Thursday, November 19, 2015

নিয়ার ডেথ্‌

-   নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স?

-   আজ্ঞে।

-   এখেনে বসলে?

-   এখানে বসে, এই কাঁচের টুপিটা মাথায় দিয়ে তারপর ওই নীল সুইচ্‌টা দাবিয়ে দিন।

-   তারপর?

-   তারপরেই সেই ম্যাগনিফিসেন্ট ব্যাপার।

-   ম্যাগনিফিসেন্ট? যন্ত্রণা নয়?

-   ফিজিকাল যন্ত্রণার ওপারে রয়েছে মৃত্যু বুঝলেন। যখন মৃত্যু ল্যান্ড করবে তখন সমস্ত পিসফুল।

-   পিসফুল। উদ্ভাসিত আলোয় তৈরি হবে ব্যাকগ্রাউন্ড। তারপর ভেসে আসবে সে।

-   সে? ডেথ?

-   সুবাস।

-   সুবাস?

-   একটা মনমোহিনী সৌরভ। সুবাস। সুবাতাস। বুক জুড়ে নেমে আসবে।

-   সেটা কেমন?

-   মৃত্যু আসলে গন্ধ...।

-   সুগন্ধ বলুন স্যার। আর আমার এই যন্ত্রে বসে, সেই অপরূপ সুগন্ধ আপনি চেখে আসতে পারবেন।

-   কীরকম সুগন্ধ মশাই ?

-   একেক জনের একেক রকম। আপনার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় গন্ধগুলো মণ্ড পাকিয়ে আসে। আবেশের ভার চাপিয়ে সরে পড়ে। মানুষ স্তিমিত হয়ে আসে।

-   উরিব্বাস।

-   গতকাল যে কাস্টোমার এলেন তিনি পেলেন ফুচকার জলে গন্ধরাজ লেবুর গন্ধ। ঘাস, মাটন, মা; কত কিছুর গন্ধ পায় লোকে।

-   কেউ ইয়ে...ওপারে চলে যায় না তো?

-   ফিজিক্যালি তো আপনি জ্যান্ত ও সুস্থ। এই যন্ত্র শুধু আপনাকে মৃত্যুর আগের মূহুর্তের অনুভূতিটুকুর স্পর্শ করায়। একটা সামান্য রিস্ক শুরুর এক্সপিরেমেন্টে ছিল। মরণ সৌরভে বিভোর হয়ে মানুষ মাঝে মাঝে কোমায় চলে যাচ্ছিলে।তারপর নতুন করে অ্যান্টিডোট দাওরে, শুশ্রূষা কর রে; হাজারো ঝক্কি।  তবে এ যন্ত্র এখন এতটাই অ্যাডভান্স্‌ড যে সে চিন্তা আর নেই। অটোকাট সিস্টেম রয়েছে। আপনার ব্রেন সম্পূর্ণ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার আগেই যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি ফিরে আসবেন সে অপার্থিব অনূভতি বহন করে।

-   ডাক্তার বাগচি, আপনি তো দুরন্ত কাজ করেছেন!

-   নিন, এই কাঁচের টুপিটা মাথায় দিন। আমি স্যুইচ অন করি।

**

-   নোবেল ইজ টু লিট্‌ল ফর ইউ ডক্টর বাগচি।

-   থ্যাঙ্ক ইউ প্রেসিডেন্ট।

-   টু লিট্‌ল।

-   আই নো।

-   মেশিন দ্যাট জেনারেট্‌স নিয়ার ডেথ ফিলিং। হাউ সেনসেশনালি ইনক্রেডিব্‌ল।

-   ইউ নো দ্যাট্‌স হোয়াট ইট এক্স্যাক্টলি ইজন্‌ট। ডোন্ট ইউ ডিয়ার প্রেসিডেন্ট?

-   আই নো। আই নো। কিন্তু পৃথিবীর নব্বুই ভাগ সমস্যার মিটে যাওয়া তো আপনার এই আবিষ্কারেই। যুদ্ধের দরকার পড়ছে না। খাদ্য সমস্যা প্রায় শেষ। পরিবেশের ওপর চাপ আর প্রায় নেই। ধর্মের প্রয়োজন শেষ। শান্তি ভরপুর। অল; থ্যাংকস টু ইওর নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স ইনডিউসিং মেশিন।

- সেটা যে সত্যি নয়...।

- ইউ উইল নেভার মেনশন দ্যাট এভার এগেইন ডাক্তার। নেভার। এটা যে মৃত্যু প্রেম জেনারেটিং মেশিন....দ্যাট শুড নেভার বি মেনশন্ড এগেইন...।

- সুইসাইড পারসুয়েডার প্রেসিডেন্ট। সুইসাইড পারসুয়েডার। সাকসেসফুল ইন ৯৯% অফ কেসেস।

বটুর অঙ্গীকার

ফুটপাথ জুড়ে হকার। কোনও মানে হয়? গিজগিজ করছে আচার বেচেনওলা থেকে সিডি বিক্রেতা থেকে চাওলা থেকে রোলের দোকান। পা ফেলা দায়। বিরক্তিতে সিগারেট ধরালেন অর্পণবাবু।

একে ঘেমে নেয়ে একাকার কাণ্ড তাইতে এই ফুটপাথের ছোটলোকামো। সরকারগুলো সব ভোট ভিখিরি হলে দেশের প্রোগ্রেস হবে কী করে? ঘেন্না ভরে দু'একটা ধোঁয়ার রিং হাওয়ায় ভাসালেন অর্পণবাবু।

ওদিকে মিহিরবাবুর মাথাটা আবার ধক করে গরম হয়ে গেল। এই ভীড়ে এই আদ্দামড়া ভদ্রলোক সিগারেট ধরালে; এই শালার সিভিক সেন্স? আবার রিং ভাসাচ্ছে? পাশেই রয়েছে বাচ্চা-বুড়োর দল। ব্যাটা নিজের ক্যান্সার নিয়ে নিজে মর, আর দশটা লোককে প্যাসিভ ইঞ্জুরি দেওয়ার কী মানে? অবিশ্যি আজকাল আবার পাবলিক প্লেসে সিভিক সেন্সের কথা বলাটাও পাপ, যার তার পকেটে চাক্কু।  রাগ আর ঘেন্নাটা গলা দিয়ে দলা পাকিয়ে ওঠায় মুখের পানটা ফুটপাথের এক কোণে থুঃ থুঃ করে ফেললেন তিনি।

এত সবের মাঝেই গড়িয়াহাটের ভীড় আলো করে মিচিকি হাসলেন বটু গোয়েন্দা। রিভার্স পকেটমারির স্কিলটা এসব ক্ষেত্রে বড় কাজে আসে। অর্পনবাবুর সিগারেটের ছাই ভরা ব্যাগি প্যান্টের হিপ পকেট আর আধ চেবানো পানের পিকে ভিজে যাওয়ার মিহিরবাবুর খদ্দর পাঞ্জাবীরর ঝোলা পকেট; দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির শেষে এটুকুই বটুর তৃপ্তিসাধন।

বটুর সাথে বিজুরীর আলাপ গতকাল। বীজুরির জন্ম গত বিস্যুদে, ফুটপাথেই। বটু তার বাপের কাছে পঞ্চাশ টাকা আর বিজুরীর কাছে একটা দৃঢ় অঙ্গীকার রেখে এসেছে।

রোম্যান্স বলতে

১। 

- লুচি সোম ডায়লুট করে জানিস?

- 'তুই' ডাক বিয়ের গ্র‍্যাভিটি ডায়লুট করে। জানো?

- তুই তুই ছাড়লি?

- তুই লুচি ছাড়তে পারবি? তুমিতে একটা ট্রাই দিলাম জাস্ট। সুখা পাউরুটি রে। বাদ দে।


২। 

দুপুর অফ শীত।

কোণা অফ ছাত।

পাটি অফ শীতল।

বালিশ অফ পাশ।

সঞ্জীব অফ রাবণবধ।

বাটি অফ চানাচুর।

অকেশনালি লাল ছাপার শাড়ি-কালো ব্লাউজ এলোমেলো চুলে খোসা ছাড়ানো কমলালেবুর কোয়া অফার করবে।

বন্ড ও সংস্কার

বুধবার। অফিস কাটা বুধবার, ইউনিভার্সিটি কাটা বুধবার; জোড়ায়।

ছাতা।
একটা ছাতা।

ছাতার ওপরে স্বল্প ঝিরঝির। তার ওপরে মেঘলা আকাশ।
নভেম্বরের বৃষ্টি কি না, তাই মৃদু শীত শীত ভাব।

ছাতার চারপাশে হাওয়ায়, গাছের পাতায় ফিসফিস। বেঞ্চের অনুমতি।
ছাতার নিচেও ঝাপসা মেঘ;
এলোমেলো চুল।
অফিস কাটতি ঠোঁটজোড়ার এবড়োখেবড়ো,
ইউনিভার্সিটি কাটতি ঠোঁটজোড়ায় হালকা লাল।
দু'জোড়ায় যুক্তি সাজাচ্ছে। যুদ্ধ, মিসাইল, ডায়রির ছেঁড়া পাতার তলোয়ার। মিলে মিশে ভিজে সপাট চুমুতে দুপুরের পেট এফোঁড় ওফোঁড় করে ছুরি।
ইউনিভার্সিটি কাটিয়ের চোখে জল। অফিস কাটিয়ের বুকে দমাদম ধুকপুক, ভার হয়ে আসা গলা।

**
সেন্সর জেম্‌স বন্ডের চুমুর দৈর্ঘ কেটে ছোট করেছে।
অত লম্বা চুমু ইজ এগেইন্সট আওয়ার কালচার।

আমরা ইজ এগেইন্সট আওয়ার কালচার।
কালচার ইজ এগেইন্সট আমরা।
উই আর এগেইন্সট আমরা।

পার্কের বেঞ্চি আর চিলেকোঠার অন্ধকার যেদিন ভোট দিতে শিখবে, সেদিন বাকিটুকুও যাবে।

রিটার্ন অফ ধর্ম



- আজ থেকে আমার কোনও ধর্ম রইল না। 

- সেটা আপনার মনে হচ্ছে। 

- হোয়াট ডু ইউ মিন মনে হচ্ছে? নেই তো নেই। পৈতে ছাড়ছি। নো ফেজটুপি। এমন কি বুদ্ধ-টুদ্ধও নয়।

- লেনিন?

- না না। সেটাও হিরো ওয়ারশিপ। ওয়ারশিপ ব্যাপারটাই বাদ। 

- আমি কেন ঈশ্বর বিশ্বাসী জানেন?

- তুমি মুখ্যু বলে। 

- হেহ!

- আচ্ছা বলো কেন। হোয়াই ডু ইউ বিলিভ ইন গড!। হুইচ ইজ জাস্ট বাতেলা। 

- কারণ ভদ্রলোক এমন ভাবেই ভিশিয়াস সাইকেলটা বেঁধেছেন ধর্মকে ছাড়তে আপনি পারবেন না। আর এই ধান্দাবাজির ক্রিয়েশনের পিছনে একটা ঘনাদা মার্কা ব্রেন থাকবে না সেটা হতেই পারে না। 

- ধর্মকে ছাড়তে পারব না মান? ছাড়লাম তো। মন্দির মসজিদ চার্চ বয়কট। নাথিং। কিচ্ছু রইল না। 

- নিজের নতুন ধর্মটা ঠাহর করতে পারছেন কি তাহলে?

** 


ঈশ্বর আজ দেরী করে ঘুম থেকে উঠবেন। সাড়ে দশটা থেকে অ্যলার্ম স্নুজ করে করে উঠতে উঠতে সাড়ে এগারোটা।
উঠেই এক গেলাস লেবু সরবত ; হ্যাংওভার কাটাতে। খবরের কাগজে চোখ বুলোতে বুলোতে দাঁত মাজা। তারপর শাওয়ারে ধুয়ে নেবেন সমস্ত ক্লান্তি।
তারপর বারান্দার মিঠে রোদে এসে গা এলিয়ে বসা। খানসামা এসে জানাবে"ব্রেকফাস্টে বড়বাবুর ফেভারিট চিজ রয়েছে; ডিমের ডেভিল"।
চুক চুক করে উঠবেন ঈশ্বর।
চিন্তিত খানসামা জানতে চাইবেন "সে কী? ডিমের ডেভিলে রুচি গেছে? গতকালের হুল্লোড় কি বড়বাবুকে এতটাই কাঁপিয়ে দিয়ে গেছে?"।
ঈশ্বর মৃদু হাসবেন। সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে আশ্বাস দেবেন "না না, আইটেম তো বঢিয়া। তবে ডিমের ডেভিল নামটা কেমন নিরামিষ। নতুন নাম দাও"।
"বড়বাবু যেমন কইবেন, তেমনই তো", গলে যেতেই হবে খানসামাকে। জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি বাড়িয়ে ধরিয়ে দেবেন বাবুর সিগারেট।
একবুক ধোঁয়া টেনে স্মিত হেসে ঈশ্বর নিদান দেবেন "ডিমের ডেভিল নয়, রিয়েল ঝাঁজ আনতে এ খানার নতুন নাম দাও হে। ডিমের গড। বোঝা গেল?"।