Monday, January 2, 2017

লাইম সোডা

- উমম্।
- উম? অভিজিৎ, আমি এত বড় একটা সমস্যার কথা তোমায় বললাম। আর তোমার সামারি রিয়্যাকশন হল 'উম'?
- কন্টেম্পলেটিভ উম। পাশ কাটিয়ে সরে পড়া উম নয়।
- শাট আপ।
- উম।
- ওহহহহ! উফফফ!
- আর একটা লাইম সোডা বলি মিতু? স্যুইট?
- অভিজিৎ,  আমি একটা সিরিয়াস অসুবিধের কথা তোমায় বলেছি।
- উম।
- উফ..।
- আই মিন...আমি শুনেছি।
- অ্যান্ড?
- স্যুইট লাইম সোডা। অথচ কেউ কেউ নোনতা খায়। আমার অবিশ্বাস্য লাগে। কোদালের ডগা দিয়ে আলপনা দেওয়ার মত ব্যাপার।
- অভিজিৎ। আমি আসছি।
- আরে, সরি। আমি রিয়ালাইজ করিনি তুমি সল্টেড লাইম সোডা প্রেফার করো। দাঁড়াও ওয়েটার কে ডেকে পাল্টাতে বলি...।
- অভি!
- না। আই আন্ডারস্ট্যান্ড।
- কী?
- ইস্যুটা ক্রিটিকাল।
- সো?
- উম?
- আমাদের কী করা উচিৎ?
- উই শুড অলওয়েজ বি অন দ্য সাইড অফ স্যুইট। লাইম সোডা ওয়াইজ।

**

- হ্যালো! মিতু। ফোন কেটে দিচ্ছ কেন?
- আমি তোমার কোনও এপলজি এক্সেপ্ট করব না অভিজিৎ।  আমায় ফোন করা বন্ধ করো।
- এপলজি?
- মানে? বুঝছ না যেন কিচ্ছুটি?
- উম?
- আমার সাথে যে অসভ্যতা তুমি করেছ...।
- ওহ আই অ্যাম সরি। আই মীন ইট।
- আমার সমস্যার কোনও দাম নেই তোমার কাছে অভি?
- দাম সলিউশনের হয় মিতু।
- টেস্ট রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেছে আমি বিয়ের জন্য স্যুটেবল নই।
- আমার সাইকিয়াট্রিস্টও আমায় তাই বলেছিল মিতু।
- হেহ্। তুমি পাগল। তোমার মনের সমস্যা থেরাপিতে সারবে। আমার শরীরের ড্যামেজটা পার্মানেন্ট।
- উমমম্।
- উম? আবার? তুমি কি ঠিক করেছ বলবে না?
- কীসের ব্যাপারে?
- বিয়ের ব্যাপারে।
- রিসেপশনে সল্টেড লাইম সোডা থাকলে সে বিয়েতে আমি নেই মিতু। কতবার বলব?
- উমম্।
- এ'টা কন্টেম্পলেটিভ উম না পাশ কাটিয়ে যাওয়া উম? মিতু?

কোনও কিছুই কিছু নয়

- কোনও কিছুই কিছু নয় হে দত্ত।
- আমায় কিছু বললেন স্যার? দস্তুরের ফাইলে প্রচুর ফাঁকফোকর, খুব কনসেন্ট্রেট করতে হচ্ছে।
- দস্তুর?
- নতুন কনসাইনমেন্ট যারা পাঠিয়েছে।
- নতুন কনসাইনমেন্ট?
- যে'টা বম্বে থেকে এলো?  ডি এন দস্তুর! বান্দ্রার বান্দা।
- ওহ। সেই দস্তুর। তুমি দেখছি দস্তুরমত নিরেট।
- কেন স্যার?
- ফাইলে মুখ গুঁজে দিন কাবার করলে হবে দত্ত?
- বিজনেস আপনার স্যার, আমি তো কর্মচারী।
- বিজনেস। মুনাফা। ব্যালেন্স সিট। এ'টুকুই চিনলে দত্ত। কিন্তু কোনও কিছুই কিছু নয়।
- স্যার, স্যাড?
- দুঃখ ছাড়া কোনও লাস্টিং ইম্প্রেশন আছে দত্ত?
- ফিলসফি, ওহ। আমার আবার গত হপ্তায় যে রুট ক্যানালটা করিয়েছি সে'টা ঠিক খাপে খাপ হয়নি। একটা কনকন রয়ে গেছে।
- গ্রাউন্ড লেভেল দুঃখ নিয়েই নষ্ট হয়ে গেলে দত্ত।
- গ্রাউন্ড লেভেল দুঃখ?
- দাঁতের ব্যথা। ট্রেনে ভীড়। মাইনে নিয়ে ঘ্যানঘ্যান। ছেলের পরীক্ষার নম্বর। বৌয়ের থাইরয়েড। ধুর।
- ও। এ দুঃখ দুঃখ নয়?
- বাংলা কি মাল নয়? তাই বলে স্কচ চিনবে না  তা কী।করে হয় দত্ত?
- স্কচ লেভেলের দুঃখ?
- বেহালা বাজাতে পারো?
- না।
- পাথরে ছেনি হাতুরি ঠুকে নারী দেহ রূপে গুণে রসে ফুটিয়ে তুলতে পারবে?
- না।
- টপাটপ হাইকু লিখে প্রেম নিবেদন করতে পারবে?
- আমার স্টাইল ছিল অন্য। কাউকে পছন্দ হলেই বলতাম 'দুপুরের শোয়ের দু'টো টিকিট কেটে ফেলেছি'।
- ঘরের দুধ ছেঁকে রাবড়ি বানাতে জানো?
- না।
- এত না পারা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছ, দুঃখে ভেসে যেতে ইচ্ছে হয় না? দত্ত?
- বেহালা হাইকু এ'সব আপনি পারেন?
- আদৌ না। তবে আমার মধ্যে না পারার দুঃখ আছে। যে দুঃখ সাজানো বাগানের মত আমার অন্তর সুগন্ধে ভরে রাখে। তোমার মত নির্লিপ্ত নই, অন্তরে মৃত নই।
- আমার অন্তরের ডেডবডি আপনার বাগানের মাটি ফার্টিলাইজ করছে স্যার। দস্তুরের এ ফাইল সন্ধ্যের মধ্যে ক্লীয়ার না হলে আপনার বাগানে আলকাতরা বৃষ্টি হবে।  তখন সত্যিই বেহালা শিখে ফুটপাথে বসে বাজিয়ে টু পাইস কামাতে হবে।
- দত্ত, তুমি একটা প্লাস্টিকের টুকরো। আমি মাটির মানুষ। তুমি আমায় অনবরত কন্টামিনেট করে চলেছ।
- যা হোক। এ'বার এই ফাইলটায় একটা সাইন করে দিন। অমনি দস্তুরের পকেট থেকে কড়কড়ে আশি হাজার টাকা আপনার ট্যাঁকে ঝরে পড়বে। ভুল সাপ্লাইয়ের ইনডেমনিটি।
- আশি হাজারের উইন্ডফল? বলো কী দত্ত? চলো নরওয়ে ঘুরে আসি। মুড়ি চানাচুর চিবুতে চিবুতে অরোরা বোরিয়ালিস।
- ডিসেম্বরে শিউরি যান না কলকাতার চেয়ে শীত বেশি বলে। আর আশি হাজারে নরওয়ে? সাইকেলে যাবেন? তার চেয়ে আমায় ক্রিসমাস বোনাস হিসেবে ট্রান্সফার করে দিন।
- সামান্য ক্লোরোফিল তোমার মধ্যে রয়ে গেছে দত্ত। ইজি মানির সালফিউরিক অ্যাসিড ঢেলে তোমায় কোরাপ্ট করতে মন সরছে না। অগত্যা নিজের নামেই ফিক্স করে রাখব। টাকা জলে দেওয়ার জন্য ফিক্স করাই সেরা উপায়। একবার ফিক্স করলে তা আর ভাঙা যায় না। লোভ। মায়া। ভাঙবে পঞ্চভূতে, লুটবে অন্যে। থাম্ব রুল অফ ফিক্স ডিপোজিটস।
- স্যার। মাইরি। আপনার ইয়ে আছে বটে।
- ইয়ে? কোনও কিছুই কিছু নয় হে দত্ত। কোনও কিছুই কিছু নয়।

মোহনবাবু ও বুকিকুমারি

- কইসন হো?
- বঢিয়া। ডিনার মা মাটনবা রহিস।
- তবিয়ৎবা?
- তন্দরুস্ত। পাশবালিশ জড়াইস।
- দিলওয়া?
- খুশ। হাত মে কিতাব। ঘনাদা সসুরা বকরবকর করত হো।
- উঁহু। কুছ তো গড়বড়াইস। ম্যাদামারা কাহে গইল বা?
- সোমবার আ গইল।
- কিচেন মে রেকাবিমা ক্ষীরকদম ভইল।
- কা বাত করত হো। ক্ষীরকদম তো হম কব কা খা গইল হো।
- দু'গো ছুপাইকে রখতলা। তহর লগি সারপ্রাইজ।
- সজনী, হমৌ তু কা সরপ্রাইজ রখত।
- কা?

মোহনবাবুর ঘুম ভাঙলো পাশের বাড়ির মেনি বুকিকুমারির ছটরফটরের শব্দে। অ্যাডাল্ট স্বপ্নটা মাঝপথে সুতো কাটা ঘুড়ির মত লেতকে পড়ায় মনটা হু হু করে উঠলো। দলা পাকিয়ে রাখা খিদেটাও ওয়াপিস এলো। ব্যাচেলর সংসারে মাঝরাত্তিরের খিদে বলতে লেড়োর বয়াম। তবে বিস্কুটে কামড় দিয়েই মোহনবাবু বুঝলেন যে স্বপ্নের প্রভাবে মুখের সোমবারি তিতকুটে বিস্বাদভাবটা বিলকুল গায়েব।

অনেক চেষ্টা করেও সেই মুখাবয়ব মনে এলো না মোহনবাবুর। সে, যে দু'টো ক্ষীরকদম সরিয়ে রেখেছিল আদুরে সারপ্রাইজ দেবে বলে। মনে মনে মোহনবাবু তার নাম দিলেন রাই। পরনের শাড়ির রঙ সাদা হলুদ মেশানো ছিল কি?

**

ও'দিকে বুকিকুমারির মালকিন সন্ধ্যে থেকে বড্ড বিরক্ত। বলা নেই কওয়া নেই বাক্স থেকে দু'দু'টো ক্ষীরকদম গায়েব। বুকিকুমারি আজকাল চুরি করে মিষ্টি খাওয়াও ধরল নাকি? এদিকে বদ বিড়ালিটাকে একটু চোপা করবেন, সে সুযোগও নেই। সে গোটাদিন শুধু পাশের বাড়িতেই পড়ে থাকে আজকাল।

হিটলারের সুমতি

- হিটলারদা, যাবেই?
- যাব না মানে? পোল্যান্ড ফোল্যান্ড ম্যাপে রাখার মানে হয় না।
- না মানে, যুদ্ধ বলে কথা। একটু ভেবেটেবে নিন।
- সব ভাবা হয়ে গেছে। সেনা নিকালো, চলো পোল্যান্ড। শুয়ে বসে গায়ে মরচে পড়ে যাচ্ছে।
- বলি রুটটা দেখেছেন হিটলারদা? জার্মানি টু পোল্যান্ড?
- কেন? কোনও গোলমাল আছে নাকি?
- পোল্যান্ডে ঢুকতে হলে বেহালার রাস্তা পেরিয়ে ঢুকতে হবে। নয়তো উপায় নেই।
- বেহালার রাস্তা?
- আজ্ঞে।
- নয়তো অন্য কোনও উপায় নেই?
- নেই গো হিটলারদা।
- অ। অন আ সেকেন্ড থট, মোহনদাসের কয়েকটা কথা বেশ মনে ধরেছে। আজ রাতে নাম সংকীর্তনের একটা আয়োজন করব ভাবছি। পোল্যান্ড আক্রমন ক্যানসেল।

অতুলপ্রসাদ

- রেডিওর ভল্যুমটা একটু বাড়িয়ে দে।
- ঘুমোসনি দাদা?
- অতুলপ্রসাদ, পহুচা হুয়া চীজ। ঘুমের মধ্যে নক করলে। গোঁত্তা নয়, পশমি টোকা।
- স্বপ্ন?
- ভেবেছিলাম। কিন্তু রিয়ালাইজ করলাম তুই কানের কাছে রেডিও নিয়ে শুয়েছিস। ভল্যুম, প্লিজ।
- মিনুদি তোর চিঠি কুচিকুচি করে ছিঁড়ে ফেলেছে শুনলাম।
- বড়দের ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার করা শুরু করেছিস। তোর রেডিও বাজেয়াপ্ত করলাম, আমি ইয়ারফোনে শুনব। তোর জন্য নো-ভল্যুম।
- যাহ্,এ কী! রেডিওটা আমার।
- অতুলপ্রসাদটি যে আমার ব্রাদার।
- হাউ?
- চিঠি কুচিকুচি যার, অতুলপ্রসাদ তার।
- এই নে। রেডিও।