Friday, December 23, 2016

মিহিরবাবুর সন্ধ্যে

অন্ধকার নেমে এলেই দেরাজ খুলে বোতল আর গেলাস বের করে জমিয়ে বসেন মিহিরবাবু।
মাদুর। সস্তা মদ। পাশে চানাচুরের বাটি। আর রেডিওর মিনমিনে ক্রিরিরিরি।
চার নম্বর গেলাসের মাথায় মৃণ্ময়ীর ভূত এসে পাশে বসে। ঘাসের গন্ধ পায়ের আলতায় মিশে ছ্যাঁতছ্যাঁত তৈরি করে, সে'টা টের পান মিহিরবাবু।
দু'টো ভালো কথা বলে ঘন হয়ে বসে মৃণ্ময়ী। পুরনো দুপুর টেনে কথা বলে, মাসকাবারির লিস্ট সাজাতে বসে। ভূত, তবু। মৃণ্ময়ী বই তো নয়। শাড়ির খসখসে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যান মিহিরবাবু।
ছ'নম্বর গেলাসের শেষে মাদুরে এলিয়ে পড়েন মিহির গুপ্ত। রোজকার মত।
আর রোজকার মত মৃণ্ময়ী সে বোতোলে কুঁজোর জল আর ছাতিমের সুবাস পুরে দেরাজে তুলে রাখে। প্রতিদিন।

ভূতেরা কী না পারে, আর মাতাল কী সহজে না ভাসে। এক মুঠো হাসিতে রোজ ভোর রাতের বাতাসে মিলিয়ে যায় মৃণ্ময়ী।

Thursday, December 22, 2016

নরহরির দুঃখ

ব্রজলাল সরবতের গেলাসটা টুলের ওপর রেখে ইজিচেয়ারের মাথার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। নরহরি মল্লিক গা এলিয়ে শুয়ে ছিলেন; কপালে চশমা, বুকে ভাঁজ করা বই।

- দাদাবাবু।
- সরবত এনেছিস?
- আজ্ঞে।
- বস।
- আজ্ঞে। একটা কথা ছিল দা'বাবু।
- ছুটি?
- আজ্ঞে।
- ক'দিনের?
- আর ফিরব না।
- ছেড়ে যাবি?
- আর কদ্দিন দাদাবাবু। আমারও বয়স হলো। শ্যামলীর মা রয়েছে, দুলাল রয়েছে। আপনার যত্নের ত্রুটি হবে না।
- সেবাশুশ্রূষার লোকের অভাব নরহরি মল্লিকের হবে না। কিন্তু হ্যাঁ রে ব্রজ, তুই কি শুধু আমার কাজের লোক?
- না, তা কেন?
- পুরনো রাগ এখনও পুষে রেখেছিস ব্রজ?
- না গো দা'বাবু। কিন্তু...।
- কিন্তু কী?
- শ্যামলীর মা আর দুলাল।
- ওরা কিছু বলেছে?
- না। বলেনি। তবে, ওরা আমায় দু'চক্ষে দেখতে পারে না।
- আসলে তুই আমার এতটাই কাছের...যাক। তোর মন যখন চেয়েছে, তখন আর জোর করে আটকে রাখব না। কবে যাবি?
- আজকের দিনটা থাকি। কাল সন্ধ্যের দিকে...।
- যাওয়ার আগে একটা কথা মন থেকে বলে যা ব্রজ, অদ্দিন আগেকার রাগ পুষে রাখিসনি তো?
- কবেকার কথা, সে'সব বাদ দিন দাদাবাবু। তারপর থেকে কত ভালোই না বাসলেন এ চাকরবাকর মানুষটাকে।
- ক্ষমা করতে পেরেছিস তো ব্রজ?
- লজ্জা দেবেন না দাদাবাবু। রাগের মাথায় একটা কাজ করে ফেলেছিলেন, তার জন্য কতদিন আর অনুতাপ করবেন?
- কুড়িটা বছর হয়ে গেছে রে, তবু নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি। 
- আমি ভুলে গেছি দা'বাবু। আপনিও এ'বার ভুলে যান।
- ব্রজ! সামান্য একটা ফুলদানি ভাঙার জন্য খুন হওয়ার দুঃখ তুই ভুলতে পারিস, কিন্তু আমার সে পাপবোধ আগামী বিশ বছরেও যাওয়ার নয়।

Thursday, December 15, 2016

সুচরিতা

- গুড মর্নিং জগা।
- বিট্টা। তুই চুমু খেয়েছিস? কোনওদিন?
- হঠাৎ এ প্রশ্ন?
- না মানে, কাল রাত্রে। বুঝলি কিনা, স্পষ্ট দেখলাম। সে..।
- সে?
- সে আমায় জড়িয়ে চুমু খেলে। অন গড।
- সে? কে সে?
- সুচরিতা।
- দত্ত? ইকনমিক্সের?
- স্বপ্নে। দিব্যি এসে। স্মুচ। বুঝলি কি না। তাই তোকে জিজ্ঞেস করছিলাম। তুই রিয়েল লাইফে কোনওদিন...।
- রোম্যান্টিক চুমু?
- হুঁ।
- প্রেমিক টু প্রেমিকা চুমু?
- হ্যাঁ। সুমির সাথে মাস খানেক ঘুরেছিলিস তো।
- এক মাস বাইশ দিন।
- খেয়েছিস?
- হুঁ।
- অ্যাফার্মেটিভ? সুমি?
- খেয়েছি রে জগা। তবে সুমি নয়।
- অন্যকেউ? ই...ইলিসিট?
- অলমোস্ট।
- কে...কে রে? 
- সুচরিতা।
- দ...দত্ত? ইকনমিক্স? মাইরি? ও..ও তো... ও তো অপ্সরা!
- জানি।
- গুল মারছিস।
- না।
- গা ছুঁয়ে বল।
- এই তোর গা ছুঁয়ে বলছি। আমি সুচরিতাকে চুমু খেয়েছি।
- মাথা ঝিমঝিম করছে। তুই শিওর?
- জড়িয়ে। বুকে টেনে এনে। জাপটে ধরে। জিভের স্বাদ এখনও জিভে জ্বলন্ত। 
- মা...মা...মাইরি বিট্টা..।
- মাইরি। অধর থেকে ওষ্ঠে, ভিজে, মাখামাখি। শুধু আচমকা উইথড্র করতে হল।
- উইথড্র? কেন? কেন কেন?
- গোঁফ। জিভে গোঁফ ঠেকলো।
- গোঁ...?
- ঘুমটা ভেঙে যেতে দেখলাম আমি তোকে জাপটে স্মুচ করছি। ডাইরেক্ট। কাল রাত্রের গাঁজার ডোজটা বড্ড বেশি হয়ে গেছিল রে।
- উফ্। বিট্টা, বিট্টা রে...আমার সুচরিতার চুমু...ম্যাগো...।
- স্যুইটহার্ট।
- হারামি।

মোহর


এক পিস্‌ জয়নগরের মোয়া হাতে বারান্দার ইজিচেয়ারটায় বসেছিলেন বিপ্লববাবু।
মরশুমের প্রথম। অফিসের আশুতোষ সমাজপতি অফার করেছিলেন লাঞ্চে। রাত্রে বাতাসে ঠাণ্ডা বাড়বে, তখন মোয়ায় কামড় বেশি আরামদায়ক। তাই লাঞ্চ টেবিলে তৎক্ষণাৎ মুখে না দিয়ে, মোয়াখানা টিফিন বাক্সে ঢুকিয়ে বাড়ি নিয়ে এসেছিলেন বিপ্লববাবু।
ডাল, পেঁয়াজকলি ভাজা আর ডিমের অমলেট দিয়ে রাতের খাওয়া সেরে গায়ে শাল জড়িয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। হাতে টিফিন বাক্স থেকে বের করে আনা মোয়া।
মোয়াটার দিকে অনেকক্ষণ একমনে তাকিয়ে ছিলেন বিপ্লববাবু। কেমন একটা ভালোলাগা ভর করছিল যেন তাঁর মনে। যেমন নিটোল চেহারা মোয়াটার, তেমনই সুবাস। আহা। কামড় বসাতে মন বসলো না বিপ্লববাবুর। কামড় বড় জান্তব একটা ব্যাপার। উগ্র। ঝাপটাঝাপটি।
রাতের ফুরফুরে হাওয়ায় পৌষের ধার রয়েছে বেশ। আহা। এই তো সময় মোয়ায় স্বাদে ভেসে যাওয়ার। মরশুমের প্রথম মোয়া। আহা। এ জয়নগরের মোয়াটি বড় নরম। বড় কমনীয়। আদুরে। চুমুর আশ্রয়ে নিলেন আশুতোষ, আগ্রাসন বলতে শুধু আলতো জিভের ডগা। ***
পরের দিন অফিসে কিছুতেই মন বসছিল না বিপ্লববাবুর। মোয়াটা খাওয়া হয়নি গতকাল। আর হয়ত খেতে পারবেনও না। মোয়াটা আর পাঁচটা মোয়ার মত নয়। ও মোয়ায় মায়া আছে। একবাক্স মোয়া আজ কিনে ফিরবেন অবশ্য, খাওয়ার জন্য। কিন্তু মোহরকে তিনি খেতে পারবেন না। গতকালের ওই জয়নগরের মোয়ায় স্পন্দন টের পেয়েছেন বিপ্লববাবু, মোহর নামটাও নিজের অজান্তেই দিয়ে ফেলেছেন। একটা চুমুর জন্য ছটফট করছিলেন তিনি। বিয়েথা সংসার আজ পর্যন্ত করা হয়ে উঠল না, বাড়ি ফেরার আগ্রহও বিশেষ থাকে না। অফিসের পর ক্লাবে রামি খেলে রাত করে বাড়ি ফেরাটাই তার কাছে নিয়ম। কিন্তু আজ মোহরের টানেই বোধ হয়, অফিস থেকে হাফ সিএল নিয়ে লাঞ্চের পরেই বেরিয়ে পড়লেন বিপ্লববাবু।
*** সাত দিন কেটে গেছে। মোহরের চেহারার জৌলুস খুব একটা কমেনি। সকালে একটা চুমু, অফিস থেকে ফিরে একটা চুমু। নিয়ম করে। মোহরটা বড় আদুরে , বড় নরম, বড় তুলতুলে। বড্ড সাবধানে রাখতে হয় ওকে। গত তিনদিন অফিস কামাই করেছেন বিপ্লববাবু। *** মোহরের গায়ে গন্ধ জমতে শুরু করেছে। কিন্তু এত সহজে পচন ধরা তো উচিৎ নয়। একটানা ফ্রীজে রাখা থাকে। বিপ্লববাবুর ঘুমখাওয়া নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মোহরের কিছু হবে না তো? মোহর যদি না থাকে? মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে বিপ্লববাবুর। ***
"স্যার, ইন্সপেক্টর হালদার বলছি! বডি নামিয়েছি। সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলেছিল গামছার প্যাঁচে। এই গতকাল ভোর চারটে নাগাদ। আজ্ঞে হ্যাঁ। ছবিটবি তুলে নিয়েছি। ফোরেনসিকও কাজে লেগে গেছে। চিঠি? সুইসাইড নোট? নাহ্‌, তেমন কিস্যু পাওয়া যায়নি স্যার। ক্লু? তেমন প্রামাণ্য কিছু নয়, তবে ইয়ে; ওই মানে- যে ফতুয়া ভদ্রলোকে পরে ছিলেন, তার বুক পকেটে একটা পচা জয়নগরের মোয়া পাওয়া গেছে। থ্যাবড়ানো, গায়ে কালচে ছোপ আর রীতিমত দুর্গন্ধযুক্ত; এতটাই পচা। অমন রামপচা মোয়া বুকে ভদ্রলোক কী করছিলেন, সে'টা একটা মিস্ট্রি।

Wednesday, December 14, 2016

বালিশবাবুর অফিসে - ৩

- তাহলে আপনি ভগবান। 
- সে কথা আমি নিজের মুখে বললেই বা কী, না বললেই বা কী। 
- সত্যিটা কী?
- এভারেস্ট আড়াই মিটার বাড়িয়ে দিচ্ছি। পরের বছরই। 
- ভগবান?
- পেঙ্গুইনদের কিছু জেনেটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট দরকার। যা গরম পড়ছে আজকাল। শ'দেড়েক বছরের মধ্যেই কিছু একটা করে ফেলতে পারি। 
- তাহলে আপনিই। 
- আমিই। আনফরচুনেটলি। 
- আনফরচুনেটলি কেন?
- থ্যাঙ্কলেস জব! তা ছাড়া, ম্যাসিভ ভল্যুম। ম্যাসিভ। কিছুতেই গ্রিপে আনা সম্ভব নয়। 
- ভগবান মানুষের মত দেখতে?
- না। মানুষ ভগবানের মত দেখতে। 
- মানুষ শ্রেষ্ঠ বলে?
- আপনি জানেন আমি কী সাংঘাতিক ধরণের ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগি?
- রিয়েলি?
- মানসিক অবসাদ। সিজোফ্রেনিয়া। অম্বল গলা জ্বালা। কী নেই? ঘেন্না হয় নিজেকে। আমার মেজাজ সর্বক্ষণই খারাপ থাকে। কিন্তু সে'বার যখন সুইসাইডাল হয়ে কয়েক দিন কাটিয়েছিলাম, তখনই মানুষ সৃষ্টি করেছিলাম। নিজের মত করে। সুইসাইডাল। 
- আপনি আত্মহত্যার কথা ভেবেছেন?
- অনবরত। এখনও মাঝে মাঝেই মনে হয়...মনে হয় নিজেকে কোতল করি। কিন্তু। ওই। আনফরচুনেট। আমি ভগবান। ও'টা আমার দ্বারা পসিবল না। এত অসহায় লাগে...। 
- অসহায়? ভগবান হয়ে আপনার অসহায় লাগে?
- ভগবান বলে কি মাথা কিনে নিয়েছি নাকি? আমার নিজেকে কেরোসিনে ছেড়ে দেওয়া মাছ মনে হয় মাঝেমাঝে। 
- কিন্তু আপনার এত ক্ষমতা...। 
- লেবার মানুষের আবার ক্ষমতা। মহাকাশকে স্টেডি রাখো রে, 'খানে প্রাণের সাপ্লাই, ওখানে মহামারি...তবে...।
- তবে?
- লজ্জার কথা আর কী বলব, আমি বড়জোর সতেরো পারসেন্ট কাজ করে উঠতে পারি। বাকিটা র‍্যান্ডম চান্সের খেলে যা হওয়ার হচ্ছে। 
- তিরাশি পারসেন্ট আপনার কন্ট্রোলের বাইরে?
- চাইলে কন্ট্রোল করতে পারি কিন্তু অম্বলটা আজকাল এত ট্রাবল দিচ্ছে। তাছাড়া ওই, থ্যাঙ্কলেস জব। গা জ্বলে যায় প্রতি মুহূর্তে। 
- কর্ম-ফল ম্যানেজ করাটা বোধ হয় খুব টাফ। 
- দেখুন। কনটেক্সটটা বোঝার চেষ্টা করুন। গ্র্যাভিটি সামলাতে হচ্ছে। অণু পরমাণুর অঙ্ক এক চুল এদিক ওদিক হতে দেওয়া যাবে না। জেনেটিক মিউটেশন। ইভোলিউশন। এ সমস্ত কিছু ম্যানেজ দিতে হচ্ছে। এর বাইরেও কাজের অভাব নেই। তা সে'সব জরুরী কাজই ১৭%য়ের বেশি করতে পারছি না। কর্ম-ফলটল আবার কী?
- সে কী, পাপ করলে পাপের শাস্তি পেতে হবে, এই সিম্পল ইকুয়েশন ইজ নট ওয়ার্কিং?
- আপনার বাড়াবাড়ি স্পীডে চালানো মোটোরসাইকেলের চাকার তলায় একটা কুকুরছানা চাপা পড়ে মারা গেল। তক্ষুনি আপনার একটা বুলডোজারের নীচে চাপা পড়া উচিৎ। কিন্তু আপনি পড়বেন না। টেক দ্য হিন্ট।
- অমন সোজা সাপটা হিসেব না হলেও...।
- কুকুরছানা চাপা দিয়ে মেরে ফেলার জন্য কারুর প্র্মোশন মিস করায় আমার কোনও ভূমিকা নেই। সে’টা কর্মফল নয়।
- ওহ্‌। আই সি। নাহ্‌, আমি ভেবেছিলাম প্রসেসটা অনেক বেশি কমপ্লিকেটেড।
- কমপ্লিকেশনের কিস্যু নেই। সমস্তটাই হেল-ব্রেকিং-লুজ গোছের। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে, যে যার মত পারছে কুড়িয়ে নিচ্ছে। ডিপ্রেসিং। অন্ধকার। বদ গন্ধ চারিদিকে। আমি আবার গলায় আঙুল দিয়ে বমি করতে পারি না। ।
- পরিস্থিতি এতটা খারাপ?
- যন্ত্রণা। যন্ত্রণা।
- উপায়?
- গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়িয়ে দিয়ে দেখি। একটু যদি বেটার লাগে।
- সে’টা স্যাডিস্ট হবে তো।
- আত্মহত্যার প্রবণতা আর স্যাডিজম। রুমালি রুটি আর মুর্গির চাপের মত।
- হুঁ। আর কী কী স্যাডিস্ট কাজকর্ম করে থাকেন?
- খোকাখুকিদের বেসুরো বাপ দিয়ে থাকি।
- হুঁ?
- খোকাকে কোলে নিয়ে বাপ খড়খড়িয়ে গেয়ে যায় “আমার হৃদয়, তোমার আপন হাতের দোলে...”। খোকা অন্তর থেকে ক্ষয়ে যায়। বাবা হামলে পড়ে ধরেন “জীবনপুরের পথিক রে ভাই”। খোকা ককিয়ে কেঁদে ওঠে। বাবা বিটকেল মেজাজে ধরেন “ওই যে দেখছি আবছায়াটাই লাগছে ভালো”, কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত খোকা ডিফেন্স মেকানিজম ফলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বাবা ভাবেন “বাহ্‌, কী চমৎকার গাইলাম! গানের মিহি আরামে খোকা ঘুমিয়ে পড়লো”। এ’দিকে খোকা ঘুমিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচালে। গানের গুঁতো বড় গুঁতো।  যার তেমন বাপ আছে, সেই জানে।
- ভগবানবাবু...আপনি...আপনি...।
- কী হল বালিশবাবু? শরীর খারাপ লাগছে?
- ওই ভদ্রলোকের গলা থেকে অমন করাতের সুর আপনিই বের করেন?
- হ্যাঁ মানে...ওই যে বললাম...আমি বড় ক্লান্ত...কী করলে যন্ত্রণা কমবে ভেবে পাই না...।
- তাই বলে আমার এই সাত মাস বয়সে আমায় অমন গান শুনতে হবে? এর চেয়ে মাথার ওপর একটা ধূমকেতু ফেলে দিতে পারতেন!
- যন্ত্রণা। যন্ত্রণা। যন্ত্রণাই এক মাত্র রিয়ালিটি বালিশেন্দ্রকুমার।
- ধ্যাত্তোর। এথেইস্ট হওয়ার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মটা দিন। ট্রিপ্লিকেটে ফিল আপ করতে হবে কি?