Tuesday, February 2, 2016

ঝগড়া ও কবিতা

ঝগড়ার গন্ধ বিটকেল। যন্ত্রণার। বুকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে জ্বালা উঠে আসে। ভলকে ভলকে ব্যথার গনগনে আঁচ গলার ভিতরে জমা হয়। জিভ তেতো হয়ে আসে। মগজে কনকনিয়ে ওঠে ছুঁচের এফোঁড় ওফোঁড়। বুকের ভিতর বমিতে ভেসে যায় এমন সে বিশ্রী গন্ধ।
অন দ্য আদার হ্যান্ড।

"আর কথা বলিস না"য় বিটকেল কোন গন্ধ নেই। বরং অল্প জুঁই মেশানো আছে। অল্প মেঘ। অল্প ছাতের শ্যাওলা। অল্প দীঘির টলমল। অল্প তরকারি। অল্প দুপুরের অঙ্ক টিউশানি থেকে তৈরি হওয়া বিরক্তি। অল্প কোপানো নরম মাটি; যা ডালিয়ার জন্য। অল্প সঞ্জীবের গল্পের প্লট না থাকা তুলির স্ট্রোক। 
আর থাকে অস্পষ্ট ছুরি। অস্পষ্ট; কারণ হাতল ছাড়া বাকিটুকু হারিয়েছে বুকের আড়ালে।


- সবাই কবিতা বোঝে?
- প্রশ্নটাটা ম্যাথেম্যাটিক্যালি ফানি।
- হাউ?
- যারা বিশ্বাস করে যে সবাই কবিতা বোঝে না; তারা আসলে কবিতা বোঝে না।
- ও।
- মানে তোর সওয়ালের উত্তর হওয়া উচিৎ হ্যাঁ। কিন্তু সঠিক উত্তর হল না।
- উচিৎ একটা। সঠিক অন্যটা।
- বিউটিফুলি গ্রিপ করেছিস।
- তোকে আর জিজ্ঞেস করছি না কিছু।
- কবিতা তোকে ছুঁয়েছে।

টাইম মেশিন আর নৌকা


অমিত রায় সে'বার টাইম মেশিন আবিষ্কার করলেন।
অতঃপর সোজা সেই মেশিনে চড়ে দু'হাজার ষোলো শালে ল্যান্ড করলেন। নেমেই শুনতে পেলেন নজওয়ান ছেলেপিলেরা তার যন্ত্রের প্রশংসা করছে আধুনিক বাঙলা ভাষায়; "কাকা, লে বন্য যন্ত্র বানিয়েছেন"।
পত্রপাঠ যন্ত্রে চেপে নিজের সময়ে ফিরে গেলেন অমিত রায়। ওয়াপিস গিয়েই লাবণ্যকে রিজেক্ট করে কেটিকে বিয়ে করে "লে বন্য" হুঙ্কার ভোলালেন তিনি।




- খুড়ো। ও খুড়ো।
- কী?
- বলি নৌকাটা...।
- নৌকাটা কী?
- নৌকাটা কী করবেন?
- কী করব মানে?
- মানে ইয়ে, আপনার কাজ তো মিটে গেছে, এবার ও'টা আমায় দেবেন?
- না।
- না?
- না।
- কেন? 
- ও দিয়ে কাজ আছে।
- কী কাজ নোয়া খুড়ো?
- ও নৌকা ভেঙে আমি মাসকাবারির থলে গড়াব হাজার খানেক।
- নৌকা ভেঙে মাসকাবারিরর থলে খুড়ো?
- সংসারে কত কী লাগে । যে ব্যাগ দুনিয়া হজম করতে পারে না তা দিয়ে কি গেরস্থের মাসের বাজার হয় রে? তাই। এ নৌকা ভেঙে...।
- মাসকাবারির থলে গড়াবে?
- ঠিক।
- তোমার মাথায় ব্যামো হয়েছে নোয়াখুড়ো। হাই কোয়ালিটির সি সিকনেস।

বিপিন, স্বপন আর অন্য দু'জন



মিষ্টি পান। মিঠে সুপুরি দেওয়া। 

বিপিনবাবুর প্রিয়। বড় প্রিয়।

তিনি নেই।
তবে বিপিন-পুত্র অনিমেষ নিয়মিত তার কালো ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবিটার সামনে এসে কিছু আজেবাজে শব্দ জাগলিং করে স্মিত হেসে বলে যান "জানি বাবা মিঠে সুপুরিটুকু নেই। তবে এই ছবি অবস্থায় যেটুকু পান সেটুকুই না হয় খান"।
ছবির ফ্রেমের মধ্যে থেকে হাবুল সেনের স্টাইল নকল করা যে "পোলাপান" আক্ষেপটা ভেসে আসে, সেটা অবিশ্যি অনিমেষের কান পর্যন্ত পৌঁছয় না।



ভোরের দিকে বিশ্রী স্বপ্নের ধাক্কার ঘুম ভাঙলো স্বপনবাবুর। ভয়ে রীতিমত গায়ে কাঁপুনি ধরে গেছিল।
বিতিকিচ্ছিরি স্বপ্ন। স্বপন বাবু স্পষ্ট দেখলেন নীল টাইলস বসানো একটা দেওয়াল ব্যাকগ্রাউন্ডে, আর তার সামনে এক ঠ্যাঙে উলটো হয়ে ঝুলছেন তিনি। আর একটা ঠ্যাং নেই। জাস্ট নেই। স্বপ্নটা থিতু হতে বুঝলেন যে তিনি নিজেই নিজের ঝুলন্ত দেহকে ফ্যালফ্যালে দৃষ্টিতে দেখছিলেন। দেখতে সুবিধে হচ্ছিল কারণ তার মুণ্ডুটা ঘরটার অন্যকোণে আরও পাঁচ দশটা মুণ্ডুর সাথে রাখা ছিল।
আর এক বার্মুডা আর "বিং পাঁঠা" মার্কা টিশার্ট পরা পাঁঠা বলে যাচ্ছিলে "সিনা থেকে দাও ভাই, সিনা থেকে"। পাঁঠার হাতের রোল করা আনন্দবাজার থেকে প্রাইমমিনিস্টার কটমট করে তাকিয়ে বিড়বিড় করে চিফমিনিস্টারের কবিতা আউড়ে যাচ্ছিলেন।
প্রতিবেশী মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজানের সুরে নিজের ঘুম ভাঙিয়ে জান বাঁচালেন স্বপনবাবু। এ রোববার নিরামিষ রাখার ডিসিশন নিলেন তিনি।



- ঘুমোও।
- ঘুম আসছে না। আসে না। কোনোদিন।
- কিউ?
- তুমি নেই। পহলে আও। পাশে।
- ওয়ান ওয়ে। আসলে তোমাকেই আসতে হবে।
- আসব?
- ঘুমের অভাব হবে না। গ্যারেন্টি।
- :) 
- ;)


ভদ্র ভালোয়

ভদ্রলোকের "এক্সকিউজ মি"।
ভালোমানুষের ঢেঁকুর মাখানো "পাঁঠাটা রিয়েলি কচি ছিল"।

ভদ্রলোকের সত্যজিৎ।
ভালোমানুষের "অপুর চোখ" না পাওয়ার দুঃখ।

ভদ্রলোকের প্রেমিক মেজাজে অমিত রায়।
ভালোমানুষের ঘাস ধুলো ঘেঁটে লাবণ্য আবিষ্কার।

ভদ্রলোকের কবিতায় মানে খুঁজে পাওয়া।
ভালোমানুষের কবিতা হয়ে ফ্যালফ্যালে চোখে বেঁচে নেওয়া।

ভদ্রলোকের "আমায় বিয়ে করবে?"।
ভালোমানুষের "না মানে, ইয়ে। মিহিদানা ভালো লাগে আপনার? 
কিউরিওসিটিটা বদার করছিল তখন থেকে"।

ভদ্রলোকের অঙ্কের খাতায় আঁকিবুঁকি।
ভালোমানুষের আঁকিবুঁকিতর খাতায় অঙ্ক।

Monday, February 1, 2016

অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল

- ধড়াচূড়া পরে সকাল সকাল, কী ব্যাপার?

- টেলিফোনে তো তেমনটাই কথা হয়েছিল স্যার।

- চা চলবে?

- চলবে।

- লিকার কিন্তু। আর সঙ্গে টা বলতে থিন অ্যারারুট।

- চলবে।

- আসলে একা মানুষ তো।  বাড়তি বাজনায় কাজ দেখি না আর। তা সে যাক গে, তা আমার এখানে কী মনে করে?

- আজ্ঞে সে শহর আমি ছেড়েছি।

- ছেড়েছ না তার প্যাঁদানিতে ছাড়তে বাধ্য হয়েছ?

- একরকম তাই।

- তা এখন এখানে কেন?

- স্যার। আমায় আপনি গ্রহণ করুন।

- আমি গ্রহণ করার কে? আমি তো চালে কাঁকড়,  পায়েসে বালির দানা। আমি কী করব?

- কেন? আমায় স্নেহ দেবেন। পড়ার ঘর দেবেন। সে পড়ার ঘরে বিবেকান্দের ছবি। একটা নিষ্পাপ প্রেম দেবেন। আমায় জ্যান্ত করবেন। রাখুন স্যার আমায়।

- আমি এ'সব দেব কী হে? আমি নিজে আজ আছি কাল হাওয়া। ঠাকুর ঠাকুর করে অপেক্ষা করছি। মা ডাকবেন আর আমি ড্যাংড্যাং করে রওনা দেব। আমি তোমায় কিছু কী করে দেব?

- ফেরাবেন না স্যার। সব উজাড় করে নিজেকে সঁপতে এসেছি। স্যার, এবার আমি...এবার আমি....।

- কী? এবার তুমি কী?

- গোলাগুলি নিয়ে অনেক খেলা হল। এবার আমি..আমি বুলেট হতে চাই।

- আরে সে তো গল্প...।

- আমায় আপনার গল্প করে তুলুন স্যার। ফেরাবেন না। ফেরাবেন না। আপনাকে ছুঁয়ে বুলেট হতে দিন।

- দ্যাখো কাণ্ড,  আরে এ সামান্য কথায় ধেড়ে মানুষের কাঁদতে আছে? সামাল দাও। সামাল দাও। তুমি বরং আমার বাগান দেখ। হরিহর রয়েছে। তুমি তাকে অ্যাসিস্ট করবে। তুমি মাটি কোপাবে আর আমি দেখব তোমার ভিতর-মাটি কোপানো যায় কিনা। তবে যা বুঝছি মাটি নরম হয়েই আছে। কোদাল না, খুরপিতেই কাজ হবে। কী? পারবে তো?

- খুব পারব স্যার। খুব পারব।

- ওই দেখো। চোখ যে এখনও ছলছল। বলি এবার তাহলে তোমায় ডায়লগ তোমায় তাক করেই ফায়ার করি তবে? হোয়াই সো সিরিয়াস?