Sunday, January 8, 2017

স্যুভেনির

কলকাতার মানুষ ঘুরতে ভালোবাসেন।

কলকাতার মানুষ পাহাড় ভালোবাসেন।

কলকাতার মানুষ পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন। স্যুভেনির, স্মৃতি।

পাহাড়ে শীতের পোশাক ভালো পাওয়া যায়। সস্তায় পাওয়া যায়।

কলকাতার মানুষ কিনে চলেন ; দার্জিলিঙের মাফলার, হিমাচলের লেদার জ্যাকেট, কাশ্মীরের শাল, দেরাদুনের গলাবন্ধ সোয়েটার, সিক্কিমের হাতে বোনা উলের মোজা- এট সেটেরা এট সেটেরা।

আলমারি, ডিভান, পুরনো ট্রাঙ্ক ভরে যায় উলে, পশমে, চামড়ায়। উপচে পড়ে।

কলকাতায় শীত পড়ে না। কলকাতাময় শুধু ধর্মতলা থেকে কেনা হাফসোয়েটার।

কলকাতায় শুধু আলমারি কেনার প্ল্যান হয়, দেওয়ালে আরও শেল্ফ। নয়তো এত শীতের পোশাক রাখবে কোথায় মানুষ?

Saturday, January 7, 2017

কলকাতার মেসিয়াহ্ - চতুর্থ পর্ব

দোতলার জানালা দিয়ে দেখা যায় এক ফালি গলি যা ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ভেসে ভেসে হ্যারিসন রোডে গিয়ে মিশছে।

রাত পৌনে তিনটে। ঠিক এই সময় বেড়ালটা এসে বসে মেসবাড়ির দরজাটার সামনে। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ওর ছায়া চারগুণ হয়ে গলিতে ছড়িয়ে পড়ে। নিবিষ্টমনে নিজের ছায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে সাদায় বিস্কুট মেশানো বেড়ালটা। স্থিতধী, অবিচল। লেজটা একটা নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেলে পাকানো থাকে, ডগাটা মাঝেমধ্যে নড়ে ওঠে শুধু। নড়ে ওঠাটা বোধহয় চিন্তার বাড়তি কিলবিল।

দোতলার ঘরের পূবের দিকের দুটো বেডের মাঝে যে জানালা, সে'টা দেড় মানুষ সমান - মেঝে পর্যন্ত নেমে এসেছে। উপরে দু'টো, নীচে দু'টো বেঢপ সাইজের পাল্লা।
তার শিকে মাথা ঠেকিয়ে অরূপ একমনে বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে থাকে। রুমের বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ঘুমিয়ে কাদা, অন্য দু'জন অজয়দার ট্যুয়েন্টি নাইনের মজলিসে। অজয়দার রুম থেকে মাঝেমধ্যেই টেবিল চাপড়ানো আস্ফালন আর খিস্তির রিলে ভেসে আসছে।

অন্য রুম থেকে মিহি এফ এমের সুর ভেসে আসছে। আলটপকা হিন্দী গান। দু'টো শিকের মাঝে নাক আর একটা গাল চেপটে বেড়ালটার দিকে তাকিয়ে থাকে অরূপ।

রাতের কলকাতার একটা নেশা আছে, সে নেশার গন্ধ এ জানালার ফিল্টার দিয়ে অরূপের বুকে এসে পড়ে রোজরাতে।

ক্রমশ অরূপের দৃষ্টি স্থির হয়ে আসে। গলি, ল্যাম্পপোস্ট,  বেড়াল, বেড়ালের ছায়া,  হ্যারিসন রোড সমস্ত মিলেমিশে থেবড়ে যায়।

সেই থেবড়ে যাওয়া আবছায়া থেকে মাথা নাড়া দিয়ে ওঠে পাড়া, পাড়ার ক্লাব, স্কুলের মাঠ, ঝিমলি,  বাড়ি, বাড়ির ছাদ, ঠাকুমার পান ছেঁচা, মা। মা।

অরূপ বড় হতে হতে একটা সহজ ব্যাপার ঠাউরেছে যে মা আর যাই হোক পারফেক্ট নয়। আর সে জানাটা যত বাড়ছে, মায়ের প্রতি কান্না তত জমা হয়। সেই কদ্দিন আগে মানুষটা বিয়ে করে সব ছেড়েছুড়ে চলে আসে। মা হারমোনিয়াম ছেড়েছে। জেন্ডার ইকুয়ালিটি নিজের হাতে বঁটিতে কুচিয়েছে। মা সত্যিই ভীতু ; পরিবারের সুনাম বদনামের ভয়, বাবার শরীরের ভালোমন্দর ভয়, অরূপের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা। মায়ের অব্যবহারের হারমোনিয়ামের বাক্সের জন্য বাড়ির কার্পেট এরিয়া কমে যাচ্ছে বলে বাবা মাঝেসাঝে বিরক্তি প্রকাশ করেন। মা সমস্ত বিরক্তি শুষে নিতে পারে। মা পারফেক্ট হলে গান হারাতে দিত না। ইম্পার্ফেকশন বড় মায়াবী।  অরূপের বুকে "মা মা" ডাক কুণ্ডলী পাকায়।

- "অরূ, তোর কাছে লোটাকম্বল দেখেছিলাম না"? বল্টেদার ডাকে সম্বিৎ ফেরে। বিড়ালটা যেন অরূপের কনসেন্ট্রেশনের জোরেই আটকা পড়েছিল। অরূপের দৃষ্টির ফোকাস সরতেই সেও লেজ গুটিয়ে হাওয়া।

- "সঞ্জীব তোমার মেলোড্রামাটিক লাগে বলেছিলে না? আজ এই অসময়ে"?

- "অফ কোর্স। মেলো বলে মেলো। মেগা মেলো। আসলে বালিশটা ঠিক সাফিশিয়েন্টলি মোটা নয়। ঘাড়ে ব্যথা হচ্ছে। তোর লোটাকম্বলের যা থিকনেস দেখেছি...পারফেক্ট গ্যাটিস হয়ে যাবে"।

- "বইয়ের তাক। নীচের শেল্ফ। হানিফের অ্যাকাউন্টেন্সি বইটার নীচে"।

- "থ্যাঙ্কস, কালই ফেরত পেয়ে যাবি"।

- "তোমার বালিশ আমি কাল রোদে দিয়ে দেব"।

- "হেহ্, গুড নাইট"।

Friday, January 6, 2017

সমরবাবুর জানুয়ারি

জানুয়ারির যে কোনও একটা ডিনারে ভাত বাদ দেন সমরবাবু।

ডালটাও বাদ যায়।
ঝোল থাকে না।
তরকারি থাকে না।
থাকে না ভাজাভুজি কোনও।

থাকে শুধু হাফ কিলো ছানার পায়েস। গায়ে থাকে হাফ সোয়েটার। কানে ইয়ারফোন, ইয়ারফোনে জগজিৎ সিংহ।

খেতে আধ ঘণ্টা মত লাগে, সে সময় মোবাইলটা থাকে এয়ারপ্লেন মোডে। আর সমরবাবু ভেসে বেড়ান। ঘুরে বেড়ান। পায়চারী করেন। দুদণ্ড পুরনো শুকতারা হাতে বসে থাকেন।
তারপর ফের ফিরে যান ছানার পায়েসে। নলেনে। স্টিলের বাটিতে।

কলেজে যখন ছিলেন, মিতুলকে অন্তত বারোটা চিঠি লিখেছিলেন; চারটে এনভেলপ, পাঁচটা ইনল্যান্ড লেটার, তিনটে পোস্টকার্ড। একটারও উত্তর আসেনি।

বড়দা বাড়িটা হাতিয়ে নিলে। মায়ের গয়নাগুলোও। আর কিছুই না, শুধু স্মৃতি বলে কিছুই রইল না; বুকে টনটন সে'টুকুই।

বার্নস অ্যান্ড নোবেলের চাকরীটা কনফার্ম হয়েও রিজেকশন লেটার এলো। বড়বাবুর পিসতুতো ভাইয়ের শালা চাকরীটা হাতিয়ে নিলে।

এমন কত রাগ। ক্যারমের গুটির মত মনের মধ্যে খটর খঠ্ করে যায়। অনবরত।

গোটা বছর জুড়ে এমন কুচিকুচি রাগ সমস্ত জড়ো হয়ে দলা পাকাতে থাকে। মেজাজ তেতো হয়ে আসে, জিভ বিস্বাদ।

আর বছর ঘোরা জানুয়ারির এক রাত্তিরে এসে সমস্ত রাগের ঝুল ছানার জিলিপির ফুলঝাড়ু দিয়ে সাফ করে দেন সমরবাবু। ডিনার শেষে মনের ভিতরটা বিলকুল সাফসুতরো। কানে রয়ে যায় গুলাম আলি আর মনে বাহাদুর বেড়ালের হোহো।

Wednesday, January 4, 2017

ডক্টর স্ট্যানকোভস্কির আফশোষ

ঠকঠক করে কাঁপছিলেন ডক্টর স্ট্যানকোভস্কি। গায়ে অন্তত পাঁচটা সোয়েটার, মাথা মুখ ঢাকা টুপি মাফলার, হাতে দস্তানা; এতকিছু পরেও ঠাণ্ডা কে বাগে আনা যাচ্ছে না। সুবিধে এই যে ঝোড়ো হাওয়া আদৌ নেই ,কাজেই তাঁবু খাটিয়ে ল্যাবরেটরির জিনিষপত্র গুছিয়ে নিতে কোনও অসুবিধে হয়নি। সোলার স্টোভে স্যুপের জল গরম হতে এখানে মেরুর থেকেও দ্বিগুণ সময় লাগে, সে’টা ঘড়ি ধরে মেপে নিয়েছিলেন স্ট্যানকোভস্কি।


বাতাসে হাড় নীল করা ছোঁয়াচ আছে ঠিকই কিন্তু এ দেশে অন্ধকারের দমবন্ধ ভাব নেই এতটুকু। এখানে আকাশ ঝকঝকে নীল। এমন মনপ্রাণ জুড়ানো নীল এর আগে দেখননি প্রবীণ বৈজ্ঞানিক। সে নীলের পরতে পরতে মিশে আছে রোদ্দুরের সোনালী চকমক। সে নীলে বিন্দু মাত্র মেঘের খুঁত নেই। চিররোদ্দুরের দেশ, এখানে আকাশ নীলের সমুদ্র আর মাটি তুষারের নিশ্ছিদ্র আস্তরনে সফেদ স্বপ্নময়।
                      

স্যুপের বাটিতে তৃপ্তির চুমুক দিয়ে তাঁবুতে পাতা স্লীপিং ব্যাগে ঠেস দিয়ে বসলেন ডক্টর স্ট্যানকোভস্কি। অবশেষে সাফল্য। ফিজিক্স, ন্যানোটেকনলজি আর বায়োকেমিস্ট্রি মিলে যে এমন অসাধ্য সাধন সম্ভব, সে'টা আজ থেকে বছর দশেক আগেও কেউ ভেবেছিল কী? পৃথিবীর সমস্ত প্রান্ত থেকে প্রায় সাতশো বৈজ্ঞানিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই বৈপ্লবিক কাণ্ডটা ঘটিয়ে ফেলাই গেল শেষ পর্যন্ত।


মানুষের মগজে প্রবেশ। নিজেকে একটা মলিকিউলের সাইজে পরিণত করে প্রবেশ করা মানুষের ব্রেনে আর সে’খানে ঢোকা মাত্রই মগজের ভিতরটা মুহুর্তের মধ্যে পরিণত হবে ভূদৃশ্যে। সে ভূদৃশ্য কেমন হবে তা অবশ্যই নির্ভর করবে মগজের কোয়ালিটির ওপর। সেই ল্যান্ডস্কেপ দাঁড়িয়ে একজন ব্রেন সার্জন রিসার্চ চালাবেন একজন ভূবিজ্ঞানীর মতই। মগজের যাবতীয় রহস্যের সমাধান এখন মানুষের হাতের মুঠোয়।


বাটির স্যুপ সাবাড় হয়ে গেল অথচ ঠাণ্ডায় ঠকঠক কাঁপুনি কিছুতেই যাচ্ছিল না। সাইবেরিয়ার মানুষ হয়েও এই অসহ্য শীত বরদাস্ত করতে পারছিলেন না ডাক্তার স্ট্যানকোভস্কি। শেষে শীতের চোটে রিসার্চের কাজ মুলতুবি রেখে বেরিয়ে না আসতে হয়।


আফশোষে হাত কামড়াতে ইচ্ছে হচ্ছিল স্ট্যানকোভস্কির। মহেন্দ্র সিংহের মগজটাকে প্রথম স্যাম্পল হিসেবে বেছে নেওয়াটা ঠিক হয়নি আদৌ।

জলে ডাঙায়




- এ কী! আপনি কে? রাস্তায় বেরিয়েছেন কেন? জানেন না কারফিউ লেগেছে সন্ধ্যে থেকে?
- সরি স্যার। আমি নিতাই দত্ত। ওই, যদু মল্লিক লেনের দু'শো বাইশের এ'তে থাকি। আসলে আজ হাফ সিএল নিয়ে বাড়ি এসে ঘুমিয়ে গেস্‌লাম। সে বেয়াদপ ঘুম বুঝলেন।আর বৌ এই দু'দিন হল বাপের বাড়ি গেছে। সন্ধ্যে বেলার পর ঘুম ভেঙে দেখি রাতে খাওয়ার ব্যবস্থা বলতে কাঁচকলা। তাই ভাবলাম বেরিয়ে যদি এক প্যাকেট মুড়ি আর চানাচুরের ব্যবস্থা যদি করতে পারি।
- দেশের এই দুর্দিনে আপনি মুড়ি চানাচুর কিনতে বাজারে বেরিয়েছেন?
- আসলে খিদেটা এমন পেয়েছিল...।
- খিদে? ভাবুন তো, বর্ডারে বন্দুক কাঁধে আপনি পায়চারি করছেন এমন সময় পেল জব্বর খিদে। আর তখনই আপনি দেখতে পেলেন যে বর্ডার পেরিয়ে শয়ে শয়ে বিদেশী সৈন্য ঢুকছে। আপনি তখন রুখে না দাঁড়িয়ে মুড়ি খুঁজতে বেরবেন?
- স্যার, কাঁধে বন্দুক থাকলে শুনেছি খিদে কমে যায়। তবে কী জানেন, ওয়ান ইজ টু হান্ড্রেড হলে, বন্দুক নিয়ে কেরদানি না দেখিয়ে মুড়ি খুঁজতে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
- কী সেলফিশ মাইরি আপনি। এ জন্যেই বাঙালির কিছু হবে না।
- কিন্তু আপনি বাইরে কেন? আপনার বাড়িতে মুড়ি নেই?
- আমি সরকার বাহাদুরের লোক। শান্তি রক্ষা করতে বেরিয়েছি। কোথাও কোনও অশান্তি দেখলেই কচাকচ চাকু চালিয়ে দেব। পকেটে আছে। দেখবেন?
- চাকু? ইয়ে, ফর্ক ছাড়া ছুরি দেখলে গা গুলোয় স্যার। যাক, আমি আসি? বিধুর দোকান বন্ধ থাকলেও, বাড়ির স্টক থেকে এক প্যাকেট মুড়ি দিয়ে দেবে। জলে ভিজিয়ে খেয়ে নেব'খন।
- মুড়ি যে কিনবেন, ক্রেডিট কার্ড আছে?
- ক্রেডিট কার্ডে মুড়ি?
- নয়তো কি ক্যাশে কিনবেন নাকি? আপনিও কি বিরোধী দলের মত প্রগতি বিরোধী হারামি?
- সরকার নই, প্রগতি বিরোধী বিরোধীও নই। তবে হারামি হতেও পারি। বাবা তাই বলতেন। কিন্তু স্যার, একটু মুড়ি না পেলে চলছে না। আর পকেটে দু'টো দশ টাকার নোট ছাড়া কিস্যু নেই। ওতেই নিতে হবে।
- যদি খবর পেয়েছে যে তুমি ক্যাশে মুড়ি কিনেছ...।
- তবে? চাকু?
- আমি কিছু জানি না ভেবেছ। পকেটে ক্রেডিট কার্ডের বদলে দু'টো দশ টাকার নোট আসে কী করে? চিট ফান্ড থেকে খুব কাঁচা টাকা ঝেড়েছ, তাই না? দেব গলা কেটে এবার?






২।



- আমায়...আমায় বাঁচান!
- বাঁচাব ? আপনি কে? কারফিউর রাত্রে বাইরে কী করছেন?
- ইয়ে আমি যদু মল্লিক লেনের নিতাই দত্ত স্যার, মুড়ি কিনতে বেরিয়েছিলাম।
- তাহলে এমন ভাবে পালাচ্ছেন কোথায়?
- ওই, ওই একজন ছুরি নিয়ে আমায় তাড়া করেছে।
- ছুরি নিয়ে চেজ করছে? সাধারণ মানুষ মুড়ি কিনতে বেরিয়েছে আর কেউ ছুরি নিয়ে তাড়া করেছে? রাস্কেল! নিশ্চয়ই সরকার বাহাদুরের পা চাটা কুত্তার দল!
- আপ...আপনি কারফিউয়ের রাত্রে বাইরে কেন?
- আমরা এই কারফিউ মানি না। আমরা বিরোধী পক্ষের মানুষ। শান্তিরক্ষা করতে বাইরে ঘুরপাক করছি।
- শান্তিরক্ষা করতে বেরিয়েছেন? আপনার পকেটে নিশ্চয়ই চাকু আছে।
- ছুরি? শান্তি রক্ষা করব ছুরি দিয়ে?
- ও। আপনার শান্তি বোধ হয় অন্য ফ্লেভারের।
- আমার কাঁধে যে ঝোলাটা দেখছেন, এতে পেটো রাখা আছে।
- পে...পেটো?
- এ প্রতিহিংসার রাজনীতি খতম করতে হবে। পেটে পেটো ঝাড়লে দিব্যি প্রতিহিংসা খতম হয়।
- আই নর্মালি স্টিক টু জোয়ানের আরক স্যার। পেটে বড় বেশি কিছু সয় না।
- আপনাকে মুড়ি আমি খাওয়াব। আজ রাতের জন্য আপনি আমাদের হয়ে শান্তি রক্ষা করুন।
- শা...শান্তি রক্ষা? পেটো দিয়ে?
- আলবাত। যে চাকু নিয়ে আপনার পিছনে ধাওয়া করেছে, তাঁর দিকে তাক করে ছুঁড়ে আসুন। ততক্ষণে আমি মুড়ি মাখার ব্যবস্থা করছি।
- না মানে...।
- আরে এরা খতরনাক। মহাবদ। দেখতে পেলেই পেটো চার্জ করবেন। কী দুঃসাহস, এদের অন্যায় নিয়ে আমাদের বড়নেতা দু'টো প্রতিবাদী কথা বলতে না বলতেই আমাদের ছোটনেতাদের পিছনে পেয়াদা লাগিয়ে দিল?
- সরকারবাহাদুর গুবলেট করেছেন বইকি। আপনার নেতাও বেশ করেছেন প্রতিবাদ করে। তবে কিনা, আপনাদের ছোটনেতারাও টু পাইস এদিক ওদিক করেছিলেন, তাই হয়তো...।
- আর ওদের নেতারা করেনি? 'টা নাম বলব?  ওদের পিছনে পেয়াদা লাগছে না কেন? নেপোটিজমের ডিপো কোথাকার
- দোষ করলে ঘানি টানতে হবে, এই হচ্ছে নিয়ম। কী বলুন স্যার? আপনাদের ছোটনেতারা বোধ হয় সামান্য দোষ করেই ফেলেছেন তাই...।
- দোষ করলেই পেয়াদা লেলাতে হবে? ওদের অন্য কত দোষ যে আমরা চোখ বুজে পাশ কাটিয়ে যাই? তার বেলা? একবার কাছা ধরে সামান্য টান দিয়েছি বলে মুগুর পেটা করবে?
- না মানে ওই; কড়ি ফর তেল আর ইট ফর পাটকেল!
- হারামি মুড়িখোর। দেবো পেটে পেটো ঠুসে?