- ধরুন...।
- হুঁ!
- ধরুন পৃথিবীতে আর কোনও মন্দ রইলো না...।
- ইউটোপিয়া?
- ইউফোরিক ব্যাপার। কেউ কারুর মাথায় কাঁঠাল ভাঙছে না। কেউ এগরোলে সস দিচ্ছে না। কেউ লোভে হন্যে হচ্ছে না। উইকেন্ডে সবাই কাহারবা নয় বলে মৃদু দুলছে কিন্তু কমোডে মুখ গুঁজে ওয়াক তুলছে না।
- অফিস টাইমের লোকালে ভিড় থাকছে না। প্রেমের চিঠিতে বানান ভুল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তো?
- আজ্ঞে! ধরুন তেমনটাই। দুনিয়াটা।
- তাতে কী?
- যদি তেমন হত মশাই...।
- তেমন হলে?
- তেমন হলে আয়না থেকে আপনার দিকে গেলাস তাক করে চিয়ার্স বলতে হত না।
Sunday, October 23, 2016
চিয়ার্স
নবাব ও বেগমজান
১.
সিলিং ফ্যান থেকে দড়ির মত করে ঝোলানো শাড়ি। ফাঁসটাও পোক্ত। নিখুঁত ব্যবস্থা।
খাটের ওপর মচমচে চেয়ারটা রেখে বেশ তৃপ্ত বোধ করছিলেন বিপাশা। চেয়ারে দাঁড়িয়ে সবে ফাঁসটা গলায় জড়াতে যাবেন..অমনি খচখচটা মাথায় এলো। বালুচরি কাঞ্জিভরম থাকতে সস্তা ছাপায় ঝুলবেন? সবচেয়ে ভালো হত আসাম সিল্কে ঝুললে। অপূর্ব, যেমন খোলতাই সবুজ তেমন মসৃণ। কিন্তু এমন দরকারি দিনেই সে'টা নেই। কী কুক্ষণেই না লন্ড্রি কাচাতে দিয়েছিলেন।
২.
৩.
৪.
কাফকাইস্টস
- খোট্টাগুলো ক্যালক্যাটাকে ছাতুর সরবতে গুলে খেয়ে ফেলবে মশাই।
- তাঁরা কী করলে?
- নুইসেন্স। রাস্তাঘাটে, সব জায়গায়। নোংরা, ক্লাসলেস। আর খবর নিয়ে দেখুন কলকাতায় ক্রাইম দুনিয়ায় তাঁদের প্রকোপ কতটা।
- অ। ওরা ছাতুতে ক্যালক্যাটা গুলে খাবে?
- আলবাত।
- কলকাতা গুলে খেতে চাইলে কলকাতার ফুটপাথ আর দেওয়ালগুলোও বোধ হয় গোলা হবে তাই না?
- মানে?
- মানে চিন্তা করবেন না। খোট্টারা বাঙালি কলকাতাকে ছাতুতে গুলে খেতে চাইলেও বেশি সুবিধে করতে পারবে না। অল্প সময়েই বমিতে উগরে দিতে হবে।
- কেন?
- ওই। কলকাতার রাস্তাঘাটে দেওয়ালে এত কালচারড বাঙালি হিসি মিশে আছে যে সে ছাতুর সরবত খোট্টাদের রিক্সাটানা পেটানো পেটেও সইবে না। নিশ্চিন্তে খিস্তি করে যান। আরেকটা কফি বলি? কাফকা নিয়ে পড়ুন এবার খোট্টাদের ছেড়ে।
Wednesday, October 19, 2016
খোকার ঘুম
ধরুন দু'শো বত্রিশজন মিলে যদি নিজেদের মধ্যে টিনের ফাঁপা গদা আর অ্যালুমিনিয়ামের তলোয়ার নিয়ে খনখনাৎ করে যুদ্ধ শুরু করে; তার যে হইহইরইরই শব্দ।
সেই হইহইরইরইয়ের শব্দ ত-বাবু শুনতে পান যখন সাড়ে পাঁচ মাসের খোকাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য নিজের বুকে চেপে ধরেন।
ত-বাবু খোকা কোলে গাইলেন 'ঘুম যায় ও চাঁদ", খোকা হৌহৌহৌ-খ্যেকখ্যেকখ্যেক করে জানান দিলে সে বেশ স্ফুর্তি অনুভব করছে।
ত-বাবু পায়চারির গতি ও ছন্দের ম্যাজিকে খোকার দুলুনি আর খ্যাক হাসিকে ঘায়েল করতে চাইলেন। খোকার চোখে চিকচিক ভেসে উঠলো। ও চোখ জোড়ায় খুঁজলে রাবণের স্যান্ডোগেঞ্জি পাওয়া যেতে পারে কিন্তু ঘুম? লেশমাত্র নেই।
"হরিদাসের বুলবুল ভাজা"র অন্তরায় এসে পায়চারীরত ত-বাবুর তন্দ্রা কাটলো খোকার ট্যাঁয়্যায়্যায়্যায়্যা শব্দে। আধ-ঘুমন্ত মানুষের পায়চারীর ট্র্যাজেক্টরিতে নিজের বিপদ আঁচ করেই গাঁকগাঁক করে চিল্লিয়েছিল সে।
ত-বাবু "ইয়ে কালি কালি আঁখে, ইয়ে গোরে গোরে গাল"য়ের কলিতে নিজের ঘুম তাড়ানোর চেষ্টা শুরু করলেন।
অদ্ভুত। কাজ হল মাখনের মত। আকস্মিক।
"ম্যায় মিলি, তু মিলা"র আলাপ পেরোতেই খোকা নেতিয়ে পড়লে।
সেই চোখের পাতায় মেঘের ভেসে বেড়ানোর শব্দ পাওয়া যায়। খোকার ঘুমে ল্যাতপেতে হয়ে আসায় শীতলপাটি পাতার যে মিহি হাফসেকেন্ডের শব্দ; তা স্পষ্ট অনুভব করতে পারেন ত-বাবু।
খোকার ঘুমন্ত মুখের ডাকনাম "বে অফ বেঙ্গল" দিয়েছেন ত-বাবু। ত-বাবু আজকাল মনেমনে নিজেকে শ্রী স্বর্গদ্বার বলে ডেকে থাকেন।
