Monday, December 14, 2015

জাদুকর

"এই যে। এই যে।
এটা কী? টুপি। টপ হ্যাট।
কী? কালো টুপি। উলটো করে রাখা খালি টুপি।

খালি টুপি কিন্তু। ইয়ে দেখো।
ঠিক? ঠিক।
ইয়ে টোপিকে অন্দর অভি ম্যায় কুছ রাখুঙ্গা।
কী রাখব? টুপির ভিতর?
হাত। আমার ডান হাত। ঠিক হ্যায়? এই গ্যালো।
কী গ্যালো? আমার হাত। টুপির ভিতর।
ওক্কে? ওকে"।
****
টুপিতে খপাৎ করে উদয় হল আরেকটা হাত।
খামচে পকড়া জাদুকরের হাত। জাদুকর কা ডান হাত।
****
"জাদুকর, টোপিসে নিকালো হাত। হাতে থাকবে কী? খরগোশ? ফুলেরতোড়া? বাঘের ল্যাজ?"
দর্শকরা উত্তেজিত।
হুল্লোড়।
সাস্পেন্স।

****
দর্শকদের মাঝে আসল জাদুকর। সাদা লাল তাঁতের শাড়িতে। ড্যাবেড্যাবে লাল টিপ। সিঁথিতে ভুল লাল। এক মুখ হাসি দিয়ে আড়াল করে রাখা ভোরের ব্রিসবেন পিচের খুনে আদ্রতা।
দেখনাই জাদুকর খরগোশের ল্যাজ খুঁজতে গিয়ে জব্দ। ডান হাতের পাতা বা হাঁতি আঙুলের লাল-পালিশে নখের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত। মুখে হাসি, বুকে ছ্যাঁত।
****
শাড়ির আঁচলে টান পড়তেই আসলি জাদুকর থমকে গেলেন। বুকের কাছের শাড়িটা খামচে ধরতে হল। জাদুর ব্যথা। চোখে জল। গলায় কোকাবুরা।
****
ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাজিকে হাসলেন স্টেজের জাদুকর। টুপি থেকে বের করে এনেছেন খরগোশের লেজের চেয়েও দামী আনন্দটুকরোকখানি; লাল সাদা তাঁতের শাড়ির আঁচল।
জাদুকরের মুখে কেল্লা ফতে, বুকে ইনিংস ডিফিট।

Friday, December 11, 2015

কলকাতার অপেক্ষা

মিডল স্টাম্প গার্ড নিলে সে। হেলমেট চুইয়ে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম গ্রীলে নেমে আসছে। উত্তেজনায় বুকের মধ্যে একটা মিষ্টি ধুকপুক টের পাচ্ছিলেন ব্যাটসম্যান কলকাতা।

এই সে আসবে। ভালোবাসার তীব্রতা নিয়ে ধেয়ে আসবে শীতের নতুন বল। ইট উইল কাম অন টু দ্য ব্যাট নাইসলি। শুধু সুবিধে মত প্লেস করে যাওয়া। আহা। আদুরে ব্যাটিঙের সুরে জীবনটা সবুজ হয়ে যাবে। ওই এলো শীতের বল, ওই এলো; হাভাতে ব্যাটের অদৃশ্য জিভের ডগায় তখন লালা।

রানআপ শুরু করলেন ঈশ্বর। দুলকিতে এসে ভাসিয়ে ছুঁড়লেন স্লো মিডিয়াম। পাটা পিচে নির্ভয়ে শুরুতেই ফ্রন্টফুটে চলে এলেন কলকাতা; মিড উইকেটের খাঁখাঁ চত্বর নলেনের আদরে তাকে ডাকছিল।

কিন্তু তখনই বোলার ঈশ্বরের খুনে চেহারাটা নজরে এলো কলকাতার। ঈশ্বর ভেঙ্কটেশ প্রসাদ স্বয়ং। ছ্যাঁত করে উঠল কলকাতার বুক। ঈশ্বরের ছোঁড়া ওই শীতের বল ব্যাট পর্যন্ত পৌছবার আগেই নেমে আসবে ফেব্রুয়ারির অন্ধকার। শীতের বলে কলকাতা প্রথম স্ট্রোক নেওয়ার আগেই হাড় হিম করা মেজাজে লাইটমিটার বার করে মাথা নাড়বেন আম্পায়ার ক্যালেণ্ডার।

Thursday, December 10, 2015

সলমন্ত্র

ট্যুইটার স্ক্রীনশট আইডিয়া ঃ অভিষেক মুখার্জী


- এ ভাবে গাড়ি আটকানোর কী মানে?

- নেমে আসুন।
- মানে?
- নেমে আসুন।
- আচ্ছা মুশকিল!
- নেমে আসুন। আমি বসব ড্রাইভিং সীটে।
- হোয়াট ননসেন্স!!
- বেশি সেন্স খেলাবেন না স্যার। নেমে আসুন। আমি স্টিয়ারিং ধরি। আপনি পাশে বসে গুনগুন করুন; অ অউ জানে জানা। কাম অন।
- কিন্তু কেন?
- কারণ এ গাড়িটা এখন ফুটপাথে উঠে যাবে।
- হোয়াট?
- চার পাঁচটা কুকুরে প্রাণ খতম হয়ে যাবে। ক্যুইক।
- হোয়াট?
- আসুন। নেমে আসুন। আমি বসি স্টিয়ারিঙে। আপনি পাশে বসুন।
- এসবের মানে কী?
- আপনি প্রেমাবতার। আপনি মিথ্যে বললে দুনিয়া ব্যর্থ হবে হে মানবশ্রেষ্ঠ। কাজেই আপনি স্টিয়ারিং ছাড়ুন। আমি ধরি। হাওয়া কে সাথ সাথ, ঘটা কে সঙ্গ সঙ্গ, ও সাথি চল.....।
- আপনি কে?
- আমি? আমিইই যে এ দেশের ঝিঙ্কচ্যাক স্বপ্নের অন্তরাত্মা!
- অন্তরাত্মা?
- প্রাণ ভোমরা!
- প্রাণ ভোমরা?
- আলবাত।
- রিয়েলি?
- রিয়েলি।
- আপনি কে গুরু?
- আমি রাষ্ট্রযন্ত্রের লুব্রিক্যান্ট বস। রাজনীতির অক্সিজেন, তেলা মাথার তেল, আইনের শিবঠাকুর। আমিই সে।
- আপনিই?
- আমিই।
- নামটা যদি বলতেন..।
- শ্রী ভাঁওতাবাজেশ্বর। আসুন রাজপুত্র। স্টিয়ারিঙে বসান আমায়।
- আহা। মন্ত্রমুগ্ধ করলেন স্যার। আসুন স্যার। বসুন স্যার। সেবার রাজস্থানেও যদি থাকতেন...।
- ছিলাম তো। এ দেশে বটুয়াভারীদের লোকনাথ যে আমিই হে প্রেমকুমার। রণে, বনে, ফুটপাথে, রাজস্থানে; লিভ ইট অল টু দিস শর্মা; শ্রী ভাঁওতা।
- আসুন।
- হ্যাঁ চলুন তুরন্ত কাজ হাসিল করে এগোই। এক গায়কবাবুর আবার ফুটপাথিয়া কুকুরদের ঘুমের তাপে গায়ে ঘামাচি বেরোয়। সে ভারী জ্বালাতন। ক্যুইক। আর শুনুন, মিথ্যে বলা আপনার সাজেনা। ইন কুত্তা লোগোকে উপর গাড়ি উঠায়া কউন? আপনি?
- আমি না। ভাঁওতা।
- ব্রিলিয়ান্ট। পাশে বসুন। লেটস হিট দ্য রোড।
- মদের গন্ধ আসছ কেন ভাঁওতাবাবু?
- আপনার সেরিব্রামের বাইসেপ ফুলে পনি টেল হয়ে বেরোবার উপক্রম হয়েছে, এ তারই সুবাস। এবার ঢ্যামনা প্রশ্ন সিরিজ বন্ধ করুন। উই হ্যাভ অভাগাস টু হান্ট ডাউন।

Sunday, December 6, 2015

ডিসেম্বরের ইনসমনিয়া




১। 

সো, হোয়াট আর দ্য অড্‌স।

রাত একটা বাজতে পাঁচ।

ফ্যান চার বা পাঁচ স্পীডে চালালে ঠাণ্ডা লাগছে। তিন, দুই বা একে চালালে টের পাওয়া যাচ্ছে না।


জানালা বন্ধ করে রাখলে গুমোট, জানালা খুললে হাওয়াটাওয়া আসছে না। আবার খোলা জানালা আর তিন, দুই, এক স্পীডের ফ্যান মিলিয়ে দিলেও ছ্যাঁতছ্যাঁতে ভাব জেনারেট হচ্ছে। ওদিকে খোলা জানালা আর আলতো ফ্যানের কম্বিনেশনের সঙ্গে পাতলা চাদর গায়ে টেনে নিলে আধো গরমের অসোয়াস্তি।

খোলা জানালা আর বন্ধ ফ্যানের কম্বিনেশনে একমাত্র সুদিং ফ্যাক্টর হচ্ছে সঞ্জীবের মামারা। অনলি সোলেস ইন দিস সমুদ্র সফেন অফ ডিসকনটেন্ট।
অল ইজ ওয়েল।


২।

- হ্যাঁ রে, তোর লেখায় এত রাত কেন? এত ছাদ কেন?
- তোর কী?
- বল না! এত ছাদ কেন? এত রাত কেন?
- রাতের টেম্পারেচারটা নরম, অন্ধকারটা কমফর্টেবল। ছাদের আবডালটা সেফ, হাওয়াটা সুদিং।
- সো?
- আইডিয়াল ফর ভূতের গল্প।
- এত ভূতের গল্প কেন?
- আই ক্যান নেভার হ্যাভ এনাফ অফ ইউ।

Saturday, December 5, 2015

রুম মেট

এই এক গেরো। সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে দেশলাই খুঁজে না পাওয়ার যে কী অসোয়াস্তি।
রান্নাঘরে ঢুকে গ্যাস জ্বালিয়ে সিগারেট ধরাতে হবে শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ওদিকে গ্যাসের লাইটারও বিকল।

শেষে বাধ্য হয়ে রুমমেট নির্মলবাবুর শরণাপন্ন হতে হল। দরজায় নক করতে নির্মলবাবু দরজা খুললেন। পরনে গামছা, সর্বাঙ্গ ভিজে; কেরোসিনে।

নির্মলবাবু দুঃখের সাথে জানালেন যে একটাই মাত্র দেশলাই বাক্স পড়ে। তাতে শেষ কাঠিটা রয়েছে মাত্র।

তাকে আশ্বাস দিলাম; এক কাঠিতেই কাজ হয়ে যাবে। কফি হাউসে এক কাঠিতে চারটে করে ধরে। নির্মিলবাবু একটু ডাউট করছিলেন, চারটে সিগারেট আর একটা সিগারেট-একটা বডির কম্বিনেশন কি এক হল? গড়বড় হলে এত রাত্রে আর দেশলাই পাওয়ার চান্স নেই। নির্মলবাবু চিন্তা করছিলেন খামোখা এতটা কেরোসিনে জলে যাবে বলে।

বললাম অ্যাট লিস্ট কাউন্টারে কাজ হয়ে যাবে। প্রশ্ন হল কে কার কাউন্টার নেবে। সিগারেটের আগুন নিয়ে মরতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না নির্মলবাবু। আমার আবার ডেডবডি থেকে গোল্ডফ্লেক ধরাতে একটু কেমন কেমন ঠেকছিল।

কিন্তু দেশলাই যেহেতু নির্মলবাবুর আর দয়াপ্রার্থী যেহেতু আমি, সেহেতু ঠিক হল প্রথম ব্যবহার নির্মলবাবুই করবেন। নির্মলবাবু গায়ে আগুন দিতেই আমার সিগারেটটা মুচমুচ করে জ্বলে উঠলো।

গায়ে চাক চাক ফোস্কা পড়াতে সম্বিত ফিরল। হঠ যোগের এই এক ব্যারাম, দেহ থেকে নেশাগ্রস্ত মনকে তুলে নেওয়া মামুলি চিজ, কিন্তু এই রুমমেটটি যে ফল্‌স সেটা বুঝতে পাঁচটি বছর কাবার হয়ে গেল। গা জ্বালিয়ে অঙ্ক মিলল শেষ পর্যন্ত।