Saturday, April 15, 2017

দুপুর অ্যান্ড দ্য ট্যু অফ দেম

টুকরোস অফ ভালোবাসা উইল ফ্লোট লাইক টলটলে মেঘস অন আ দুপুর অফ গরম। অল্প অল্প শ্যাডো উইল রিলীভ আস অফ আওয়ার চাকুরীসিয়ান ঘামাচিজ্।

অন ওয়ান সাচ দুপুর,
সাদা কল্কে ফুল অন কালো ব্লাউজ উড এনগেজ ইন অপেক্ষা। বাসন্তী শেড অফ অপেক্ষা। কলুটোলা লাইক ফ্লেভার অফ পুরনো বাড়ি এম্ব্রয়ডারড অল ওভার দ্য শাড়ি অফ তাঁত। 
দ্য হাফশার্টিস্ট হাওয়াই চটিয়ান উইল ফ্লাই অন দ্য যাদুকার্পেট অফ নখচিবুনি।
কলেজ স্ট্রিট অফ ছুটি উড রিমঝিমিফাই অন দ্য ছ্যাঁতছ্যাঁত অফ "আজ দেখা হবে" সোলস।

অসুবিধা ইজ, স্নেহ নোস নো ধর-তক্তা-মারো-পেরেক কাইন্ড অফ সলিউশন।  দ্য হাফশয়ার্টিস্ট গেটস হোঁচটিফাইড অন দ্য গ্লিম্পস অফ বাসন্তী ফ্রম আ স্বপ্ন স্মিয়ার্ড ডিস্ট্যান্স; "আমি তো কেউ না, তাই না"?
দ্য বাসন্তী ফিজেটস অন দ্য অসোয়াস্তিক্যাল পয়েন্ট অফ ঠোঁটকামড়; "আসবে না, তাই না"?

দ্য মেঘস উড ফ্লোট অ্যাওয়ে টুয়ার্ডস দ্য পোস্টবাক্স দ্যাট উইল নেভার ক্যারি এনি চিঠি, এভার।

Tuesday, April 11, 2017

দাঙ্গা হাঙ্গামা

- গোলপার্ক। একটা।
- আসুন কাকু। টিকিট নিন।
- আজ বাসটা এত ফাঁকা? রাস্তাঘাটেও লোক দেখছি না।
- গণ্ডগোল, তবে এ'দিকে নয়। সেন্ট্রাল এভিনিউর দিকে। র‍্যাফট্যাফ নেমেছে। তবে গোলমালটা ছড়াচ্ছে। এ বাসও গল্ফগ্রীন যাচ্ছে না। ঢাকুরিয়াতেই শেষ।
- এতটা সিরিয়াস? অথচ সকালেও তো কোনও আভাস ছিল না..।
- এ'সব কী আর পাঁজি দেখে হয় কাকু। হ্যারিসন রোডের দিকে হেবি মারপিট হয়েছে। দু'তিনটে লাশও পড়েছে শুনলাম। ভবানীপুরেও কিছু দোকানপাট জ্বালিয়ে দিয়েছে। অনেক জায়গা থেকে খবর আসছে। রেডিওয় শুনলাম কারফু লাগতে পারে।
- কারফিউ? এদ্দূর?
- এ জিনিস সহজে থামবে না।
- মেন ইস্যুটা কী? জানো কিছু? তোলাবাজদের খেইমেই না কী...ওই আবার মন্দির মসজিদ নিয়ে পড়লো।
- মন্দির মসজিদ নিয়ে ঝ্যামেলা আপনাদের ছেলেবেলায় হত কাকু। এখন আর ও'সব ইস্যু লাগে না। মাইরি আপনি জানেন না কেসটা?
- কী আর করব বাবা, গোটাদিন অফিসের রোবটগুলোকে ম্যানেজ করতে গিয়ে এমন বেহাল অবস্থা হয় যে খবরের দিকে চোখ রাখার সুযোগ পর্যন্ত হয় না। কী হয়েছে বলো দেখি?
- নতুন কিছু নয়। যা নিয়ে ইলেকশন তোলপাড় হল, সেই ব্যাপারই। এগরোলে সস্ পড়বে কি পড়বে না। এই ঝগড়ায় দেশটা রগড়ে গেল।
- সেম ওল্ড ইস্যু? এ'টা নিয়ে শেষে দাঙ্গা লাগলো?
- বিরোধীরা হাতপা ছুড়েই যাচ্ছে এগরোলে সস দেওয়া মানবে না বলে। আর সরকারের এক গোঁ, সস্ ওহি ডালেঙ্গে। মাঝখান থেকে এতগুলো লাশ পড়ে গেল। দোকান জ্বললো। রোলে সস্ আছে না নেই, তা'তে কী এসে গেলো বলুন তো কাকু?
- সবই পলিটিকাল গেম ভাই। আমরা তো ক্যারমের গুটি, স্ট্রাইকারওলারা কাল রোলে কয়লাকুচি দিলে তাও চেটে খেতে হবে।

টলটলে

টলটলে এক জোড়া চোখ।

আর জুঁই। জুঁইয়ের সুবাস বাতাসে। কলকাতার বাতাসে।
বড়রাস্তার হইহইরইরই এই গলির মধ্যে নরম কিচিরমিচির হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

তেমনি একটা দুপুর। আর অপ্রস্তুত হয়ে পড়তে হয় এমন টলটলে এক জোড়া চোখ। মাথার ঝিমঝিমটা কীসের সে'টা কিছুতেই ঠাহর হয় না দীপক চ্যাটার্জীর।

"চোখ বন্ধ"।

চোখ বন্ধ অন্ধকারে একটা মুক্তোদানা ভেসে উঠলো, দানাটা দলা পাকাতে পাকাতে বড় হতে লাগলো। একসময় সেই ড্যালাটা একটা মনমাতানো বিস্ফোরনে ঝিরঝিরি হয়ে পড়ল ছড়িয়ে। সেই স্ফটিক গুঁড়ো দিয়ে কলকাতা আঁকলে যেন কেউ। দীপক চোখ বন্ধ করেও দিব্যি অনুভব করল চোখজোড়ার টলটল।

"এ'বার হাত পাত"।

জুঁই। নরম। চলে যাওয়ার মত নরম। আর চিঠি না লেখার মত নরম। কলকাতাকে ইরেজারে মুছে দেওয়ার মত নরম।
জুঁই।

"এই ভালো বাবু, জুঁইয়ে বানান ভুল থাকে না"।

তারপর সে কী হাসি। চোখ বন্ধের অন্ধকারে ততক্ষণে দীপক টের পেতে শুরু করেছে যে কলকাতা মুছে যাচ্ছে। আবছা হতে হতে শেষে পড়ে রইল একটা মুক্তোদানা।

সে হাসি টপকে চোখের টলটল দীপকের বুক বেয়ে নামতে শুরু করেছিল।

"কী রে, এবার চোখ খোল! দ্যাখ"।

দীপক মনে মনে ভাবছিল
"পর রুচি চোখ বন্ধ করনা, আপ রুচি চোখ খোলার সাহস করনা"।

বিপিনবাবুর মামলেট

- সাড়া দাও।

- ....।

- সাড়া দাও, সাড়া দাও।

- ...। 

- সাড়া দাও...সাড়া দাও...সাড়া দাও।

- ...।

- উদাসীন থেকো না, সাড়া দাও।

- ...।

- ডিমা ফাটা লিয়া। পেঁয়াজ কুচো লিয়া। চাটু মে তেল ডাল দিয়া। ফ্রীজে লঙ্কার পাত্রটা খুঁজে পাচ্ছি না। এস ও এস। উদাসীন থেকো না ভাইটি, সাড়া দাও। কিধর হ্যায় মির্চি? কুচিকুচি করনেকা।

এই এক রোগ বিপিনবাবুর। মাঝরাতে ওমলেটের নেশা।আর ভদ্রলোক রান্নাঘরে ঢোকা মানেই রাত মাত করা শোরগোল। অবিশ্যি সুতপার সাড়া ইদানীং পাওয়াই যায় না।

আসলে বিপিনবাবুর এই বিটকেল স্বভাব কোনওদিনই সুতপার বরদাস্ত হয় না। ফটোফ্রেমের এ'পাশে এসেও রাতের বেলা শান্তি নেই সুতপার। বিপিনবাবুর মাঝরাতের মামলেটকে ভূতজ্ঞানে ভয় পেয়ে কাঁপতে থাকেন সুতপা। এ গা কাঁপানো ভয় তাঁর ফ্রেমে সেঁধিয়েও কাটেনি।

ও'দিকে তৃপ্তি সহকারে মামলেট চেবানোর সময় রোজই বিপিনবাবুর মনে হয়; সুতপার ছবির ফ্রেমটা কি আজ একটু বেশি বেঁকে রয়েছে?

Saturday, April 8, 2017

অমুক তমুক আর ক টু ঙ

আধুনিক অনলাইন তর্কক্ষেত্র বিপদসংকুল। চারদিকে ছড়িয়ে ল্যান্ডমাইন। এ'দিক ও'দিক পড়ে ক্ষতবিক্ষত লাশ, ভাঙাচোরা বাড়িঘরদোর।

ক লিখলেন অমুক চিন্তা মন্দ। তমুক ভালো।

খ তর্ক জুড়লেন। অমুককে খণ্ডন করে নয়। তমুকের হয়ে যুক্তি সাজিয়ে নয়। ক'কে হারামজাদা বলে।

গ ঝাঁপিয়ে পড়লেন ক'য়ের হয়ে লড়তে। ক'কে অকারণে "হারামজাদা" খিস্তি শুনতে হয়েছে। ব্যাপারটা মোটেও সমীচীন নয়। গ কী করলেন? খ' হারামজাদা বলে গায়ের ঝাল মেটালেন? না। গ বললেন খ'য়ের বাপ হারামজাদা। স্কেল-আপ না করলে টক্কর দেওয়া যায় না।

এ'বারে ক ফিরে এলেন তর্কে। খ'কে কোণঠাসা করা গেছে গ'য়ের আগুনে। তিনি এসে ঘোষণা করলেন যে অমুক চিন্তার সকল মানুষের বাবা হারামজাদা।

স্যাট করে মাঠে ঘ ঢুকে পড়ে জানালেন যে গোটা তর্কটাই ইনসেনসিটিভ। অমুকও শয়তানি। তমুকও ঢ্যামনামি।

ক, খ, গ মিলে ঘ'কে খিস্তোলেন। ঘ'য়ের হয়ে ঙ এসে ক'কে মেনিমুখো বলে খোঁটা দিলেন। গ সুট করে খবর বের করলেন যে ঙ ১৯৯৬ সালের অমাবস্যায় পাঁচটা ঢেঁকুর তুলেছিলেন ঠাকুরঘরের কুড়ি ফুটের মধ্যে, তাঁর প্রমাণ ফলাও করে সোশ্যাল মিডিয়াময় ছড়িয়ে পড়ল।

এ'দিকে জানা গেল খ সিগারেটে ফিল্টারে পোস্ত মাখিয়ে টানেন। ক সেই প্রসঙ্গ তুলে পোস্তর ইজ্জত বাঁচাতে খ'কে অ্যাসহোল বলে পাইলস প্রসঙ্গ টানলেন। ঘ খ'কে ক'য়ের চেয়ে বেশি ঘেন্না করেন। কাজেই ক খ'য়ের ব্যক্তিগত স্পেস খর্ব করছে বলে রেগেমেগে হাজার শব্দের পোস্ট দিলেন।

এমন ঘুরলি খেতে খেতে ক, খ, গ, ঘ, ঙ'র মধ্যে থেকে অগুনতি হারামজাদা, ক্যারেক্টারলেস, উন্মাদ, চাড্ডি, দেশদ্রোহী বেরিয়ে এলো।

অথচ।
অথচ।

ক নয়নতারার টবের দিকে তাকিয়ে গোটা বিকেল কাটিয়ে দিতে পারেন।
খ মাদুর আর একবাটি মুড়ি বাতাসা পেলে কোটি টাকার লোভ ছাড়তে পারেন।
গ শিব্রামভক্ত।
মশা মারলে ঘ'য়ের মনখারাপ হয়।
ঙ শ্যামল মিত্রে নিজে সঁপে রেখেছেন।

ক টু ঙ; আদতে অমুকে বা তমুকে কারুরই তেমন কিছু এসে যায় না। শুধু সেডিমেন্ট হিসেবে একে অপরের প্রতি ঘেন্নার বালি আর গালের নুড়িপাথর।