Tuesday, April 19, 2016
কল্পনা যন্ত্র
অপটিমিজ্মের উপন্যাস
নিবারণবাবু গেলাসের দিকে তাকিয়ে ঘাবড়ে গেলেন।
২
অপ্টিমিজ্ম প্র্যাক্টিস করতে নিয়মিত টাইপরাইটার বয়ে নিয়ে ছাদে উঠে যান অমল সেনগুপ্ত।
৩
মৃদু খটখট যেটা কানে আসছে সে'টা গেলাসের মধ্যে থেকেই আসছে; নিবারণবাবু নিশ্চিত।
৪
পাঁচশো বত্রিশ নম্বর "আজ মেঘ করবে" টাইপ করে খানিক থমকালেন অমলবাবু; আর চারশো আটষট্টি লিখলেই ল্যাঠা চুকে যায়।
৫
খটখটটা ক্রমশ অসোয়াস্তিকর জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছিল; কড়ে আঙুলে ফতফত করে কান চুলকে চেয়ার ছেড়ে সোজা দেরাজের দিকে হেঁটে গেলেন নিবারণবাবু।
৬
অল্প মেঘ জমছিল যেন, আচমকা দমকা হাওয়ায় সাফ হয়ে গেল; গজগজ করতে ফের টাইপে মন দিলেন বিকেল রোদে ঘর্মাক্ত অমলবাবু।
৭
এটা কি ভয় না আশা; সে ভাবনায় মশগুল হয়ে না জ্বালিয়েই ঠোঁটের সিগারেট টানতে লাগলেন নিবারণবাবু।
৮
সাতশো বাহাত্তর নম্বর "আজ মেঘ করবে"তে এসেও আকাশে মেঘের কালো দানা না বাঁধায় খানিক দমে গেলেন অমলবাবু; আজও নামবে না কি?
৯
"নাহ", ফুঁসে উঠলেন নিবারণ,"বড় কাজ ফেলে রাখতে নেই"; বলে সাহস করে দেরাজ খুলে সলিউশনের শিশিটা নামিয়ে ফের টেবিলে রাখা গেলাসটার দিকে এগিয়ে গেলেন তিনি।
১০
টাইপিংয়ের স্পিড বাড়িয়ে দিলেন অমলবাবু, আজ দু'এক পশলা না নামালেই নয়।
১১
দু'চামচ সলিউশন, আধ গেলাস গেলাসে গুলে ঢকঢক করে খেয়ে ফেলা ;এ জঘন্য দুনিয়ায় অনেক হয়েছে- এবার নিবারণ মুক্তি চান।
১২
আটশো বিরানব্বুই নম্বর "আজ মেঘ করবে" টাইপ করতেই আকাশের এক নিপাট ভালোমানুষ কোণে কালশিটে নজরে পড়লো অমলবাবুর।
১৩
মৃদু খটরখটর শব্দটা গেলাস থেকেই আসছে আর নিবারণবাবুর গা জ্বালিয়ে দিচ্ছে; কিন্তু এখন সময় চুমুকের - সাত পাঁচ ভেবে ধানাইপানাইয়ের নয়।
১৪
আকাশের কালো উপচে এলো হঠাৎ; ন'শো তেপ্পান্নর মাথায় লাফিয়ে উঠলেন অমলবাবু।
১৫
চুমুক দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই নিবারণবাবুর মনে হল যেন খটখট থামলো বোধ হয়; বাঁচা গেল, এবার নিশ্চিন্তে মরা যাবে।
১৬
ঝপাৎ করে বাকি "আজ মেঘ করবে"গুলো টাইপ করে ফেলতে বসে পড়লেন অমলবাবু।
১৭
চুমুক দেওয়ার সময় নিবারণ স্পষ্ট টের পেলেন খটখট বিশ্রী শব্দটা গেলাস থেকে গড়িয়ে তার গলা বেয়ে বুকে নেমে গেল; সলিউশনের সাথে।
১৮
অপ্টিমিজিমের তাগতে মুগ্ধ হলেন অমলবাবু; তবে ভিজে কাক হওয়ার আগে মাথার ওপর ছাতাটা মেলে ধরা কর্তব্য বলে মনে করলেন তিনি।
Sunday, April 17, 2016
হিউমর
- অমন হাঁ করে তাকিয়ে কী দেখছ?
- পেন্টিংটা।
- পেন্টিং?
- পেন্টিং। মাস্টারক্লাস।
- জুয়োচুরি? এ তো সাদা ক্যানভাস। একটা আঁচড়ও নেই।
- তুমি দেখতে পারছ না।
- পেন্ট করা আছে অথচ দেখতে পারছি না?
- না।
- ইয়ার্কি হচ্ছে?
- অন দ্য কন্ট্রারি। আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সিরিয়াস। পেন্টিংটার নাম কী জানো?
- কী?
- হিউমর।
- হিউমর?
- হিউমর।
- আমি তাহলে সাদা ক্যানভাস দেখছি কেন?
- কারণ hue মরে গেছে।
রেস্ট্রিকশন
- বলুন দাদু।
- বলছিলাম...স্পেশ্যাল মোগলাইটা স্পেশ্যাল কেন?
- এক্সট্রা ডিম।
- ওহ। আর কষা মাংস।
- হাফ না ফুল?
- হাফে ক'পিস? আর ফুলে?
- চার পিস, আট পিস। হাফ দিই?
- ফুল দাও।
- স্পেশ্যাল মোগলাই আর কষা মাংস, তাই তো?
- থাম্স আপ দিও। একটা।
- তিনশো এমএল না দু'শো?
- তিনশো।
- মেনুটা নিয়ে নিই?
- থাক্ না এখন।
- আচ্ছা।
- একটু তাড়াতাড়ি দিও।
- দশ মিনিট লাগবে দাদু।
- পাঁচ মিনিটে হবে না?
- অত তাড়া দিলে হবে না দাদু। কাস্টোমারের ভিড় দেখছেন তো!
- একটু দেখো না বাবু, যত তাড়াতাড়ি হয়। আমার বড় তাড়া। হসপিটালে যেতে হবে যে।
- হসপিটালে দাদু?
- মাংস তেলে রেস্ট্রিকশন আই সি ইউতে ভাই।
- মানে?
- ডাক্তার বলে দিয়েছে। এখন তখন।
- কার এখন তখন? আপনার?
- আমি কী আইসিইউ তে?
- না আপনি এখানে। তবে কার?
- চল্লিশ বছর ভাইটি। আমার রেস্ট্রিকশনই যদি না থাকে, তাহলে আর আমার রেস্ট্রিকশনে কাজ কী বলো? একটা মোগলাই। স্পেশ্যাল। একটা মাংস কষা। ফুল। একটা থাম্স আপ। তিনশোর। ক্যুইক। ক্যুইক।
