Saturday, May 7, 2016

চার জন

- দু'পশলায় ভ্যাঁপসা গরমটা অন্তত কেটেছে। - প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলো না সমর। - প্রসঙ্গ? কোন প্রসঙ্গ নেই। ওয়েদারটা যদিও খিচুড়ির,কিন্তু সে গুড়ে বালি। ব্যাচেলর মানুষ, রান্নার ব্যবস্থা রীতিমত অপর্যাপ্ত। তবে ডিনার না করিয়ে তোমায় ছাড়ছি না রীতা। পাঁচ মিনিট দাও। রমেনের দোকান থেকে ডিম তড়কা আর রুটি নিয়ে আসছি। - সমর প্লিজ। - শুকনো লঙ্কা ব্যবহার না করেও রমেন তড়কাটা এমন টানটান করে, না চাখলে বিশ্বাস করবে না। - সমর। আমার কাজটা তোমার করে দিতে হবে। - রীতা। রুটি তড়কার সাথে কাঁচা পেঁয়াজ খাও তো? - সমর। হেল্প করবে না? - রীতা দেখো...। - সমর প্লিজ। তোমার অনেক কানেকশন। - রীতা প্লীজ। আমি আর পাঁচটা বাঙালির মত চাকরী করি। - পুলিশে চাকরী করো তুমি সমর। কাম অন। হেল্প মি। - এগজ্যাক্টলি। পুলিশে চাকরী করি। এবং সে কারণেই আমি তোমায় সাহায্য করতে পারি না। - তাহলে কলেজে পড়ার সময় কেন বলতে? তুমি আমার জন্য সব করতে পারো? - সে'টা প্রেমের আলাপচারিতার স্ট্যান্ডার্ড রেটোরিক। - ওহ। কাম অন। সমর। আমি মরে যাবো। - দাম্পত্যের ঝামেলায় ফ্রাস্ট্রেশনে ভোগাটা নতুন কিছু নয়। ডিপ্রেশনও ন্যাচুরাল। কিন্তু তাই বলে কেউ বরকে খুন করাতে চায় না। - জ্ঞান দিও না। আমি নিজেকে তোমার হাতে সঁপে দিতে চাইছি আর তুমি...। - প্রেম ইজ ফাইন। আই মিন। তোমার জন্য ব্যাপারটা পরকীয়া জানি, কিন্তু আই অ্যাম প্লেয়িং অ্যালং। - আমি কি এতটা সস্তা? - এতে সস্তার কী আছে? আই স্টিল ফাইন্ড ইউ ইনক্রেডিব্‌ল। তড়কায় একটার বদলে দু'টো ডিম দিতে বললে কাজে দেয়। - শাট আপ। ইউ হ্যাভ টু হেল্প মি। - আমি এখনও বুঝতে পারছি না তুমি অনিন্দ্যকে ডিভোর্স দিতে চাইছ না কেন। - অনিন্দ্য একটা সিরিয়াল চিট। আমার জীবনটাকে ছারখার করে দিলো এই চার বছরে। - অনিন্দ্য জানে যে তুমি জানো? - নাহ্‌। আমি ভেবেছিলাম ওর মুখোমুখি হবো, কিন্তু ঘেন্না হয় প্রচণ্ড। - সেই জন্য ডিভোর্সের দিকে না গিয়ে তুমি চাইছ ভাড়া করা গুণ্ডা দিয়ে ওকে সরিয়ে দিতে। - আর সে'টা আমি তোমার সাহায্য ছাড়া করতে পারব না। - আই অ্যাম সরি। আমি তোমায় রাতে রুটি তড়কার সাথে রসমালাই অফার করতে পারি। কিন্তু কন্ট্র্যাক্ট কিলারের সাথে কানেক্ট করাতে বোলো না। - তুমি একটা...। - ইডিয়ট? - সমর, ইউ হ্যাভ টু হেল্প মি। নয়তো আমায় সুইসাইড করতে হবে। - রীতা। তুমি কি অনিন্দ্যকে ঠকাওনি? - মানে? - মানে। আমরাও তো ঘনিষ্ঠ হয়েছি। মাঝে মাঝে। মানে প্রায়ই। - সে'টা শুধু ওকে স্পাইট করতে। ও আমার পিছনে ছুরি বসাচ্ছিল...। - ওহ্‌। আমি তাহলে তোমার বরের পিঠে বসানো পালটা ছুরি। - এবার তুমি ঘ্যানঘ্যান শুরু কোরো না সমর। - রীতা। তুমি উন্মাদ হয়ে গেছো। - আমি সুইসাইড করব। - উন্মাদ। - সুইসাইড। - আমার একটা রেপুটেশন আছে। একটা...। - আমি তোমায় খুন করতে বলছি না। শুধু কন্ট্যাক্ট করিয়ে দাও। ভায়া মিডিয়া হলেও চলবে। আর গাইড করে দাও যাতে ধরা না পড়তে হয়। সমস্ত আটঘাট তোমার জানা আছে সমর। প্লীজ। - দিস ঈশ টু হিউজ। - আমায় আদর করবে এখন প্লীজ? - তড়কার দোকানটা বোধ হয় রাত সাড়ে দশটার পর...। - প্লীজ সমর! প্লীজ! আমি আর পারছি না। আর পারছি না। ** - দেখেন মেডাম...। - কাজে গড়বড় হলে কিন্তু...। - বিশ লাখ লিবো এমনি? কাম আপনার, রিস্ক হমার। ফুল প্রুফ। - লোকটা কিন্তু যে সে লোক নয়...। - বিশ লাখে নিজের বাপের লাশ গঙ্গায় বহিয়ে দিবো। ** - রীতা। - কী? - আনন্দবাজার দেখেছো? - কই! না তো। - না মানে...। - এবারে একটু খবরের কাগজটা ছাড়ো অনিন্দ্য... টোস্ট ঠাণ্ডা হয়ে যেতে বসছে। - ইট ইজ সিরিয়াস। - কী ব্যাপার? - তোমার সেই বন্ধু...। - বন্ধু কে? মিতা? অনিন্দিতা? - না না। ওই লেক থানার...কী যেন নাম ছেলেটার...সমর...। - ওর কোন খবর বেরিয়েছে ? - গতকাল ওর লাশ পাওয়া গেছে। হাওড়ার একটা জুটমিলের কাছে। - হোয়াট? - আই অ্যাম সরি। এই যে। তিনের পাতায়। রীতা! রীতা! আর ইউ ওকে? ** - রীতা, অল ওকে? - ঠিক আছি। আসলে সকালে সমরের খবরটা এমন দুম করে জানলাম...। - আই নো, ইউ ওয়্যার গুড ফ্রেন্ড্‌স। - অনিন্দ্য। একটা কনফেশন আছে। - টেল মি। - আর ইউ শিওর। - বলো। - তোমায় ছাড়া আমি অন্য কারুর কথা ভাবতে পারি না অনিন্দ্য। - আই নো, আই লাভ ইউ টু। তুমি ছাড়া আমার দুনিয়া অন্ধকার। অবভিয়াসলি। - মাঝে একদিন সমরের সাথে দেখা হয়েছিল, আই মিন; হপ্তা দুয়েক আগেই। - ওহ। তাতে কী? - আমি জানি না ওর মাথায় কী পাগলামি চেপেছিল, বলা নেই কওয়া নেই খপ করে আমার হাত ধরেছিল। পাগলের মত বলে চলেছিল সে নাকি আমায় ভালোবাসে, আমায় ছাড়া থাকতে পারবে না। - ইউ আর অ্যাট্রাক্টিভ। পুরনো বন্ধুদের পুরনো ব্যথা থাকবে, সে'টা অত্যাশ্চর্য কিছু নয়। - কনফেশন সে'টা নয়। - তবে? - আমার ওর হাত ছাড়িয়ে নিতে দু'তিন সেকেন্ড দেরী হয়েছিল। আর দেরী হয়েছিল বলে সেদিন থেকে আমি দগ্ধে মরছি। অপরাধবোধে। আমি তোমার। মনে প্রাণে তোমার অনিন্দ্য। অন্য কেউ আমার হাত ধরার সাহস পায় কোথা থেকে? আর সেই হাত ঠেলে সরিয়ে দিতে কিনা আমার দেরী হল? এহ! - ডোন্ট বি সো হার্ড অন ইওরসেলফ রীতা। আমি জানি তুমি আমায় কতটা ভালোবাসো। ঘটনাটার আকস্মিকতায় তুমি কয়েক সেকেন্ড রিঅ্যাক্ট করতে পারোনি, দ্যাটস অল। এক্সট্রিমলি সিলি অফ ইউ টু ফিল গিল্টি। - হতে পারে সিলি। কিন্তু আমি তোমায় ততটাই ভালোবাসি অনিন্দ্য। আমি তোমার হারাতে চাইনা। - কোনদিন তেমন হবে না। হতে পারে না। - অনিন্দ্য! জানো, এই ফালতু অপরাধ বোধেই সবচেয়ে বড় খবরটা তোমায় সপ্তাহ খানেক ধরে দেওয়া হয়নি। আমি চাইনি এই গিল্ট শেয়ার না করে তোমায় এত ইম্পরট্যান্ট খবরটা দিতে। - খবর? কী খবর রীতা? - অনিন্দ্য...। - কী? - আমি এক্সপেক্ট করছি। - রীতা! রিয়েলি? - আমায় আদর করবে প্লীজ? প্লীজ?

রেজাল্টের পরে

- এটা কোন রেজাল্ট হল অপাই?
- মানে...ফিজিক্সটায় এতটা ধ্যাড়াবো ভাবিনি...।
- কোথায় টপাটপ নাইনটি ফাইভ পারসেন্ট পাবি...তা না...।
- এতটা খারাপ হবে সেটা ভাবিনি বাবা।
- ধুস। সমস্ত জলে। পুরীর টিকিটটাই জলে গেলো।
- সে কী! ঘুরতে যাব না? বাবা!! শুধু নম্বরটাই দেখলে? আমার বয়েসের ক'টা ছেলে বিউলির ডালের বড়া ভাজতে পারে?
- শাট আপ অপাই। ভদ্দরলোকের এক কথা।
- কোন কথা?
- বাহ রে! সেই যে। এগজ্যামের আগে। দ্বিতীয় চিলেকোঠার চুক্তি হল। ভালো রেজাল্টে সমুদ্র; হুল্লাট মস্তি।
- তুমিও মস্তি বলবে বাবা?
- সরি। ভালো রেজাল্টে সমুদ্র। এন্তার ফুর্তি।  খারাপ রেজাল্টে পাহাড়।  কনটেম্পলেশন। চিন্তন।
- তাহলে তুমি সাততাড়াতাড়ি রেজাল্ট বেরোনোর আগে টিকিট কাটতে গেলে কেন?
- মনে হচ্ছিল উতরে দিবি।
- টেস্টের রেজাল্ট দেখে অন্তত তোমার দু'বার ভেবে নেওয়া উচিৎ ছিল।
- এবার উপায়?
- পুরী গিয়ে কন্টেম্পলেট করা যায় না বাবা?
- সরি। সমুদ্রের টেম্পলেটই আলাদা। বৌদ্ধদের দেখেছিস কখনও সমুদ্রের ধারে মঠ অপারেট করতে?
- পয়েন্ট। ধুস। যত দোষ ফিজিক্সের।
- শিলিগুড়ির টিকিট পাওয়া ইম্পসিবল এখন।
- বাস আছে তো। পেয়ে যাবো।
- ফিজিক্সের বাঁশ ইজ ফোর্সিং আস টু শিলিগুড়ির বাস।
- বাবা। পুরীর টিকিট হোটেল বুকিং ক্যান্সেল করতে অনেকনেক খরচা। মা থাকলে অ্যালাউ করত না।
- শিওর?
- শিওর।
- ভদ্রলোকের এক কথা তো। সেটাই ভাবছিলাম।
- ছোটবেলায় মনে আছে বাবা? আমি আর তুমি মিলে পুরীর সমুদ্রের ধারে বালির পাহাড় বানাতাম? মা বিরক্ত হত আমাদের জামাকাপড় বালিতে একাকার হচ্ছে বলে?
- হ্যাঁ। সে'টা ছোটবেলাই ছিল বটে। বেশ। পুরী। বাট ফর দ্য সেক অফ কন্টেম্পলেশন, নো মালাইকারি।
- ডিল।

ছাত ও মেজানাইন

মাথায় অল্প মিঠে ঝিমঝিম ভাব, চোখে আবছা হলুদ নীল মেশানো অন্ধকার। ছাদের গন্ধ কি রাতের এদিকটায় বদলে যায়? ঠাহর করা যাচ্ছিল না। পাঁচিলে ঠেস দিয়ে বসেছিল দীপু, দুই পা ছড়িয়ে।
জিভ গলা শুকিয়ে আসছিল, বুকের ফড়ফড়ানিটা অবশ্য বেশ মিষ্টি। বেশ।

"গাঁজা খেয়েছিস? স্কাউন্ড্রেল, গলা কেটে নেব"!! কিচির মুখটা পতপত করে চোখের সামনে ভাসছিল। ওর ঠোঁটের ডান কোণ ঘেঁষে ঝাপসা একদানা তিল, মোমের আলোর মত ভাসছিল।

মেয়ের গন্ধরাজ প্রিয়, মেয়ে অতুলপ্রসাদে কাঁদে; সে কিনা বলে গলা কেটে নেবে। ছাতটা দুলে ওঠে; সামান্য। স্নেহ তিরতিরিয়ে ওঠে। দীপু ভয় টের পায়।

ছাতে তো সে একা। বাবা মা মালদা গেছে, দিদাকে দেখতে। দীপু বাপ্পার বানানো কল্কের আকাশে, ভাসমান। নয়নতারার টবগুলো জ্বলছে নিভছে, দীপু এক্স অ্যাক্সিসে ডিগবাজি খেয়ে ওয়াই অ্যাক্সিসে গিয়ে রিবাউন্ড খাচ্ছে। এফোঁড় ওফোঁড় হচ্ছে।

অবভিয়াসলি কিচির গনগনে মুখটা কল্কে জেনারেটেড।
গন্ধটা স্পষ্ট যদিও, বোরোলিনের মত খটখটে। অথবা অঙ্কের খাতা আর ক্যাসেটের ইনলে কার্ড মেশানো একটা তিরিক্ষি ব্যাপার মিশে। কিচির ঠোঁট ফেটেছে অসময়ে। ঠোঁটের ডান কোণে ঝাপসা এক দানা তিল, মোমের আলোর মত ভাসছিল। কিচির মুখ ফের পতপত করে ভেসে উঠলো; "স্কাউন্ড্রেল, গাঁজা খেয়েছিস? এই তোর উচ্চমাধ্যমিকের ফোকাস?"।

কিচির গন্ধে গলা ভেজে। ওকে বলা যায় না। শুধু বলা যায় দিদার বায়োপ্সি রিপোর্ট খারাপ। কিচির না থাকা ছাদে এসে জমা হয়। জমা হয় দিদার বায়োপ্সি রিপোর্ট। কিচির ঠোঁটের পাশে আবছা কালো তিল, লাস্ট স্টেজ। কিচির গন্ধরাজ প্রিয়।

বারোয়ারীতলার মাঠের পেট বরাবর পার্পেন্ডিকুলার কাটলে, বিস্কুট রঙের বাড়ির মেজানাইন ফ্লোরের ছোট্ট ঘরে কিচির নাইট ল্যাম্প। সবজেটে।

কিচির কান্নায় বালিশ ভেজে। দীপুকে বলা যায় না। কাকীমা কাকু স্রেফ দিদার রিপোর্ট শুনে আজ ছুটে যাননি। দীপুর কাল উচ্চমাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা খতম হলে তবে জানবে যে ছোটবেলা খতম।

কিচি নিজের ওষ্ঠ কামড়ে ধরলে আবছায়ার তিল ডুবে যায়। দীপু জানে। কিচিকে বলা যায় না। বড় হওয়াগুলো কিচিকে বললে সে গলা কেটে নেবে।

Friday, May 6, 2016

শাসমলবাবুর কাণ্ড

- ডাক্তার, আমায় নিয়ে এ'সব কী শুরু করেছেন বলুন তো?
- এখনও কিছুই শুরু হয়নি শাসমলবাবু। এ তো কলির সন্ধ্যা। আগামীকাল ইউরোপিয়ান ভাষাবৈজ্ঞানিকদের দল আসছে আপনাকে দেখতে। আপনার সাথে কথা বলতে, আপনাকে স্টাডি করতে। পরশু আসছে জাপানীরা। আমি তো একপ্রকার নিশ্চিত, আমেরিকানরা এ হপ্তার মধ্যেই একটা টিম পাঠাবে। দুনিয়া জুড়ে আপনাকে নিয়ে একটা সেনসেশন তৈরি হয়ে গেছে। শেষ এমন বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, আমার যদ্দুর মনে পড়ছে ফর্টি সিক্সে; যে'বার চাঁদে শিমুলগাছের চাষ করলেন জন ফোগার্ট।
- না মানে...সবাই একটু ইয়ে...ওভার রিয়্যাক্ট করছে না? ঘটনাটা কিন্তু অতি সামান্য ডাক্তার...।
- সামান্য? কী বলছেন? গড়িহাটের ভিড় ফুটপাথে এক ভদ্রলোক বেমালুম আপনার পা মাড়িয়ে দিলে আর আপনি তাকে বললেন 'দাদা, আপনি আমার পা মাড়িয়ে দিয়েছেন'। এ'টা সামান্য ঘটনা?
- সামান্যই তো...উনি পা মাড়িয়ে দিলেন, আমিও তাই বললাম।
- আমেজিং। ইনক্রেডিবল। ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে, একজন আপনার পা মাড়িয়ে দিল আর তাকে আপনি শুধু বললেন 'আপনি আমার পা মাড়িয়ে দিয়েছেন'। একটা খিস্তিও না জুড়ে আপনি এই সাংঘাতিক কথাটা কমিউনিকেট করতে পারলেন। চারক্ষর নয়, ইংরজির অমুকহোল তমুকহোল নয়, জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে কিউরিওসিটি নয়, এমনকি কানা-ইয়েও না জুড়ে আপনি দিব্যি নিজের উষ্মা প্রকাশ করে ফেললেন। আর নিজের রাগ শুধু প্রকাশ করতে পেরেছেন তা নয়, পা-মাড়িয়ে ভদ্রলোককে দিয়ে আপনাকে সরিও বলিয়ে নিয়েছেন। কমিউনিকেশনের ইতিহাসে এমন বিপ্লব আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে আগে ঘটেছে কী?
- ঘটেনি?
- নেভার।
- না মানে...ইনফরমেশনটা কমিউনিকেট করতে পারা নিয়ে কথা...।
- সেটাই তো! অভাবনীয়,  অভূতপূর্ব,  অবিশ্বাস্য!  খিস্তি ছাড়া যে ইনফরমেশন বা সেন্টিমেন্ট কনভে করা যায়, গত দুই শতকে এমন কোনও এগজ্যাম্পল নেই যে! বিষেকানন্দকেও শিকাগোতে বললে হয়েছিল "মাই আমেরিকান ঢ্যামনাস অ্যান্ড ঢেমনিস"। মোহন গন্দিকেও মরার আগে আর্তনাদ করতে শোনা গেছিল "হে হারামি"।
সাবাস বসুও সে'বার পাবলিককে মোটিভেট করতে বলেছিলেন "ধুর বাল রক্ত ফক্ত না পেলে কী ছিঁড়ব?"। শাসমলবাবু আপনার একটা কথা "দাদা, আপনি আমার পা মাড়িয়ে দিয়েছেন"; একদিন পৃথিবী পালটে দেবে। দেবেই!

ফার্স্ট কাপ্‌ল

- এ কী! 
- এ কী মানে?
- এ কাদের ধরে এনেছো?
- কেন? যেমনটি বলে এনেছিলেন। 
- যেমনটি বলেছিলাম? ইয়ার্কি হচ্ছে? আটশো বাহাত্তর অলোকবর্ষ দূরের গ্রহ থেকে আমি এদের আনতে বলেছি?
- বিলকুল। ফার্স্ট কাপ্‌ল অফ দ্যাট প্ল্যানেট। 
- এই এরা? এরা ফার্স্ট কাপ্‌ল অফ আর্থ? এই ডিবাকেলের পর আমাদের গ্রহের মানুষজনের নেতা হিসেবে আমার আর সম্মান থাকবে ভেবেছ? অপদার্থ কোথাকার।
- কী মুশকিল! আরে এরাই ওই গ্রহের ফার্স্ট কাপ্‌ল। আমার রিসার্চ টিমই তো অ্যাডভাইস করলে ওয়াশিংটন নামক এলাকা থেকে এদের তুলতে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস্‌ ওবামা। 
- তোমার মাথা। তুমি পাগল আর তোমার রিসার্চ টিম পেট খারাপ। দুম করে দু'জনকে উঠিয়ে নেওয়ার আগে একবার আমায় ভিডিও কল করে কনফার্ম করতে পারলে না?
- এয়ারটেলের ইণ্টার প্ল্যানেটারি ফোর জি বিট্রে করলে। ওই মেয়েটা অ্যাডে যতটা বাতেলা মারে ততটা স্ট্রং নয় কিন্তু ওদের নেটওয়ার্ক। রিয়েলি। বিশ্বাস করুন। 
- ইউসলেস্‌। নাও, এখন ফের ওয়াপিস যাও। সময় নষ্টের গাছ। দেখি তোমার সামনের ইঙ্ক্রিমেন্ট কার বাবা পাইয়ে দেয়।
- আপনি শিওর এই ওয়াশিংটনের ওবামারা ওখানকার ফার্স্ট কাপ্‌ল নয়? 
- অফ কোর্স নয়। 
- তবে কারা ফার্স্ট কাপ্‌ল?
- বলে দিচ্ছি। এবার যেন ভুল না হয়। ওকে?
- ওকে। কিন্তু কারা? ফার্স্ট কাপ্‌ল?
- দাদা বৌদি। ফ্রম ব্যারাকপুর।