Thursday, January 14, 2016

শীতের বিট্রেয়াল

- শীত তাহলে বিট্রেই করল।
- জানুয়ারিতে যখন এই হাল,তখন বিট্রেয়াল বলা যেতেই পারবে।
- একটু বৃষ্টি নামলেও হাওয়ায় কিছুটা ছ্যাঁত বাড়ত।
- তা বাড়ত।
- কিছু তুকতাক ভাবা যায় না?
- তুকতাক? বৃষ্টি নামিয়ে শীত টেনে আনতে? তুই না কম্যুনিস্ট?
- ডেসপারেট টাইমস। ডেসপারেট মেজার্স।
- হুম। উপায় আছে।
- আছে?
- সৃজিতবাবু সিনেমায় রিভার্স প্ল্যানচেট দেখিয়েছেন।
- ভূতে মানুষকে ডাকছে?
- কারেক্ট । সেটাই একমাত্র উপায়।
- রিভার্স প্ল্যানচেট? ফর জানুয়ারি রেইন?
- অ্যান্ড কনকনে ঠাণ্ডা!
- হাউ?
- মন প্রাণ দিয়ে বেগুনী ভাজ।
- বেগুনী ভাজবো? তাতে কী?
- রিঅ্যাকক্টিভ সন্ধ্যার বেগুনী যদি প্রোঅ্যাকক্টিভ হয়ে মেঘে টেনে আনে শহরে...সেই মেঘ যদি দু'চার ফোঁটা ডেলিভার করে হাফসোয়েটার ডেকে আনে।
- এই তোর রিভার্স তুকতাকে খেলা...? হুহ!
- যাও বাবা আক্রম। বেগুনী ভাজো।

রজনীর শনির দশা - ২

সে'বার। 

রজনীকান্ত সক্কলকে তাক লাগিয়ে দিলেন।  বাঘকে চুমু খাওয়া, চাট্টিখানি কথা? 

দর্শকাসনে উপস্থিত সক্কলে ঘেমেনেয়ে একাকার। এ ব্যাটা যদি রজনীর মুণ্ডুকে মুড়োর মত টপাটপ চিবিয়ে খেয়ে  নেয় ? কিন্তু সক্কল ভয়কে হেলায় হাওয়ায় ভাসিয়ে বাঘকে চুমু খেলেন রজনী। স্মুচ করলেন আর কী। 

হাততালির শব্দে টিকে থাকা দায়। রজনী সেলাম কুড়োতে ব্যস্ত। এমন সময় গোবেচারা চশমাপরা এক ভদ্রলোক সোজা রজনী আর বাঘের মাঝে এসে দাঁড়ালেন। 

- কী ব্যাপার? আপনি কে? এখানে কেন ? বাঘে ছুঁলে কত ঘা সে খেয়াল আছে?
- না মানে...আপনি এমন অবলীলায় চুমু খেলেন...! 
- আমি রজনী। রজনীকান্ত। এ'সব আমার কাছে নস্যি। 
- আমি আপনার কাণ্ড কারখানা দেখে ঘেমেনেয়ে একশেষ। 
- আপনি ঘেমেছেন তো আমি কী করব?
- না মানে...আমার রুমালটা...। 
- আপনার রুমালটা কী হল?
- পকেট থেকে হাওয়া। 
- তো আমি কী করব...? 
- মুখের ঘামটা যে না মুছলেই নয়। ওদিকে রুমাল ছাড়া যে আমি নিরুপায়। 

রজনী বিরক্তির সাথে আর দু'টো কটু কথা কইতে যাবেন এমন সময় রজনীর চোখে ছানাবড়া ভেজে গোবেচারি ভদ্দরলোক বাঁ হাতে বাঘটাকে তুলে, তিন আঙুলে খেলিয়ে ভাঁজ করে, মুখে বার কয়েক ঘষে; ফের মাটিতে নামিয়ে দিলেন। বাঘবাবাজী ভদ্রলোকের ঘাম আর নিজের ঘামে নাস্তানাবুদ। 

রজনী বেকুবের মত দাঁড়িয়ে রইলেন। ভদ্রলোক মুখের ঘাম মুছে ততক্ষণে হাঁটা লাগিয়েছেন। 

- ও...ও মশাই। ইয়ে কেয়া হুয়া? আই মিন এটা কী হল?
- আমি রিয়েলি সরি। রুমালটা পকেটে না থাকায়...আপনাকে একটু ইয়েতে ফেলতে হল...আসি রজনীবাবু...। 
- আপনার নামটা স্যার...যদি কাইন্ডলি জানাতেন স্যার...।
- আমার নাম?
- গুরুদেব। প্লীজ। এ ভক্তকে অ্যাট লিস্ট বেনামে পুজো করতে বলবেন না। 
- আমি সুকুমার। সুকুমার রায়। চলি এখন, কেমন ? 

Tuesday, January 12, 2016

নিরুপমবাবুর সাতাশ

সন্ধেবেলার এল-দু'শো আটত্রিশ।

হয় সাড়ে ছ'টার। নয়ত সাতটার। অফিস ফেরতা, বড়বাজার থেকে; যখন যে'টা জোটে। 
আজ অল্পের জন্য সাড়ে ছ'টারটা বাসটা মিস করতে হল নিরুপমবাবুকে। যেমন মাঝে মাঝেই হয়। সাতটার বাসটায় ভিড় আরও বেশি হয়। ফুটবোর্ডে পা রাখাই দায়। নিরুপমবাবু অবিশ্যি হাফ ঝুলন্ত অবস্থায় কড়ে আঙুল দিয়ে কানও চুলকে নিতে পারেন। অভ্যাসের গদ্য, অনুগত কেরানীর যন্ত্রণা আর  সংসারের নিরুপায় কুঁইকুঁই মানুষকে দিয়ে অসাধ্য সাধন করাতে পারবে। 

ঘোর সংসারী বলে নিরুপম সমাজপতির সুনাম আছে। অল্প মাইনের চাকরীতে ছেলের কলেজ থেকে, লাইফ ইনস্যুরেন্স থেকে গিন্নীর হাইপ্রেশারের ওষুধ থেকে বছরে একবার তারাপীঠ আর দু'বছরে একবার পুরী; কিছুই বাদ যায় না। ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সে নিরুপম রহিস নন, তবে মজবুত আশ্বাস জমতে শুরু করেছে। বিয়ে মুখেভাতের নেমন্তন্ন, পুজোর বাজার, লৌকিকতার মিষ্টির বাক্স ; খরচের হারিকেন তাকে শশব্যস্ত করলেও হাতে হ্যারিকেন ধরাতে পারেনি। 

নিরুপমবাবু জানেন যে না-থাকাগুলো জিভ বের করে ভেঙিয়ে যাবেই জিন্দেগী ভর। দামী গাড়ির চাবি দামীর রেস্তোরাঁর সামনে দাঁড়ানো স্যালুট মারা বেয়ারার হাতে সঁপে দেওয়া হবে না ভ্যালে পার্কিঙের জন্য।  মা তারা বস্ত্রালয় থেকে সাউথসিটি মলের দামী দোকানে আপগ্রেড করা যাবে না। গোয়ায় কমলা রঙের জামা আর হলদে বার্মুডা পরে ল্যালল্যাল করে বিয়ারের বোতল হাতে ঘুরে বেড়ানো যাবে না। দেওয়াল জোড়া পেল্লায় টিভিতে সাবটাইটেল ছাড়া ইংরেজি সিনেমা দেখে মাথা নাড়া হবে না। 

তবু সমস্ত না-থাকা সাইডে রেখে যেটা আছে সেটা হচ্ছে বাড়ির চেনা বারান্দার নরম গন্ধ, গিন্নীর ছলছলে হাসি আর ছেলের খেটে পাওয়া পরীক্ষার নম্বরগুলো। 
আর থেকে গেছে স্থির লক্ষ্য। আগুন লাগুক, বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না রিলিজ হোক, কাম্পুচিয়ায় নেতাজীকে খুঁজে পাওয়া যাক, উত্তমকুমারের লিপস্টিক অকশন হোক, লক্ষ্য থেকে চোখ সরে না। সরার কথাই নয়।  

সাতাশ লাখ। সাতাশ লাখ ব্যাঙ্কে জমলেই চাকরী ছাড়বেন নিরুপমবাবু।  সপসপে ঘামে ভেজা হাফ শার্ট আর এল-দু'শো আটত্রিশের পিষে ফেলা ভিড়ের দমবন্ধ করা গন্ধে আজকাল যন্ত্রণা হয়।  নিয়মিত যন্ত্রণা হয়।
তবে যন্ত্রণা যে লক্ষ্মী তা নিরুপমবাবু বিলক্ষণ বুঝেছেন। ডর কে আগে জিততে শেখায় বিজ্ঞাপন। নিরুপমবাবু জানেন চোয়াল শক্তের ওপারে রয়েছে সাতাশ লাখ। রয়েছে মুক্তি। ছুটি। ছুটি, ছুটি।  

বাস আসতে সময় ছিল খানিকক্ষণ। একটা সিগারেট ধরিয়ে মানিব্যাগটা বের করলেন নিরুপমবাবু। মানিব্যাগে রাখা লোকনাথবাবার ছবিটা সেই ছিয়ানব্বুইয়ে পালটেছিলেন তিনি। পেপারকাটিংয়ে ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে মিচকি হেসে সিগারেটে মোক্ষম একটা টান দিলেন তিনি। 

মানিব্যাগ পকেটে ফেরত রাখতে রাখতে লক্ষ্যটাকে ঝালিয়ে নিলেন নিরুপমবাবু। সাতাশ। সাতাশ। সাতাশ। এল-দু'শো আটত্রিশ'কে মনে মনে ডারবান বলে ডাকেন তিনি।

(গুগল সার্চ করে ছবিটা পাওয়া)

Monday, January 11, 2016

রজনীর শনির দশা

১। 

রজনীকান্ত সে'বার মঙ্গল গ্রহে আলুর চাষ করলেন। বিস্তর বাহবা কুড়োলেন। নোবেল-টোবেল পেলেন।
একটা বাড়তি ক্যাটেগরি তৈরি করে অস্কার-টস্কারও দেওয়া হল তাকে। আফটার অল মঙ্গলে আলু; রীতিমত সিনেমা মাফিক ব্যাপার। 
মঙ্গলে আলু ফলানোকে সাহিত্যের একটা অঙ্গ বলে ঘোষনা করে পুলিৎজার-ঠুলিৎজারও খান কয়েক গছিয়ে দেওয়া হল তাকে।

শুধু বঙ্গভূষণের শিকেটা সে'বারও তার ভাগ্যে ছিঁড়ল না। মঙ্গলে আলুর চাষ করতে যাওয়ার সময় বুদ্ধি করে যদি এক ডিবে পোস্ত নিয়ে যেতেন তিনি, তাহলে এ নিদারুণ শাস্তি তাকে পেতে হত না।

২। 

এই কিছুদিনে আগের ঘটনা। কী বলব আর।
রজনীকান্ত অরিগ্যামি করে মুর্গী তৈরি করছিলেন। যে সে মুর্গি নয়; জ্যান্ত মুর্গি। টপাটপ কাগজ মুড়ে, কাঁচি দিয়ে কেটে;একের পর এক কাগুজে মুর্গি বানিয়ে রজনী তাদের হাওয়ায় ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন;- আর অমনি সেই কাগুজে মুর্গির মধ্যে কোকর কোকর শব্দে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছিল। আলটিমেট ভেলকি। অদ্ভুত, অনাবিল, অবিশ্বাস্য। চোখের সামনে সেই আজব ঘটনা ঘটছিল।
জার্মান বৈজ্ঞানিক দাঁড়িয়ে স্যালুট করলেন রজনীকে। জাপানি বৈজ্ঞানিক মশায় সোজা হাচিমাচিকাগাবাচি বলতে বলতে রজনীর পা জড়িয়ে ফ্ল্যাট হয়ে গেলেন। আমেরিকানবাবুর চোখ বেয়ে অঝর ধারায় জল; "র‍্যাজ্যানি ইজ ক্রিয়েটিং লাইফ আউট অফ পেপার"।
শুধু বাঙালি বৈজ্ঞানিকই ব্যাজার মুখে বসে বাকিদের আদেখলামো বরদাস্ত করছিলেন। তবুও সবই ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু চীনা বৈজ্ঞানিক যখন নিজের শার্ট খুলে মাটিতে শুয়ে রজনীকে বললেন তার বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না বাঙালি বৈজ্ঞানিক অঘোর মিত্র।
চিৎকার করে উঠলেন অঘোরঃ "রজনীবাবু, ভ্যানতারা তো অনেক হল। তখন থেকে শুধু কাগজ মুড়ে ব্রয়লার ছেড়ে যাচ্ছেন। ও খেতে তো রবার মশাই। বলি দম থাকে তো দেশি মুর্গি বানিয়ে দু'এক পিস ছাড়ুন। তাহলে বুঝবে আপনার কেরামতিতে রসবোধ আছে"।
স্তম্ভিত রজনীকান্তকে ল্যাবরেটরিতে ফেলে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেলেন অঘোর মিত্র।


৩।
রজনীকান্ত ৫৩২টা ভাষায় বানান ভুল করেন না।
তবে সেবার কেত মেরে মোহনদাসকে বাংলায় অটোগ্রাফ দিতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। সবে লিখেছেন "স্নেহের গান্ধীকে" অমনি আনন্দবাজারি সাংবাদিক এসে খপাৎ করে রজনীর হাত ধরে সে কী খিস্তি করলে। লজ্জার মাথা কাটা যাওয়ার জোগাড়।
গান্ধী যে বাংলায় আদতে গাঁধি, তা জানার পর থেকেই বাংলাকে "এক্সকিউজ মি" বলে এড়িয়ে চলেন রজনীকান্ত।

ব্রয়লার

- গিন্নী! এ কী! ছুটির দিন; লাঞ্চে ব্রয়লার! অসহ্য! অখাদ্য!
- এটা দেখেছ?
- দেখছি।
- এটা কী?
- হোয়াট ননসেন্স!
- বলোই না। এটা কী?
- থলি। বাজারের থলি। এটাকে আমার চোখের সামনে নাচানোর মানে কী?
- এই থলি রোববার হাতে ধরলে কী হয়?
- কী...মানে? কী হয়?
- তোমার জাত যায়।
- এহ! না মানে...।
- তোমার জাত কী?
- আমার..আমার জাত? শোন না গো..।
- তোমার জাত কী?
- ব্রাহ্মণ, ভরদ্বাজ গোত্র।
- কচু। তোমার জাত বিছানা, গোত্র পাশবালিশ। রোববারে বাজারের থলি ছুঁলে তোমার জাত গোত্র সব ভেসে যায়।
- না মানে, এমন গভীর ঘুম...মানে...।
- যার জাত নেই তার লাঞ্চে কী থাকা উচিৎ?
- ঘোড়ার ডিম।
- সে তুলনায় মুর্গীর ঝোল কীরকম?
- অমৃতসমান। গিন্নী, তুমি অমৃতকন্যা। আহা! মন কাড়া সুবাস। মুর্গি কষা নবাবের খানা। দাও দাও। বহুত ভুখ লগা হ্যায়।