Friday, December 9, 2016

অপূর্ববাবুর ফোনকল


- হ্যালো

- হ্যালো কে বলছেন?

- অপূর্ব ঘোষাল মধ্যমগ্রাম থেকে

- আচ্ছা তবে আমি কোনও অপূর্ব ঘোষালকে চিনি না

- স্বাভাবিক আমিও আপনাকে চিনি না

- তবে ফোন করেছেন কেন? তাও এই মাঝরাতে

- 'টাই আমার সবচেয়ে লম্বা ইন্টার‍্যাকশন হল গালাগাল না খেয়ে

- মানে?

- মানে গত চার দিন ধরে অন্তত তিনশো ্যান্ডম ফোন নম্বর ডায়াল করেছি সকলের ধৈর্য আপনার চেয়ে অনেক কম

- কিন্তু কেন?

- সে অনেক কথা আচ্ছা, আপনার নাম?

- রোহণ দত্ত উত্তরপাড়া

- রোহণবাবু, একটা জরুরী কথা ছিল

- আমি কথা না বললে জরুরী কথাটা জানাতেন কী করে?

- অন্য নাম্বারে কল করতাম আপনার ফোন নম্বরের শেষ চারটে সংখ্যা ফাইভ টু সেভেন এইট এর পরেরটা হয়ত ফাইভ টু এইট সেভেনে ডায়াল করতাম

- এই ভাবে গত চার দিনে ধরে কল করে যাচ্ছেন?

- তিনশোরও বেশি কল সবাই রিফিউজ করেছে পত্রপাঠ দু'একজন পুলিশের ধমকি দিয়েছে

- তবু আপনি দমে যাননি অপূর্ববাবু

- রাইট

- আমার গর্ব হচ্ছে আপনার জন্য

- আপনার ঘুম ভাঙ্গালাম?

- নাহ্ ক্রসওয়ার্ড পাজ্ সল্ভ করছিলাম

- একা?

- অবভিয়াসলি এবারে জরুরী ব্যাপারটা বলুন ক্রসওয়ার্ডটা একটা ইন্ট্রিগিং পয়েন্টে ফেলে ফোন ধরেছি তিনের ঘর থেকে ওপর টু নীচটা ক্র্যাক করতে পারলেই চুকেবুকে যাবে

- হ্যাঁ জরুরী কথাটা বলেই ফেলি, হ্যাঁ?

- ইয়েস স্যার

- আমি সুইসাইড করতে চলেছি

- সে'টাই জরুরী ব্যাপার?

- জরুরী নয়?

- অপূর্ববাবু, আপনি জানেন প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ মানুষ সুইসাইড করে

- দশ লাখ?

- বেশি বই কম নয় ক্যালকুলেটর আছে হাতের কাছে?

- না

- আমার কাছে আছে শুনুন দশ লাখ ডিভাইডেড বাই তিনশো পঁয়ষট্টি দিনে প্রায় দু'হাজার সাতশো চল্লিশ জন সুইসাইড করছেন

- বলেন কী?

- দু'হাজার সাতশো চল্লিশ ভাগ চব্বিশ মানে ঘণ্টায় একশো চোদ্দ জন মানে প্রতি মিনিটে প্রায় পৌনে দু'জন করে...বুঝলেন? মানে এই মুহূর্তেই আপনারই মত কেউ এক গাদা ঘুমের ওষুধ মুঠো করে বসে আছে

- মাথাটা ঘুরছে রোহণবাবু

- কাজেই আপনার খবরটা আদৌ জরুরী নয়

- নয়, না?

- ডেফিনিটলি নয় তা আপনার সাধারণ শখ হল কেন?

- হবে না কেন বলতে পারেন? দুনিয়ায় মানুষ বেঁচে থাকে কেন কে জানে পলিটিকালি কোরাপ্ট, মরালি ব্যাঙ্করাপ্ট, কাওয়ার্ড সোসাইটি গ্লোবাল ওয়ার্মিং হ্যান। ত্যান। কত ইস্যু আছে আমাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করার জন্য বাড়তি পার্সোনাল ক্যালামিটি থাক বা না থাক সবার উচিৎ সুইসাইডে মন দেওয়া

- পয়েন্ট আপনি কি ওই ঘুমের বড়িই...?

- না না, আমি ভি-তে খেলার মানুষ নড়বড়ে চেয়ার অন খাট দড়ি খলবল করে ঝুলে নেমে আসছে সিলিং ফ্যান থেকে

- কিন্তু ফোনটা করার কী দরকার ছিল? এই যে এদ্দিন ধরে পাগলের মত অপরিচিত সমস্ত নাম্বারে কল করে যাচ্ছেন

- পরিচিত নাম্বার থেকে সিমপ্যাথি আসে মশাই সব ক্রোকোডাইল টিয়ার্স অবশ্য কিন্তু তাই বলে বলেকয়ে যাব না সে'টা হয় না

- হুঁ

- তবে রোহণবাবু, এই আপনাকে বলতে পেরে বেশ রিল্যাক্সড বোধ করছি

- তাহলে রাখি?

- হ্যাঁ রাখতেই পারেন

- মন খারাপ?

- সে কারণেই সুইসাইড করছি তবে কন্সট্যান্ট যারা ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ঘোরে তারা ইউসুয়ালি লো আই ক্যিউ সেই হ্যাহ্য লেভেলের গাধামো সহ্য হয় না

- ডিপ্রেশনটাই ন্যাচারাল স্টেট বলছেন?

- ইনসিস্ট করছি

- কবি কিন্তু বলেছেন আনন্দধারা বহিছে ভুবনে

- মার্কেট ফোর্সেস কে পাত্তা না দিয়ে তো আর নিজেকে মার্কেট করা যায় না রোহণবাবু ভদ্রলোক প্রফেশনাল কবি ছিলেন, নিজে ইন্টেলিজেন্ট হলেও বাজারের চাহিদাকে দুয়ো দিতে পারবেন কেন? আর বোকা মানুষদের চাহিদাও বেশি

- আর আপনি বোকা নন

- আপনিও বোকা নন নয়তো আমাদের কথা হচ্ছেই বা কেন

- ঠিক অতএব? আপনি অল সেট?

- অল সেট গলায় ফাঁস দিয়ে চেয়ার ঠেলে দেওয়া দিব্যি কপিবুক

- অল দ্য বেস্ট অপূর্ববাবু

- থ্যাঙ্কস তবে আপনার ওই পরিসংখ্যানের কথা শুনে কেমন গা গুলিয়ে উঠেছিল

- মিনিটে পৌনে দু'জন

- ভাবতেই কী ভালো লাগছে যে মুহূর্তে পৃথিবীতে অন্য একজন আমারই মত মরে যাওয়ার চেষ্টা করছে দিব্যি ছিমছাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারলে কী থ্রিলিং ব্যাপার হত ভাবুন যাক, আমার কাজটা সেরে ফেলি গিয়ে ওহ হ্যাঁ, আপনার মত খোলতাই মনের একজনের সঙ্গে আলাপ হল বটে কিন্তু মুখোমুখি বসে আড্ডা হলো না সে আফসোসও যাওয়ার নয়।

- তা ঠিক তবে চারদিন যখন ডিলে হলই, তখন আর এক দিন অপেক্ষা করে যাবেন নাকি? রাজি থাকলে আগামীকাল দুপুরের কলকাতার কোন রেস্তোরাঁতে আপনার এক ঢিলে দুই পাখি মারার ব্যবস্থা করতে পারি

- দুই পাখি?

- ওই আমার মত খোলতাই মনের একজনের সাথে আলাপ আর সঙ্গে আপনার সেই পৌনে দুই নম্বরের সঙ্গে দেখা

- পৌনে দুই......আপনি...

রোহণবাবু যখন শুতে গেলেন তখন বাজে রাত পৌনে তিনটে দুই শিশি ঘুমের বড়ি দেরাজে ফেরত রেখে সামান্য জোয়ানের আরক খেয়ে ঘুমোতে গেলেন তিনি কাল আবার কলকাতার পিটার ক্যাট রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ করতে যাওয়া আছে





Wednesday, December 7, 2016

পাসেং ও পিতা

মঠের ভাঙা দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃদ্ধ। বয়সের হিসেব তাঁর দাড়ির কালোর মত হারিয়ে গেছে। হাড় জিরজিরে, চামড়া ঝুলে পড়েছে। উত্তুরে কনকন হাওয়ায় ধবধবে লম্বা চুল এলোমেলো ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর গোটা মুখে। উজ্জ্বল সাদা আলখাল্লায় বৃদ্ধটি মেঘ কালো আকাশের গায়ে চকের দাগ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যেন।
কে বলবে এখন দুপুর, চারপাশ সবজে-অন্ধকারে থমথমে।

বৃদ্ধ শীতে কাঁপছিলেন একটানা। কিন্তু আকাশের কালো থেকে কিছুতেই চোখ সরতে চাইছিল না। একটা কান ফাটানো গুড়গুড় শব্দে মাটি কেঁপে উঠল। বৃদ্ধ কয়েক মুহূর্তের জন্য চোখ বুজে ফের তাকালেন আকাশের দিকে। আবার কোনও দেওয়াল ধসে পড়ল বোধ হয়। বা মঠের কোনও ঘর।

"বাবা" ডাকে বৃদ্ধ এবারে ঘুরে তাকালেন। পাসেং। তাঁর আদরের পাসেং। উচ্ছ্বল যুবক পাসেং। উজ্জ্বল চক্ষু পাসেং। আড়াই মাস বয়েসের যে রুগ্ন শিশুকে মঠের দুয়ারে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনি, তার সাথে এ অগ্নিপুত্রের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

- তুমি এসেছ? যাক্‌।
- আজ যে আসতেই হত বাবা।
- হ্যাঁ। আজ তো আসতেই হত।
- এ সমস্তই তো আপনার জানা ছিল, তাই না?
- সমস্ত। এমনকি এই আকাশের এমন রঙও আমার কাছে অচেনা নয়।
- এখনই সমস্ত শেষ?
- আর কয়েক মুহূর্ত। আর সামান্য একটা কাজ।
- আপনি বলেছিলেন আশা আছে।
- আশা খুঁজছ কেন পাসেং? বাঁচার লোভ? এ নোংরা পৃথিবী আঁকড়ে থাকার লিপ্সা?
- আমি লোভী নই বাবা। আপনি আমায় সে'ভাবে মানুষ করেননি।
- তবে?
- মিসুং।
- মিসুং। তোমার পুত্র। আহ্‌। বড় মায়া ওর চোখে।
- মিসুং তো কোনও দোষ করেনি বাবা।
- দোষ? এর আগে যত শিশু মারা গেছে আমাদের পাপে, তাদের কোনও দোষ ছিল পাসেং? কিন্তু তাদের মরতে হয়েছে।
- দৈব।
- দৈব? বটে।
- শিশুহত্যার দায় জমতে জমতে যেদিন উপচে পড়বে, সেদিন পৃথিবী নষ্ট হবে। আকাশে তিনি বসে গুনে চলেছেন। প্রতি নিয়ত। শিশুর রক্ত উপচে গড়িয়ে গেলে পৃথিবীকে ভেঙ্গেচুরে নতুন ভাবে গড়বেন তিনি। যেমন এর আগেও হয়েছে। হাজার হাজার বার।
- তাহলে এবারেই বা ব্যতিক্রম হবে কেন পাসেং?
- পৃথিবী ধ্বংসই যদি হয়, তাহলে কোথায় আমি আর কোথায় মিসুং। নিজের ছেলের বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য লড়ব না বাবা?
- তুমিও থাকবে না যদি পৃথিবী ধ্বংস হয়। আমি বাবা নই? আমার দুঃখ হবে না?
- পৃথিবীকে বাঁচান তাহলে। ঈশ্বরের পুত্র আপনি বাবা। ঈশ্বরের এ অন্যায় বরদাস্ত করবেন কেন?
- ঈশ্বর অন্যায় করেন না পাসেং। সে'টা মানুষের কাজ। তিনি শুধু মানুষের পাপের হিসেব রাখেন। শিশুহত্যার পাপ। সংখ্যা পূর্ণ হয়েছে, পাপের ঘড়া উপচে পড়তে আর মাত্র একটা শিশুহত্যা দরকার।
- বন্ধ করুন। পৃথিবীটাকে থাকতে দিন। এই হাওয়া, মাটি, পাহাড়; আমার মিসুংকে অকালে হারাতে দেবেন না বাবা।
- মিসুং আমার সাথে থাকে পাসেং। ওকে আমি তোমার চেয়ে কম ভালোবাসিনা। ওর অধ্যয়ন আমার সাথে, আমার সাথে ও আহারাদি গ্রহণ করে। আমরা দৈনিক একসাথে সূর্যোদয় দেখি। কিন্তু এ পৃথিবীর সময় শেষ। আমাদের চারদিকে পাহাড় ভেঙ্গে পড়া শুরু হয়ে গেছে পাসেং। নদীর জল আগুন রাঙা হয়ে ধোঁয়াময় হয়ে উঠছে। বাতাসে মিশছে বিষ। এ মঠ ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য, তাই এর দেওয়াল ভেঙ্গে পড়া শেষ হয় সবার শেষে। পিছনের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকাও, তবে বুঝবে যে বিনাশকাল এসে পড়েছে। সবার শেষে ভেঙ্গে পড়বে মঠের মূল মন্দিরের ওই চুড়ো, আকাশ জ্বালানো এক বিদ্যুৎ শিখা এসে তাঁকে ধূলিসাৎ করবে। আর তার জন্য দরকার আর একটি শিশুর মৃত্যু। তারপর সমস্ত শেষ। সমস্ত কিছুর ধুলোয় মিশে যাওয়া। প্রতি পঞ্চাশ হাজার বছর অন্তর আমি এমন ভাবে একা হয়ে যাই পাসেং। বড় বেদনার সে একাকীত্ব। আবার ছেনি হাতুড়ি নিয়ে আমি মঠ গড়তে শুরু করব, আর ঈশ্বর ফের বসবেন পৃথিবীতে পাহাড়, নদী, বর্ষা তৈরি করতে। আবার নতুন করে মানুষ। আবার সভ্যতা। আবার অসভ্যতা। শিশুহত্যা। পাসেং। এ অমোঘ, এ অবিচল।
- এ ধ্বংস আটকানোর কোনও উপায় নেই?
- উপায়? আছে। নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সে উপায় তোমায় বলাটা আমার উচিৎ নয়। তবু। বলব। কারণ জানো? হাজার হাজার পৃথিবী পেরিয়ে এসেও পিতৃ-স্নেহ কোনোদিন অনুভূত হয়নি এর আগে। পাসেং। আমার খোকা তুমি, আদরের, স্নেহের।
- উপায় কী বাবা?
- মঠের সব ছেলেমেয়েরা চলে গেছে। রয়ে গেছে শুধু মিসুং। তোমার অপেক্ষায় রয়েছে সে।
- উপায় কী?
- দু'টো খুন।
- বাবা!
- দু'টো খুন পাসেং। তোমায় মিসুং আর আমাকে হত্যা করতে হবে। শিশু হত্যার পাপ উপচে পড়ার পর আমি বধযোগ্য হই যতক্ষণ না নতুন পৃথিবী গড়ে উঠছে। আর নতুন পৃথিবী গড়ে ওঠার আগে যদি আমায় খুন করা যায় তবে এ ভাঙ্গাচোরা পৃথিবী সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে না। সে'টাই নিয়ম। তুমি আর যে দু'চারজন বেঁচে থাকবে সেই বিষাক্ত পৃথিবীতে, সবাই মিলে ঠিক পারবে ঘুরে দাঁড়াতে। নিশ্চিত। মিসুং না থাকলেও তুমি থাকবে সে’খানে। সে পৃথিবীতে সুবাতাস ফিরে আসবে। নতুন পৃথিবী নির্মাণের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু তার জন্য তোমায় আগে মিসুংকে খুন করতে হবে, তারপর আমায়।
- কী বলছেন বাবা!
- বাবা রে, তুই আমার চোখের মণি। মারা যাসনে পাসেং। বাঁচ। এ দুনিয়াটাকে বাঁচার একটা সুযোগ দে। বের কর ছুরিটা...আর আমাদের...।
- পিতৃস্নেহে অন্ধ হয়ে আপনি আমায় বলছেন আমার পুত্র আর পিতাকে খুন করতে?

**

পাসেংয়ের নিথর দেহটা রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, ওর বুকে বসানো ছুরিটার দিকে বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলেন বৃদ্ধ।
বাবা। বাবার পাঁজর যে কতটা যন্ত্রণা বহন করতে পারে তা আঁচ করতে পারছিলেন। মনে হচ্ছিল বুকের মাংস আগুনে কাটছে, গোটা গায়ে কেউ বিঁধিয়ে দিচ্ছে বিষ মাখানো ছুঁচের ডগা। বৃদ্ধের সাদা আলখাল্লা রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। চোখের জল মুছে তিনি উঠে দাঁড়ালেন।


মুঠো শক্ত করলেন তিনি।
অস্ফুটে বলে উঠলেন "আমিও ঈশ্বরের বরপুত্র। যার দুনিয়ায় পিতাদের এত যন্ত্রণা, তাঁর নিয়মে নিজের আত্মাকে কোটি কোটি বছর ধরে যন্ত্রণাবিদ্ধ করার কী মানে? সন্তানের দুঃখে পাসেং আত্মহত্যা করল, আহ সে যে কী যন্ত্রণা। সে যন্ত্রণার আগুন ঈশ্বরকে স্পর্শ করবে না, তা কী করে মানা যায়?"
জোব্বার ফোঁদলে রাখা ছেনি হাতুড়ি বের করে খাদে ছুঁড়ে ফেলে খোকার বুক বসানো ছুরিটা বের করে নিলেন বৃদ্ধ।


"খোকা ক্ষমা করিস। মিসুং, ক্ষমা করিস। কিন্তু এ পৃথিবীকে রেখে যেতে হবে। সমস্ত পিতার জন্য যন্ত্রণা রেখে যেতে হবে। হবেই। আর আমার পিতাও যে যন্ত্রণার বাইরে থাকবেন না।", বিড়বিড় শেষ হলে মিসুংয়ের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন বৃদ্ধ।

**

পৃথিবীর ভাংচুরের শব্দ বেশ আসছিল। খাতা কলম নিয়ে আরামকেদারায় সবে গা এলিয়ে দিয়েছিলেন ঈশ্বর। কত হিসেব কষতে হবে, কত অঙ্ক। কিন্তু আচমকা ভাংচুরের শব্দ ঠাণ্ডা হয়ে গেল। আর তখনই একটা বিকট যন্ত্রণা বুকে বিঁধল, মনে হল যেন বুকের মাংস আগুনে কাটছে, যেন গোটা গায়ে কেউ বিঁধিয়ে দিচ্ছে বিষ মাখানো ছুঁচের ডগা।

"খোকা ঠিক আছে তো? বোধিসত্ত্বের কোনও ক্ষতি হয়নি তো?", ককিয়ে উঠলেন ঈশ্বর।

Monday, December 5, 2016

মোহনবাবুর সারপ্রাইজ

- কইসন হো?
- বঢিয়া। ডিনার মা মাটনবা রহিস।
- তবিয়ৎবা?
- তন্দরুস্ত। পাশবালিশ জড়াইস।
- দিলওয়া?
...
- খুশ। হাত মে কিতাব। ঘনাদা সসুরা বকরবকর করত হো।
- উঁহু। কুছ তো গড়বড়াইস। ম্যাদামারা কাহে গইল বা?
- সোমবার আ গইল।
- কিচেন মে রেকাবিমা ক্ষীরকদম ভইল।
- কা বাত করত হো। ক্ষীরকদম তো হম কব কা খা গইল হো।
- দু'গো ছুপাইকে রখতলা। তহর লগি সারপ্রাইজ।
- সজনী, হমৌ তু কা সরপ্রাইজ রখত।
- কা?
মোহনবাবুর ঘুম ভাঙলো পাশের বাড়ির মেনি বুকিকুমারির ছটরফটরের শব্দে। অ্যাডাল্ট স্বপ্নটা মাঝপথে সুতো কাটা ঘুড়ির মত লেতকে পড়ায় মনটা হু হু করে উঠলো। দলা পাকিয়ে রাখা খিদেটাও ওয়াপিস এলো। ব্যাচেলর সংসারে মাঝরাত্তিরের খিদে বলতে লেড়োর বয়াম। তবে বিস্কুটে কামড় দিয়েই মোহনবাবু বুঝলেন যে স্বপ্নের প্রভাবে মুখের সোমবারি তিতকুটে বিস্বাদভাবটা বিলকুল গায়েব।
অনেক চেষ্টা করেও সেই মুখাবয়ব মনে এলো না মোহনবাবুর। সে, যে দু'টো ক্ষীরকদম সরিয়ে রেখেছিল আদুরে সারপ্রাইজ দেবে বলে। মনে মনে মোহনবাবু তার নাম দিলেন রাই। পরনের শাড়ির রঙ সাদা হলুদ মেশানো ছিল কি?

**

ও'দিকে বুকিকুমারির মালকিন সন্ধ্যে থেকে বড্ড বিরক্ত। বলা নেই কওয়া নেই বাক্স থেকে দু'দু'টো ক্ষীরকদম গায়েব। বুকিকুমারি আজকাল চুরি করে মিষ্টি খাওয়াও ধরল নাকি? এদিকে বদ বিড়ালিটাকে একটু চোপা করবেন, সে সুযোগও নেই। সে গোটাদিন শুধু পাশের বাড়িতেই পড়ে থাকে আজকাল।