Thursday, September 24, 2015

ত্রিকোণ

- এটা ঠিক করলি ?

- অনেস্টিটা দোষের? 

- মেয়েটা ভালো। তোকে ভালোবাসে। তাকে এমন ভাবে রিজেক্ট করাটা...।

- হোয়াট অ্যাবাউট মাই ভালোবাসা? আর এই অন্য মেয়েটাও যে আমার জন্য প্রাণ দিতে পারে, ওর ফিলিংস্‌টার ব্যাপারে কী বলার আছে তোমার?

- সে'সবই বুঝছি।

- তাহলে বারবার একই প্রশ্ন করে যাচ্ছ কেন? 

- কারণ এই সেদিন পর্যন্ত তুই একটা মেয়ের সাথে ঘুরঘুর করলি আর আজ হঠাৎ...। 

- হ্যাঁ হ্যাঁ এতদিন কেচাপের সাথে ডেট্‌ করেছি কিন্তু কাসুন্দিকে দেখে আমি বুঝতে পেরেছি সি ইজ মাই রিয়াল লাভ...সি ইজ দ্য ওয়ান...তোমরা আমায় বারবার একই প্রশ্ন করা বন্ধ কর...প্লীজ।

- আহ্‌, আমি জাস্ট ক্যাসুয়ালি জানতে চেয়েছিলাম। তুই এত রেগে যাচ্ছিস কেন কাটলেট?

ফোন প্রেম

- তোমায় আজ পর্যন্ত দেখা হল না! শুধু ফোনের কথায় এই ভালোবাসা..অবিশ্বাস্য লাগে জানো?

- অবিশ্বাস্য কেন? ফোনে প্রেম হয়। ফোনে লাভ মেকিংও হয়। জানো?

- হয় তো।

- তাহলে এত রাত্রে ফোন করে এমন নিরামিষ কথা বলছ কেন সোনা? সে সামথিং নাইস।

- ইচ্ছে করছে পরতে পরতে তোমার আবরণগুলো খুলে তোমায় আবিষ্কার করি...ভালোবাসি...।

- ও সোনা...প্লীজ...।

- প্রথমে তোমার শাড়ির আঁচল সরিয়ে...।

- উঁহু, প্রথমেই আঁচল সরানো নয়...।

- কেন নয়?

- প্রথমে কফিনের ঢাকনা সরিয়ে তবে না শাড়ির আঁচলে নেমে আসবে...।

প্রফেট

১। গান 


- ঈশ্বর!!


- অবাক হচ্ছ? 


- ভাবতে পারছি না।


- আমার জন্যেই তো এত তোড়জোড় তোমার, তাই না?


- আমি তো নিমিত্ত।


- যুদ্ধে চললে?


- সংগ্রাম। ধর্মের হয়ে। আপনার হয়ে। এ শুধু যুদ্ধ নয়। আপনার পুজোও বটে। আশীর্বাদ করুন। 


- বন্দুক কেন সাথে?


- পুষ্পাঞ্জলির সময় আসবে ইশ্বর, এ সংগ্রামের অন্যদিকে। সমস্ত পাপের শেষে। ততদিন যে বন্দুকই যে আপনার চরণকমলে নিবেদিত। আশীর্বাদ করুন হে শ্রেষ্ঠ। 


- বেশ। আশীর্বাদ করি তোমার বন্দুককে স্পর্শ করে। এসো কাছে, ও বন্দুক এগিয়ে দাও।


- আমি ধন্য।

বন্দুক ছুঁয়ে ইশ্বর গাইলেন - 

" ...তুমি হও আমার মেয়ের ঘুমিয়ে পড়া মুখ
তাকিয়ে থাকি,এটাও আমার বেঁচে থাকার সুখ"।


পুচকে কবরের বুকে লুটিয়ে পড়লেন ভক্ত। বৃষ্টি নেমে ধুইয়ে দিল কবরের উপরের ধুলো, ভিজিয়ে দিলে পিঠের আলগা হওয়া বন্দুক।

ভক্তের বুকে রয়ে গেল হাপুস কান্নার সুর - 


"তুমি হও বেঁচে থাকার রসদ সবার কাছে", তার গালে স্মৃতির ধুলো, কাঁধে ট্রিগারের ভার, পিঠে ঈশ্বরের হাত।


২। উত্তর 

- তুমি শেষ পর্যন্ত ওই দিবাকর জানার ছেলেকে বিয়ে করবে? শেষে ওই গোয়ালার ছেলেকে পছন্দ করলে তুমি? ছিঃ।

- তোমার চিন্তাগুলো এত ছোট বাবা? দিবাকরকাকু গোয়ালা তো কী হয়েছে? অনেস্ট বিজনেস্‌ করে এসেছেন গোটা জীবন। ওর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। 

- থাম! বড় বড় কথা শিখেছ। তুমি ওই গোয়ালা দিবাকর জানার ছেলেকে বিয়ে করতে পারবে না। 

- আমি তোমার কথা শুনতে পারব না। 

- আমার কথা শুনবে না?

- না।

- বটে? খুব লায়েক হয়েছ না? প্রেম করে বিয়ে করবে? ওই ছেলেকেই বিয়ে করবে? ও তোমার স্টেটাস মেইন্টেইন করতে পারবে? ডাক্তার সান্যালের ছেলের সম্বন্ধ এসেছে। তাকে ছেড়ে তুমি ওই জানা গোয়ালাকে কনসিডার করতে পারলে কী করে? তুমি আমার ডিসিশন কিছুতেই শুনবে না? চুপ থেক না, উত্তর দাও। 

- প্রশ্নগুলো সহজ, আর উত্তরতো জানা।



৩। চেনা 





- আপনি বুদ্ধ?

- ইয়াপ্‌।

- গৌতম বুদ্ধ?

- ইয়াপ্‌।

- রিবার্থ?

- ইয়াপ্‌।

- হোয়াট দ্য হেল? 

- হেল? ওই ব্যাপারে কিন্তু আমি সাইলেন্ট।

- ধুর।

- রিয়েলি। বাই দি বাই, আপনি?

- আপনি যখন বুদ্ধ, তাহলে আমি চে গুয়েভেরা। 

- ওকে চে।

- বেশ, আপনি যখন বুদ্ধ; তখন ফিলোসফি কিছু ঝাড়ুন।

- ফিলসফি? ফিলোসফি একটাই। ওই গিটারটা দিন। শুনিয়ে দিচ্ছি।

- গিটার চাই? কেন?

- সে জন্মে নির্বাণ এ জন্মের গিটার। দিন না দিন। ফিলোসফি গেয়ে শোনাই। 

- এই নিন। শুরু করুন।

- চে না দুঃখ,চে না সুখ...

কে দেয় ?

- কে দেয় তোদের?

- দেয়? কে দেবে? কী দেবে? কেন দেবে?

- উফ, কে দেয় হচ্ছে অ্যান এক্সপ্রশন অফ সারকাজম। এটাও 
বুঝিস না? মোরন!

- কে দেয়?

- রাইট। মানে এত বাড়তি এনথু পাস কোথা থেকে? কুল রিটর্ট।

- ওহ। তেল বেড়েছে ব্যাপারটা বুঝি রাস্টিক হয়ে পড়েছে?

- র‍্যামো:, ফেসবুকে লিখবি খুব তেল বেড়েছে? বরং কে দেয় কে ঘুরিয়ে যদি হু গিভস বলা যায়, ইট সাউন্ডস ইভেন কুলার।

- ঢ্যামনামো কে কাউন্টার করতে "কে দেয়" বলে কুল সারকাজম ফ্লোট করানোর নেদু চেষ্টাটা সুপিরিয়র ফর্ম অফ ঢ্যামনামি নয়? সারকাজম দার্জিলিঙের ফাইনেস্ট চা, শুড নট বি ইন এভ্রিওয়ানস কাপ। 

- নতুন আইডিয়াকে অ্যাক্সেপ্ট করতে বাঙালির যে কেন এত হেজিটেশন!

- এ'সব আইডিয়া তোকে কে দেয়? হু গিভস? 

- ধুর বা...।

- এতক্ষণে বাঘের বাচ্চার মত কথা বলছিস।

রাতের খাবার

- রাতের খাবারে কী আছে রে কানাই?

- ট্যাঙড়ার ঝাল। বেগুন পোড়া মাখা।

- ডালে পেঁয়াজ ফোঁড়ন দিয়েছিস?

- আজ্ঞে।

- গুড বয়। খেতে দিবি কখন?

- কখন দিলে সুবিধে হয় আপনার?

- ঘণ্টা খানেক দে। ফ্রেশ হয়ে নিই।

- ঘণ্টাখানেক দেওয়া যাবে না। ছোটদাদাবাবুর পেটে খিদে। খেতে চাইলেন বলে। ভূতের আবার ফ্রেশ হওয়া কী? এমনিতেই আপনার রক্ত খাওয়ার টাইমের সঙ্গে ছোটদাদাবাবুর ডিনারের সময় মেলাতে গিয়ে বড় ঝ্যামেলা হচ্ছে। ডিনারের সময় নিমগাছের দিকের জানালা খুললেই ছোটবাবু কেমন যেন সন্দেহ করছেন কিন্তু।

- আরে বাবা জানালা খোলা না থাকলে ঝোলের গন্ধ, ডালের সুবাস আমার একঘেয়ে রক্তের স্যুপে মিশবে কী করে বাপ? ম্যানেজ কর। ম্যানেজ কর।