- সুনেন...।
- আমায় বলছেন?
- জিঁ হাঁ। লোয়ার আপনের?
- হ্যাঁ।
- আমায় দিবেন? আপার মেরা। লেকিন নী সার্জারি হোনে কে বাদ সে..।
- আপত্তি নেই।
- ইউ আর সো কাইন্ড।
- নো প্রবলেম।
- সুনেন...।
- বলুন।
- আপনিও দিল্লী?
- হ্যাঁ।
- উখানেই থাকেন?
- আর কে পূরম। চাকরী সূত্রে। আপনি তো এ'দিকেই?
- নিউ আলিপুর। দিল্লী ট্যোয়াইস আ মান্থ। বিজনেস ট্রিপ। মাইসেল্ফ সীতারাম খন্ডেলওয়াল।
- নমস্কার। আমি অমিতাভ চ্যাটার্জী।
- নাইস টু মীট ইউ।
- মাই প্লেজার।
- আসেন। ইটা হলো থ্যাঙ্ক ইউ অফার। রসগোল্লা। ফ্রেশ। অভি ভি ওয়ার্ম আছে।
- না না, থ্যাঙ্ক ইউ। কিন্তু থাক এখন।
- আই ইনসিস্ট। প্লীজ।
- ওকে। একটা নিচ্ছি। থ্যাঙ্ক ইউ।
- আরে আরে..কোরেন কী?
- কে...কেন?
- রস নিচোড়ছেন কেনো?
- আমি রস না চিপে রসগোল্লা খাই না। সামান্য স্বাস্থ সচেতন আর কী।
- উ রসগোল্লা আপনি ডব্বায় ওয়াপস রাখিয়ে দিন সাহাব। থ্যাঙ্ক ইউ অফার ক্যান্সেল।
- কী?
- ক্যান্সেল। থ্যাঙ্ক ইউ অফার ক্যান্সেল। লোয়ার বার্থ আপনি রাখেন। আমি আপারে চড়িয়ে যাব।
- সে কী! আপনার হাঁটুর প্রবলেম?
- রস নিচোড়কে গোল্লা খানেওয়ালে সহাব। আমার প্রবলেম নী মে আছে, স্পাইন মে নহি। থ্যাঙ্ক ইউ।
Saturday, March 4, 2017
লোয়ার বার্থ
Wednesday, March 1, 2017
ক্ষুদিরামের হিসেব
দু'টো চায়ের দাম মিটিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এলো অনিন্দ্য।
**
পাঁচশো বাইশ ভাঁড় বিক্রি হয়েছে। বাক্সে পাঁচশো তেইশ ভাঁড়ের দাম। কী মুশকিল। ক্ষুদিরাম সত্যি হিসেবে পাক্কা। চায়ের কাপ আর দাম গোনায় তার ভুল হয় না।
**
- এই খুনটা আমি করতে পারব না স্যার।
- তুমি করতে বাধ্য অনিন্দ্য। তোমায় আমি এমনি এমনি পুষি না।
- যদি খুনটা না করি?
- ভাড়াটে খুনি হয়ে অর্ডার রিফিউজ করবে?
- মেয়েটাকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি।
- মনে ব্যথা আছে?
- ও আমায় চেনে না।
- ওয়ান সাইডেড? ধ্যুর। বড় টাকার অর্ডার এসেছে। খুনের দোকান তোমার, একটা খুন বিক্রি করবে। ব্যাস।
- বিক্রির ইচ্ছে না থাকলে?
- না হলে... দোকানি হয়ে নিজের দোকানের মাল একবার না হয় টেস্ট করবে?
- থ্রেট দিচ্ছেন?
- যা ভাবার ভেবে নাও। এই খামে মেয়েটার ছবি আছে। কালকের মধ্যে খবর চাই। নয়তো নিজেকে খবর হতে হবে।
- নয়তো নিজের দোকানের মাল নিজেকে নিতে হবে?
- সে দামটাও আমিই চুকিয়ে দেবো না হয়। এবারে এসো।
**
একটা চায়ের দাম এক্সট্রা আছে যখন, এক ভাঁড় চা নিজের জন্য গড়িয়ে নেওয়াই যায়। ফিক্ করে হাসলেন ক্ষুদিরাম।
**
বাবলির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শুধু চাওলাটার কথা মনে পড়ছিল অনিন্দ্যর।
শেষ পর্যন্ত কেউ তো ব্যাটাকে চা খাওয়ালে। নিজের দোকানের চা। নিজের দোকানের মাল।
নিজের দোকানের মাল। মাইরি। তার স্বাদই আলাদা।
নির্জন সৈকতে
Sunday, February 26, 2017
মিছরি আর সৈনিক
- তুমি এসেছো মিছরি?
- উপায় রাখলে কই? বেহায়া। বেওকুফ।
- বসো। বসো।
- কয়েদী মানুষের অত কথা বলতে নেই।
- কিছু খাবে?
- কয়েদখানায় তোমার মাথাটুকু ছাড়া খাওয়ার আর কী আছে বলবে?
- কোণে একটা কুঁজো রাখা আছে। ওই দ্যাখো, ওই দিকে। ইঁদারার জলের মত ঠাণ্ডা।
- আগে তোমার মাথাটুকু চিবিয়ে নিই, তারপর জল দিয়ে ঢকঢক করে গিলে ফেলবো, কেমন?
- হেহ্। কেমন আছো গো মিছরি?
- সুখেই ছিলাম। সংসার। আত্মীয় পরিজন। তারপর ওই ভূতে কিলোলো। শুনলাম তোমায় কাল ফাঁসি দেবে। যতই শত্রুপক্ষের সৈনিক হও, এককালে প্রেমিক ছিলে। লোকে দুর্নাম রটালে রটাক,ঝপাৎ করে চলে এলাম। তুমি কেমন আছ?
- দিব্যি।
- শহিদ শহিদ গন্ধ পাচ্ছ নিজের গা থেকে?
- ধুস। আমি ভালো অমলেট বানাতে পারি। শাড়ির কুঁচি ধরতে পারি। চট করে বানিয়ে গল্প বলতে পারি। বাথরুমে ক্লাসিকাল গাইতে পারি। লুডোতে দুর্দান্ত চুরি করতে পারি। শহিদ টহিদ হওয়া আমার কম্ম নয়। নেহাত জোর করে সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়ে নিলে। নেহাত জোর করে যুদ্ধে পাঠালে। মন্দ কপাল, তাই ধরাও পড়ে গেলাম।
- ভাগ্যিস দেশ ছেড়ে তোমার হাতে নিজেকে সঁপে দিইনি গো, নইলে কাল আমায় বিধবা হতে হত।
- মিছরি...তুমি আসবে আমি ভাবিনি...।
- বিয়ে না হওয়া ঠিকই ছিল, কিন্তু তুমি থাকবে না..সে'টা ভাবতে পারছি না যে।
- ও সয়ে যাবে।
- আমাদের বিয়ে না হওয়াটা যেমন তোমার সয়ে গেছিল।
- দু'টো দেশে যুদ্ধ লেগে গেল, আর বিয়ে। মিছরি...বড় আশা করেছিলাম, খবর পেয়ে তুমি একবার আসবে।
- এলাম তো..এবার বলো।
- আমার বলার তো কিছু নেই। সৈনিক মানুষ। খুনোখুনিতে আছি। বলাবলিতে নেই। তুমি কিছু বলবে?
- তুমি আমার দেশের মানুষ মেরেছ?
- হুঁ।
- অনেক?
- অগুনতি। কতগুলো মেডেল পেয়েছি জানো?
- আমার ভাইটা মারা গেছে মাস খানেক আগে। ফ্রন্টে।
- তোমার ভাই? প্রদ্যুম্ন? সে তো কবি মানুষ। যুদ্ধে গেল কেন?
- শাড়ির কুঁচি ধরা যার কাজ, সে বর্ডারে গেছিল কেন?
- ওহ্। সে কদ্দিন আগে দেখেছি তাকে। তখন প্রদ্যুম্ন স্কুলে। এখন হয়তো তাকে দেখলেও চিনতে পারতাম না। কে জানে, ওর বুকে আমিই গুলি চালিয়েছি কিনা।
- কে জানে। হতেও পারে। যুদ্ধ তো দেশের সঙ্গে দেশের। সে'খানে কেউ মিছরির ভাই নয়, কেউ প্রেমিক নয়।
- সবাই সৈনিক, আর কেউ কেউ লাশ।
- তুমি আজ সৈনিক, কাল লাশ।
- লাশ চুমু খেতে পারে না। সৈনিক বরং...।
- শত্তুরের মুখে বড় বড় কথা! দেব জল্লাদ লেলিয়ে?
- তোমাদের দেশের কোনও গান শোনাবে মিছরি?
- কাল আমাদের দেশের হাতে কোতল হবে, আজ তার গানের খোঁজ করছ?
- তোমার দেশ। তোমার খাটের কোণায় রাখা ডায়েরি, ঢাকনা খোলা কলম, চশমা। তোমার জানালার পর্দা এলোমেলো করা হাওয়া। তোমার মায়ের হারমোনিয়াম। তোমার বালিশের ওয়াড়ে চোখের জল। তোমার রান্নাঘরের স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল। তোমার বারান্দায় বিরক্তিকর পায়চারী। তোমার তুমিটুকু দলা পাকিয়ে রয়েছে মিছরি এ দেশে। আমায় হাজার বার ফায়ারিং স্কোয়্যাডের সামনে দাঁড়ালেও মন কেমন ঘুচবে না। ঘেন্না করতে বড় সাহস দরকার মিছরি।
- ভাইটার গায়ে অন্তত কুড়িটা বুলেট ছিল জানো। একজনকে মারতে ক'টা গুলি লাগে বলো তো?
- মিছরি। কেন এলে?
- ভালোবাসি। অবিকল সেই পুরনো দুপুরগুলোর মত। তখনও খুনোখুনি জানতো না কেউ। তবে, ভালোবাসা আর কীই বা পারে। কতটুকুই বা পারে। আমি ভালোবাসার দায়ে আসিনি গো।
- তবে?
- ক্ষমা করবে গো? তোমার বুকে ওরা গুলি চালানোর আগে মন থেকে ঘেন্না মুছে ফেলে ক্ষমা করতে পারবে এ দেশকে? যে দেশ তোমায় খুন করবে?
- মিছরি...।
- কথা দাও ক্ষমা করবে। তুমি ক্ষমা করলে তার পাপ একটু লাঘব হবে।
- কে মিছরি?
- ঠিক সাতমাস পর তার আসার কথা। তোমার মিছরির সন্তান। তার দেশকে ক্ষমা করে যাবে গো?
- তাঁকেও শাড়ির কুঁচি ধরতে শিখিও মিছরি।
- লুডোয় চুরিটাও দিব্যি শিখিয়ে দিতে পারব।
- হেহ্। কাল ভোর নটায় ঘটবে। তখন গান গেও, কেমন? তোমার দেশের ভালোবাসার গান। আমি গান গাইতে পারি না, আমি চিৎকার করে অমলেটের সিক্রেট একটা রেসিপি বলে যাবো'খন। বন্দুকবাজরা মন দিয়ে না শুনলে জব্বর ঠকবে।
Saturday, February 25, 2017
শ্যামল মিত্র ও অনুপবাবু
রাত দু'টো পাঁচ নাগাদ রেডিওটা আপনা থেকেই চালু হয়ে গেল।
শ্যামল মিত্রর কণ্ঠ যে কী সুরেলা।
"ঘুম যখন আসছেই না, তখন অত কেরদানি মেরে পাশবালিশ জড়িয়ে লাভ কী"?
শ্যামল মিত্র রেডিও থেকে জিজ্ঞেস করলেন। অনুপবাবু ঠাহর করতে পারছিলেন না ভূতটা শ্যামল মিত্রের না রেডিও।
"রেডিওদের মারা যাওয়ার ব্যাপার থাকে না ভাই"।
ফের। শ্যামল মিত্র।
এ'বার ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন অনুপবাবু।
"কোন গান শুনবে? ফিল্মের একটা দিয়েই শুরু করি"?
অনুপবাবু হ্যাঁ বা না বলার আগেই শুরু হয়ে গেল
"জীবন খাতার প্রতি পাতায়..."।
ভয়টা কমে আসছিল। শ্যামল অন্তরার দিকে যেতে তিনি পা বাড়ালেন রান্নাঘরের দিকে। এক কাপ কফির দরকার।
অমনি। গান থেমে গেল।
"এ কী! চললেন কোথায়? বসুন। আর দু'টো গাই"।
" নাহ, এক কাপ কফি হলে বেশ হত"।
"কফিতে কী হবে? আমি তো ভূত"।
"না সরি, ইয়ে, আমার জন্য"।
"বোঝো, কখনও শুনেছেন ভূতের কথা ভূত না হয়ে কেউ শুনতে পেরেছে"?
"আজ্ঞে"?
"বসুন না। আরে নার্ভাস হবেন না। মরে যাননি। রাতে শোয়ার আগে রোজ নিউজচ্যানেল শুনে ঘুমোতে যান তো। তাই নিজের অজান্তেই নিজের ভিতরেই ভূত জেনারেট করে বসে আছেন। সেই ভূতের সঙ্গেই দিব্যি কমিউনিকেট করতে পারছি। আরে বসুন। বসুন। আপনার কফি নয়, সঙ্গীত দরকার। বৈঠিয়ে জনাব, বৈঠিয়ে। এবারে একটা ক্লাসিকাল ধরি, কেমন"?