Wednesday, October 21, 2015

স্বর্গ

- আহ, মাথাটা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছে।

- ওটা আপনার মনের ভুল।

- এক্সকিউজ মি?

- মনের ভুল।

- হু আর ইউ?

- সে কী। বুঝতে পারেননিনি মিত্রবাবু?

- ননসেন্স।

- আরে ঘাবড়ে যাবেন না। চারদিকে চেয়ে দেখুনই না একবার।

- এ কী। এ তো আমার হসপিটাল কেবিন নয়। এটা কোথায়?

- বোঝ ঠ্যালা। হার্ট অ্যাটাকে খাবি খেয়ে অক্কা পেলেন। আমি আপনার বডির থেকে আপনাকে বের করে এদ্দুরে সোল পার্সেল অফিসে নিয়ে এলাম। এই বেসিক ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না?

- সে কী? 

- বিশ্বাস না হয় নিজেকে চিমটি কেটেই দেখুন না।

- মরেছে। নিজের চিমটি অনুভব করতে পারছি না কেন?

- কারন বডি ফেলে এসেছেন তো। আত্মারামের ও'সব নেকু সেন্সিটিভিটি নেই।

- রিয়েলি মারা গেলাম?

- দুঃখ করবেন না প্লীজ। আপনার জন্য দারুণ সুখবর রয়েছে যে।

- কীরকম?

- জীবনে পুণ্যি তো কম করেননি। কাজেই পরের জন্ম নেওয়ার আগে আপনার কপালে রয়েছে দেড়শো বছরেরর স্বর্গবাস।

- স্বর্গ? অপ্সরাদের কোম্পানি? বিষ্ণুরর সাথে সোমরস পেগ? শুধু প্লেজার আর ফান?

- অপ্সরা? বিষ্ণু? এরা কারা? 

- মানে? বিষ্ণু কে মানে? ভগবান!

- ভগবানের নাম আপনারা বিষ্ণু রেখেছেন বুঝি? জলি ওয়েল।

- এই রে। তাহলে স্বর্গ কী? আর নরকও আছে কী?

- আলবাত আছে। ইয়ে, আপনাকে বলে দিই। আমাদের স্বর্গ নরক দুই'ই কলকাতার পুজোর আদলে রিভ্যাম্প হয় কয়েক বছর আগে। কাজেই সেকেলে ভালোমানুষি স্বর্গ বা গরম তেলের কড়াই গোছের নরক আর নেই। স্বর্গ বলতে পাড়ার ঘরোয়া পুজোর প্যাণ্ডেল। ঘরোয়া মেজাজ, কাকীমা জেঠিমাদের ব্যস্ততা, কাকু জ্যেঠুদের প্লেজ্যান্ট ফোঁপর দালালি, কচিকাচাদের ফাইফরমাশ খাটা আর লাফালাফি, ভোগ, ইন হাউস নাটক, হারমোনিয়াম-তবলা এসব মিলে এই নিও-হেভেন। সেরকম সেট আপেই আপনি থাকছেন দেড়শো বছর।

- আর নরক?

- সে এক টেরিবল ব্যাপার মশাই। থিম পুজো প্যাণ্ডেলের ইন্ডাস্ট্রি। ভ্যাপসা ভীড়, পাবলিকের হাউমাউকাউ, সেল্ফি নিতে গিয়ে হুড়মুড়, ভলেন্টিয়ারদের মাতব্বরি, পুলিশের লাঠি আর মাঝেসাঝে স্ট্যাম্পিড।

- সব্বনাশ।

- তাই বলছিলাম। চিয়ার আপ। আপনাকে থিমে পাঠানো হচ্ছে না। ইউ আর গোয়িং টু স্বর্গ। কনগ্র‍্যাচুলেশনস।

অষ্টমীর প্ল্যান

- কিচি, অ্যাই কিচি।

- এত রাত্রে মেয়েদের ফোন করা? বলব বড়দের?
- সব সময় ধমক দিস কেন?
- তো কি বাহবা দেব? অসভ্য। মিলনবাবু না বলেছেন রাত জেগে অঙ্ক প্র‍্যাক্টিস করতে?
- ট্রিগোনোমেট্রি নিয়ে বসেছিলাম।
- তাহলে ফোন করলি কেন?
- কাল দেখা করবি? অঞ্জলি দিয়ে? বালক সঙ্ঘের প্যাণ্ডেলে?
- পাড়ার পুজো ছেড়ে বালক সঙ্ঘের প্যাণ্ডেলে ডাকছিস? ইয়ার্কি হচ্ছে? বলব বাবাকে?
- কথায় কথায় খালি বাবা। যা ভাগ।


**

- অ্যাই, দীপু! ফোন কাটলি কেন?
- ট্রিগোনোমেট্রি করছি। ডিস্টার্ব করিস না।বাজে কথা বলে সময় নষ্ট করিস না।
- চুপ কর।
- ফোন রাখ কিচি। নয়ত বাবাকে বলে দেব যে তুই আমার ট্রিগোনোমেট্রিতে ডিস্টার্ব করছিস।
- তুই আমায় যা ভাগ বলিস কোন সাহসে?
- না মানে...।
- মানে কী? তুই আমায় ভাগ বলছিস?
- না। মানে। যা ভাগটাটা ঠিক বাঙলায় বলিনি।
- মানে?
- চিকিপুদী ভাষায় যা ভাগ মানে...।
- চিকিপুদী ভাষা? চড় মারব?
- মা কালীর দিব্যি। চিকিপুদী এক লুপ্ত বলিভিয়ান প্রজাতির নাম। তাদের ভাষায় যা ভাগ মানে দেখা কর প্লীজ।
- তোর লজ্জা করে না বালক সঙ্ঘের প্যাণ্ডলে ডাকতে?
- না মানে...।
- প্যাণ্ডেলের পিছনে। আইসক্রিম পার্লার। তুই না টুইশানি করিস?
- হেহ!
- আর শোন, মা কালী তোকে ট্রিগোনোমেট্রিতে ফেল করাবে।
- হেহ!
- আর শোন।
- কী?
- স্ট্রেট অঙ্কে ফোকাস কর। মিলনবাবু বলেছেন।
- হেহ!
- আর শোন।
- কী?
- যা ভাগ।

আগুন



সীতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেন। এত দুঃখ কষ্ট পেরিয়ে, এত যন্ত্রণা সয়ে আজ প্রভুর দেখা। কিন্তু এই শুভক্ষণে এ কী ভয়ানক সন্দেহের তীর তার দিকে হানলেন রঘুনন্দন? এর চেয়ে রাবণ যদি কুপিয়ে হত্যা করত, যন্ত্রণা কম হত বোধ হয়।

নিজের পবিত্রতা প্রমাণ করা? বেশ।
আসুক আগুন, আগুন জাপটে গিলে খাক; ভাবলেন জনককন্যা। অগ্নিপরীক্ষায় সিদ্ধ হোক বিশ্বাসের সেতু।


"আগুন জ্বাল হে অগ্নিদেব, দায়ভার তোমায় দিলাম। আমার পদস্খলন হয়ে থাকলে ঝলসে দাও। আগুন জ্বাল। আগুন জ্বাল। আগুন জ্বাল", ত্রিলোক বিদীর্ণ করে বিলাপ শুরু করলেন সীতা।

বিচলিত অগ্নিদেবতা স্বর্গলোক থেকে অগ্নিশিখা ছুঁড়লেন। অমনি আকাশ থেকে দুদ্দাড় গতিতে শেওয়াগ নেমে এসে জড়িয়ে ধরলেন সীতাকে।

ঘর

- আমায় তোর দেশে নিয়ে যাবি?

- আমার দেশ নেই। ঘর আছে। ছাতের ঘর। ঘরের কোণে পুরোনো টেবিল। বইয়ের দেরাজ ঘেঁষা বড় একটা জানলা। জোরে বৃষ্টি হলে জানালা বেয়ে জলের ছাঁট এসে বিছানা ভিজিয়ে দেয়। পুরোনো মোজায়েকের মেঝে। সেই মেঝের দিকে চেয়ে আনমনে বালিশ আঁকড়ে বিছানায় লেপ্টে আমার অটোক্রেসি।

- আর জানালার ওপাশে?

- জানালা বেয়ে চোখ ঝপাৎ করে নিচের দিকে চলে যায়। কুয়োতলায়।

- কুয়োতলায় এক পায়ের নুপুর খুলে পড়েছিল সেবার। কত খুঁজেও পাইনি। 

- আমার বিছানার উত্তর পশ্চিম কোণের তোষোক তুলে খুঁজেছিলি?

- নুপুর? 

- হুঁ।

- বাঃ রে, হারিয়েছে কুয়োতলায়, আর খুঁজব গিয়ে তোর বিছানায়?

- বাঃ রে, ডুব দিলি বিছানায় আর নুপুর হারাবে কুয়োতলায়?

Sunday, October 18, 2015

গোপন চিঠি

১। 

- তুই চিঠি পাঠিয়েছিলিস?



- ইয়ে...।

- সমুর হাত দিয়ে?

- সরি...।

- তোর এত সাহস দীপু?

- সরি কিচি। বুঝতে পারিনি।


- খুব বাড় বেড়েছিস না?


- সরি বলছি তো। 


- মাধ্যমিকে না তোর রেজাল্ট খারাপ হয়েছে?


- কিচি প্লীজ। আসলে সেদিন মণ্ডপে ওই হলুদ তাঁতের শাড়িতে তোকে দেখে মাথা গুলিয়ে গেছিল। সরি কিচি।


- দাঁড়া তোর হচ্ছে। তোর বাবাকে বলছি। 


- বাবা আমার পিঠের চামড়া খুলে নেবে কিচি। প্লীজ। সরি বললাম তো।


- সরি বলে কী হবে? তোর সাহস হল কী করে এটা করার? 


- কিচি...আর করব না।


- প্রমিস?


- প্রমিস। 


- কী প্রমিস? ঠিক করে বল। 


- প্রমিস করছি যে প্রেমের চিঠি আর লিখব না। 


- একটা চড় মারব। আমি তাই বলেছি? প্রমিস কর প্রেমের চিঠিতে আর বানান ভুল করবি না। করবি না তো?

২। 


দীপু,

কি ব্যাপার রে? আজকাল আর প্রেমের চিঠিতে বানান ভুল করিস না। তোর মধ্যেকার হনুমান হনুমান ভাবটাও কমে আসছে।
মেয়ের থাপ্পড়ে এত ভয়? এত ভয় নিয়ে বিয়ে করলে চিরকাল বৌয়ের আঁচলে ঢাকা থাকতে হবে তো! তাই চাস কি?


কিচি।।

***

কিচি,

আঁচলের গন্ধ আমার বেশ ভালো লাগে। মায়ের আঁচলে একটা রান্নাঘর আর লাক্স সাবান মাখানো গন্ধ সবসময়। কী ভালোই যে লাগে!
তোর লাক্সের গন্ধ কেমন লাগে?
তুই জানিস "কি ব্যাপার রে" হয় না; "কী ব্যাপার রে" হয়। তোর চিঠিতে বানানভুল; প্রেম-টেম করছিস না তো?

হনুমান।।