Sunday, December 6, 2015

ডিসেম্বরের ইনসমনিয়া




১। 

সো, হোয়াট আর দ্য অড্‌স।

রাত একটা বাজতে পাঁচ।

ফ্যান চার বা পাঁচ স্পীডে চালালে ঠাণ্ডা লাগছে। তিন, দুই বা একে চালালে টের পাওয়া যাচ্ছে না।


জানালা বন্ধ করে রাখলে গুমোট, জানালা খুললে হাওয়াটাওয়া আসছে না। আবার খোলা জানালা আর তিন, দুই, এক স্পীডের ফ্যান মিলিয়ে দিলেও ছ্যাঁতছ্যাঁতে ভাব জেনারেট হচ্ছে। ওদিকে খোলা জানালা আর আলতো ফ্যানের কম্বিনেশনের সঙ্গে পাতলা চাদর গায়ে টেনে নিলে আধো গরমের অসোয়াস্তি।

খোলা জানালা আর বন্ধ ফ্যানের কম্বিনেশনে একমাত্র সুদিং ফ্যাক্টর হচ্ছে সঞ্জীবের মামারা। অনলি সোলেস ইন দিস সমুদ্র সফেন অফ ডিসকনটেন্ট।
অল ইজ ওয়েল।


২।

- হ্যাঁ রে, তোর লেখায় এত রাত কেন? এত ছাদ কেন?
- তোর কী?
- বল না! এত ছাদ কেন? এত রাত কেন?
- রাতের টেম্পারেচারটা নরম, অন্ধকারটা কমফর্টেবল। ছাদের আবডালটা সেফ, হাওয়াটা সুদিং।
- সো?
- আইডিয়াল ফর ভূতের গল্প।
- এত ভূতের গল্প কেন?
- আই ক্যান নেভার হ্যাভ এনাফ অফ ইউ।

Saturday, December 5, 2015

রুম মেট

এই এক গেরো। সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে দেশলাই খুঁজে না পাওয়ার যে কী অসোয়াস্তি।
রান্নাঘরে ঢুকে গ্যাস জ্বালিয়ে সিগারেট ধরাতে হবে শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ওদিকে গ্যাসের লাইটারও বিকল।

শেষে বাধ্য হয়ে রুমমেট নির্মলবাবুর শরণাপন্ন হতে হল। দরজায় নক করতে নির্মলবাবু দরজা খুললেন। পরনে গামছা, সর্বাঙ্গ ভিজে; কেরোসিনে।

নির্মলবাবু দুঃখের সাথে জানালেন যে একটাই মাত্র দেশলাই বাক্স পড়ে। তাতে শেষ কাঠিটা রয়েছে মাত্র।

তাকে আশ্বাস দিলাম; এক কাঠিতেই কাজ হয়ে যাবে। কফি হাউসে এক কাঠিতে চারটে করে ধরে। নির্মিলবাবু একটু ডাউট করছিলেন, চারটে সিগারেট আর একটা সিগারেট-একটা বডির কম্বিনেশন কি এক হল? গড়বড় হলে এত রাত্রে আর দেশলাই পাওয়ার চান্স নেই। নির্মলবাবু চিন্তা করছিলেন খামোখা এতটা কেরোসিনে জলে যাবে বলে।

বললাম অ্যাট লিস্ট কাউন্টারে কাজ হয়ে যাবে। প্রশ্ন হল কে কার কাউন্টার নেবে। সিগারেটের আগুন নিয়ে মরতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না নির্মলবাবু। আমার আবার ডেডবডি থেকে গোল্ডফ্লেক ধরাতে একটু কেমন কেমন ঠেকছিল।

কিন্তু দেশলাই যেহেতু নির্মলবাবুর আর দয়াপ্রার্থী যেহেতু আমি, সেহেতু ঠিক হল প্রথম ব্যবহার নির্মলবাবুই করবেন। নির্মলবাবু গায়ে আগুন দিতেই আমার সিগারেটটা মুচমুচ করে জ্বলে উঠলো।

গায়ে চাক চাক ফোস্কা পড়াতে সম্বিত ফিরল। হঠ যোগের এই এক ব্যারাম, দেহ থেকে নেশাগ্রস্ত মনকে তুলে নেওয়া মামুলি চিজ, কিন্তু এই রুমমেটটি যে ফল্‌স সেটা বুঝতে পাঁচটি বছর কাবার হয়ে গেল। গা জ্বালিয়ে অঙ্ক মিলল শেষ পর্যন্ত।

Sunday, November 29, 2015

কচুরিয়




১।



- আপনার আনন্দবাজারটা। দিয়ে গেলাম। বুড়ি নিয়ে গেছিল, বৌদির থেকে।আমাদের তো আবার টাইমস। মেষের আন্ডারে কী বলছে একটু চেক করার ছিল। আজ একটা কনসাইনমেন্ট কনফার্ম হওয়ার কথা কী না।


- ও কনসাইনমেন্ট আপনার বাঁধা।

- বলছেন?

- অফ কোর্স। স্যাঙ্গুইন। আনন্দবাজারের প্রথম পাতায় স্পষ্ট দেখতে পারছি। এ দিন আপনার খারাপ যেতেই পারে না।

- ফার্স্ট পেজে? 

- একদম


- মানে?


- মানে ছোলার ডালের ফোঁটাটা যে ভাবে প্রাইম মিনিস্টারের কপালে ল্যাণ্ড করেছে দেখছি, কচুরি বেশ হাপুসহুপুসেই সাবড়েছেন। এ দিন আপনার খারাপ যাওয়ার কোন চান্সই নেই।


২। 


- কোন এক হারিয়ে যাওয়া ভাষায় ক মানে নিশ্চই মন। ডেফিনিটলি।

- ক মানে মন?

- ডেফিনিটলি।

- হঠাৎ?

- হাউ এল্স ডু ইউ এক্সপ্লেইন দ্য ওয়ার্ড কচুরি?

সর্ষের মধ্যে

- আসুন। আসুন। ওয়েলকাম টু দ্য ল্যান্ড অফ ডেড।

- বাহ! দিব্যি অ্যারেঞ্জমেন্ট কিন্তু মশাই। ইয়ে আপনি...?

- অনিল সমাজপতি। এই অগস্টেই এসেছি। ব্রেনস্ট্রোক।

- আমি নির্মল রায়। আমার আবার ইয়ে, কার্ডিয়াক। তা, এখেনে সবকিছু এমন কালচে কেন বলুন দেখি?আর একটা ঝাঁজালো গন্ধও পাচ্ছি সেই এসে থেকে।

- সর্ষের মধ্যে প্রথম ক'দিন এমন লাগবে। পরে সয়ে যাবে। 

- সর্ষে?

- নয়তো আর বলছি কি। দেওয়াল সিলিং ছুঁয়ে দেখুন না মশায়। সর্ষে দানার ইন্টেরিয়র বিলক্ষণ ফিল করতে পারবেন।

- রিয়েলি! আর বাহ! তাই তো! মানে ইয়ে, এখানে বোধ হয় স্বর্গ নরকের ব্যাপারটা নেই। মানে যেমন গপ্পগাছা শোনা যায় আর কী! তাই না?

- স্বর্গ? নরক? অবভিয়াসলি আছে। খানিক পরেই ব্রশার আসছে। পড়লেই ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

- ব্রশার?

- মৃত্যুলোকের। 

- তা স্বর্গ বা নরক চিজ কেমন? সেসব এই সর্ষের মধ্যেই?

- আরে না না। এ তো বেসক্যাম্প। এখানে স্রেফ মাসখানেকের মামলা। তার মধ্যেই ফয়সালা আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

- ফয়সালা অফ স্বর্গ অর নরক?

- এগজ্যাক্টলি।

- তা নরক মানে তো শুনেছি অসম্ভব যন্ত্রণা। কড়াইয়ে চুবিয়ে বিশ্রী হ্যারাসমেন্ট।

- কড়াইয়ে চুবনিই আসলে স্বর্গের অ্যাফেয়ার।

- সে কী! সে তো যন্ত্রণা।

- অন দ্য কন্ট্রারি। প্লেজার অফ দ্য হাইয়েস্ট অর্ডার।

- হাউ?

- দেখুন,আপনার কপালে স্বর্গ থাকলে আপনি সর্ষেয় চেপে বাটা হয়ে স্ট্রেট যাচ্ছেন ইলিশে। আর নরকভোগ থাকলে আপনাকে সর্ষে সহ রগড়ে তেল বার করে পাঠানো হবে ডিসেম্বরের স্নানবাবুর নাকের ফোঁদলে।

- ম্যাগো।

- তাই বলছিলাম; কড়াইই স্বর্গ।

Friday, November 27, 2015

নিখুঁত প্রতিশোধ

- ডাক্তার। 

- কোথায় রাখলে?

- ওটিতে। 

- ভুল হয়নি তো?

- সেই লোক ডাক্তার। হান্ড্রেড পারসেন্ট। আলেক্স রডরিগেজ। আই কার্ড আর ছবি মিলিয়ে দেখেছি। কাট মার্ক অন দ্য নি। কটা চোখ। নির্ভুল।

- চোট?

- যেমন কথা তেমন কাজ। বিন্দুমাত্র নেই। শুধু গভীর ঘুমে। আটচল্লিশ ঘণ্টার আগে জ্ঞান ফিরবে না। 

- গুড। 

- ওটি তৈরি করি?

- কর। আমি সিগারেটটা শেষ করে আসছি।

- ডাক্তার। 

- বল।

- এই আপনার ...। 

- হুঁ।

- আপনি নিশ্চিত? 

- নিজের বাবা মা'র খুনিকে মনে রাখাটা বেশ সহজ কার্লোস।

- খুন তো সহজেই করতে পারতেন । সহজ প্রতিশোধ।

- যে প্রতিশোধ সহজে নেওয়া হয়, সে প্রতিশোধ দায়সারা। 

- যন্ত্রণাবিদ্ধ করে মারতে চান?

- যন্ত্রণাবিদ্ধ করতে চাই। তবে মারতে চাই না। সুস্থ ও জীবিত রাখতে চাই। 

- কী অপারেশন করতে চাইছেন ডাক্তার? 

- যে অপারেশনের জন্য আমার এই কুড়ি বছরের রিসার্চ। 

- গোপন রিসার্চ। 

- ঠিক। 

- কীসের অপারেশন ডাক্তার?

- দ্য মোস্ট কমপ্লেক্স ব্রেন সার্জারি ইন হিউম্যান হিস্ট্রি।

- কী'রকম?

- টেবিল তৈরি কর কার্লোস। 

- রাইট ডক্টর। 


**

- খোকা। 

- ইউ আর আ পিস অফ ডার্ট আলেক্স। আর আমায় খোকা বলে ডাকা বন্ধ কর। 

- আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলিস না। আমি জানি আমি আলেক্স কিন্তু তবু...। 

- কিন্তু তবু আমার জন্যে অদ্ভুত কষ্ট হচ্ছে। তাই না? আমায় খোকা বলে ডাকতে ইচ্ছে করছে তাই 
না? আমার মা বাবাকে মেরেছ বলে পাগলের মত কষ্ট হচ্ছে, তাই না?

- এসব কী করলে ? হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান?

- তুমি আমার বাবা মাকে কেন খুন করেছিলে? 

- অবভিয়াসলি ওদের ফর্মুলা চুরি করতে। বাট আই ফিল টেরিব্‌ল নাউ। মরে যেতে ইচ্ছে করছে। হোয়াই! কী এমন হল যে এমন ভীষণ অপরাধ বোধ...। 

- ফর্মুলা। মানুষের ইমোশনাল কনফিগারেশনের রেপ্লিকা তৈরি করার মেডিকাল ফর্মুলা। সেই রেপ্লিকাকে জমিয়ে রাখার ফর্মুলা। সেই ইমোশনাল কনফিগারেশনের রেপ্লিকাকে অন্যের ব্রেনে ইমপ্ল্যান্ট করতে পারার ক্ষমতা। কী হল খুন করে? এ ফর্মুলা তো পেলে না আলেক্স।

- আমায় ক্ষমা কর খোকা। যন্ত্রণা। বড্ড যন্ত্রণা। 

- স্টপ কলিং মি খোকা। গুলি করে ঘিলু ঘেঁটে দেব আলেক্স। অনেক দিন আমায় কষ্টে রেখেছ। আহ, চোখ বুঝলেই মা বাবার মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করার দৃশ্য মনে পড়ে।

- তোর হাতে ওটা রিভলভার খোকা? শুট মি। শুট মি নাউ। এ যন্ত্রণা বইতে পারব না আমি। 

- যন্ত্রণা তো সবে শুরু আলেক্স। 

- এমনটা কেন হচ্ছে ? কেন?

- সে ফর্মুলা কাজে লাগানোর বুদ্ধি তোমার ছিল না আলেক্স। তুমি মেডিকাল সায়েন্সের জগতের কলঙ্ক। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার আগে সেই ফর্মুলা সফল ভাবে টেস্ট করে গেছিলেন। অবিশ্যি পার্শিয়াল সাকসেস। 

- সাফল্য?

- আমার মায়ের ইমোশনাল কনফিগারেশনের রেপ্লিকা তৈরি করে যত্ন করে রেখে গিয়েছিলেন। সেই রেপ্লিকা আজ আমি তোমার ব্রেনে প্ল্যান্ট করেছি।

- খোকা! এ তুই কী করলি?

- যে যন্ত্রণা তুমি ভোগ করছ আলেক্স, তা হচ্ছে আমার মায়ের বুকের ব্যথা। নিজের স্বামীকে আততায়ীর গুলিতে ছটফট করে মরতে দেখার যন্ত্রণা। নিজের মৃত্যু দেখতে পাওয়ার আতঙ্ক। সে'সব যন্ত্রণাতেই ছটফট করে মরছ তুমি। ছটফট করে মরবেও। আজীবন। 

- খোকা! স্টপ ইট!

- ইট হ্যাজ জাস্ট স্টার্টেড। সবচেয়ে করুণ যন্ত্রণায় তোমায় দগ্ধে মারব আলেক্স। বাপ মায়ের খুনের যোগ্য বদলা নিয়ে যাব আমি। সন্তানহারা মায়ের দুঃখের আগুনে তোমায় সেঁকব আজীবন। 

- কী করছিস খোকা! সাবধান! 

***

ডাক্তারের নিথর দেহের ওপর লুটিয়ে পড়লেন নতুন মা ও সদ্য সন্তানহারা আলেক্স রডরিগেজ্‌।