Tuesday, April 12, 2016

মিত্তিরদের গল্প

- আসুন।
- আছেন কেমন?
- সিগারেটে কোন...!
- না না। আমার অসুবিধে নেই।
- বলুন।
- যা গরম পড়েছে...।
- সিধুবাবু, সাত মিনিটের মাথায় দারুওয়ালার সাথে একটা চ্যারিটি ইভেন্টে যাওয়ার আছে। গাড়ি এসে হর্ন দিল বলে।
- বেশ। প্রসঙ্গে আসি। অমল ব্যানার্জি। প্লাস্টো নেশনের এমডি...।
- বেয়াল্লিশ। গল্‌ফ।  জনি ওয়াকার। ব্রীজ। টালি ক্লাব। ধর্মে মন আছে।
- ফেলু একটা বিষয়ে ফাঁপরে পড়ে আমায় ফোন করেছিল। অমল ব্যানার্জির ব্যাপারে কয়েকটা বিশেষ তথ্য জানতে চায়। আমি ওকে আগামীকাল আসতে বলেছি। অ্যাজ ইজ অলওয়েজ দ্য কেস্‌; কচি মিত্তিরের সমস্যা যদি সিনিয়র মিত্তির সল্ভ না করে..।
- নটবর মিত্তির পায়ের তলায় ঘাস গজাতে দেয় না, জানেন তো?

আনন্দদা ও মা

আনন্দদা ছুটির দিনে বাজার করে ফেরার মুহূর্তটা রেলিশ করেন।

মা একবার খোঁজ করবেনই, "আনন্দ, বাজারটা কোথায় রে?"।

আনন্দদা পুরোনো ঠাট্টা ঠেলে দেবেই "দ্যাখো, বাবা বোধ হয় বাথরুমে রেখে চলে এসেছে"।

মা একবারের জন্য থমকে যাবেন। যেতেই হয়। যেমন নিয়মে থমকে যাওয়া। ঠাট্টার দু'মুহূর্তে যেমন ভুলে যেতে হয় যে সে'দিনের পর থেকে আর বাংলা কাগজ বাড়িতে ঢোকে না।

অল্প ভার পেরিয়ে ফের হাসি। টাইমস অফ ইন্ডিয়া টেনে নিয়ে প্রসঙ্গান্তরে যাওয়া আনন্দদার।

সী অফ

"সী অফ করার পরের ইউ-টার্নিও হাঁটা। সে হাঁটায় হনহনিয়ে চলে যাওয়া থাকলে বুঝতে হবে সী-অফে তেজ ছিল"।

"ও"।

"কী বুঝলি"?

"কী বোঝার আছে"?

"তার ইউ টার্ন কেমন ছিল"?

"তার? কার?"।

"ন্যাকা সিং গাধাকার"!

"আহ মামা"!

"চোপ! গত পরশু! হাওড়া। বারো নম্বর প্ল্যাটফর্ম। এস তেরোর পিছনের দরজা"।

"ছিঃ মামা"।

"গার্জেন আমি"।

"তাই বলে ফলো?"।

"বলো"।

"কী"?

"ইউটার্নের হাঁটার পেস। হনহন ছিল"?

"মামা"।

"বাবু"।

"দৌড়"।

"হোয়াট"?

"দৌড়"।

"ভাসিয়ে এলি"?

"গেল গিয়ে।  ভাসিয়ে"।

প্রতিবাদ

- কেক বলে কি প্রতিবাদ করব না?

- আলবাত করবি।

- করতে দিচ্ছে কই?

- যতবার মোম জ্বলে মানুষের ব্যাটা ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেয়।

- কচুকাটা। কচুকাটা হয়ে যাচ্ছি। আমরা সক্কলে। মোমবাতি প্রতিবাদ ইজ সিম্পলি নট এনাফ।

হে মোর দেবতা

- হে মোর দেবতা...।

- ভল্যুম কমাও।

- আজ্ঞে?

- ভল্যুম। কমাও।

- না মানে...প্রার্থনা করছিলাম...।

- প্রার্থনা? অ্যালার্ম সেট করো। প্রার্থনার চেয়ে টাইমলি ঘুম থেকে উঠলে বেশি কাজ হয়।

- রোজ সাড়ে ছ'টা দেবতা। ছেলের স্কুল। বাজার। স্নান। আনন্দবাজার।

- পৌনে ছ'টা করো। আধ ঘণ্টার ব্রিস্ক ওয়াক। হেলথ ইজ ওয়েলথ।

- হেলথ গড়তে গিয়ে জান কয়লা হবে যে। ভোরের ঘুম, পায়েসের কড়াইয়ের চাঁছি।

- উপায় নেই। উপায় নেই।  দেবতা দেবতা করে ঘাঁটানো বন্ধ করো বাপ।

- আপনার অ্যালার্মের দরকার পড়ে না? দেবতা?

- সে দরকার পড়ে না বলেই তো দেবতা। এবার ঘ্যানঘ্যান একটু কমালে কানে ইয়ারফোন দিয়ে লম্বা হই। পাশবালিশ ডাকছে।

- হে মোর...।

- চোপ! শালা!