Friday, August 19, 2016
এমনি
Tuesday, August 16, 2016
জিমনাস্টিকের কবলে
সে'বার। বলা নেই কওয়া নেই।
১৯৮৩র অলিম্পিকে দীপা১, দীপা২, দীপা৩, দীপা৪, দীপা৫, দীপা৬, দীপা৭, দীপা৮, দীপা৯, দীপা১০ আর দীপা১১ চমকে দিয়ে জিমনাস্টিকে সমস্ত মেডেলগুলো জিতে নিলেন। এর আগে দু'একটা টুকরোটাকরা জিমন্যাস্টিকস মেডেল যে এ দেশে আসেনি তা নয়, কিন্তু অলিম্পিকের সমস্ত মেডেল এক সাথে?
ব্যাস। গোটা দেশ হুমড়ি খেয়ে পড়লে জিমন্যাস্টিক্সে। খোকার ঘরের দেওয়ালে দীপা১য়ের পোস্টার, বিজ্ঞাপনে দীপা২, খবরের কাগজ আলো করে দীপা৩ ইত্যাদি।পাড়ায় পাড়ায় দীপাদের সংবর্ধনা। এর ওপরে জুটলো এসে বিসিজিআই, বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর জিমনাস্টিকস ইন ইন্ডিয়া। তারা করলে কী একটা মজবুত ব্যবসা ফেঁদে বসলে। ব্যবসা ফাঁদলে যা হয়, জিমন্যাস্টদের পকেটে টু পাইস এলো, তাদের রোয়াব বাড়লো। আর সস্তা পয়সায় কী না হয়? মানি বিগেটস মোর মানি অ্যান্ড সাকসেস। পয়সার জোরে, ব্যবসার জোরে জিমন্যাস্টিক্সে আরও সাফল্য আসতে লাগলো।
ফলত, তেলা মাথায় তেল। জিমনাস্টিকে টপাটপ মেডেল আর শিরোপা। নজর দিচ্ছি ভাববেন না ভাইটি, জিমনাস্টিকে পয়সা থাকুক, বিজ্ঞাপন থাকুন, সাফল্য থাকুক, কিন্তু সে সাফল্যের ট্যাক্স হিসেবে যে বাকি খেলাগুলো ধুয়ে মুছে যেতে বসেছে।
আমরা খুব সহজে নাম ভুলে যাই। খুব সহজে। দুরন্ত মারাঠা শচীন তেন্ডুলকারকে মনে আছে? সেই যে সে'বার ২০০০য়ের বিশ্বকাপে টিমকে প্রায় একটা ম্যাচ জিতিয়ে ফেলছিল ছেলেটা। প্রায়। প্রায় জিতে ফেলেছিল আর কী! মনে রেখেছেন তার স্ট্রাগেলের কথা? কী খাটাখাটনি করে ছেলেটা কত অল্প বয়স থেকে ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিল। না।
আপনারা মনে রাখেননি। কারণ আপনাদের মন জুড়ে জিমন্যাস্টিক প্রিমিয়ার লিগের রোশনাই। হিংসে করছি না জিমনাস্টিককে। শুধু মনে করিয়ে দিচ্ছি।
জিমনাস্টিক বজ্জাতি করে স্রেফ সাফল্য আর ব্যবসা দিয়ে ভুলিয়ে রেখেছে আপনাকে আমাকে সবাইকে। অথচ ভিভিএস লক্ষণের যুদ্ধটা কেউ বোঝে না। কেউ না। হতে পারে তার তেমন কোনও সাফল্য আসেনি, কিন্তু তাই বলে তার স্ট্রাগলটা মিথ্যে হয়ে যাবে? সেই যে'বার তার বদান্যতায় ভারত পাপুয়ানিউগিনিকে হারিয়েছিল, সে'টা আজ আমরা কী সহজে ভুলে গেছি! আমরা মনে রাখিনি যে ক্রিকেটের স্বল্প সাফল্য ইজ নট বিকজ অফ আওয়ার সাপোর্ট বাট ডেস্পাইট আওয়ার অ্যাপাথি। কী ইনফ্রাস্ট্রাকচার দিয়েছি আমরা লক্ষণ শচীনদের? শুধু জিত দিয়ে ওদের বিচার করা যায়?
জিত। এই জিতের নেশায় আমাদের বুঁদ করে রেখেছে সর্বনাশা জিমন্যাস্টিকস। চার বছরে একবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ এলে আমাদের শচীন প্রেম উথলে উঠবে আর বাকি সময়টা দীপাই আমাদের ভগবান। বছরের অন্য সময়টা শচীন মুখে রক্ত উঠে মারা গেলেও আমাদের কিছু এসে যাবে না কারণ ভারত আগামী ক্রিকেট বিশ্বকাপের মূলপর্বের জন্য কোয়ালিফাই করতে পারেনি। খেলাটাকে আমরা চিরকাল হারজিতেই দেখে আসব, স্ট্রাগলটুকুর রোম্যান্স বুঝবো না কোনওদিন।
এ পোড়া দেশে ক্রিকেট নিজের দোষে মারা যাচ্ছে না, মারা যাচ্ছে টপাটপ জিমন্যাস্টিকস মেডেলগুলোর জন্য। মেডেলই সব নয়, জিতটুকুই শেষ কথা নয়। দীপার ভগবান হয়ে থাকাটাই শেষ কথা নয়।
শচীন না জিতুন, উনি প্যাডেল স্যুইপে বিশ্বের মন জয় করেছেন। ওনার স্ট্রাগল আমরা ভুলবো না। সে'টাই রোম্যান্স, জিমন্যাস্টিক্সের মত সসর্বগ্রাসী ব্যবসা নয়।
জয় হিন্দ।
Monday, August 15, 2016
বালিশবাবুর অফিসে - ২
- এস ও এস। এস ও এস।
- এ কী! বলা নেই কওয়া নেই, এমন জরুরী তলব?
- 'এ কী' বলে তো আমার চমকে ওঠা উচিৎ। চেয়ার থেকে উলটে পড়া উচিৎ।
- চেয়ার থেকে উলটে পড়া? রিয়েলি?
- আই মিন, চমকে আমার ঘাড় লেতকে যাওয়া উচিৎ। মুখ দিয়ে এক গাদা থুতু বেরিয়ে আসা উচিৎ।
- কেন! হলটা কী?
- এ'টা আমার গায়ে কী?
- জামা!
- ধেত্তের! এমন বিদঘুটে রঙচঙে কেন?
- বিদঘুটে? ট্রাইকলর তো!
- ট্রাই কী?
- তেরঙ্গা। ঝন্ডা উঁচা রহে হমারা।
- এ'সব কী?
- ভারতের পতাকার রঙের জামা। বুকে গেরুয়া। পেটে সাদা। নাভীতে অশোক চক্র। কোমরে সবজে। আজ দেশের স্বাধীনতা দিবস।
- সাদাটা ঠিক ছিল। গেরুয়া আর সবুজে চোখে কি ঝিলিক দিচ্ছে জানেন? ব্রেনে চাপ পড়ছে জানেন? ম্যাগোহ্!
- ব্রেনের কন্ডিশনিং দরকার। দেশকে চেনা দরকার।
- দেশ কে?
- কান্ট্রি। যেখানে আপনার জন্ম!। আমার জন্ম!। আপনার মায়ের জন্ম!
- দেশ হাসপাতাল?
- ম্যাক্রো লেভেলে যেতে আপনার সময় লাগবে।
- আপনার স্বপ্নে আমার অঢেল সময়। বলুন। কেয়া হ্যায় দেশ? দেশের জন্য চোখে ফোস্কা পড়া জামা পরব কেন?
- শাট আপ! স্টপ বিং ইনসেন্সিটিভ।
- জামায় বাহাত্তরটা রঙ থাকলে বেশি সেন্সিটিভ হত?
- এই ট্রাইকলর সিম্বলিক। আপনার দেশের। আপনার পরিচিতির।
- তাই তো জিজ্ঞেস করছি। দেশ কী? যেখানে আমার জন্ম? কলকাতার উডল্যান্ডস নার্সিংহোম?
- নাহ্। যে মাটিতে জন্ম। জননী জন্মভূমিশ্চ...না কী যেন।
- অপারেশন থিয়াটারে মাটি ছিল?
- ধ্যাত্তেরি। যে মাটিতে আপনার বাড়ি, হাসপাতাল! যে মাটিতে আমি টু পাইস করে খাচ্ছি, আপনাকে খাওয়াচ্ছি। বেসিক্যালি যে মাটি আপনাকে খাওয়াচ্ছে। সেই মাটি হচ্ছে দেশ।
- দেশের ব্রেস্ট মিল্ক আছে?
- মেটাফরিকালি আছে।
- রাইট অ্যান্ড লেফ্ট, বোথ?
- ইয়ে। টেকনিক্যালি। অ্যান্ড অলসো মেটাফরিক্যালি। ইয়েস।
- তো। দেশ হচ্ছে একটা এনটিটি যাকে মিল্ক করা যায়। রাইট আর লেফ্ট ইয়ে থেকে।
- না। ওয়েট। ভুল দিকে টানছেন।
- টানতে হয়। না টানলে ইট ডাজ নট ফ্লো।
- শাট আপ।
- এ কী! ফিজিক্স পড়েননি? আমিও পড়িনি। তবে আপনি দামড়া। যাক গে। রিফ্রেজ করছি। দেশ হচ্ছে লাইক আপনার ওয়াইফ।
- আরেকবার রিফ্রেজ করুন। নিজের মাকে বারবার 'আপনার ওয়াইফ' বলে ডাকাটা অসভ্যতা।
- উনি আপনার ওয়াইফ নন?
- আগে আপনার মা!
- আপনার বিয়ের আগেই আমি জাইগোটে ছিলাম?
- সরি। ইউ আর রাইট। দেশ হচ্ছে আপনার বাবার বৌ। করেক্ট।
- অরিজিনাল ব্রেস্ট মিল্কের জন্য আমায় হাবিজাবি কিছু পরতে হয় না। মেটাফোরিকাল মিল্কের জন্য অ্যাকচুয়াল চোখে সার্ফগুঁড়ো দেওয়া জামা পরতে হবে?
- উফ। জামাটা হচ্ছে আ টোকেন অফ রেস্পেক্ট।
- ফিজিকাল টোকেন অফ রেস্পেক্ট ফর সামথিং মেটাফরিকাল?
- ও'টা আমাদের পতাকা।
- নতুন টার্ম টেনে আনছেন স্যার।
- বাবা বলে ডাকতে পারেন।
- বাবা ডাক ফোটেনি এখনও আমার মুখে।
- বাতেলা ফুটেছে।
- বাঙালি হয়েছি আপনার দোষে। পতাকা কী?
- দেশের প্রতীক!
- বেশ। আমি আমার দেশের প্রতীক হিসেবে হালকা আকাশী নীল রঙ ঠিক করলাম। ও'টাই আমার দেশের রঙ। এবার আমায় ওই নীল জামাটা পরিয়ে দিন। বুকের প্যালপিটেশনটা কমুক একটু।
- না না। ইট ডাজ নট ওয়ার্ক দ্যাট ওয়ে।
- কেন?
- পতাকার রঙ প্রি ডিসাইডেড!
- কে করলে? কেন করলে? দেশ আমার, পতাকা আমার। মাহ্ লাইফ মাহ্ দেশ, মাহ্ রুলস মাহ্ পতাকা।
- নো স্যার।
- নো মানে? মগেরমুলুক নাকি?
- আরে এ'সব ন্যাশনাল আইডেন্টিটির ব্যাপার।
-ন্যাশনাল কী?
- দেশ সম্বন্ধীয়।
- দেশ কার?
- আমার। আপনার। সবার।
- আমারটুকুর পতাকা ফতাকা আমি বুঝে নেব।
- আরে বাবা তা হয় না। দেশের সবার পতাকা এক।
- কন্সেপ্টে গলদ আছে। আপনার পতাকা আমার কাছে ক্যাটক্যাটে। আমার দেশকে আমি ও পতাকায় স্ক্যান্ডালাইজ হতে দেব না। আমি বরং ভাবছিলাম স্কাই ব্লু ব্যাকগ্রাউন্ডে নেভি ব্লু ফ্লোরাল ডিজাইন। মাঝে মাঝে কার্টুন ডাইনোসর।
- এই ভাবে হয় না বস্ । আপনার মধ্যে ন্যাশনাল প্রাইড ইঞ্জেক্ট করার দরকার আছে। জন গন মন।
- জন গন মন কী?
- জাতীয় সঙ্গীত।
- তাতে কী?
- দেশের গান। দেশের পতাকার মত। জাতীয় গর্বের আধার।
- আমার দেশের গানও আমায় ঠিক করতে হবে।
- আরে বাবা আপনার দেশের গান পতাকা সবই ঠিক করা আছে। আগে থেকে। সবুর করুন, গর্ব জেনারেট হলো বলে।
- দেশের গান পতাকা নিয়ে গেল কাকে, আমি কাকের পিছনে দৌড়ব? তা'তে গর্ব হবে?
- নিয়ম।
- নিয়ম করে গর্ব?
- নিজের দেশ। গর্ব করবেন না?
- লে হালুয়া।
- লে হালুয়া কে শেখাল?
- দেবু কাকা।
- দেবুর কোনও সেন্স নেই। রাস্কেল।
- আজ আরেকটা শব্দ প্রথম শুনলাম। শিখলাম।
- কী?
- রাক্সেল।
- না। চোপ।
- রাস্কেল। রাস্কেল। এবার বলুন। দেশ কে নিয়ে কীসের গর্ব? আরও আছে তো? অন্য দেশটেশ?
- আলবাত। শয়ে শয়ে দেশ। কিন্তু সকল দেশের সেরা, আপনার দেশ।
- সকল দেশের সেরা? কে বলেছে? আমি বলিনি।
- গুনীজনে বলেছেন। সারে জঁহা সে অচ্ছা।
- বেসিস?
- ভায়ের মায়ের এত স্নেহ, কোথায় গেলে পাবে কেহ! গান আছে। শুনে দেখবেন, বুক চিনচিন করবে।
- দেবুকাকা ইয়ে কালি কালি আঁখে গাইলে আমার বুকে চিনচিন হয়।
- দেবুটা হারামি।
- আর একটা শব্দ। শিখলাম।
- উফফ। শুনুন। আপনি দেশকে ভালোবাসবেন। সে ভালোবাসা তৈরি করা আমার রেস্পন্সিবিলিটি।
- আলবাত ভালোবাসবো দেশকে। কিন্তু শয়ে শয়ে দেশ। একটু বুঝেশুনে নিতে হবে না?
- কী বুঝে নিতে হবে?
- কোন দেশকে ভালোবাসা দরকার। মানে..কার পতাকা ভালো, চোখে জ্বালা করে না। কার জাতীয় সঙ্গীতের সাথে কালি কালি আঁখের মিল আছে। সেই দেশ বেছে নিয়ে গর্ব করব'খন।
- আরে ধ্যার রে বাবা। ইট ডাজ নট ওয়ার্ক দ্যাট ওয়ে। আপনার দেশ ফিক্সড। পতাকা ফিক্সড। ন্যাশনাল অ্যান্থেম ফিক্সড। গর্ব জেনারেট যা করার এই নিয়েই করতে হবে।
- হারামি। রাস্কেল।
- চোপ। চোপ। এ'টা কী হল?
- না মানে, দেশের চয়েসেও ফ্লেক্সিবিলিটি নেই?
- নেই।
- মানে। জাস্ট লাইক চয়েস অফ ফাদার।
- রাইট।
- লে হালুয়া।
- চোপ।
- জাইগোটেই মনে হচ্ছিল সামথিং ইজ অ্যামিস।
- সরি।
- ইটস ওকে। এই ক্যাটক্যাটে তেরঙ্গা নিয়ে তো আপনাকেও দাঁত বের করে চোখ ছলছল করে থাকতে হয়।
- না মানে, এত মিল্ক করছি, এ'টুকু অ্যাডজাস্ট করব না?
- হুঁ। তবে শুনুন। এবারে আমার অফিস ছেড়ে বেরোন। সোফায় ফিরে যান, যেখানে আমায় কোলে নিয়ে বসে ঢুলছিলেন। এমার্জেন্সি।
- এক নম্বর? দুই?
- বমি। গেরুয়া সবুজ মিলে ব্রেন এমন ঘেঁটে গেল। জাগুন। জাগুন। জয় হিন্দ।
- ক্রমশ-