Wednesday, November 11, 2015

পাত্তা

মৃণালবাবু বৌকে পাত্তা দিচ্ছিলেন না। রুথলেসলি ইগনোর করা যাকে বলে। প্রবল রাগে। প্রবল। সন্ধ্যেবেলা ডাবল ডিমের রোল খাওয়া হয়েছে বলে ডিনার থেকে ওমলেট বাদ? ননসেন্স। অটোক্রেসি। ফ্যাসিজম।

বৌ ওগো হ্যাঁগো করে মানভঞ্জন করতে চাইছিলে। কিন্তু মৃণালবাবু প্রবল রাগে পাত্তা দিচ্ছিলেন না। বিছানায় উপুর হয়ে, থুঁতনির নিচে বালিশ রেখে; একটানা শারদীয়া শুকতারার কমিক্সগুলো লূপে পড়ে যাচ্ছিলেন শুধু।

বৌয়ের সমস্ত কথা ডান কান দিয়ে নিয়ে বা কান দিয়ে ইজেক্ট করে যাচ্ছিলেন মৃণালবাবু। প্রবল রাগ। রাগে বৌয়ের সাথে কথা তো দূর; ওর দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারছিলেন না। একমনে বৌয়ের নীল ছাপার শাড়ির আঁচল চিবিয়ে যাচ্ছিলেন শুধু।

Monday, November 9, 2015

ডিনার

- এতক্ষণ লাগল আসতে?

- আসলে আশেপাশে তেমন দোকান-টোকান পেলাম না। একটু দূরে যেতে হল। 

- খিদেয় পেট চুঁইচুঁই করছে। এদিকে বাবু বাহানা দিচ্ছে, আশেপাশে দোকান পেলাম না। ন্যাকা চণ্ডী কোথাকার। 

- মাথা ঠাণ্ডা রাখুন না। এনেছি তো। 

- উদ্ধার করেছেন। তা কী এনেছ শুনি? পটলের চোখা আর পাউরুটি?

- রুটি। সাথে মাংসের ঝোল। 

- মাংস বলতে আবার চিকেন নয় তো?

- কী যে বলেন।

- যাক সে আক্কেলটুকু আছে। বলি দাঁড়িয়ে দেখছ কী? চটজলদি রান্নাঘর থেকে প্লেট বাটি নিয়ে এসে সার্ভ করে দাও টেবিলে। না কী অপেক্ষায় আছ যে হরেন দারোগা এসে পাতে বেড়ে দেবেন!। 

- বলছিলাম, জাস্ট দু'মিনিট। দু'টো পেঁয়াজ কেটে নি। রান্নাঘরে আছে। দেখে নিয়েছি। মানে পেঁয়াজটা থাকলে জমত আর কী। 

- তাহলে নিরেট দাঁড়িয়ে না থেকে যাও। বলি তোমায় তো আর খুন করতে হয়নি। করতে হয়েছে আমায়। কাজেই আমার পেটের ছুঁচোর বাউল তুমি কী করে অ্যাপ্রিশিয়েট করবে বাছা?

 **

- না হে মাধব। ভালোই জোগাড় করে এনেছিলে। ঝোলে টেস্ট ছিল। ক'টা রুটি খেলাম যেন? চোদ্দটা। 

- সে'সব কী আর গুনতে আছে। ওই চোদ্দ-পনেরো কী পঁয়ত্রিশ হবে। 

- মনে ভরে গেল। আসলে নৃপাদেবীকে থ্রট্‌ল করতে এত এনার্জি ব্যয় করতে হবে ভাবিনি। সত্তরেও যা তেজ, বাপ রে। 

- গায়ে গতরেও তো কম ছিলেন না। ।

- তা ঠিক। তা ঠিক। যাক। কাজ হাসিল। ভাগ্যিস মাসীমা একা থাকতেন। তাই ডিনারটা সেরে যেতে পারলাম। ট্রেন ক'টায়?

- আঙুল আরাম করে চাটতে পারেন। ঘণ্টা খানেক সময় আছে এখনও। স্টেশন তো হাঁটা পথ। 

- টুথপিক্‌ আছে? 

- তার আছে। তালা খোলার। 

- তাই দে। তা হ্যাঁ হে মাধব, বলি লাশটা ফেললে কোথায়?

- ওসব নিয়ে ভাববেন না। নয় নয় করেও এ লাইনে বাইশ বছর। 

- সে জন্যেই তো তোমায় এত মাথায় করে রাখা বাবা। যাক গে। সময় যখন আছে একটু গড়িয়ে নিই। চোখ লেগে এলে...। 

- আমি ডেকে দেব। ঘুমোন না। ঘুমোন। 

**

দু'হাতে পেট চেপে ড্রয়িং রুমের কার্পেটের ওপরে পাঁঠা কাটার মত ছটফট করছিলে ওস্তাদ। মাধব কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। 

**
- ওরে বাবা রে। মরে গেলাম রে। ওরে মাধব হারামি। পেট ফেটে যাচ্ছে রে। 

- বাথরুমে গিয়ে দেখবেন নাকি একবার?

- এ বিশ্রী ব্যথা। অন্যরকম। মরে যাব। মরে যাব। এই গেল ফেটে। 

- কীরকম। 

- শস্‌স্‌স্‌...।

- কী ওস্তাদ?

- শস্‌স্‌স্‌। শোন।

- ক...কী শুনব? 

- পে... পেটে। 

**

ওস্তাদের পেটে কান রাখতে গিয়ে মাধব খেয়াল করলে যে শার্টের নাভির জায়গাটা রক্তে অল্প ভিজে উঠছে। পেটে কান রেখেই ফ্যাসফ্যাস শব্দটা চিনতে একটুও ভুল হল না মাধবের। 

মাসীমার কণ্ঠ চাপা স্বরে অনবরত বলে চলেছে, "বাতাপির নাম শুনেছ? বাতাপির নাম? বাতাপির নাম শুনেছ? বাতাপির নাম?"। 

Thursday, November 5, 2015

বাদশা

সিগারেটের ধোঁয়ার রিংটা ভাসতে ভাসতে ট্রেনের ছাতে মিলিয়ে গেল। সত্যজিৎ বুঝলেন; ফর আ চেঞ্জ কাট শব্দটা তাকে দিয়ে বলিয়ে নেওয়া হল।

***


কেক কাটতেই বাদশাকে জড়িয়ে ধরলেন রোহিত। 


"মেনি হ্যাপি রিটার্ন্স কিং", রোহিতের গলায় হাওয়ায় গাড়ি ভাসানো উচ্ছাস।


"সমস্তই হাতের মুঠোয়", কেক মুখে সিগারেট ধরালেন বাদশা, "এ পঞ্চাশে প্রায় করার কিছুই বাকি নেই। প্রায়"।

"প্রায়?", রোহিতের কণ্ঠে অবিশ্বাসের মাখন, "প্রায় কেন বলছ বস?"

দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন বাদশা; "সিগারেটের ধোঁয়ার পারফেক্ট রিংটা এখনও তৈরি করতে পারলাম না, ড্যাম"।

ঠিক তক্ষুনি। সবাইকে চমকে দিয়ে;

ছাদ ফুঁড়ে একটা নিঁখুত ধোঁয়ার মালা নেমে এসে বাদশার হাঁ হয়ে যাওয়া মুখের ভিতর সেঁধিয়ে গেল।


ব্যালকনির রাজ্যে

ব্যালকনির রাজ্যে তখন বিকেলের মরসুম।
মহারাজের পরনে পাজামা, গায়ে নামাবলির মত জড়ানো গামছা, মাথায় ব্যাথা। কাঠের ছোট্ট টুলের সিংহাসনে সেঁটকে বসে।
মহারানী ডেস্পোটিক মেজাজে মহারাজের মাথায় জবাকুসুম তেল মালিশ করে চলেছেন। আঙুল চটাপট চাপড়ে যাচ্ছে মহারাজের চওড়া বাঁটুল ভক্তিতে লটপট কপাল।
মহারাজ বার্তা পাঠালেন "রানী, তোমার আঙুলে ফ্রেঞ্চ আঙুরের গন্ধ। জানো?"
মহারানী ধাঁচিয়ে উঠলেন "পাঁচ মিনিট আগে মাছ কেটেছি। আঙুরের গন্ধ? ন্যাকার ডিম"।

মহারাজের মুখে হাসির হিরের ঝিলিক; "পাবদার দাম জানলে এ গন্ধকে ছোট করতে না গো, তোমার আঙুলে পাবদার সুবাস মিশে ওয়াইন আলবাত তৈরি হয়। বিকেলে ওয়াইন আর তার সাথে রাতের হেঁসেলের তেল হলুদ মিশে তোমার আঙুলগুলোর মুণ্ডুতে তৈরি হয় চাঁদনি রাতের জাদু চোলাই। তবে খেয়াল করে দেখো, আমার মধ্যে লোভ নেই। আমি তোমার আঙুলেই কনটেন্ট। আমি এসেনশিয়ালি বাউল"।
রানী ভেবে বলেন "তুমি একটা গবেট"।
এমন সময় কী হওয়ায় রানী গবেট ছেড়ে উঠতে যান। অমনি শাড়ির কোণ ধরে টান। অমনি রাস্তায় ঘুগনিওলার ঠেলা বেয়ে চলে যাওয়ার ডাক। অমনি মহারাজ গানের ল্যাসোতে রানীকে বাঁধেন;
"চিরসখা হে.....ছেড়ো না"!

রানী আঁতকে ওঠেন "এটা সুর? "
থমকে রাজা সারেণ্ডার করেন "আসলে ঘুগনিওলা স্কেলটা এমন চড়ায় বেঁধে দিয়ে গেল"।
রানীর পাশে গুটিসুটি এগিয়ে এলেন রাজাধিরাজ ; "বুঝলে। এবার থেকে এই গানটাই ব্যালকনির অ্যান্থেম, তোমার আঁচল আমাদের পতাকা, সেটা বহিবারে আমায় দাও শকতি"।
রানী বার দুই গবেট বলে ফের হাতের তালুতে জবাকুসুমের দু'ফোঁটা নিলেন।

কই হে

ঝপাৎ শব্দে নেমে এলেন সুপারম্যান। কপালে ঘাম, বাইসেপে দপদপ।

আর ঠিক তক্ষুনি নিঃশব্দে অন্ধকার চিরে উদয় হলেন ব্যাটম্যান। শক্ত চোয়াল, আগুনে চোখ।


"কই হে?"।

হাঁক শুনেই দুদ্দাড় করে রান্নাঘরে ঢুকে চায়ের জল গরম বসালেন সুপারম্যান। মিডনাইট ওমলেটের জন্য পেঁয়াজ কুচোতে বসে গেলেন ব্যাটম্যান।

একরাশ বিরক্তি ঝেড়ে; নতুন প্লট মাথায় লেখার টেবিলে বসলেন প্রেমেন মিত্তির।