Friday, March 25, 2016

নির্বাণ

- গৌতমবাবু।
- *ফোঁৎ ফোঁৎ*
- ও গৌতমবাবু।
- *ফোঁৎ ফোঁৎ ফোঁৎ*
- সেরেছে। তপস্যার ঘুম! ভয়ানক। বলি ও গৌতমবাবু।
- কে? কউন? কে রে ব্যাটা?
- আমি। আমি। দেখবেন, লোটা ছুঁড়ে মারবেন না প্লিজ। 
- আরে! পরমেশ্বরদা। ওহ। বাঁচালেন।
- আমি ভাবলাম আপনি বোধ হয় ঘুমের বড়ি খেয়ে তপস্যায় বসেছেন।
- না তা নয়। আসলে ভারী মিঠে হাওয়া বইছিল কিনা। যাক। মাল কই?
- মাল?
- নির্বাণ।
- ওহ। এই যে। 
- এটা কী! লেফাফা?
- ওই খামেই তো রয়েছে।
- নির্বাণ?
- আজ্ঞে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। 
- চাকরী? নির্বাণ?
- এমন চাকরী যেখানে সোমবার লোকে ফুর্তিতে ড্যাং ড্যাং করতে করতে আপিস যায়।
- রিয়েলি? 
- মাইরি।
- আপিসের নামটা কী?
- শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী প্রাইভেট লিমিটেড।

কবিতার দিন

১।
বিশ্ব কবিতা দিবস। 
এমন দিনও যে আসে সে'টা জানা ছিল না নিমাইবাবুর।

বিশ্ব কবিতা দিবস। মিনুর মাস্টার কত কিছু যে উদ্ভট খবর দেয়।
বিশ্ব কবিতা দিবস। কবি জাতটাই আধ পাগলা। তাদের লেখাজোখার জন্য আবার আলদা দিন রেখে দেওয়া।
আজ আর বারান্দায় বসে ধোঁয়ায় টান দিতে ইচ্ছে হল না নিমাইবাবুর। চট করে সিঁড়িতে এসে বিড়ি ধরালেন তিনি। বিশ্ব কবিতা দিবস বলে কথা।

২।
- কী ব্যাপার? এখনও তৈরি হওনি?
- তৈরি? কেন? কোথাও যাওয়ার আছে?
- ওহ। তুমি তো আবার এদিকে নতুন।
- ব্যাপারটা কী বলবে?
- আজ ফ্রেম ডিঙনোর দিন।
- কী?
- ফ্রেম ডিঙিয়ে ওপারে যাওয়ার দিন।
- ও'দিকে?
- ও'দিকে।
- আমরা যেতে পারব ওদিকে? আমরা? ফিরতে পারা যায়?
- শুধু আজকের রাতের জন্য। কাল ভোর হওয়ার আগেই আবার ফ্রেমে ফেরত। 
- শুধু আজ রাতের জন্য?
- আরে আজ কবিতা দিবস যে।
- তাতে কী?
- সে কী! আমরা ফ্রেম না পেরোলে চাঁদিম হিম আর ঘোড়ার ডিম আর কারা গিয়ে রেখে আসবে না-কবিতার দুনিয়ায়? চলো চলো। আর বিলম্ব নয়।


৩।
"এসো, এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে"।
সুরেলা। মিহি। আলো আলো।
কানের মেঝে বেয়ে বুক ঘষটে ঘষটে তারা এগিয়ে আসে। কানের গলিয়ে বেয়ে ঝুপ করে নেমে আসে গলার কাছটায়। তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে 'জয় মা' বলে ঝাঁপ। শোঁ শোঁ শোঁ শোঁ শুধু নেমে যাওয়া বুক বেয়ে।
অদৃশ্য কনুই অল্প ঠেলে দেয়, 
- "ভাবছিস নামছে, আসলে কিন্তু উঠছে"।
- "অপটিক্যাল ইলিউশন"?
- "সুরটিক্যাল। ভালোবাসাটিক্যাল"।

মিতার রেওয়াজে রেওয়াজি হয়ে ওঠে শুভেন্দুর ছাতিটিক্যাল পায়চারী।

হাড্‌ল



১ নম্বর - মেঘলা। দু'চার ফোঁটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 
২ নম্বর - রাইট ক্যাপ্টেন। 
৩ নম্বর - অতএব? খিচুড়ি?
১ নম্বর  - বেগুন আছে। বেগুনী হতেই পারে। 
৪ নম্বর - ডিমের স্টেটাস?
৫ নম্বর - তেরোটা আছে। 
১ নম্বর - মিটে গেলো। সবার জন্য একটা করে। ক্যাপ্টেনের জন্য ডাবল ডিম ভাজা।
৬ নম্বর - পেঁয়াজ নেই। পেঁয়াজ নেই। 
১ নম্বর - পেঁয়াজ কুঁচি ছাড়া মামলেট কী করে হবে? মামলেট না হলে কী  করে হবে? খিচুড়িকে স্রেফ বেগুনীর হাতে ছেড়ে দেওয়া সেফ্‌ হবে?
২ নম্বর - হবে না। হবে না। 
৭ নম্বর - তাহলে উপায়?
১ নম্বর - ফাঁপরে পড়া গেল। মেঘ ইগনোর করব?
৮ নম্বর - এই আকাশে দু'চার ফোঁটা না নেমে যায় কোথায়! হাওয়ায় আমেজ পাচ্ছ না? এ মেঘকে পাত্তা না দেওয়া মানে শারজায় দাঁড়িয়ে মিয়াঁদাদকে পাত্তা না দেওয়া।
৯ নম্বর - উপায় আছে।
১ নম্বর - উপায় আছে?
২ নম্বর - উপায় আছে? 
৯ নম্বর - আলবাত আছে। ডিম সেদ্ধ। সর্ষের তেল, নুন আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে কষে মেখে। মামলেটের বাবা। 
১০ নম্বর -  হল না। হল না। জমল না। 
১ নম্বর - তোমার সবেতেই বাগরা। হবে না কেন? জমবে না কেন?
১০ নম্বর - বেসিক কেমিক্যাল ব্যালেন্সিংয়ের ব্যাপার। খিচুড়িতে মামলেট মেশে আর ফ্যানা ভাত-ঘিয়ে ডিম সেদ্ধ মাখা। বেসিকস। 
১ নম্বর - গেলো। আজ হরিমটর।
১১ নম্বর - আমি বলি কি! শুরুতে অল্প ঘি মাখা ফেনাভাত। সাথে ডিম মাখানো। শেষে খিচুড়ি বেগুনী। 
২ নম্বর - বেশ। 
১ নম্বর - বেশ। 
৩-১০ নম্বর - বেশ।
১ নম্বর - যাক। টিম হাড্‌লের সময় শেষ। বাবা নয় নম্বর। ফার্স্ট ওভার তোমার। ওভারপিচ ওভারে একটার বেশি দু'টো পড়লেই ডিম মাখা থেকে নাম কাটা। 
৯ নম্বর - আইডিয়া আমার, আর আমারই নাম কাটা? যাচ্চলে।
১ নম্বর - লেট্‌স গো। 
২-১১ -নম্বর - লেট্‌স গো।

গুড ফ্রাইডে

- আপনিই মিত্রা?
- ডু আই নো ইউ?
- না। তবে আলাপে দোষ নেই। আমি মিহির।
- আমার নামটা তো জানা আছে দেখছি।
- আসলে 'মদির আঁখির সুধায় সাকি' নারী কণ্ঠে আগে শুনিনি। এমন ভাবে মানিয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। 
- এ'সব পার্টিতে যে ভাবে মদক্ষয় হয়, সম্বিৎ টিকিয়ে রাখা বড় সহজ নয়। কী গাইতে যে কী গেয়ে ফেলেছি।
- বেশ তো ভাসিয়ে নিলেন।
- স্কচ যে'ভাবে ফোয়ারায় ছুটছে, কিছু কি আর ভাসিয়ে নেওয়ার জন্য বাকি ছিল?
- নজরুলগীতির ব্যাপারে আমি অবশ্য টিটোটল্যার নই। 
- যা হোক। কারুর তো কানে গেছে গানটা। 
- পিলু মিশ্র। কাহারবা। মেজাজে পাতিয়ালা। কানের দোষ কোথায় মিত্রাদেবী।
- কথায় তো বেশ নিট আপনি মিহিরবাবু। 
- এবার বরফ মেশাই। 
- মেশান। 
- আপনার আসল নাম তো হান্সা। তাই না? 
- মাই মাই মাই...আপনি কি গোয়েন্দা?
- শেঠ ভগওয়ান দাসের এক মাত্র কন্যা। এ দেশের সবচেয়ে ধনী মানুষের একমাত্র উত্তরাধিকারিণী। 
- নেশা ছুটিয়ে দিলেন। এ কথা গোপনে রেখে ঘুরতে চাই বটে, তবে কেউ জানলে ক্ষতি নেই। বাবা ভয় পায়, আমি পাই না। 
- ভয় পান না?
- না মিহির।
- ভয় পাওয়া উচিৎ। 
- জানি। 
- কী জানেন?
- জানি আমার প্রাণের ঝুঁকি আছে। অ্যাই, মিহিরবাবু, আপনি আমায় খুন করতে এসেছেন?
- আমি গোয়েন্দা। মার্ডারার নই। 
- ওহ। 
- তবে। মার্ডারারের টোপ আমি হান্সা। তিরিশ পেয়েছি। আপনাকে খুঁজে বের করার জন্য। গত ছয় মাস ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি। আজ পেয়েছি। এবার আমার কাজ শুধু একটি সৌজন্য চুমু আপনার গালে বসিয়ে দেওয়া। পাঁচটা স্নাইপার এই ওপেন এয়ার পার্টি তাক করে বসে আছে এ বাগানের চারিপাশে। আমি চুমু স্থাপন করলেই খুনি বুঝে যাবে তাদের টার্গেট কে। মিনিট কয়েকের মধ্যে আপনি ঝাঁঝাঁরা। 
- স্মুদ।
- ভয় করছে?
- আমার ভয় করে না। কতবার বলব?
- ওহ, তাই তো। 
- কিন্তু কী মুশকিল। আপনি আমায় বলে দিলেন কেন প্ল্যান? আমি যদি গালে চুমু খেতে না দিই? যদি আপনাকে ধরিয়ে দিই?
- আমিও ভয় পাচ্ছি না আপাতত। 
- রিয়েলি? হোয়াই?
- হান্সা। 'মঙ্গালস ও আঁখি তব, সাকি, দিল দোলা প্রাণে'।
- এহ! এ গানের সবচেয়ে পাতি লাইন তুলে শেষ পর্যন্ত ফ্লার্ট করছেন মিহির?
- হেহ্‌। 
- যদি চুমু খেতে না দিই মিহির? অন্য সিগন্যাল দেবেন?
- যদি কোন সিগন্যালই না দিই হান্সা?
- সে কী! এতগুলো টাকার কাজ পেয়েছেন। ছেড়ে দেবেন?
- 'গোলাবী গুলের নেশা, ছিল মোর ফুলেল কাননে'।  
- আর পরের লাইনটা? পরের লাইনটা মিহির? 'শুকায়ে গিয়াছে ফুলবন,  নাই গোলাব গুলিস্তানে'। 
- হান্সা। থাক। আমি আসি। 
- চুমু বাদ দিয়ে চললেন নাকি? ও মা! যাদের কাজ হাতে নিয়েছেন, তাদের গোঁসা হবে না?
- আসি।
- যাবেন না। 
- সে কী! কেন!
- সবাই বঢিয়া বলে। বহুত খুব বলে। প্লেব্যাকের অফার পাওয়া উচিৎ বলে ঢলে পড়ে। পিলু মিশ্র, কাহারাবা, পাতিয়ালা বলে পাশে আসে না। যাবেন না মিহির। 
- যাহ! আচ্ছা মুশকিল। বললাম তো, আমি স্নাইপারদের টোপ। আপনার কাকার লাগানো গোয়েন্দা আর স্নাইপার। আমি চলি। আপনিও চটপট বেড়িয়ে পড়ুন। বেশি কাছে আসবেন না বরং। 
- মিহির, 'জানি আমি তোমার কাছে, ব্যথা ভোলার চুমু আছে- হিয়া কোন আমিয়া যাচে, জান তুমি, খোদা জানে'। রুকো। যেও না।
- ব্যথা ভোলার দারুর বদলে চুমু? বাজে হান্সা। বেশ বাজে। 
- তোমায় গালে চুমু দিতে দিই কী করে বলো? গালে নয়। গালে নয়। 
- হান্সা। আপনি নেশাগ্রস্ত। ছাড়ুন। 
- যেও না মিহির। গালে না। ঠোঁটে। তারপর স্নাইপ করুক ওরা। আর পারা যাচ্ছে না। আমি মিত্রা নই, হান্সা। এতবার হান্সা বলে কদ্দিন কেউ ডাকে না। আমি মিত্রা নই। মিত্রা হাসে বোকার মত। হান্সা গায়। সবুজ সুর। ভোর মাখানো কথা। গানে ভিজে মাটির গন্ধ। হান্সা মিহির। হান্সা। 
- পাগলামি সে'টা। 
- আমায় মুক্তি দাও জুডাস। মুক্তি দাও। চুমু দাও। আজ শুক্রবার। মেক দিস আ গুড ফ্রাইডে ফর মি মিহির। বি মাই জুডাস। মুক্তি দাও। মুক্তি দাও। মুক্তি দাও। কিস্‌ মি।  

হান্সার শেষ চুমুতে গুনগুন মিশে ছিল;  
'সকলই গিয়াছে যখন, যাক ঈমান শরাব পানে'।   



কবিতাগুচ্ছ

- স্যার।
- হুঁ।
- বলছিলাম যে...।
- যে?
- পাণ্ডুলিপিটা...।
- কীসের?
- আজ্ঞে?
- কীসের পাণ্ডুলিপি?
- আজ্ঞে...কবিতার। 
- কার?
- আজ্ঞে?
- কার লেখা?
- আমার। সেই যে। আপনি জমা দিতে বলেছিলেন। 
- আমি? জমা দিতে বলেছি? 
- আজ্ঞে। 
- আমি বলেছি?
- ওই মানে। অবনীবাবুর সংবর্ধনায় আপনাকে প্রণাম করে আমার লেখার কথা বলেছিলাম। গত অগস্টে। আপনি বলেছিলেন অফিসে এসে পাণ্ডুলিপি জমা দিতে। বলেছিলেন পছন্দ হলে ছাপা হবে।
- ছাপা?
- আজ্ঞে।
- আপনার কবিতা? 
- আজ্ঞে। যদি আপনার পছন্দ হয়। 
- পছন্দ হয়নি।
- হয়নি? 
- পড়িনি। তবে পছন্দ হবে না। সে'টা বলেই দিতে পারি।
- না মানে...দু'টো লেখা যদি...যদি পড়ে দেখতেন।
- মাসে অন্তত সত্তরটা নতুন পাণ্ডুলিপি জমা পড়ে। ওই দিকে দেখুন। তাকে বোঝাই করে রাখা আছে। অন্তত সাড়ে পাঁচশো না পড়া পাণ্ডুলিপি রয়েছে। 
- আপনার ভালো লাগত মনে হয়...।
- কত কাটবে?
- আজ্ঞে?
- কত বিক্রি হবে?
- না মানে সে'টা তো ঠিক...। 
- এগজ্যাক্টলি। সে'টা যেহেতু হলফ করে বলা যাচ্ছে না, সেহেতু আপনি আসুন।
- স্যার প্লিজ...।
- আর ও আই। বোঝেন?
- আর ও আই?
- রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট। পাঁচটাকা ট্যাঁক থেকে বেরোলে মিনিমাম সাড়ে সাত টাকা ট্যাঁকে ফেরত আসা দরকার। নয়া মালকে দমাদম ছেপে দিল আমার পকেটে যে মিসাইল পড়বে ভাইটি।
- মাল? ওহ! 
- এবারে আপনি আসুন। 
- আমার পাণ্ডুলিপিটা...। 
- আবার কী? 
- না মানে...যদি ফেরত পাওয়া যেত!
- ওই তাক ঘেঁটে খুঁজে পেলে ভালো। না পেলে আমার দায়িত্ব নয়। 

***
ঈশ্বর  যখন জীর্ণ পাণ্ডুলিপি হাতে মন্দাকিনী পাবলিশার্সের আপিস থেকে বেরোলেন তখন চোখে মুখে শার্টে ধুলো। যে ময়লা ঘেঁটে পাণ্ডুলিপিটা উদ্ধার করতে হয়েছে তা আর বলার নয়।

মনটা ভার। নাকে ধুলো মেশানো সর্দির সুড়সুড়। চোখে চিড়বিড়ে জ্বালা। 
বাসস্ট্যান্ডের দিকে খানিক এগোতেই বাঁ পায়ের চটিটা গেল ছিঁড়ে। ধুস। রাগ জমাট হল। কালচে নীল রঙের বিরক্তি টিপ টিপ করে জমতে জমতে নাভির ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছিল। 
ধুস। ধুস। 
কবিতাগুলো পড়লোও না কোন প্রকাশক। ধুস্‌! অখাদ্য যত লোকজন। 

ময়দান কবিতাটার মধ্যে যে প্যাথোস, বাগবাজার লেখাটা যে ছন্দে বাঁধা, চৌরঙ্গীর লাইনে লাইনে যে এক্সপিরেমেন্ট লুকিয়ে, বা পার্ক স্ট্রিটের মধ্যে যে আবেদন ছড়ানো আছে; 
কেউ কোনদিন জানবে না। বুঝবে না। পড়ে "আহ্‌, বড় আদুরে" বলে চুক্‌ চুক্‌ করে উঠবে না কেউ। বইটা বুকে চেপে বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুল মেঝেয় বুলোবে না কেউ। 
সবচেয়ে বড় কথা, বইপাড়া কবিতাটার মধ্যে যে ভালোবাসা মেশানো ছিল, সে'টা কাউকে টেনে ধরার সুযোগটুকুও পেল না। 

অখাদ্য যত সব। আবার আহ্লাদ করে ডাগর হাতের লেখায় পাণ্ডুলিপির প্রথম পাতায় নাম দেওয়া ; বাবু ঈশ্বরের 'কলকাতা'। 
ধুস। ধুস। ধুস। নিজের ওপর প্রবল রাগ হল। প্রবল। 
বাঁ পায়ের চটি আর পাণ্ডুলিপি; দুইই সপাটে ছুঁড়ে ফেলে বিড়ি ধরালেন ঈশ্বর। 

***
দড়াম স্বপ্নের ধাক্কায় ঝটকা দিয়ে তন্দ্রা ভাঙল জোব সাহেবের। চোখ ডলে দেখলেন জাহাজ ডাঙ্গার আশেপাশে এসে ঠেকেছে। তবে সবই জলাজমি আর জঙ্গল। নামা উচিৎ হবে বলে মনে হয় না। 

তবে স্বপ্নটার জন্য মনের ভিতরটা কেমন হ্যাঁচোড়প্যাঁচোড় করে উঠলো, কেউ যেন তাকে বলে দিলে এখানেই জাহাজ ভেড়াতে। তবে জাহাজ ভেড়ানোর কথা বলতে গিয়ে এক দিস্তে হিজিবিজি লেখা কাগজ যে কেন সে ছুঁড়ে মারতে গেল! প্রবল অসোয়াস্তি। 
কাগজের দিস্তেটা জোব সাহেবের কপালে লেগেছিল; স্বপ্নে। সাহেবের বুক ছ্যাঁত করে উঠলো যখন তিনি টের পেলেন যে কপালের একটা কোণ সামান্য ফুলে রয়েছে। 

"হেঁইয়ো, তোরা কে কোথায় আছিস বাপ! জাহাজ এখানেই ভিড়িয়ে দে। দে ভিড়িয়ে"।