Monday, December 21, 2015

সৌরভ

- সেই গন্ধটা। আবার।
- কেমন গন্ধ রে?
- ওই। নরম। ঝিমঝিমে। 
- কীসের?
- তোর।
- পারফিউমের।
- না না, সেটা পেরিয়ে। তোর চামড়া মাংস আর পন্ডস মেশানো।
- ফের ছ্যাবলামি?
- সিরিয়াসলি।
- সে গন্ধ তুই পাস?
- পাই।
- আমি পাশে এলে?
- সেদিন। যেদিন বিন্নদির গায়ে হলুদ। তুই শাড়ি পরেছিলিস।
- হুঁ।
- হলুদ।
- তো?
- গায়ে হলুদের শেষে। তুই স্কুল মাঠের পাশে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলিস। লং অন বাউণ্ডারির দিকে।
- তুই দেখেছিলিস?
- অপাইদা রাউন্ড দি উইকেট করছিল। মিডল অ্যান্ড লেগ গার্ডে ছিলাম। নালুভুলু লোপ্পা ফুলটস দিয়েছিল অপাইদা; বোধ হয় হাত ফসকে। জাস্ট হাঁটুর হাইটে। সোজা লাইন মিস করলাম। সোজা লেগ স্টাম্প গেল।
- ঢ্যাঁড়শের মত ব্যাট চালালে তাই হবে।
- ঠিক তা নয়।
- তাহলে বোল্ড হলি কেন?
- ওই। ধপ করে গন্ধটা নাকে এসে পড়ল। লং অন থেকে। তুই আর পন্ডস মেশানো।

বিয়েবাড়ির খাওয়ার ব্যাপারে পাঁচটা কথা

১. বিয়েবাড়িতে বর/কনে যাত্রীদের টিফিন যদি করাতেই হয় তাহলে মাংসভাতেই করানো ভালো। 
পকোড়া কফি হল ক্রিকেটীয় অঙ্কের হিসেবে রানিং ডাউন দ্য মিডল অফ দ্য পিচ অন টু দ্য ডেঞ্জার এরিয়া।

২. ফুচকা ভালো। তাই বলে বিয়েবাড়িতে? পায়ে প্যাড বেঁধে পেস বোলিং? কেন?

৩. কফির কাগজের কাপ। সাইজে আর স্ট্রেন্থে। সাইজে তাইবু আর স্ট্রেন্থে সৌরভ। কাম অন।

৪. আলু পোস্ত বিয়েবাড়ির মেনুতে স্থান পাবে কবে? চানা কুলচা কি নাসা রেকমেন্ডেড? শেওয়াগ কে বাদ দিয়ে অলটাইম ইন্ডিয়ান টেস্ট টিম?

৫. বর/কনে যাত্রী বিয়ে/বৌভাতে ঢোকার সঙ্গে তাদের হাতে আননেসেসারি রাংতা জড়ানো গোলাপ না ধরিয়ে ফাইনাল মেনু কার্ড ধরিয়ে দিলে সুবিধে হয় না? পিঞ্চ হিটার নামাতে হবে কী না, ক'টা স্পিনার খেলাতে হবে- সমস্তটা আগাম ছকে নেওয়াটা দরকারি।

জিনিয়াস ও দীপু



- মাঞ্জা ভালোই দিয়েছিস।
- টিটকিরি দিচ্ছ মামা?
- কম্পলিমেন্ট। জেনুইন।
- থ্যাঙ্কস।
- গরদের পাঞ্জাবীটার জাঁক আছে।
- বলছ?
- আলবাত আছে।
- গত পুজোর। মেজপিসি দিয়েছিল।
- কোলন?
- ওল্ড স্পাইস। বাবার।
- তবে সবটাই বোধ হয় জলে গেল রে।
- জ...জলে?
- অথৈ।
- কেন?
- সে। আসছে না।
- সে..সে মানে? কার কথা বলছ। তিন্নিদির বিয়ে। আমাদের কত কাজ। বরযাত্রী এসে পড়ল বলে। তাতে কে এল না এল...আমার কী?
- বটে?
- চলি।
- জলে। জলে।
- কী জলে?
- কোলন। গরদ। কোলাপুরি।
- ধ্যার।
- চ্যাটুজ্জেদের ছোটমেয়ে। তার জ্বর। এই মাত্র আমায় ফোন করেছিল। দু'দাগ হোমিওপ্যাথি চেয়ে।
- কি....জ্বর? তাতে ইয়ে...আমার কী?
- তোর কিছু হোক না হোক। তোর পকেটে যে নীল কাগজের চিঠিটা উঁকি মারছে সেটার আর কোন মানে থাকল না।
- না মানে...।
- গরদের ট্রান্সপারেন্ট নেচারটায় এই এক প্রবলেম।
- আসলে...। অ্যাকচুয়ালি...।
- বলছিলাম বরযাত্রী ব্যাপারটা না হয় আমিই ম্যানেজ করি। তুই বরং এ দু'টো ওষুধ দিয়ে আয়। দাগ লেখা আছে শিশির গায়ে।
- ইয়ে, মামা মানে...।
- যা ফোট।
- না মানে। দু'টো ওষুধ বললে...এটা তো একটা শিশি...।
- পকেটে নীল চিঠিখানাই তো মেইন দাওয়াই চাঁদু। শিশি তো দ্যাখনাই। দিয়ে এসো। চাঙ্গা হয়ে যাবে।
- না। মানে। আসি।
- আর শোন।
- কী?
- ডিসেম্বরের ঝিরি বৃষ্টিতে আর ভিজিস না। মেয়েটার ইমুউনিটি কম, তোর মত কুমিরে চামড়া নয়।
- আচ্ছা। আসি।
- আর শোন।
- কী?
- ওই শেল্ফের ওপরের নীল সুগন্ধি শিশি থেকে দু'ফোঁটা পাঞ্জাবীরর আস্তিনে ফেলে যা। আউধের জেনুইন নবাবী আতর।
- মামা, তুমি না...।
- প্রাচীন কোরিয়ান ভাষায় মামা মানে জিনিয়াস, সেটা জানা আছে তো?

Sunday, December 20, 2015

কনেক্টিং দ্য ডট্‌স

- অমল খাসনবিশ। নস্যি রঙের হাফ শার্ট। কালো প্যান্ট। পায়ে খাদিমের চটি। গোঁফ অযত্নে কাটা; ডাঁয়ে সামান্য বেশি লম্বা। মাথা ভর্তি কোঁকড়া সাদা কালো চুল। বাইফোকাল। বুক পকেটে লাল পকেট ডায়েরি। ডায়েরির ভাঁজে ট্রেনের মান্থলি; ভদ্রেশ্বর টু হাওড়া। বুকপকেটেই রাখা সিগারেটের প্যাকেট - গোল্ডফ্লেক; তিনটে পড়ে। প্যান্টের পকেটে নীল আধ ময়লা রুমাল আর শিপ মার্কা দেশলাই।
- ভেরি গুড। ছুরিটা?
- বুকের বাঁ'দিকের পাঁজর পেনিট্রেট করেছে। আন্দাজ এই ঘণ্টা দুয়েক আগে।
- বডিটা সেন্ট্রাল আভেনিউতে পেয়েছ তো?
- বত্রিশ বাই এ। তা ইয়ে, আপনি কি একবার এদিকে ঢুঁ মারবেন ইন্সপেক্টর সাহেব?
- অবভিয়াস ব্যাপারে মাথা গলানো ছেড়ে দিয়েছে বিজয় দারোগা।
- অবভিয়াস ব্যাপার স্যার?
- তুমি ব্রাইট অফিসার চন্দন। প্যাটার্ন চিনতে শেখ।
- মানে?
- গত সাতদিনে এই নিয়ে পাঁচ নম্বর খুন। ডট্‌স কনেক্ট কর।
- ড...ডট্‌স? নিলয় সমাজপতি, বরুণ সাহা...।
- হিন্ট দিচ্ছি। খুনের ভেন্যুগুলো কনেক্ট কর।
- ভবানীপুর, চেতলা...।
- বি মোর স্পেসিফিক।
- কীরকম স্যার?
- কী করে চলবে গুরু? এই বুদ্ধি নিয়ে পুলিশগিরি করবে কী করে চন্দন?
- সব ক'টা খুনই হয়েছে এলাকার সেরা মিষ্টির দোকানের আশেপাশে। টু বি মোর স্পেসিফিক; খুন হয়েছে এলাকার সেরা নলেন রসগোল্লা মেকারের আশেপাশে।
- কিন্তু খুন যারা হয়েছেন তাদের কারুর হাতেই মিষ্টির বাক্স ছিল না স্যার।
- গুড। তার মানে? মিষ্টির দোকানের পাশে সবাইকে পাওয়া গেল অথচ কারুর হাতে মিষ্টির বাক্স নেই।
- সবাই দোকানে দাঁড়িয়ে মিষ্টি খেয়েছিল?
- এগজ্যাক্টলি। এই তো মাথা খেলাচ্ছ বাবা চন্দন।
- তবু স্যার ডটগুলো...কনেক্ট করতে পারছি না...।
- আগের চারটে খুনের ব্যাপারে আমি তোমার আগেই খবর টবর নিয়ে রেখেছি। যারা খুন হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই রসগোল্লা খেয়েছে দোকানে দাঁড়িয়ে। গুড়ের। এই অমলবাবুর ব্যাপারে খবর নাও কাছের দোকানে। বত্রিশ বাই এ তো ? আধুনিক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার রয়েছে ওখানে। আড়াই কিলোমিটার রেডিয়াসে সেরা গুড়ের রসগোল্লা। আমি নিশ্চিত সেম প্যাটার্নে মার্ডার।
- আইব্বাস। রসগোল্লা খেয়েছে বলে খুন?
- খুন হওয়া প্রত্যেকের হাতের আঙুলের ডগা ল্যাবে টেস্ট করিয়েছি। সে খবর রাখ?
- রেজাল্ট পেয়েছেন কিছু স্যার?
- হাত ধোয়া সত্ত্বেও ডান হাতের তিন আঙ্গুলে রসগোল্লার রসের ট্রেস পাওয়া গেছে। বুড়ো, তর্জনী ও মধ্যমার ডগায়।
- তো?
- তো? ইট ইজ এভ্রিথিং।
- রসগোল্লার রসের ট্রেস তো আঙুলে থাকবেই।
- কোশ্চেন ইজ। দু'আঙ্গুলে রস লাগছে না তিন আঙুলে। সব খুন হওয়া বান্দারই তিন আঙুলের ডগায় রস। দু'আঙ্গুল হলে চিন্তার ব্যাপার হত; হিসেব গুলিয়ে এত। কিন্তু তিন আঙ্গুলে রস।
- মানে?
- মানে সক্কলে রসগোল্লার রস চিপে খেয়েছে। দু'আঙ্গুলে খেলে কনফিউসন হত; চিপেও খেতে পারে; উইথ রসও খেতে পারে। কিন্তু তিন আঙুল মানে শিওর কেস্‌।
- রসোগোল্লার রস চিপে খাওয়ায় মার্ডার স্যার?
- ভাব। ভাব। কনেক্ট দ্য ডট্‌স।

***

- কিছু বলবেন?
- না।
- না মানে? তখন থেকে পিছুপিছু আসছেন কেন?
- আপনার নামটা জানার ইচ্ছে ছিল।
- জেনে কী করবেন শুনি? আমি অমল। অমল খাসনবিশ। এখন ফলো করা বন্ধ করুন।
- আসলে এমন সুন্দর ভাবে আপনি রসগোল্লা খাচ্ছিলেন। মন্ত্রমুগ্ধের মত তাই দেখছিলাম।
- কী মুশকিল।
- সে জন্যেই ফলো করছিলাম আর কী।
- আপনি কে বলুন তো?
- আমি। সম্পর্কে আপনার বাপ। শাহেনশা বলে ডাকতে পারেন।

**

অমলবাবুর দিকে হালকা একপেশে হাসিটি ভাসিয়ে দিয়েছি বিজয় দারোগা।

কবিতা কী ?

কবিতা কী? -- ১
লালমোহন - মল্লিক। বৈকুণ্ঠ। অফ কোর্স। আর রয়েছে থ্রিলারের থরহরি থ্রিলিং নামে।
ফেলুদা - আমি আধুনিকে, অ্যাবস্ট্রাকশনে। আমার কবিতা লালুবাবুর "বলেন কী মশাই"তে আর শ্রীমান তপেশের "তাই না ফেলুদা"য়।
মগনলাল- কভিতা? উ তো এক নম্বরকা খতরনাক চিজ আছে। টোটাল রেড। পুরা লাল। মোহন অ্যান্ড মগন।

কবিতা কী? -- ২
বম্বে - বড়া পাও।
কলকাতা - বম্বের এই যে বিশ্বাস যে সে কবিতার মানে জানে, সে সরল বিশ্বাসের অপর নামই কবিতা।


কবিতা কী? -- ৩
কফি হাউস - টেবিল চাপড়ানিতে চলকে ওঠা ঠাণ্ডা কফি।
ময়দান - সবুজ হিয়ার, মিনিবাসের সাইলেন্সর দেয়ার।
নন্দন - আননোটিসড ছন্দমিল বিটুউইন ঝোলা অফ চাপদাড়ি অ্যান্ড ছাতা অফ ঠোঁটজোড়া।

কবিতা কী? -- ৪
বাঙালি - *কপালে আঙুল ঠেকিয়ে* রবীন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথ - *মিচকি হেসে* বাঙালি।