Monday, December 14, 2015

আত্মারাম

- ছোটকা!
- কী হল?
- দেখ কী পেয়েছি।
- কী?
- এই দ্যাখো!
- সব্বনাশ! এ জিনিষ কোথায় পেলি?
- বসার ঘরে।
- কী বলছিস কী?
- দেখতেই পাচ্ছ। এ জিনিষটা কী?
- এটা কী? জানবি কী করে? এ কী আর এ দুনিয়ার জিনিষ রে।
- এ দুনিয়ার নয় মানে?
- অল্প বয়সে টেঁসে এ দুনিয়ায় এসেছিস। জীবনকালের মেমরি তো কিছুই ক্যারি করতে পারিসনি। তাই এ মূল্যবান চিজ ভুলে মেরে দিয়েছিস।
- আরে বল না এটা কী? আর এটা এখানে এলোই বা কী করে?
- আমিও অবাক হচ্ছি। আমার তো ধারণা ছিল জ্যান্ত যা কিছু তারাই ভূত হতে পারে। এখন দেখছি অব্যবহারে নিষ্প্রাণেরও মৃত্যু ঘটে। এবং এ জগতে তাদেরও এন্ট্রি হতে পারে ।
- মানে?
- মানে নিষ্প্রাণ বস্তুর মধ্যেও প্রাণের সঞ্চার হয় ব্যবহারের উষ্ণতায়।
- ব্যবহারের উষ্ণতা?
- কচি ভূত। কঠিন শব্দ বুঝবি কী করে বল।
- মোদ্দা কথা হল, এ জিনিষটাও একটা ভূত?
- ভূত না হলে ও দুনিয়া থেকে এ দুনিয়ায় প্রবেশ ঘটল কী করে?
- আর এর মৃত্যু ঘটেছে অব্যবহারে, তাই তো?
- এগজ্যাক্টলি।
- জিনিষ্টা কী ছোটকা?
- মাঙ্কি ক্যাপ। স্ট্রেট ফ্রম ক্যালক্যাটা।

রোল মডেল

- হ্যালো।
- বলো।
- যে কথাটা হঠাৎ মনে এলো। যে জন্য ফের ফোন করলাম। ইয়ে। আমার মনে হয়। আমাদের একটা রোলমডেল থাকা উচিৎ।
- রোলমডেল? আমাদের?
- হ্যাঁ। মানে এই যে আমাদের সম্পর্কটা। পুরো অ্যাবস্ট্র্যাক্টে না গিয়ে এক জোড়াকে রোল মডেল ধরে নিলে...।
- ক্যালক্যাটা ইউনিভার্সিটি আর গাইড বই শেষ করে দিচ্ছে তোমায়।
- রিয়েলি বলছি। আরে প্রশ্নটা অরিজিনল্যাটি কম্প্রোমাইজ করার নয়। একটা সিনেম্যাটিক ভিস্যুয়াল থাকলে প্রেম কনসেপ্টে ঝালটা থাকে আর কী।
- তোমার মাথা গেছে।
- হাউ শুড আই গো? মডার্ন? ইরফান? তুমি দীপিকা?
- আমার দীপিকার হাইট নেই। আর তুমি ইরফান? ইন ইওর ড্রীম্‌স।
- ক্ল্যাসিক?সুচিত্রা? উত্তমের ক্যারিস্ম্যাটিক হাসি?
- সুচিত্রা? ধের। আর তুমি উত্তম? হাসিও না।
- তুমি সাজেস্ট কর।
- আইডিয়াটা তোমার।
- বল না।
- একটা জোড়া মাথায় আছে।
- কারা?
- আমি চিঠি লিখে হদ্দ হব। যেমন হই। আর তুমি কন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারে আদেখলার মত ইমোজি না ঝেড়ে; ছবি বিশ্বাসের মত ইমেল-হোয়াটসঅ্যাপের গ্রামোফোন সাইডে রেখে, বাতিকগ্রস্তের মত চিঠির জলসা আঁকড়ে মরবে। ডান?
- যাই কাজ আছে। এই রোলমডেল ব্যাপারটা বরং বাদ থাক।
- গুড বয়।

বটু গোয়ন্দার দুই

জানালার ও পাশে তাকিয়ে মন উদাস হয়ে গেল বটু গোয়েন্দার।
ঘোলাটে স্ট্রীট লাইটের আলোয় মনোহর ফুচকাওলা ফুচকা খাওয়াচ্ছে কিন্তু সন্ধ্যার প্রাণ নেই।
থাকবে কী করে?
সন্ধ্যার টেম্পারেচার চব্বিশ। মিনিমাম এগারো ব্যাচ ফুচকা খেয়ে চলে গেলে ইতিমধ্যে অথচ ফুচকাম্যান মনোহরের কপালে ঘাম এক বিন্দুও নেই। অর্থাৎ আলু যথেষ্ট ভালো ভাবে মাখা হয়নি। হতে পারে না। 
বাতাসের ধোঁয়ার গন্ধে মনকেমন করা সুবাসটাও পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ আজ গন্ধরাজও বাদ।

শিল্পীদের ক্রিমিনাল হয়ে উঠতে দেখলে শিউরে ওঠেন বটু গোয়েন্দা। জাস্ট শিউরে ওঠেন।

"না ইন্সপেক্টর। আপনার সাসপেক্ট মিথ্যে কথা বলছে। গতকাল এখানে মেঘলা ভাব ছিল, বৃষ্টি না নামলেও মিহি ঠাণ্ডা হাওয়া চলেছে", একটা স্বদেশ বিড়ি ধরিয়ে জানান দিলেন বটু গোয়েন্দা, "কাজেই তিনি স্যান্ডো গেঞ্জি পড়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন সন্ধ্যেবেলা, সে থিওরি মানা যাচ্ছে না। ওনার গায়ে জামা বা ফতুয়া কিছু একটা ছিলই। সে'টা কোন এক কারণে তিনি রাস্তায় ফেলে এসেছেন। সম্ভবত রক্তের দাগ লেগেছিল বলে। এসে ফাঁপর বুঝে বাবু গরমের গল্প দিচ্ছেন"।
"কিন্তু বটূ বাবু", ইন্সপেক্টরের কপালে সন্দেহের বলিরেখা, "আপনি কী করে বলতে পারেন যে গতকাল মেঘলা ছিলই আর ঠাণ্ডা হাওয়াও চলেছে? উইটনেস্‌রা সবাই তো..."।
"উইটনেস্‌?", বটুর মিঠে হাসি, "হাসালেন দারোগাবাবু। গ্রামেগঞ্জে সামান্য ইনফ্লুয়েন্সে লোকে হাতির বিয়ের হয়ে সাক্ষী দিয়ে দেবে। শুনুন। মদন পাল, এ অঞ্চলের বেগুনী স্পেশ্যালিস্টের ডেইলি টার্নওভারের খবর রাখেন? আমি এসেই সে খবর নিয়েছি। আর বেগুনী ডাব্‌ল সেল হয়েছে গতকাল। এই মাত্র সেখান থেকে আসছি। বিটনুন চাইতে ব্যাটা বলে কী না শেষ। গতকাল এক্সপেক্টেশেনের তিনগুণ বেশি বেগুনী সেল হয়েছে। নুনের স্টক এখনও রিপ্লেনিশ করার সময় পায়নি ব্যাটা। এখনও বলবেন গতকাল মেঘ করেনি?"।

শেষ বেলার অফিস

- দেরাজের চাবিটা কোথায় দাসবাবু?
- কেন? আপনার পকেটে নেই?
- পকেটে থাকলে আপনাকে জিজ্ঞেস করব কেন?
- খুব আর্জেন্ট দেরাজটা খোলা? ছ'টা বেজে গেছে। এখন না বেরোলে সাতটা পাঁচের গ্যালপিং লোকালটা মিস্‌ হয়ে যাবে। কাল এসে চাবি খুঁজে নেওয়া যাবে বরং। 
- ভেরী আর্জেন্ট। বড়সাহেব একটা ফিগার চেয়েছেন। না দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। আর সে'সব রেজিস্টার ফাইল সমস্তই রয়েছে দেরাজে। 
- কই, মনে তো পড়ছে না চাবিটা কোথায় রেখেছি। 
- কী মুশকিল। মাথাটা খেলান না। মনে পড়ে যাবে। 
- অহ হো! 
- কী হল?
- মাথা খেলালেই চাবিটা পেয়ে যেতাম বটে, কিন্তু কী মুশকিল দেখুন। লাঞ্চের পর কী যে হল শালিমারের গন্ধটা আচমকা মনে হল টলারেট করা যাচ্ছে না। ব্যাস। টুপ করে মাথাটা খুলে দেরাজে রেখে দিয়ে চাবি লাগিয়ে দিলাম। তারপর চাবিটা যে কোথায় রাখলাম! যাচ্ছেতাই। এখন মাথা খেলিয়ে যে চাবিটা খুঁজব সে উপায়ও নেই। 
- আপনি বরং আসুন। গ্যালপিং ট্রেনটা মিস্‌ হলে তো আবার আপনার অনেক ঝকমারি।

বিরহে

-ঘুমোলি?
- হুঁ?
- ঘুমোলি?
- দাদা, আবার কী হল?
- বলছি ঘুমোলি?
- আহ! দাদা!
- জানিস প্রেমিক প্রেমিকাদের বিরহে কত রাত জাগতে হয়? দীপান্বিতা দেড় মাসের জন্য জয়পুর চলে গেল। আর তুই ঘুমোলি?
- তুই জেগে কেন? 
- ওই। প্রেম। বিরহ।
- বৌদি গোছের কেউ?
- রাম ডেঁপো হয়েছিস। প্রেম মানেই কি আতিপাতি ব্যাপার?
- তবে বিরহ?
- পাশবালিশটা নেতিয়ে গেসল। নতুন করে তুলো ভরতে দিয়েছি। কাল পাব। দাস দিস বিরহ।
- অসহ্য।
- প্রেমে ইম্পেশেন্স চলে না ভাই।
- ঘুমোতে দিবি?
- দীপান্বিতা জয়পুরে মাইণ্ড ইউ।
- সেটা আমি বুঝে নেব।
- বিরহকে রেস্পেক্ট করবি না?
- তোর আমার পাশবালিশটা চাই। তাই না দাদা?
- তোর মধ্যে সেন্স অফ বিরহটা অ্যাডিকুয়েট নেই। তবে তোর আইকিউটা ফেলনা নয়। এদিকে দে।
- এই নে।এবার প্লীজ ঘুমোতে দে।
- ঘুমো ঘুমো। প্রেমে ঘুমের দরকার। নয়ত চেহারায় গ্লেজ কমে যায়। দীপান্বিতা জয়পুর থেকে ফিরে তোর গালে গ্লেজ না দেখলে মুশকিল। ঘুমো দেখি এবার।