Wednesday, November 25, 2015

বোঝা আর মাখা সন্দেশ

- দাদা, সবাই সব বোঝে?

- না বোঝাটাই মঙ্গল। মাসলোর মগডালে বেশি লোকের ঘুরঘুর হলেই মুশকিল।

- তুই সব বুঝিস যেন?

- আমি মাসলোর পাদানিতে দোল্লা খাচ্ছি। আমার সব বুঝে কাজ কী? 

- তুই দাদা বড্ড বেশি আনন্দবাজার পড়ছিস। খালি বাতেলা।
- ভুল বিনু ভুল। আনন্দে আছি, বাজারে নেমেছি; সচ বাত। কিন্তু আনন্দবাজারে নেই। তা সবার বোঝা নিয়ে মেতেছিস কেন?
- কবিতা লিখছি।
- কেন?
- কেন মানে? কবিতা পাচ্ছে। তাই।
- প্রেম?
- সুস্মিতা। সেকেণ্ড ইয়ার। আর্টস। হিস্ট্রি বোধ হয়।
- এসব পেখম মেলা কাব্যি বস। মেটিং ডান্স। তোর ও লেখা কেউ পড়বে না।
- ছিঃ দাদা।
- চোপ। শুনে রাখ; সবাই বুঝবে না। গবেট মেজররিটির দুনিয়া। সবে প্রেমে পা চুবিয়েছিস। হাইয়ার ওয়েভলেন্থে ফ্লোট করছিস। কেউ বুঝবে না। ভাবিস না।
- সুস্মিতা বুঝবে?
- বুঝলেই মরলি। তবে যদি না বোঝে, সেদিন বুঝবি রিয়েল পোয়েট্রি কী!
- বুঝব? বিরহ? হার্টব্রেক? মদ ধরতে হবে?
- গবেট। হার্টব্রেক সারাই হয় গুপ্তিপাড়ার মাখাসন্দেশে।
- গুপ্তিপাড়া? মিনুপিসির বাড়ি?
- অফ কৌর্স। সুস্মিতা রিফিউজ করলে তোকে নিয়ে যাব। দু'দিনে দেড় কিলো পার হেড। ফাইনেস্ট ব্যথা ভোলানো কাব্যি। ক্লাসিয়েস্ট মাখা সন্দেশ। তদ্দিন বরং আগডুম বাগডুম লিখে সুস্মিতার লেজুড় হয়ে ঘুরে নে।

হ্যাশট্যাগ

- কী চাই?

- ঠকঠক করে কাঁপুনিটা বন্ধ করুন। ফার্স্ট ডিমান্ড।

- ন...নলের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁ...কাঁপুনিটা অটোমেটিক। ইনভলেন্টারি।

- বন্দুকে এত ভয়? নিউজপেপার তো নিশ্চিন্তে বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ান। যত ভয় এই বন্দুকে?

- না মানে....। মানে...চাইছেনটা কী?
- হ্যাশট্যাগ আইডিয়া অফ রোম্যান্স।
- আ....আজ্ঞে?
- মানে রোম্যান্স সম্বন্ধে আপনার আইডিয়া কী?
- আ...আমার আইডিয়া?
- বলুন। না বললেই নয়।
- না বললেই বুঝি ঢি...ঢি...ঢি...।
- ঢিশুম? ইয়েস। ঢিশুম। এবার বলুন।
- রোম...রোম...।
- বেহালা কাঁধ থেকে নামান ভাই নিরো। হোয়াট ইজ ইওর আইডিয়া অফ রোম্যান্স?
- আমার?
- নয়তো কি ডালহৌসির?
- রোম্যান্স। রি...রিয়েল রোম্যান্স বলতে বিয়ে...।
- বিয়ে? একশোয় বারো।
- যে সে বিয়ে নয়। শীর্ষেন্দুর দিলদরিয়া চোরের সাথে শীর্ষেন্দুর মাই ডিয়ার পেত্নীর বিয়ে।
- রিয়েলি? একশোয় একশো।
- ঘোড়াটা সামলে স্যার।
- এই নিন। এই রিভলভার এখন আপনার। মাই জব ডান।
- মানে?
- মানে এই বন্দুক অন্য কারুর কপালে ঠেকিয়ে ‪#‎IdeaOfRomance‬ য়ের পরের কিস্তি আপনাকে আদায় করতে হবে। যে দেশে যে ইয়ে।
- মাইরি? এই বন্দুকটা আমার? এটা কোল্ট?
- না। কোল্ট তো ফেলুদার। এটা ফেসবুকের; এটা ট্যাগ।

Tuesday, November 24, 2015

শার্প

- বসুন। 
- আপনার বোধ হয় সিগারেট...।
- চলে না। তবে আপনি ধরাতেই পারেন।
- ধন্যবাদ।
- নার্ভাস লাগছে?
- একটু। আর শীতটাও বাড়াবাড়ি রকমের।
- বাইরে মাইনাস বারো। ব্র‍্যান্ডি দিতে বলেছি।
- আসলে জায়গাটা সুন্দর অথচ দম বন্ধ করা অন্ধকার...।
- এটা হিল স্টেশন নয়। আপনার কলকাতা তো নয়ই।
- জানি।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে আসার কোন মানে হয়? আপনার ঝকঝকে সুন্দর জীবন। নরম, ভালবাসা মাখা। সেলিব্রেটি। আইকন। এই রুক্ষ খুনে পরিবেশে কেন এলেন? 
- ব্রুসের কাছেও তো সবই ছিল। হি ওয়াজ অলসো অন টপ।
- অন টপ? অন টপ? রিয়েলি? গথাম আর কলকাতা একই স্কেলে মাপছেন?
- আর্টিস্টের কাছে সিটি অফ জয় বলে কিস্যু নেই। সমস্তটাই খুনোখুনি। অ্যান্ড আই ওয়ান্ট টু গো ওভার অ্যান্ড অ্যাভব অল দ্য র‍্যাট রেস।
- আর তেমনটা কেমন ভাবে হতে চান?
- আরও ধারাল হয়ে।
- ধারালো? আপনি সুপারস্টার । আপনার হাজার ওয়াটের হাসি।  লেডি কিলার মেজাজ। মন ভোলানো ম্যানারিজমস। অগাধ পয়সাকড়ি। প্রতিপত্তি। 
- সমস্ত। সমস্তই আছে হে ঘুল। নেই শুধু সেই শার্পনেসটুকু। সেই এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়া কথার দুলকি। সেই ক্ষুরধার দৃষ্টি।  সেই জাদু হিউমরের ছুরি।  ওগো বধু সুন্দরীর সেট থেকে এমনি এমনি পালিয়ে আসিনি। ডামি ডেডবডি এমনি এমনি ফেলে আসিনি।
- সূর্যের মত ধারলো হতে চান উত্তম?
- হে রাস আল ঘুল, আমি রবি ঘোষ হতে চাই।

Sunday, November 22, 2015

অবিচুয়ারি

চোখ ডলতে ডলতে দরজা খুলে ব্যালকনিতে এলেন অনল। সানডে লেট মর্নিংটা হকের ব্যাপার। রোল পাকানো টাইমস অফ ইন্ডিয়াটা খুলে অভ্যাসবশত পাতাগুলো ফরফর করে একবার উল্টে গেলেন তিনি।


বারো নম্বর পাতায় এসে চোখ গেল আটকে। নিচের দিকে ডান কোণে রয়েছে ব্যাপারটা। অবিচুয়ারি। ইন দ্য লাভিং মেমরি অফ অনল সেন। বোঝ। সঙ্গে তার ছবি। 

-অনলবাবু ভেতরে আসুন প্লীজ। ভুল ব্যালকনিতে রয়েছেন আপনি। 

অনল অবাক হয়ে দেখলেন বেডরুমের ব্যালকনিতে এক অপরিচিত মুখ দাঁড়িয়ে। 

- আরে ভেতরে আসুন না অনলবাবু।

একরকম অনলের  হাত ধরে জোর করে ঘরের মধ্যে নিয়ে এলেন ভদ্রলোক।

- আরে আপনি কে মশাই? হু আর ইউ?
- দেখলেন তো অনলবাবু! কী গোলমালটাই না পাকিয়েছেন আপনি।
- বেরোন। বেরোন বলছি।
- যাব কোথায়? উপায় নেই তো। সব দোষ আপনার।
- মানে?
- মানে ওই ঘুমের চোখে ভুল দরজা খুলেই করলেন গণ্ডগোল। এখন বুঝুন ঠ্যালা।
- এর মানে কী? আপনি উন্মাদ। রাখহরি! এদিকে।
- আচ্ছা লোক মশাই আপনি। খুললেন গলত দরওয়াজা। এখন ডাকছেন রাখহরি। বলি সে এখানে আসবে কী করে?বোঝ ঠ্যালা। আরে আপনি তো ঘুমের চোখে দু'মাস পরের দরজা খুলে ফেলেছেন।
- ননসেন্স।
- কী মুশকিল। বিশ্বাস অবিশ্যি করবেনই বা কী করে। এই টাইম অ্যানোমালি এত রেয়ার। 
- দু'মাস পরের দরজা মানে? এটা আমার ব্যালকনির দরজা। 
- বোঝ। তাই তো বলছি। ওইটে আপনার দু'মাস পরের ব্যালকনি। এমন কেয়ারলেসলি দরজা খুললে এই হবে। বিশ্বাস না হয় খবরের কাগজের ডেটটা দেখুন।
- কী যাতা বলছেন।
- দেখুন না। তারিখটা।
- জ্যা....জ্যানুয়ারি।
- করেক্ট। 
- আর এটা নভেম্বর।
- এটাও জানুয়ারি। তবে আপনি নভেম্বরের। ভেবেছিলাম দরজা দিয়ে ফের ভেতর নিয়ে আসলে আপনি নভেম্বরের বেডরুমে ফেরত আসবেন। কিন্তু হল না।
- মাথ গুলিয়ে যাচ্ছে।
- ন্যাচুরালি। নস্যি নেবেন?
- না। থ্যাংকস।  আপনি কে?
- টাইম অ্যানোমালি ম্যানেজার। কম্পলেক্স ব্যাপার।
- আপনি মানুষ নন?
- ইট ইজ কম্পলিকেটেড। তবে হতেও পারি।
- আচ্ছা এখন বেরোলে কি আমি জানুয়ারির রাস্তায় বেরোব?
- পারবেন না। আপনার এখন সাস্পেন্ডেড স্টেট। এ ব্যালকনি আর বেডরুম জানুয়ারির। আপনি নভেম্বরের। সরি আপনি বেরোতে পারবেন না।
- আচ্ছা ওই অবিচুয়ারিটা। আমি কি ইয়ে, মারা যাব? 
- অবিচুয়ারি?
- আমার নামে। জানুয়ারির কাগজে। এইখেনে।
- বটে। কী সাংঘাতিক। এমনটা তো হওয়া উচিত নয়। হলে আপনি সেই ভূল দরজার নাগাল পেলেন কী করে?
- আমি না কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। কিচ্ছু না।
- এবার তো আমিও কনফিউজড। এটা আপনারই অবিচুয়ারি? আর ইউ শিওর?
- অফ কোর্স।
- যাচ্চলে। নিজের মৃত্যুর পরের টাইমলাইন তো টাচ করতে পারা উচিৎ নয়। সময় তৈরিতে এত বড় গলদ? যাঃ শালা।
- আমি জানুয়ারি বাইশের আগে মারা যাব?
- অবিচুয়ারি তো তাই বলছে। কিন্তু ইয়ে, সরি অনলবাবু। জানুয়ারিতে আপনার মরা হচ্ছে না। আপনার মরা তো আর টাইমের কনসেপ্টের চেয়ে বেশি জরুরী হতে পাতে না।
- আরে আমি নিজেও কি ছাই মরতে চাই নাকি? 
- আরে অমন দুম কর দরজা কেউ খোলে? কী ফ্যাসাদ। এখন সময়ের থিওরিকে বাঁচাতে আপনার মৃত্যুকে নিয়ে গোঁজামিল করতে হবে।


***
- ইন্সপেক্টর অনল...ইন্সপেক্টর অনল...ক্যান ইউ হিয়ার মি....।
- স্যার....।
- বল অনল। বল। 
- মি...মি...
- মিনি গুণ্ডা ধরা পড়েছে।
- আমি...গুলি....গুলি লেগেছে...।
- টু বুলেটস। বাট বি ব্রেভ। হস্পিটাল আর বেশিদূর নয়।
- টু মাচ ব্লিডিং...।
- হোল্ড অন অনল। বেস্ট ডক্টরস আর ওয়েটিং ফর ইউ।
- হোয়াট আই নিড...।
- কী চাও ইন্সপেক্টর,  জাস্ট টেল মি...।
- দেয়ার ইজ অনলি ওয়ান ওয়ে টু সেভ মি স্যার...।
- কী অনল, টেল মি।
- টা...টাইমস অফ ইন্ডিয়ায়...। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার কাল...কালকের এডিশনে...।
- কালকের এডিশনে...? কালকের এডিশনে কী ইন্সপেক্টর?
- আমার নামে একটা অবিচুয়ারি...প্লীজ।
- হোয়াট? হোল্ড অন টু ইওরসেল্ফ ইন্সপেক্টর।  তুমি বাঁচবে।
- দ্য অবিচুয়ারি...ইজ...ইজ দ্য অনলি ওয়ে টু সেভ মি...প্লীজ।
- কী বলছ?
- প্লীজ বস। প্লীজ।
- অনল...অনল...অনল!!!!

Thursday, November 19, 2015

উইলের ব্যাপার



- জুতিয়ে মুখ ভেঙে দেব।


- চাবকে পিঠের চামড়া তুলে নেব।

- পেটে বোম মারব।

- কান কেটে কুচি কুচি করে ডুবো তেলে ভাজব।

- তুমি তাহলে আমার কথা শুনবে না দাদা? এত দেমাক?

- তুই আমার কথা শুনছিস না। রাস্কেল ছেলে কোথাকার।

- বাবার উইল কে রিফিউজ করছ?

- বাবা ফাউল করেছে। মরার আগে চুপিচুপি উইল চেঞ্জ? বাবা গদ্দারি করেছে।

- নিজের বাপকে গদ্দার বলছ? এই তোমার কালচার?

- লুঙ্গি পরে ক্রিকেট খেলিস তোর কাছে কালচার
নিয়ে লেকচার শুনব? শুয়ার। 

- খবরদার। ভাষা সামলে। উইল তোমায় মানতে হবে।

- চোপ। জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব।

- ভুঁড়ি পাঙচার করে দেব।

- ওই উইলে আমি ইয়ে করি।

- দাদা বলে রেয়াত করব না। উইল তোমায় মানতেই হবে। 

- আনফেয়ার উইল। বাবার ভীমরতি হয়েছিল।

- বাবার ভীমরতি?  মানুষটা মারা গেছে দু'দিনও হয়নি। তুমি এমন ভাবে বলতে পারছ দাদা?

- ফ্যাক্ট ইজ ফ্যাক্ট। ওসব আনফেয়ার ডিলের তোয়াক্কা আমি করি না। এই বাড়ি তিন তলা। দেড় তলা আমার, দেড় তলা তোর।

- বাবা বলে গেছেন দু'তলা তোমার তো দু'তলা তোমার। একতলা শুধু আমার। এই বলে রাখলাম।

- অসম্ভব। বাবার অবর্তমানে আমি বড়দাদা হিসেবে তোর গার্জেন। দেড় তলা দেড় তলা। সিধে হিসেব। না মানলে ফোট।

- ওরে আমার গার্জেন রে। গোটা সিজন একটা ভালো ইলিশ আনতে পারলে না।

- ট্রেটর শালা। সতেরোই অগস্টের ইলিশটা ভুলে গেলি? আহাম্মক।

- লায়ার। তুমি একটা কনজেনিটাল গুলবাজ। ও মাছ বাবা বেছে এনেছিল।

- ব্যাগ আমি ক্যারি করেছিলাম। গন্ধমাদনের সঙ্গে আজও হনুমানের নাম অ্যাটাচড, ভুলিস না।

- বাহ, নিজেই যখন নিজেকে হনুমান বলে মেনে নিয়েছ তখন আর চিন্তা কি? যাও যাও, দুটো তলা তোমার। এক তলা আমার।

- ফের এক কথা? ডেঁপোর ডিম। দেড় তলা দেড় তলা।

- দাদা। দেখ। আমার ছেলে চাকরী করছে। ঝাড়া হাত পা। তোমার দুই মেয়ের বিয়ে বাকি।

- বাড়ির সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে বলছিস? 

- ওফ! তোমার সাথে কথা বলাই পাপ। আমি চললাম।

- ওরে। যাসনে। বাবার আত্মা এখনও বোধ হয় আশেপাশেই ফ্লোট করছে। একা থাকতে বুক ছ্যাঁত ছ্যাঁত করে। যদি উঁকি মারে? এমনিতেই যা খিটখিটে মাল ছিল।

- নিজের বাবাকে কে মাল বলবি। বাপের উইল রিজেক্ট করবি। এই না হলে বড়ছেলে? বাবা বিচক্ষণ ছিল।

- আর তুই একটা বিষ। বাবার মতই দিনদিন খিটখিটে হচ্ছিস।

- দাদা, বাবাটা কী বদ না? কেমন আলগা ছেড়ে দিয়ে কেটে পড়ল।

- আর এটা হচ্ছে বদের বাসা। বদের বাসার দুই তলা আমায় দিস না।

- দাদা কাঁদছিস?

- তোকে দেখে বড় কষ্ট হচ্ছে রে ভাই। আহা রে, তোর বাপ নেই।