Sunday, October 23, 2016

হেঁসেল

- রান্নাঘরটা জব্বর হবে বুঝলে ম্যাডাম!
- মডিউলার?
- ফুহ্! ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দেখা?
- তব?
- রান্নাঘরের দেওয়ালে ক্যালভিন আর হবসের নাচুনির ছবি।
- রান্নাঘরের দেওয়ালে ক্যালভিন? হব্স?
- স্বাদের দানাগুলো জিভে ক্যালভিনের মত ছটরফটর করে যাবে। রান্নার সুবাসের বাঘ সে দানাগুলোর সাথে মিলেমিশে হল্লা করবে। এ পোস্টার সিম্বলিক।
- আর?
- তুমি স্কিলড আমি আনস্কিল্ড। তুমি ঝুরি আলু কুচোবে, নরম আঁচে পেঁয়াজ ভাজবে।  আমি স্কচব্রাইট ভিমবার আর এঁটো ডেকচি নিয়ে সিঙ্কের নিচে থেবড়ে বসে শ্যামল মিত্র গাইব।
- তুমি শ্যামল মিত্র? হয়েছে!
- খুন্তি কড়াইয়ের খনখনকে নূপুরে চুড়িতে নিউট্রালাইজ করতে হবে, পারবে?
- যো হুকুম।
- মাংস মাছ আমি ধোব। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্র‍্যাক্টিস। মাংস ধোয়ার সময় পঙ্কজ উদাস জমে ভালো। জিয়ে তো জিয়ে ক্যায়সে, বিন আপ কে।
- রান্নাঘরের দেওয়াল নরম সবুজ।
- আমি হলুদ ইম্যাজিন করেছিলাম।
- সবুজ। নরম।
- জী।
- কী হল?
- প্রশ্ন।
- কী?
- আমি বুঝি হব্স? আমার বুঝি আদতে থাকতে নেই?
- আমি কি না ক্যালভিন। আমার আনন্দে নয়, ইউফোরিয়ায় বাঁচার কথা।
- কেয়া হুয়া ক্যালভিনওয়া? ইমোসান?
- উয়ো কুড ভি রান্নাঘর মে, তুম কাটতা হ্যায় পেঁয়াজ অউর আমার চোখে ভিমবারের ছিটে।
- মিঠে

**
- রান্নাঘরটা জব্বর হবে বুঝলে ম্যাডাম!
- মডিউলার?
- ফুহ্! ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দেখা?
- তব?
- রান্নাঘরের দেওয়ালে ক্যালভিন আর হবসের নাচুনির ছবি।
- রান্নাঘরের দেওয়ালে ক্যালভিন? হব্স?
- স্বাদের দানাগুলো জিভে ক্যালভিনের মত ছটরফটর করে যাবে। রান্নার সুবাসের বাঘ সে দানাগুলোর সাথে মিলেমিশে হল্লা করবে। এ পোস্টার সিম্বলিক।
- আর?
- তুমি স্কিলড আমি আনস্কিল্ড। তুমি ঝুরি আলু কুচোবে, নরম আঁচে পেঁয়াজ ভাজবে।  আমি স্কচব্রাইট ভিমবার আর এঁটো ডেকচি নিয়ে সিঙ্কের নিচে থেবড়ে বসে শ্যামল মিত্র গাইব।
- তুমি শ্যামল মিত্র? হয়েছে!
- খুন্তি কড়াইয়ের খনখনকে নূপুরে চুড়িতে নিউট্রালাইজ করতে হবে, পারবে?
- যো হুকুম।
- মাংস মাছ আমি ধোব। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্র‍্যাক্টিস। মাংস ধোয়ার সময় পঙ্কজ উদাস জমে ভালো। জিয়ে তো জিয়ে ক্যায়সে, বিন আপ কে।
- রান্নাঘরের দেওয়াল নরম সবুজ।
- আমি হলুদ ইম্যাজিন করেছিলাম।
- সবুজ। নরম।
- জী।
- কী হল?
- প্রশ্ন।
- কী?
- আমি বুঝি হব্স? আমার বুঝি আদতে থাকতে নেই?
- আমি কি না ক্যালভিন। আমার আনন্দে নয়, ইউফোরিয়ায় বাঁচার কথা।
- কেয়া হুয়া ক্যালভিনওয়া? ইমোসান?
- উয়ো কুড ভি রান্নাঘর মে, তুম কাটতা হ্যায় পেঁয়াজ অউর আমার চোখে ভিমবারের ছিটে।
- মিঠে। মিথে।

টুকরো গল্প

- কে ওখানে?
- আমি। পরেশ।
- ইয়ার্কি হচ্ছে?
- মানে?
- পরেশকে বলা হচ্ছে আমি পরেশ? আলোয় আয় ব্যাটা।
- ইয়ে...আমি পরেশ চ্যাটার্জি।
- আরে দরজার ওপাশের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে কেন রে? আলোয় আয়! দেখা যাবে রিয়েল পরেশ চ্যাটার্জি কে।
- আপনিও? পরেশ চ্যাটার্জি? কী আশ্চর্য!  তবে আমি কিন্তু আদতে এ পাড়ার নই। বেলিয়াতোড়ে আদত বাড়ি। বাপ মাও সেখানেই।
- তবে রে হারামজাদা? বাপ মা বেলিয়াতোড় তুলে লেগ পুল? আজ তোরই একদিন কি আমার!
- বলছিলাম একের বারো মধু মল্লিক লেন ঠিক কোনদিকে বলতে পারেন?
- এ'টা। এ'টাই একের বারো মধু মল্লিক লেন। আর আজ এখানেই তোকে পুঁতবো।

ঠিক তখুনি মেঝে ফুঁড়ে রাত কাঁপিয়ে ভেসে এলো কণ্ঠস্বরটা ;

"রোজ রাত্তিরে এই এক ঝ্যামেলা! গজরগজরগজর! আরে আর ক'বার পোঁতা হবে? ডায়রেক্ট পুঁতে দিলেই পারত। না, তা নয়! তার আগে কুচিকুচি করে কাটা চাই। আর কী কুক্ষণেই না দু'টুকরো বাইরে পড়ে গেছিল। আহাম্মক ইনএফিশিয়েন্ট মার্ডারার্স"!

স্পা

শুভ্রশঙ্খ মাস শুরু করে স্পা দিয়ে। শরীর মন ঝরঝরে হয়ে যায়। শিউলি বছরভর শহরে না থাক, অন্তত সে সুবাস মনের মধ্যে হুহু করে। জ্যান্ত লাফানো কইয়ের মত স্ফুর্তি থাকে বুকে।

আসল বিউটি ট্রিটমেন্ট তো মনকে মালিশ করেই শুরু, আর সে থিওরি মেনেই মাসের প্রথম রোববার সকাল সকাল নিউ সানফ্লাওয়ার সেলুনের বেঞ্চিতে এসে বসে সে।

স্পা স্রেফ ফেল কড়ি মাখো তেল কিস্সা নয়। হুড়মুড়ে মেজাজে অফিসটাইমে মিনিবাস ধরা যায়, স্পাতে তা চলে না।

সানফ্লাওয়ার সেলুনের বেঞ্চিতে বসার আগেই মনোকে ইশারায় নিজের উপস্থিতি জানান দেয় শুভ্রশঙ্খ। মনো, মানে মনোরঞ্জন মাইতি। কাঁচির কাইজার, মালিশ মারাঠা ইত্যাদি নানা উপাধি মনোরঞ্জনের পাওনা বলে শুভ্রশঙ্খর বিশ্বাস। কিন্তু বাঙালি যোগ্যতার দাম দিতে শেখেনি, তাই আজও মনোকে পুজোর বখশিশ চাইতে হয়।

বেঞ্চির সামনে রাখা নিচু কাঠের টেবিলে স্তুপ করে রাখা আনন্দলোক। আনন্দলোক হচ্ছে প্রি-স্পা রিল্যাক্সেশন টূল, শুভ্রশঙ্খ সে সম্বন্ধে অবগত। টুকরো টলিউডি গসিপ, ক্লাসিকাল যুগের উত্তম যোগ ব্যায়াম করছেন গোছের কিছু ছবি, কিছু চটুলরচনা, কিছু মনোগ্রাহী ছবি; এ'সবে নার্ভ আরামদায়ক ভাবে শীতল হয়ে আসে।

খান চারেক আনন্দলোকের পাতা ফরফরিয়ে উলটে যেতে না যেতেই মনের চিনচিন কমে আসে। অন্যদিকে এমপি থ্রি প্লেয়ারে কুমার শানুর গান একটানা বেজে চলে, আনন্দলোককে যোগ্য সঙ্গত দেয় সে'সব গান।

"তু পেয়ার হ্যায় কিসি অউর কা, তুঝে চাহতা কোই অউর হ্যায়,
তু পসন্দ হ্যায় কিসি অউর কি, তুঝে মাঙ্গতা কোই অউর হ্যায়"।

রিল্যাক্সিং মেলোডি।

হাঁটুতে তাল ঠুকে চলে শুভ্রশঙ্খ। মিনিট কুড়ির মাথায় মনোর ডাক আসে। "আসুন"!

চেয়ারে বসে শুভ্রশঙ্খ চোখ বুজে ফেলার মানে মনো জানে। দাড়ি, চুল কাটা নয়, মাথা মাসাজ। শুভ্রবাবু অবশ্য বলেন "হেড স্পা"।

মনোর স্ট্রেন্থ হলো যে যে তালুতে কম আর আঙুলে বেশি খেলে। ব্রুট স্টেন্থ নয়, শুভ্রশঙ্খ জানে যে ফিনেসটাই এ যুগে কোয়ালিটি আউউটপুটের মূলমন্ত্র।

"কত যে সাগর নদী"তে কুমারশানু ডুব দেওয়ার সাথে সাথে মনোর হাতের দুপদুপে অবশ হয়ে আসে শুভ্রশঙ্খ। নবরত্নের দু'টো ছোট পাউচ  কেটে মাথাময় বরফ
নির্বাণ ছড়িয়ে দেয় মনো। সে আরামে স্বয়ং ঈশ্বরও মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

হেড-স্পা করানোর পর দিন তিনেক আনন্দবাজার বা নিউজচ্যানেলগুলোকে এড়িয়ে চলে শুভ্রশঙ্খ।

অমরবাবুর রাত

"বাতি নিভিয়ে শুতে এসো"।

প্রত্যুত্তরে আচ্ছা বলাটাই ভদ্রতা। তেমনটাই বললেন অমরবাবু। "আচ্ছা"।

বাতি নেভালেন।
দু'কলি "হরি দিন তো গেলো গাইলেন"।

"আর কতক্ষণ গো? রাত দু'টো বাজতে চললো যে!

অতিশয়োক্তি। অমরবাবু জানেন। এখন সবে সোয়া একটা। এ'সব আবদারে ডাক। তবু। কানে দিব্যি লাগে এ ডাকের মায়াটুকু।

তারপরই খাটের বাঁ পাশ ঘেঁষে গা এলিয়ে দিলেন তিনি।

"এখন এতরাত্রে আর জ্বালিও না বাপু। ঘুমোও। কাল ভোর থেকে মেলা কাজ পড়ে"। খাটের ডান দিক থেকে ভেসে আসে কণ্ঠস্বর। নরম, মিঠে। কী প্রবলভাবে আদুরে।

মৃদু বিরক্তির "ত্যুত্ " শব্দে ভাসিয়ে দিয়ে অন্যপাশে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন তিনি। অন্যপাশে ফিরে নিজের পাশবালিশটা বুকে জড়িয়ে চোখ বুজলেন ভেন্ট্রিলোক্যুইস্ট অমর সমাদ্দার।

পাঁচ কুড়ি

- কোড বলুন।
- কোড..হ্যাঁ..ইয়ে..ইশ...এইমাত্তর মনে ছিল..।
- নেক্সট স্পার্মসেল প্লীজ।
- মিস এগ! মনে পড়েছে। "বাঁশঝাড়"।
- শর্টলিস্টেড। রিক্রুটমেন্ট ক্লোজড।

- আসুন।
- আজ্ঞে?
- আসুন।
- কিন্তু..।
- আসুন। উপায় নেই।
- শিওর?
- ট্রাক পিষেছে আপনাকে।
- তাই বলে নরক?
- ভেজ বিরিয়ানির প্যাকেট ছিল আপনার হাতে।

- জনাব!
- জনাবিয়ে বেগমজান।
- অর্জ কিয়া হ্যায়।
- অর্জাইয়ে।
- বোলিয়ে ইরশাদ।
- আচ্ছা। ইরশাদিয়ে।
- রাতে মাটন কষা। হ্যাশট্যাগ তিন শব্দের শায়রি।
- চুমু।
- চুমাইয়ে।

"মানুষের গল্প" পাঠ করা। হাজার ঝামেলা!
ঢোক গিললেন অনাদিবাবু।
বাতি জ্বালো রে,
দেরাজ থেকে মাথা বের করে চশমায় আঁটো রে...।

মানিব্যাগের দরজা খুলতেই অনিকেতকে ইশারায় ডেকে নিলেন একশোটাকারনোটবাবু।
পাঁচশোটাকাজ্যেঠু বারবার বলেছিলেন "ক'দিন জিরিয়ে নে"।
একশোটাকারনোটবাবুর একটাই উত্তর;

"টাইম ইজ পিপল"।