Monday, October 26, 2015

দ্য কেস অফ সিঁদুর খেলা

- তোর গালে সিঁদুরের দাগ কেন?



- আমি নিজে লাগয়েছি। দেখতে। সিঁদুর খেললে আমায় ঠিক 
কেমন লাগবে। বিয়ের পর খুব খেলব।

- বেশ লাগছে তোকে।

- ন্যাকামি করিস না। রুমাল দে। মুছতে হবে।

- আমার সাদা রুমাল।

- মর গিয়ে যা সাদা রুমাল নিয়ে। যা ভাগ।

- আরে দিচ্ছি। কিচি....।

- কী?

- একটু পরে মুছিস গাল...।

- ওভাবে দেখছিস কেন রে? দেখতে নেই। তুই না ভালো ছেলে?

- কিচি...।

- এই, তোর চোখ ছলছল করছে কেন দীপু? আমার গালে সিঁদুরের দাগ দেখে এত নরম হয়ে গেলি? রোম্যান্টিক দীপুকুমার?

- ঠিক তা নয়।

- তবে?

- ওই। তোর গালে সিঁদুরের দাগ দেখে...।

- দেখে কী? 

-... হালকা গোলাপি কাগজের রিপোর্ট কার্ডে ফিজিক্স নম্বরের নিচের মোটা লাল কালির দাগটা মনে পড়ে গেল। তাই কেমন আনচান কর উঠল ভেতরটা।

- যা ভাগ। যা ভাগ। যা ভাগ। শয়তানের ডিম কোথাকার। ভাগ।

বিয়ে

- কংগ্রাচুলেশনস জয়িতা। 

- কংগ্রাচুলেশনস টু ইউ টু অর্ণব।

- আমরা কি এরকম নেকু নেকু সাহেবি কেতায় বিয়ে সেলিব্রেট করব?কংগ্রাচুলেশনস আর পাতলা চুমু?

- ডিপ্‌ কিস্‌?

- ইয়েস। আর জলভরা। 

- হাই ফাইভ।

- ইউ আর হ্যাপি নো? জয়ি?

- কী বাজে প্রশ্ন অর্ণব। এখন শুধু ডিভোর্সটা নিয়েই চিন্তা জানো। অভীকে তুমি চেন না। হি কুড গো টু এনি এক্সটেন্ট ইন ভেঞ্জেন্স। টাকা, মাস্‌ল পাওয়ার; সমস্তই তো ছিল ওর কাছে। ক'টা বছর যে কী ভাবে কাটল অর্ণব। অথচ দেখ, তোমার সাথে এই মাত্র দু'মাসের দেখা। তুমি হঠাৎ  এক রাশ ভালোবাসা নিয়ে এলে। মন্দিরে বিয়ে। ভাবা যায়? হেহ! যাক, তোমার এই বাড়ির ব্যালকনিটা এত মিষ্টি। এত সুখ সইবে?

- আই নো হাউ ভেঞ্জফুল ইওর এক্স হাসব্যান্ড ক্যান বি জয়িতা।

- আজ ওর কথা থাক অর্ণব। মেক মি ফীল লাভ্‌ড। তোমার ফ্ল্যাট্‌টা...থুড়ি...আমাদের ফ্ল্যাটটা...স্বপ্নের মত লাগছে, জান?

- জান জয়ি, রিয়ালাইজ করলাম যে সমস্ত এত ধুন্ধুমার গতিতে ঘটে গেল, তোমায় কেতা নিয়ে প্রপোজটাই করা হল না। 

- আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে অর্ণব। 

- তবু। লেট্‌স গেট ম্যারিড, না বললে শুনব না ; এটা কোন প্রপোজ করা হল? এই দেখ। নাউ আই অ্যাম অন মাই নিজ্‌।

- পাগলামি হচ্ছে। 

- হোক। লেট মি প্লীজ।

- শিওর। গো অ্যাহেড পাগলাবাবু। মেক মি ফিল লাইক আ প্রিন্সেস্‌। 

- চোখ বোজ। 

- বুজলাম।

- হাত বাড়িয়ে দাও।

- দিলাম। এ কী, আংটি তো নয়, হাতে কি দিলে এটা? ভারী তো!

- সারপ্রাইজ। চোখ খোল।

- অ...অর্ণব...হোয়াট জোক ইজ দিস্‌।

- ইট ইজ নো জোক। 

- আমার হাতে রিভলভার দিয়েছ কেন? ইজ ইট রিয়েল?

- টোটালি। অ্যান্ড লোডেড। 

- হোয়াট আটার নন-সেন্স। ছাড় আমায়।

- জয়িতা, উইল উই বি উইথ মি ফরএভার? প্লীজ?

- খুব মেলোড্রামা হয়ে যাচ্ছে অর্ণব। বাট। অফ কোর্স আই উইল। তোমার সাথে থাকব বলেই তো বিয়ে। অলওয়েজ। নাউ স্টপ বিং ষ্টুপিড। রিভলভার সরাও, এটা লাইসেন্স্‌ড তো।

- অফ কোর্স। জয়ি। আমি তোমায় ছাড়া বাঁচতে পারব না। গত দু'মাসে তোমার মধ্যে আমি আমার হারানো শিকড় খুঁজে পেয়েছি। ইট ইজ জাস্ট নট কনজুগাল ভালোবাসা জয়ি। আই নিড ইউ। আই নিড টু বি উইথ ইউ। 

- কী ব্যাপার অর্ণব? উই জাস্ট গট ম্যারেড টুডে। এসব পাগলামি করছ কেন?

- একসাথে থাকবে তো? চাও তো থাকতে?   

- অফ কোর্স। তোমায় ছাড়া আমি থাকব কী করে?

- বেশ। যদি চাও তো ডু অ্যাজ আই সে। এই যে। রিভলভারের নলটা আমি মুখে নিচ্ছি। পুল দ্য ট্রিগার। আই কুড ডু ইট মাইসেল্‌ফ। বাট ইউ মাস্ট। ফর পোয়েটিক ফেয়ারনেস্‌ ইউ মাস্ট। ভালোবাসাই তো কবিতা, তাই না? 

- তুমি উন্মাদের মত কথা বলছ। জাস্ট গেট দ্য হেল আউট।

- জয়ি, দিজ ইস দ্য অনলি ওয়ে ফর আস টু বি টুগেদার।

- কেন? আমাকেও সুইসাইড করাবে নাকি?

- জয়ি!

- কী হয়েছে অর্ণব?

- জয়ি!

- টেল্ মি। 

- প্রথম আলাপ মনে পড়ে?

- হ্যাঁ। মিলির পার্টিতে। হাউ কুড আই ফরগেট অর্ণব? হাউ কুড আই ফর্গেট? আচমকা তোমার সাথে সেই দেখা, তুমি আমার জন্য ড্রিঙ্ক নিয়ে এলে...কোমল গান্ধার নিয়ে সেই আড্ডা।

- আচমকা নয় জয়ি। আচমকা নয়।

- মানে?

- মানে আমাদের দেখাটা আচমকা নয়। আই ওয়াজ প্ল্যান্টেড। বাই অভী।

- হোয়াট? কী বলছ তুমি?

- অভী ওয়াজ সাস্‌পিশাস যে তুমি ভারী অ্যালিমনির দাবীতে ওকে নাস্তানাবুদ করবে।  মাই জব ওয়াজ টু গেট রিড অফ ইউ।  বিফোর দ্য সেট্‌লমেন্ট অফ ডিভোর্স।

- তারপর? ভালোবেসে ফেললে?


- ওই, কোমল গান্ধার নিয়ে যত আলোচনা। রাতে তোমায় ড্রপ করার সময় তোমার বেসামাল ভাবে আকাশ ভরা গান। সমস্ত পাল্টে গেল। 

- আমায় কেন এসব বললে? আরে বললেই বা কী হবে। সরাতে এসে বিয়ে করলে। আমি তোমায় বিশ্বাস করি অর্ণব। তুমি অভীর ক্লাচ থেকে বেরোতে পেরেছ?

- বেরোবার আগেই...।

- বেরোবার আগেই কী অর্ণব ?

- তোমায় সরিয়ে দেওয়া হয়ে গেছে।

- মানে?

- মিলির পার্টিতে যে ড্রিঙ্ক আমি তোমার জন্য নিয়ে যাই। তাতে এক সাঙ্ঘাতিক কেমিক্যাল মেশানো ছিল। যার এফেক্ট তিন মাসে...। 

- তিন মাসে কী এফেক্ট?

- তিন মাস ধরে অজান্তে এ বিষ ছড়িয়ে পরে রক্তকণিকার মাধ্যমে। ম্যানিফেস্টেশন আসে তিন মাসের শেষে...।

- ম্যানিফেস্টেশন?

- আচমকা অ্যাকিউট ফেলিওর অফ মাল্টিপ্‌ল অর্গ্যান্স। ম্যাটার অফ ফিউ মোর মান্থস। আমায় একা ছেড়ে যেও না। প্লীজ জয়ি। আমি তোমায় সত্যিই ভালোবেসেছি। আমায় একা ফেলে যেও না।

- অর্ণব..., আই ট্রাস্টেড ইউ।

- বিশ্বাস কর আমি তোমায় ভালোবেসেছি। আমায় সাথে নাও। টে দিস রিভলভার অ্যান্ড শুট মি। শুট মি। আমি দু'দিন আগে ওপারে গিয়ে তোমার জন্য এরকমই সুন্দর একটা ব্যালকনি সাজিয়ে রাখব। শুট মি জয়ি।

- অর্ণব...। 

- না না না জয়ি, তুমি না। নিজের মুখে রিভলভার কেন? স্টপ! স্টপ! ডোন্ট কিল ইওরসেলফ প্লীজ । ট্রিগার টেনো না, প্লীজ! জয়ি। 

**

- এসো অর্ণব। 

- স্যুটকেসটা?

- আমার সেক্রেটারি সোমা দিয়ে দেবে তোমায়।

- আর অভী ...।

- ভিসা, এয়ারটিকিট সমস্তই সোমার কাছে আছে।

- থ্যাংকস। আসি তাহলে? তাড়া ছিল।

- শিওর। ইয়ে, কেউ খুন বলে...?

- সন্দেহ করবে না। ফিঙ্গার প্রিন্ট অ্যান্ড অল। অল পয়েন্টস টুয়ার্ডস সুইসাইড। 

- হ্যাপি জার্নি। 

Thursday, October 22, 2015

দ্য কেস অফ অষ্টমী খিচুড়ি

- মিতুলদি? তুমি কোথায়? বড্ড অন্ধকার। দেখা যাচ্ছে না।


- এদিকে আয়। জলের ট্যাঙ্কের পাশে। 


- ছাদে ডেকেছ কেন?


- বিশেষ কথা আছে তোর সাথে দীপু। পাড়ার দিদিদেরকে টোন কাটারর শখ কবে থেকে হল তোর? তোকে তো এরকম ভাবতাম না।


- টোন কাটিনি। বিশ্বাস কর।


- অঞ্জলির সময় তুই আমার পিঠে ফুল ছুঁড়ে মারিসনি?


- বিশ্বাস কর আমি বুঝতে পারিনি ওটা তুমি।


- আচ্ছা। তাহলে তুই অন্য মেয়ে ভেবেছিস? কোন মেয়েকে ফুল ছুঁড়ে মারতে গেছিলিস তুই ইডিয়ট?


- আমায় যেতে দাও প্লীজ।


- চুপ করে দাঁড়াবি এখানে। আগে বল কাকে ফুল ছুঁড়ে মেরেছিলিস? 


- মিতুলদি প্লীজ। আমি আসি।


- চুপ। খিচুড়ি বিতরণের  ভলেন্টিয়ার লিস্টে তোর নাম ছিল আজ। নাম কাটিয়েছিস কেন?


- আসলে আমার আজ সন্ধ্যেবেলা এক জায়গায় জরুরি কাজে যাওয়ার ছিল। 


- কী জরুরি কাজ?


- আমি আসি। 


- জরুরি কাজে গেলি না কেন?


- কাজটা ক্যানসেল হয়ে গেছে।


- তাই বুঝি প্যাণ্ডেলে না এসে অমন শুকনো মুখে স্কুলমাঠে ঘুরঘুর করছিলিস?


- তুমি আমায় এই ছাদে কেন ডেকেছ মিতুলদি?


- খিচুড়ি খাওয়াতে। এই নে। বারোয়ারী তলা থেকে স্পেশ্যালি এনেছি। 

- না না আমি খিচুড়ি খাব না। 


- তোর ঘাড় খাবে। তুই এত অসভ্য হয়ে উঠছিস কেন দিন দিন দীপু? যা বলছি তাই কর। খা।


- তাই বলে দুই দোনা খিচুড়ি?


- শোন আমি ছাতের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করছি। খিচুড়ি শেষ হলে হাঁক দিস, খুলে দেব।


- মিতুলদি প্লীজ।


- চুপ। 


- মিতুলদি....যাঃ, দেখ কাণ্ড। সত্যিই দরজা বন্ধ করে দিল।

***

অন্ধকার ছাতের কোণে বেকুবের মত দু'দোনা খিচুড়ি হাতে দাঁড়িয়ে রইল দীপু। এমন ভ্যাবলা বহুদিন বনেনি।

- "সঙের মত দাঁড়য়ে থাকবি না একটা দোনা আমায় দিবি?"
পিলে চমলে গেছিল দীপুর।

- "কিচি তুই?"।

-" না আমার ভূত। খিচুড়ি দে। আইসক্রীম তো খাওয়ালি না"।

-"এই যে"।

-"গবেট। হুড়মুড় করে খাচ্ছিস কেন? অষ্টমীর ভোগ ধীরেসুস্থে খেতে  হয়। নয়তো দেবী রাগ করে"।

-"কিচি দেবী?"

শেষ ট্রাম

ছাতের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলেন অমলেশ। পাজামা, স্যান্ডো গেঞ্জি আর ডান হাতে আঙুলের ফাঁকে গোল্ডফ্লেক। শেষ ট্রাম যাওয়ার ঝমঝমে আওয়াজের পর্যন্ত অপেক্ষা শুধু।

শেষ অক্টোবরের মধ্যরাত, কলকাতার বাতাসেও আলতো হিম ভাব টের পাওয়া যায়। ট্রাম চলে যেতেই অমলেশ ছাতের পাঁচিলের উপর উঠে দাঁড়ালে। একটা জবরদস্ত শেষটান দিয়ে সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেললেন তিনতলা থেকে আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটা ম্যানহোল লক্ষ্য করে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হল, অবভিয়াসলি।

এই নিয়ে একটানা  দু'শো সাতাত্তর দিনে দু'শো সাতাত্তর বার। প্রতি রাতে অমলেশের এই পাঁচিলের ওপর দাঁড়ানো আর রাস্তার ওই ম্যানহোলটাকে লক্ষ্য করে সিগারেট ছুঁড়ে ফেলা। সব ঠিকঠাক। শুধু এতবারে এইখানে এসেও যে কাজটা শেষ পর্যন্ত করা হয়নি সে'টা হচ্ছে নিজে ঝাঁপ দেওয়া। ডিপ্রেশনে স্বল্প খাদ রয়ে যায়। একটা অদ্ভুত সিরিজ অফ টেরিফিক কোইন্সিডেন্স। যেই অমলেশ সিগারেটে শেষটান দেন ছাতের পাঁচিলে দাঁড়য়ে, অমনি রাস্তার ওপারের বাড়ির তিনতলার জানালার ওপাশের অন্ধকার ঘরে একটা ছায়ামূর্তি দেশলাই জ্বালে। আজ পর্যন্ত প্রত্যেকবার এমন হয়েছে; ঠিক দু'শো সাতাত্তর দিনে দু'শো সাতাত্তর বার। ওই ছায়ামূর্তির হাতে  ঝপাৎ জ্বলে ওঠা দেশলাই প্রত্যেকবার অমলেশকে কাঁপিয়ে দেয়। ঝাঁপানো হয় না অমলেশের।

**

শেষ ট্রাম গেল। কেরোসিনে স্নান করে মেঘলা দেশলাই জ্বালাতেই সেই রোজকার দৃশ্য। জানালা দিয়ে সে দেখতে পারে রাস্তার উলটো দিকের বাড়ির ছাদের পাঁচিলে ঝপাং করে উদয় হয় এক ছায়ামানব; তার অস্পষ্ট অবয়বটুকু প্রতিবার মেঘলাকে কাঁপিয়ে তোলে। মেঘলা দেশলাই  জ্বালতেই সেই অবিশ্বাস্য ছায়ামানব একটা ক্ষীণ আগুনের দানা বাতাসে ভাসিয়ে দেয়। এত হতাশার মধ্যে ওই আগুনের দানাটা যেন কয়েক ক্ষণের আশা হয়ে চলকে ওঠে। এভাবেই ওই ছায়ামানব মেঘলাকে মরতে দেয়নি এক টানা দশ মাস। সে কি ঈশ্বর?  সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে মেঘলা বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার চালিয়ে গায়ের কেরোসিন ধুয়ে নেয়।

Wednesday, October 21, 2015

দ্য কেস অফ অঞ্জলি

লুচির ঢেকুর তুলতে তুলতে অঞ্জলি দিতে গেল দীপু। হাতে পেল রেশন করা ফুল। আধ বোজা চোখ তাক করে লাল ব্লাউজ হলুদ শাড়ি কিচির পিঠে। এত ভালো লাগছিল। 

কিচির একটা মিঠে গন্ধ আছে; ল্যাভেন্ডার আর পুরোনো বই মেশানো। ফুল, ধুনো ছাপিয়ে সে সুবাস নাকে আসছিল দীপুর।


কিচি। সেই ক্লাস নাইন থেকে ওর গায়ে একই মন কেমন গন্ধ।


অঞ্জলির ফার্স্ট রাউন্ড শেষে দীপু ফুল ছুঁড়লে; প্রতিমার দিকে নয়- হলুদ শাড়ি লাল ব্লাউজ বাঁচিয়ে কিচির পিঠের খোলা অংশে। সেকেন্ড স্লিপ থেকে স্টাম্পে বল ছোঁড়ার মত। অব্যর্থ।

লাল ব্লাউজ হলুদ শাড়ি ঘুরে তাকালে, কিন্তু কিচি নয়; মিতুলদি। মাথা ঝিমঝিম করেরে উঠলো দীপুর। মিতুলদি আলতো ঘুরে দীপুকে দেখে সামান্য চোখ টিপে মিষ্টি হেসে ঘুরে গেল। গা গুলিয়ে উঠল দীপুর।

ঠিক তক্ষুনি পিঠে সাঙ্ঘাতিক খোঁচা খেয়ে পিছনে ঘুরে দীপু দেখলে রিয়েল লাল ব্লাউজ হলুদ শাড়ী দাঁড়িয়ে; কিচির হাতে ফুল আর শানানো ত্রিশূলের মত সেফটিপিন। কিচির তৃতীয় চক্ষু থাকলে তা দিয়ে নিশ্চিত আগুন বেরোত।

"মহিষাসুর কোথাকার, যাস আজ তুই মিতুলদিকে নিয়ে আইসক্রিম খাওয়াতে", ফিসফিসিয়ে বলে কিচি অঞ্জলি পুরো না দিয়ে হনহন করে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে চলে গেল।

দীপু মন্ত্র-টন্ত্র বাদ দিয়ে স্ট্রেট প্রতিমারর দিকে ফিরে চোখ বুজে বললে "মা গো, ফিজিক্সে লটকে দিও ক্ষতি নেই। কিচিকে সামলে দিও মা। আর কক্ষনো লুচি খেয়ে অঞ্জলি দেব না আর মেজদার কথায় কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো পড়ব না। মা, মা গো"।