Thursday, February 9, 2017
খুকি
Monday, February 6, 2017
রাজযোটক
- সুনিয়ে।
- কহিয়ে।
- আমি বোল রহা থা যে...।
- বাংলায় কহিয়ে জনাব। নয়তো সম্পর্ক শেষ।
- বলছিলাম যে...আজ বড্ড মনকেমন।
- কেন?
- আজ বড্ড উইক বোধ করছি। ইমোশনালি।
- বাট হোয়াই?
- আজ মনের মধ্যে কন্সট্যান্ট সানাই বাজছে। সানাই ইজ করুণ ফরএভার। জানোই তো।
- ব্যাপারটা কী?
- আজ মেজাজে ঝঙ্কার বিটস নয়, ঢিমেতেতালা টপ্পা ছুটেছে। চোখ বুজলেই টের পাচ্ছি বুকের ভিতর ছবি বিশ্বাস পায়চারী করছেন।
- মতলবটা কী তোমার?
- আজ আর শিব্রামে বাঁচোয়া নেই, একেবারে সঞ্জীবে সাবমিশন। আজ বড় বুক চিনচিন।
- কী চাই?
- আজ ডিনারের নিরামিষে আমি ভাঙচুর হয়ে যাবো। আমার মলিকিউল সমস্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বুকশেল্ফের ধুলো হয়ে জমা হবে।
- ন্যাকামো। তোমার ওজনটা খেয়াল আছে? ওবেলা গাণ্ডেপিণ্ডে মাটন গিলেছ খেয়াল আছে?
- পাণ্ডবরা ইনোসেন্ট জেনেও কি ভীষ্মবাবু পেরেছিলেন দুর্যোধনকে রিজেক্ট করতে? সামান্য ভুঁড়ি দুলছে বলে রাতে ডাটা চেবাতে হবে? তারপর ওই সয়াবিন। এর চেয়ে সায়নাইডে কাজ দেবে বেশি।
- উফফ।
- ফ্রীজ আলো করে থরে থরে নীলাভ দেহের হাঁসের ডিম। সেদ্ধ করে কষিয়ে নিতে আধ ঘণ্টা লাগবে। মেজপিসির রেসিপি। পারমিশন দাও।
- অসম্ভব। তুমি কোলেস্টেরলে সাঁতার কেটে শেষ হবে।
- বাঙালি। জন্মিলে ভুঁড়িটি হবে, সিলিম কে কোথা কবে।
- সিলিম?
- স্লিমে ছন্দ হার্ট হচ্ছিল, সয়াবিনে আমি।
- জাহান্নামে যাও।
- শিলনোড়াটা বের করে দিও প্লীজ। তুমি তো জানোই, পলিটিক্স আর গুঁড়ো মশলাকে আমি ট্রাস্ট করি না।
- আমার জন্যেও এক জোড়া ডিম দিও। আমার পাশে বসে হাঁসের ডিমের ঝোল দিয়ে ভাত মাখবে আর আমি সোয়াবিন খাবো, সে'টা বধু নির্যাতন।
- রাজযোটক, মাইরি।
- Grudgeযোটক।
Friday, February 3, 2017
মানিব্যাগ
১
আমার মানিব্যাগে সিনেমার টিকিট কোথা থেকে এলো?
আজকের টিকিট। প্রিয়ার। ম্যাটিনি শো। ঠিক যখন আমি অফিসে বসে মিটিং ফাঁকি দিচ্ছিলাম।
২
এক মিনিট। এই মানিব্যাগ আমার নয়। এটাও কালো, কিন্তু আমারটা অনেক বেশি পুরনো। আমার মানিব্যাগে তিনশো বাহান্ন টাকা থাকার কথা। এখানে সাতাশশো আছে।
৩
এক গুচ্ছ ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে। অমল সামন্ত, ডালহৌসিতে অফিস। ঠিকানা ফোন নম্বর আছে।
৪
অদ্ভুত ব্যাপার। অমলবাবুর মানিব্যাগও পালটে গেছে। কিন্তু তাঁর কাছে যে মানিব্যাগ রয়েছে সে'টা আমার নয়। বাগবাজারের বিপুল সমাদ্দারের আধার কার্ড রয়েছে সে'টায়।
৫
এ কী। এই মাত্র টালিগঞ্জ থেকে বিপিন রায় ফোন করেছিলেন। ভদ্রলোকের প্লাস্টিক প্রোডাক্টসের ব্যবসা। ওনার পকেটে আমার মানিব্যাগ পেয়েছেন উনি। অফিসের আইকার্ড থেকে আমার নম্বর পেয়ে ফোন করেছেন। কী অনাসৃষ্টি। অবশ্যই ওর মানিব্যাগটি হাওয়া।
একটা অদ্ভুত ব্যাপার, আমরা দুজনেই ননীগোপাল দত্ত স্মৃতি লাইব্রেরীর মেম্বার। দু'জনেই শেকভ্ ভক্ত। বেশ মাই ডিয়ার মানুষ, পরশু নিজের বাড়িতে চা ওমলেট খেতে ডাকলেন। লোকনাথ বাবার কৃপায় ভদ্রলোক এখন মানিব্যাগ ফেরত পেলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।
৬
- বৈজ্ঞানিক?
- আজ্ঞে প্রেসিডেন্ট।
- তৈরি?
- অবশ্যই। এই সেই প্যানেল।
- ইয়ে, সব গোপন আছে তো?
- গোটা পৃথিবীতে এর খবর জানে শুধু দু'জন।
- তা এ প্যানেলে কী ভাবে কাজ হবে?
- এখানে বোতাম টিপে ঠিক করে দিন লোকেশন। আর এইখানে পাঞ্চ করুন কতজন লোক টার্গেট। আর তারপর এই সবুজ হাতল টানলেই কাজ শুরু।
- ফলাফল?
- হাতেনাতে। আজ সকালেই কলকাতা শহর আর জনা বিশেক লোক টার্গেট করে একটা ট্রায়াল রাউন্ড করেছি। সাকসেসফুল। এক গাদা নতুন আলাপ হয়েছে। খান চারেক বন্ধুত্বও বেরিয়ে আসবেই।
- বাহ্। বা বাহ্। এ যন্ত্র তাহলে পারবে বৈজ্ঞানিক? যন্ত্রের গুণে এ যুগের নিজের প্রতিবেশীকে না চেনা মানুষেরা অপরিচিতের সঙ্গে যেচে আলাপ করবে?
- এ রিমোট যন্ত্র সে আলাপ ঘটাবে। নিশ্চিত।
- বন্ধুত্ব হবে?
- প্রতি দশটা আলাপে অন্তত দু'টো।
- মানুষের ইতিহাস পালটে যাবে বৈজ্ঞানিক।
- সবই আপনার দূরদর্শিতা প্রেসিডেন্ট।
- আর তোমার প্রতিভা। একটা কথা বলো বৈজ্ঞানিক, এ যন্ত্র এমন চমৎকারভাবে এ'সব ঘটায় কী করে?
- সে বড় জটিল বিজ্ঞান মহারাজ। আসুন, কিছু আলাপ আর বন্ধুত্ব জেনারেট করা যাক। কোন লোকেশন? কতজন লোক?
- লোকসভা। পাঁচশো পঁয়তাল্লিশ।
Thursday, February 2, 2017
রিস্ক
Wednesday, February 1, 2017
ভজহরির বিদ্যাবুদ্ধি
বালিশের ওয়াড়ে যদি ফ্রিলই না ঝোলে তবে তা চিবিয়ে বিশেষ সুখ নেই। ধবধবে সাদা ওয়াড়ে সাদা সুতোর মিহি কাজ। নরম অথচ বিছানায় লেপটে যায় না। তেমন একটা বালিশ বুকে চেপে সঞ্জীবে উপুড় হয়ে পড়ার কথা। ঠোঁটে মিচকে আভা, চোখে এক ছিপি আবছায়া।
ঈশ্বর বর্মটি দিতে ভুললেও, স্যান্ডো গেঞ্জি দিয়ে বাঙালি পুরুষকে এ যাত্রা রক্ষা করেছেন। সঞ্জীবে আর সঙ্গীতে কোনও মিউচুয়াল লাঠালাঠি নেই। পাশের বাড়ির রেডিও থেকে ভেসে আসা নির্মিলা মিশ্র তাই গাঁট্টা নন, মালিশ।
এ সমস্ত কিছু নিয়ে আলতো ভাসতে শুরু করেছিলেন ভজহরিবাবু। ফেব্রুয়ারির সকালের হাওয়ায় একটা নখের আঁচর আছে, ভজহরি দিব্যি টের পান। তবু জানালা বন্ধ করতে ইচ্ছে করে না। জানালার ওপাশে ভূদেব দত্ত স্ট্রিট তিরতির করে বয়ে চলেছে। রাস্তার বয়ে যাওয়াটা বেশ অনুভব করেন ভজহরি।
অবশ্য এখানে বলে দেওয়া উচিৎ যে ভজহরি এমন অনেক কিছুই অনুভব করতে পারেন বা টের পান যার ব্যাখ্যা চলে না। ভজহরি এটাও জানেন যে তার বাড়ির সামনের ল্যাম্পপোস্টটা শীত বাড়লে তিন ইঞ্চি ডান দিকে সরে যায়, আবার বৈশাখে ফিরে আসে। অন্য কারুর নজরে না পড়লেও ভজহরিবাবুর পড়ে।
সঞ্জীববাবু মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসেন। বলা ভালো ঝুপ করে এসে পড়েন। এই যেমন কিছুক্ষণ আগে সামনের ইজিচেয়ারটায় বসে গাইছিলেন;
"খণ্ডন-ভব-বন্ধন, জগ-বন্দন বন্দি তোমায়।
নিরঞ্জন, নররূপধর, নির্গুণ, গুণম"।
এমন মাঝেমাঝেই উদয় হন উনি। কথা বলার সাহস অবশ্য পায়না। তবে একলা থাকার ভয়টা কেটে যায়। ঝুপ করে এসে টুপ করেই মিলিয়ে যান সঞ্জীব। ধবধবে সাদা চুল, মোটা ফ্রেমের চশমা, শীর্ণকায়। ঠোঁট নিঃস্পৃহ কিন্তু যত হাসি ভদ্রলোকের চোখে জমা হয়ে থাকে। হাসিতে চিকচিক করে ভদ্রলোকের চোখ, সেই চিকচিক ঠিকরে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ঘরে, বিছানার চাদরে।
আজও ছিলেন। এই মিনিট কুড়ি মত। গান গাইলেন। গা এলিয়ে কিছুক্ষণ কী যেন বিড়বিড় করলেন। ভজহরিবাবু বড় নিশ্চিন্ত বোধ করছিলেন। বিছানায় থুতনি রেখে ঢুলে পড়ার সময়ই সঞ্জীব টুপ করে মিলিয়ে গেলেন।
ঘুমটা আসব আসব করেও এলো না। বাড়ির সামনের মাইকে সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি শুরু হয়েছে। জানালা দিয়ে তিন ইঞ্চি সরে দাঁড়ানো ল্যাম্পপোস্টটার দিকে তাকিয়ে মায়া হল ভজহরির। আহা রে, তিন ইঞ্চি বই তো নয়। সেটুকুও কত লুকিয়ে চুরিয়ে সারতে হয়।
মাইকের তালে অঞ্জলি বিড়বিড় করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন ভজহরি। প্রতিবারের মত।
"মা। মা গো। বিদ্যা যেটুকু ছিল সব বায়োডেটায় সেঁধিয়েছে। বুদ্ধিটুকু দলা করে অফিসের লেজারে রাখা। সঞ্জীব দাও মা। সঞ্জীব দাও"।
অঞ্জলি শেষে বালিশের ওয়াড়ের জলখাবারে মন দেন ভজহরি।