Friday, April 1, 2016

নতুন টেকনোলজি

- কী!
- কী কী?
- বলি আইডিয়াটা কীসের?
- ওহ্‌। আইডিয়া।
- নয়তো রাত দুপুরে ঘুম ভাঙিয়ে দেখা করতে এলে কেন? ঈশ্বরের দোহাই, যদি এপ্রিল ফুল বলো তাহলে পিঠের চামড়া তুলে নেব।
- আহ্‌! বড় বদ মেজাজ তোমার। আর কথায় কথায় ঈশ্বরের দোহাই টেনো না। 
- ব্যাপারটা কী বলো তো?
- ঈশ্বরের বার্তা জনে জনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন বুদ্ধি মাথায় এসেছে।
- বল কী! আরও বেশি বেশি মানুষ নিকেশ করা যাবে?
- এই করে তুমি ধর্মগুরু যে কী করে বনলে ভাই! মানুষ নিকেশ আবার কী ধরণের ভাষা? 
- থুড়ি। এই নতুন টেকনোলজিতে আরও বেশি বেশি মানুষের কাছে ঈশ্বরের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে?
- অনেক বেশি মানুষের কাছে। ঝ্যামেলাও কম। মুনাফাও রয়েছে। 
- ঈশ্বরের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে,ঝামেলা কম হবে, তারপর আবার মুনাফা? 
- মুনাফা। দু'হাত দু'পকেট ভরা মুনাফা। 
- আইডিয়াটা কী ভাই? নতুন ধরণের বোমা কিছু?
- ফুঁ:! ও'সব তো আজকাল ওয়াটার অ্যান্ড রাইস। 
- আরও বীভৎস ল্যান্ডমাইন? কেমিক্যাল ওয়েপন?
- মাথা মুটিয়ে গেছে গো তোমার। ফল বাদাম খাও। 
- আরও ভয়ঙ্কর?
- সঙ্গে মুনাফা।
- আর সাসপেন্স রেখো না ভাই। বলে দাও। ঈশ্বরের দোহাই। 
- ফের দোহাই?
- বলো না! প্লীজ!  মানুষ নিকেশ...থুড়ি...ঈশ্বরের বার্তা বিলির খতরনাকতর উপায়। সঙ্গে প্রফিট। সে'টা কী?
- ওভারব্রিজ বানানোর ব্যবসা!
- হোয়াট?
- বালিতে জল। গুড়ে বালি। ধস্‌স্‌স্‌স্‌স্‌স্‌স্‌স্‌। মানব বোমা হয়ে ফেউ ফেউ করে ঘুরবার ঝামেলা নেই। খুকুদের দোলনার নিচে বোমা বাঁধার হ্যাপা নেই। লার্জ স্কেল সলিউশন। কিলো কিলো মানুষ চালান দাও, দলা পাকিয়ে বের করে আনো। ঈশ্বরের বার্তাও ছড়াল, পকেটও ভরল। অল ইন আ অ্যাক্ট অফ গড!
- অপার্থিব!

Wednesday, March 30, 2016

কন্সটিটিউশনাল

- প্রাইম মিনিস্টার। 
- ইয়েস বাবু!
- ওয়েল ডান। 
- ইউ আর কাইন্ড অ্যাস ইউসুয়াল।
- উই উইল মিস্‌ ইউ। 
- জানি। আমিও মিস্‌ করব। তোমাদের। এই অফিসটা। এই টেবিল। রোজ সন্ধ্যাবেলা বিজেন্দরের  প্যান্ট্রি থেকে আসা পকোড়া। 
- এই অফিস,টেবিল,পকোড়ার বাইরেও আপনি অনেকটা জুড়ে ছিলেন প্রাইম মিনিস্টার। ইউ লেড আ কান্ট্রি। 
- আই হ্যাভ নেভার বিন আ লিডার। 
- দ্যাট্‌স হোয়াট হেল্প্‌ড ইউ টু লিড ওয়েল। 
- আহ্‌ বাবু! আই উইল মিস ইওর পিঠ চাপড়ানি।
-  নিন। পকোড়া চলে এসেছে। 
- বিজেন্দরের মত যদি পাংচুয়াল হতে পারতাম বাবু। 
- ইউ হ্যাভ নেভার বিন আবাউট সিস্টেম পিএম। হলে এ সাফল্য আসত না। 
- সাফল্য? হবে হয়তো। 
- সাফল্য নয়? দেশে মানুষ খুনের সংখ্যা কয়েক বছরের মধ্যে অর্ধেক হয়ে গেল। সে'টা সাফল্য নয়?
- আহ্‌! আচ্ছা!
- ল্যান্ডমাইন ব্লাস্ট। মানব বোমা। ছুরি। বন্দুক। গলায় ব্লেড। টুঁটি টিপে দেওয়া। প্রতি মিনিটে কতজন যে খুন হত...। ইউ চেঞ্জড ইট অল। ধর্মের জন্য খুন, ইডিয়লজির জন্য খুন, বদলার জন্য খুন, মজার জন্য খুন, খুনের জন্য খুন। আহ। যন্ত্রণা। আপদ চুকেছে। 
- কে ভেবেছিল বল বাবু যে ক্যানিবালিজ্‌মকে কন্সটিটিউশনাল করে দেওয়ায় দেশে খুনের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম হয়ে যাবে। কে ভেবেছিল?
- দূরদর্শিতা আপনার ছিল পিএম। 
- খাওয়ার জন্যে খুন করতে পারলে অন্য গবেট খুনগুলো বন্ধ হবে। হাঞ্চ ছিল। তবে তা এমন ফলে যাবে ভাবতে পারিনি। 
- পকোড়া ঠাণ্ডা হয়ে যাবে স্যার। আজকেরটা বিজেন্দ্রর স্পেশ্যাল রেসিপি। ফেয়ারওয়েল পকোড়া।
- তা সে এলো না আজ পকোড়ার প্লেট হাতে?
- স্পেশ্যাল পকোড়া প্রাইমমিনিস্টার। মোস্ট স্পেশ্যাল। বিজেন্দ্র আর আসবে না। কাসুন্দি নেবেন?

এন্ড

ইয়ার এন্ড


জানালাটা কচরমচর করছে। ছিটকিনি বিট্রে করল বলে। এই দুপুরেও ঘরটা আবছায়ায়। টেবিল থেকে পেপার ওয়েট নিয়ে খানিক লোফালুফিতে মন শান্ত হল না।

কম্পিউটারের স্ক্রিনসেভারে একটা বেড়াল ক্রমাগত চোখ মেরে চলেছে। রিমাইন্ডার স্লিপগুলো টেবিলে ছড়িয়ে, অযত্নে। এসি আর ফ্যান মিলে ঘাম মোছাতে পারছে না।

অথচ ইয়ার এন্ড প্রেশার তাঁকে স্পর্শ করেনি আদৌ, বরং পিয়ার এন্ড প্রেশার তার রক্ত চাপ দ্বিগুণ করেছে।

"ইহার এন্ড দেখিয়া ছাড়ব", ওথেলো দত্তর ঝোড়া স্বগতোক্তিতে ফড়ফড়িয়ে উঠল টেবিল ক্যালেন্ডারের মার্চের পাতা।


উইকেন্ড

- উইকেন্ড ইজ হিয়ার।
- এ কী রে! আজ মঙ্গল।
- সে কী! আজ শুক্রু নয়?
- সে কী!
- আজ শুক্রু নয়?
- কেন হবে? টিউসডে!
- আজ রামের বোতল বগলে বাড়ি ফেরা নয়?
- এমন ভীমরতি কেন?
- আজ কাল মাটনের দোকানে লাইন নয়?
- চারাপোনা।
- অ্যালার্ম ঘড়ির ব্যাটারি খুলে মোবাইল স্যুইচ অফ করে ঘুমোতে যাওয়ার দরকার নেই আজ?
- বিলকুল নেই।
নিজের মনের বেলুনে নিজের হিসেবের ছুঁচ ফুটিয়ে রাতের ঠাণ্ডা বালিতে এলোমেলো গেলেন ক্রসোবাবু।

মনোজবাবুর তিন

“আই মিস্‌ ইউ” মার্কা মেসেজ্‌ পড়লেই গা গুলোয় মনোজ চ্যাটার্জির। “ধুর শালা” বলে রিপ্লাই করার আগে চানাচুরের বাটিটা কাছে টেনে নেওয়ায় খানিকটা সুস্থ বোধ করলেন তিনি।

**

- শাড়ি চাই। একটা। 
- তাঁত? সিল্ক? নাকি...।
- পুরো লাল না হলেও লালচে। মিনিমাম হলুদ থাকলে বাদ। দাম পনেরোশো থেকে সাড়ে পনেরোশোর মধ্যে। 
- আঠেরোশো থেকে...। 
- পনেরোশো থেকে সাড়ে পনেরোশো।
- প্রায় ওই রেঞ্জেই আর কী!
- প্রায় নয়। ওই রেঞ্জেই। 
- আসলে দোকান ভরা শাড়ি, দেখতেই পাচ্ছেন প্রচুর ভ্যারাইটি!
- আচ্ছা। লাল। সবুজ বা হলুদ চলবে না কোন ভাবেই। দাম পনেরোশো থেকে পনেরশো পঁচিশের মধ্যে। স্ট্রিক্টলি। 
- না মানে...। 
- দোকান ভরা তেমন শাড়ি?
- না। মানে অত স্ট্রিক্টলি দেখলে...।
- অতটাই স্ট্রিক্টলি দেখুন। নয়তো আমি বাদ। 
- পাঁচ মিনিট দিন।
- ছ'মিনিট নিন। কিন্তু ছয় বলে সাত মিনিট নেবেন না। প্লীজ।

*সাড়ে চার মিনিটের মাথায়*
- স্যার। আপনার স্পেসিফিকেশনে মাত্র দু'টো শাড়ি। লালচে। সবুজ, হলুদ একদম নেই। দাম আপনার রেঞ্জে। একটা হচ্ছে তাঁত...।
- স্টপ। কোয়ালিটি কে জানতে চেয়েছে? দু'টোর দাম কত?
- দেখাচ্ছি আপনাকে!
- দেখতে কে চেয়েছে?
- না মানে...। 
- কে চেয়েছে দেখতে?
- ও। না। তাই তো। বলছিলাম একটার দাম ডিসকাউন্ট করে পনেরোশো দশ। অন্যটা এগজ্যাক্টলি পনেরোশো পঁচিশ। 
- পনেরোশো পঁচিশেরটা প্যাক করিয়ে দিন। 
- একবার দেখবেন না?
- দেখতে কে চেয়েছে? 
- পেমেন্টটা কাউন্টারে হবে স্যার।

মনোজ চ্যাটার্জি বছরে একটা শাড়ি কেনেন। কিনতে বাধ্য হন। বিবাহবার্ষিকীর উপহার। প্রতি বছরের মত এবারও বারো মিনিটের কমে শাড়ির দোকান থেকে প্যাকেট হাতে বেরিয়ে এলেন মনোজবাবু। বেরিয়ে মোবাইলের স্টপওয়াচটা বন্ধ করলেন। এগারো মিনিট তেরো সেকেন্ড। গত বারের দশ মিনিট পঞ্চান্ন সেকেন্ডের রেকর্ডটা অধরা রয়ে গেল খুচরোর গোলমালে। ধুস্‌।

**
মনোজবাবু ইকুয়ালিটিতে বিশ্বাস করেন। ব্যান্ডেল লোকালে উঠে পাওয়া গেল একটা জানলা অথচ ক্যান্ডিডেট দু'জন; মনোজবাবু আর পাপনকুমার।
অতএব, টস। পাপন বললে টেল, মনোজবাবু বললেন "ইয়েস!!!"।
টসে হেরে পাপনকুমার জানলায় বসার অধিকার হারালে। মনোজবাবু সাত বছরের পুত্র পাপনকে ইকুয়াল অপরচুনিটির শিক্ষা দিতে পেরে তৃপ্ত হয়ে জানালার ফুরফুরে হাওয়ায় মেজাজ ভাসিয়ে দিলেন।

Monday, March 28, 2016

পিচকাই আর আবডাল

পাঁচ নম্বর সিঁড়িটা জলের এক ইঞ্চি নিচে, গোড়ালি ভিজিয়ে দাঁড়ানো যায়। ছয় নম্বর দেখা যায়, সাত আবছা, আটে কালচে সবুজ অস্পষ্টতা।  নয়, দশ, এগারো অন্ধকারে।
পিচকাই বারো ছুঁয়ে ভেসে যেত। শ্যাওলা সবুজ জল চিরে মাঝপুকুরের টলটল। ছপছপ ছপ্পর। ওপারে পানা।
পিচকাই। মায়ের মুখ বসানো, গায়ে ঘাসপুকুর গন্ধের পিচকাই।
এমন একটা বিদঘুটে নাম। তবে আড়াই বছর বয়সে কী আর এমন তালেবর নাম ভাবা যায়? মৃণ্ময়ী?  অনিন্দিতা?
আড়াই বছরের ছোট বোনের নাম তাই পিচকাই।
পিচকাই অল্প বয়সে শাড়ি পরতে পারত। দু'টো বিনুনি ঝুলিয়ে টপাটপ অঙ্কের হিসেব সাবাড় করতে পারত; সে দাদার মত ক্যালকুলাস বেকুব নয়।
অবিকল মায়ের মুখ বসানো। নরম ছায়া। নরম তোষক বালিশে পড়ন্ত দুপুরের রোদ মাখানো সুবাসের পিচকাই।
"দাদা, সার্কাস দেখাতে নিয়ে যাবি?"র পিচকাই।
"দাদা, তুই একটা অখাদ্য"র পিচকাই।
"দাদা, আমি এখনই বিয়ে করব না"র পিচকাই।
এত কিছু করতে না পারার পিচকাই।
মরতে না পারার পিচকাই।
জন্মাতে না পারার পিচকাই।
মায়ের কান্নার পিচকাই।"সে জন্মালে আজ তার বিয়ে দিতে হত"র পিচকাই।
পিচকাইয়ের না থাকার পিচকাই।
মায়ের আবডালে থাকা না-মায়ের পিচকাই।
মনে মনে গেঁথে নেওয়া অবিকল মায়ের মুখ বসানো পিচকাই।