Tuesday, December 22, 2015

মাউথ ফ্রেশনার

- এটা মাউথ ফ্রেশনার? 
- হ্যাঁ। 
- কেন?
- কেন মানে? কেমন ছেলে তুই? এত রাত্রে ছাদে ডেকে মাউথ ফ্রেশনার কেন দিচ্ছি বুঝছিস না?
- না। 
- রিয়েলি বুঝছিস না?
- না।
- চুমুতে ভয় পাস?
- না। 
- সবেতে না। উফ! ভয় পাস না তো ভ্যাবলার মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
- না মানে...। 
- না মানে কী?
- চুমুতে ভয় নেই। 
- তবে কীসে ভয়?
- এই মাত্র খেলাম। জয়নগরের মোয়া। চার পিস্‌। চুমুঠুমুতে সে স্বাদের রেশ মুখ থেকে ডায়লুট না হয়ে যায়; দ্যাট ইজ দ্য অনলি ভয়।

Monday, December 21, 2015

জয় গোস্বামী, জ্যামিতির বাক্স আর ঝাল।

- আমায় শাড়ীতে জবরজং লাগে?
- হুঁ?
- শাড়ীতে মানায়?
- হুঁ? কাকে?
- আমায়!! শাড়ীতে মানায়? না কি...ওই সেই জীন্‌সেই ঠিক আছি! 
- তোকে?
- হে ভগবান! কীসে মানায় আমায়?
- তোকে?
- হ্যাঁ! কীসে মানায়?
- জয় গোস্বামীতে।

***

- কখন ফিরবি?
- আটটার মধ্যে। 
- যেতেই হবে?
- যেতেই হবে। 
- রাত আটটার মধ্যে?
- ন্যাকাকুমার। সকাল আটটা পর্যন্ত আমায় চিলেকোঠায় লুকিয়ে রাখবি না মানিব্যাগে?
- কবিতার নিয়মে রাত আটটা?
- গদ্যের নিয়মে।
- এমন জ্যামিতির বাক্স নিয়ে প্রেমে পড়িস কেন রে?

***

- ঝাল লেগেছে?
- *সম্মতিসূচক মাথা ঝাঁকুনি*
- বেদম ঝাল লেগেছে?
- *সম্মতিসুচক মাথা ঝাঁকুনি*
- এ কী! ঝালের চোটে চোখে জল।
- *সম্মতিসুচক মাথা ঝাঁকুনি*।
- এগরোলে লঙ্কা দিতে বারণ করিসনি কেন? যে মেয়েরা ঝাল খেতে পারে না তাদের বড় ইয়ে লাগে।
- *প্রচণ্ড বেগে কানমলা*।
- কানে লেগেছে?
- *সম্মতিসুচক মাথা ঝাঁকুনি*
- যে সব ছেলেরা কানমলা রেসিস্ট করতে পারে না তাদের বড় ইয়ে লাগে। যা ভাগ, শিকঞ্জি নিয়ে আয়।

সৌরভ

- সেই গন্ধটা। আবার।
- কেমন গন্ধ রে?
- ওই। নরম। ঝিমঝিমে। 
- কীসের?
- তোর।
- পারফিউমের।
- না না, সেটা পেরিয়ে। তোর চামড়া মাংস আর পন্ডস মেশানো।
- ফের ছ্যাবলামি?
- সিরিয়াসলি।
- সে গন্ধ তুই পাস?
- পাই।
- আমি পাশে এলে?
- সেদিন। যেদিন বিন্নদির গায়ে হলুদ। তুই শাড়ি পরেছিলিস।
- হুঁ।
- হলুদ।
- তো?
- গায়ে হলুদের শেষে। তুই স্কুল মাঠের পাশে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলিস। লং অন বাউণ্ডারির দিকে।
- তুই দেখেছিলিস?
- অপাইদা রাউন্ড দি উইকেট করছিল। মিডল অ্যান্ড লেগ গার্ডে ছিলাম। নালুভুলু লোপ্পা ফুলটস দিয়েছিল অপাইদা; বোধ হয় হাত ফসকে। জাস্ট হাঁটুর হাইটে। সোজা লাইন মিস করলাম। সোজা লেগ স্টাম্প গেল।
- ঢ্যাঁড়শের মত ব্যাট চালালে তাই হবে।
- ঠিক তা নয়।
- তাহলে বোল্ড হলি কেন?
- ওই। ধপ করে গন্ধটা নাকে এসে পড়ল। লং অন থেকে। তুই আর পন্ডস মেশানো।

বিয়েবাড়ির খাওয়ার ব্যাপারে পাঁচটা কথা

১. বিয়েবাড়িতে বর/কনে যাত্রীদের টিফিন যদি করাতেই হয় তাহলে মাংসভাতেই করানো ভালো। 
পকোড়া কফি হল ক্রিকেটীয় অঙ্কের হিসেবে রানিং ডাউন দ্য মিডল অফ দ্য পিচ অন টু দ্য ডেঞ্জার এরিয়া।

২. ফুচকা ভালো। তাই বলে বিয়েবাড়িতে? পায়ে প্যাড বেঁধে পেস বোলিং? কেন?

৩. কফির কাগজের কাপ। সাইজে আর স্ট্রেন্থে। সাইজে তাইবু আর স্ট্রেন্থে সৌরভ। কাম অন।

৪. আলু পোস্ত বিয়েবাড়ির মেনুতে স্থান পাবে কবে? চানা কুলচা কি নাসা রেকমেন্ডেড? শেওয়াগ কে বাদ দিয়ে অলটাইম ইন্ডিয়ান টেস্ট টিম?

৫. বর/কনে যাত্রী বিয়ে/বৌভাতে ঢোকার সঙ্গে তাদের হাতে আননেসেসারি রাংতা জড়ানো গোলাপ না ধরিয়ে ফাইনাল মেনু কার্ড ধরিয়ে দিলে সুবিধে হয় না? পিঞ্চ হিটার নামাতে হবে কী না, ক'টা স্পিনার খেলাতে হবে- সমস্তটা আগাম ছকে নেওয়াটা দরকারি।

জিনিয়াস ও দীপু



- মাঞ্জা ভালোই দিয়েছিস।
- টিটকিরি দিচ্ছ মামা?
- কম্পলিমেন্ট। জেনুইন।
- থ্যাঙ্কস।
- গরদের পাঞ্জাবীটার জাঁক আছে।
- বলছ?
- আলবাত আছে।
- গত পুজোর। মেজপিসি দিয়েছিল।
- কোলন?
- ওল্ড স্পাইস। বাবার।
- তবে সবটাই বোধ হয় জলে গেল রে।
- জ...জলে?
- অথৈ।
- কেন?
- সে। আসছে না।
- সে..সে মানে? কার কথা বলছ। তিন্নিদির বিয়ে। আমাদের কত কাজ। বরযাত্রী এসে পড়ল বলে। তাতে কে এল না এল...আমার কী?
- বটে?
- চলি।
- জলে। জলে।
- কী জলে?
- কোলন। গরদ। কোলাপুরি।
- ধ্যার।
- চ্যাটুজ্জেদের ছোটমেয়ে। তার জ্বর। এই মাত্র আমায় ফোন করেছিল। দু'দাগ হোমিওপ্যাথি চেয়ে।
- কি....জ্বর? তাতে ইয়ে...আমার কী?
- তোর কিছু হোক না হোক। তোর পকেটে যে নীল কাগজের চিঠিটা উঁকি মারছে সেটার আর কোন মানে থাকল না।
- না মানে...।
- গরদের ট্রান্সপারেন্ট নেচারটায় এই এক প্রবলেম।
- আসলে...। অ্যাকচুয়ালি...।
- বলছিলাম বরযাত্রী ব্যাপারটা না হয় আমিই ম্যানেজ করি। তুই বরং এ দু'টো ওষুধ দিয়ে আয়। দাগ লেখা আছে শিশির গায়ে।
- ইয়ে, মামা মানে...।
- যা ফোট।
- না মানে। দু'টো ওষুধ বললে...এটা তো একটা শিশি...।
- পকেটে নীল চিঠিখানাই তো মেইন দাওয়াই চাঁদু। শিশি তো দ্যাখনাই। দিয়ে এসো। চাঙ্গা হয়ে যাবে।
- না। মানে। আসি।
- আর শোন।
- কী?
- ডিসেম্বরের ঝিরি বৃষ্টিতে আর ভিজিস না। মেয়েটার ইমুউনিটি কম, তোর মত কুমিরে চামড়া নয়।
- আচ্ছা। আসি।
- আর শোন।
- কী?
- ওই শেল্ফের ওপরের নীল সুগন্ধি শিশি থেকে দু'ফোঁটা পাঞ্জাবীরর আস্তিনে ফেলে যা। আউধের জেনুইন নবাবী আতর।
- মামা, তুমি না...।
- প্রাচীন কোরিয়ান ভাষায় মামা মানে জিনিয়াস, সেটা জানা আছে তো?