এগরোল ধরার গ্রিপটা প্রায় মুগুর ধরার মত। ওই বেমক্কা বাজে গ্রিপ দেখেই ধরতে পেরেছিলাম ব্যাপারটার জেনেটিক সোর্স কোথায়। সে যাক্। ওই দোষটুকু বাদ দিলে মেয়েটা হিরের টুকরো।
তোরা ভালো থাকিস,

ঝন্টুমামা।

*পুনশ্চ - দেওঘর ছেড়ে আজই বেরিয়ে যাচ্ছি। খোঁজটোঁজ করে লাভ নেই।"

মামার খোঁজ আর করিনি। তবে অন্যদিকে সামান্য খোঁজ নিয়ে এটুকু জানতে পেরেছি যে সুতপার মা ঝন্টুমামার ব্যাচমেট ছিল গ্র‍্যাজুয়েশনে। আর এ'টাও দিব্যি টের পেয়েছি যে ঝন্টুমামার কথা উঠলে শাশুড়িমায়ের গালে সামান্য বেমক্কা লাল ছুঁয়ে যায়।

Sunday, May 7, 2017

ডাক

- শুনুন।
- আমায় কিছু বলছেন ম্যাডাম?
- গোটা রাস্তায় আপনি তো একাই আছেন।
- কী দরকার?
- এত রাত্রে আপনি বাড়ির বাইরে কেন?
- প্রশ্নটা আমিও করতে পারি!
- করেননি। আমি করেছি।
- তা ঠিক।
- কেন? এত রাত্রে বাড়ির বাইরে কেন?
- আমার অসময়ে হাঁটতে ভালো লাগে।
- ভালো লাগে। ভালো লাগে। ভালো লাগে...।
- ও কী। অমন স্তোত্রপাঠ শুরু করলেন কেন। ভালো লাগতে নেই?
- আমার আলতা ভালো লাগে জানেন।  আর আলপনা। আর মিছিরি ভেজানো জল। আর বিকেল।
- ম্যাডাম, আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন?
- আপনার এই মাঝরাত্রে হাঁটতে ভালো লাগে কেন মশাই?
- মহামুশকিল। জেরা শুরু করলেন দেখছি।
- মাফ করবেন, আমার না মাথার ঠিক নেই।
- সে'টা দিব্যি বুঝতে পারছি। ইয়ে, কিছু মনে করবেন না আপনি যে ভূত নন, সে'টা টের পেয়ে আশ্বস্ত বোধ করছি। দিব্যি আপনার ছায়া পড়ছে ফুটপাথে।
- ভূত নই। তা ঠিক। তবে...তবে একটা সমস্যা হয়েছে!
- সমস্যা? কী রকম? বাড়ি খুঁজে পাচ্ছেন না?
- ব্যাপারটা একটু গোলমেলে...।
- দেখুন ম্যাডাম, এত রাত্রে এমন অন্ধকার রাস্তায় আপনি এই যে এসে গপ্প জুড়ে দিলেন, কোনও বদ মতলব নেই তো? 
- আমায় একটু সাহায্য করবেন প্লীজ?
- কী কেস? পুলিশ টুলিশ ইনভলভড আছে কি?
- আমি গোলমেলে নই, বিশ্বাস করুন।
- টাকা চেয়ে লাভ নেই, রাত্রে হাঁটতে বেরোনোর সময় আমার পকেটে মানিব্যাগ থাকে না।
- ব্যাপারটা তা নয়।
- তবে?
- আপনি..।
- আমি?
- আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ায় আমি বড় মুশকিলে পড়েছি।
- সে কী! আপনি কি এখানে বোমাটোমা ফাটাবেন ভেবেছিলেন? আপনি কি উগ্রপন্থী?  তা হলে এমন বিউটিপুল তাঁতের শাড়ি পরা উগ্রপন্থী আমি এই প্রথম দেখলাম।
- আপনি ভুল বুঝছেন। ব্যাপারটা তেমন কিছু নয়।
- তবে? তবে ডাকলেন কেন?
- আপনাকেই তো ডাকার কথা ছিল।
- তাহলে অসুবিধেটা কোথায়? ডেকেছেন, বেশ করেছেন। ল্যাঠা চুকে গেল।
- সে'খানেই গড়বড়।
- কী'রকম?
- আমার আপনাকে ঘুমের মধ্যে ডাকার কথা ছিল। সে জন্যেই আপনার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথেই আপনাকে দেখে কেমন গুলিয়ে গেল। এত রাত্রে না ঘুমিয়ে কেউ হাঁটতে বেরোয় মশাই?
- ঘুমের মধ্যে ডাকার কথা ছিল...কেন? আপনি...আপনি কে?
- আমি...।
- তুই..তুই...?
- চিনতে পেরেছিস বাবু? এত সময় লাগলো চিনতে? এতটা? তোর কী হয়েছে? স্কুল বাড়ির মাঠ, গঙ্গার ঘাট, তোদের ছাদের সন্ধ্যে; সব গুলিয়েছিস? এমন পাগলের মত রাস্তায় রাস্তায় টহল দিস কেন রাত্রে? মন খারাপ? আমায় বলিস না কেন? আমি দূরে চলে গেছি বলে আমায় বলতে নেই?
- এ সব পাগলামি!  ধুস! সবটাই স্বপ্ন। অথবা আমার মাথাটা সত্যিই গেছে।
- তুই ভুল দেখছিস না বাবু! ওই দ্যাখ, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আমার ছায়া।
- তুই অন্য শহরের। অন্য কারুর। অন্য কোনও জগতের। তোর এখানে থাকার কথা নয়। আমি ভুল দেখছি। দূর হ।
- তুই ভালো নেই। তোর জন্য এসেছি। বিশ্বাস কর আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, সেই অন্য শহরে আমার আস্তানায়। কিন্তু নিজের স্বপ্নে অন্যের রিয়েলিটি ফুঁড়ে চলে আসা যায়, যেমন আমি আসতে পেরেছি।  আমি তোকে ঘুমের মধ্যে ডেকে নিতে এসেছিলাম। জানতামই না তোর এই মাঝরাত্রে রাস্তায় হেঁটে বেড়ানোর অভ্যাস হয়েছে। আমার এই আসা মিথ্যে নয়।  আয় বাবু, আয়।

**
অনিন্দ্যবাবু ব্রীজের রেলিং পেরিয়ে যখন পরম নিশ্চিন্তে ঝুপ করে নেমে গেলেন, তখনও নিশির "আয় বাবু আয়" ডাক তাঁর কানে ঝুমঝুমির মত বেজে যাচ্ছিল।

Thursday, May 4, 2017

না

- আয়। এ'দিকে আয়।
- না, এই কাগজটা ছোটকা দিয়ে পাঠিয়েছিল। কাকুকে দেওয়ার জন্য। কাকু নেই যখন...থাক্। আমি পরে আসব'খন।
- বাবা নেই বলে আসবি না?
- বাজারে যেতে হবে। মা একটা লম্বা ফর্দ ধরিয়ে রেখেছে।
- আমি কবে এলাম, জানতে চাইবি না?
- মিতুলদি বলেছিল তুই এসেছিস।
- তাহলে আগে দেখা করতে আসিসনি কেন?
- আজও ঠিক..।
- আমি কেমন আছি, জানতে চাইবি না?
- তোরা কেমন আছিস?
- খুব লায়েক হয়েছিস, না?
- কেন?
- তুই চাকরী পেলি, জানাতে নেই?
- ধুস। ও আবার চাকরী। বড়বাজারের গদি। সে'খানে কমিশনে কাজ।
- ব্যাঙ্কের পরীক্ষায় পাশ করেছিলিস, সে'টার কী হল?
- সে কবেকার কথা। ইন্টারভ্যিউয়ের ঠিক আগে পক্স। আজ আসি।
- মামলেট ভাজব? খাবি?
- না।
- খেতে নেই?
- তা না।
- আমায় মেলায় নিয়ে যাবি?
- না।
- চিঠিগুলোর উত্তর দিবি?
- না।

একের পর এক "না" বাতাসে উড়তে থাকে। ঘরের সিলিঙে মেঘ ধাক্কা খায়। সাইকেলের ক্যাঁচরম্যাচর উড়িয়ে চেকহাফশার্ট হলুদ তাঁতের ছলছল ভাসিয়ে দেয়। সহজে।