Thursday, September 24, 2015

গণেশ পুজো

এক। 

জীবনের বিভিন্ন ধাক্কায় পর্যুদস্ত নির্মলের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল যখন ডিভোর্সের ছ’মাসের মাথায় তার বার্ন্স অ্যান্ড বার্ন্সের সাধের চাকরীটাও গেল। নিষ্ঠাবান বামুনের ছেলে নির্মলের পরিবার সিদ্ধিদাতার ভক্ত। গণেশ কে প্রণাম না ঠুকে এক গেলাস জল পর্যন্ত মুখে তোলে না নির্মল।

কিন্তু সিদ্ধিবিনায়ককে এত তোল্লাই দিয়েও যখন জীবনে এত দুরমুশ হয়ে পড়তে হল, নির্মলের সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল হাতি মাথা ইডিয়টের উপর। বাড়ির ঠাকুর ঘরের দরজা খুলে ঠাকুরের পেল্লায় সিংহাসনের সামনে গিয়ে গণেশ মূর্তির শুঁড় ধরে দিলেন বেদম ঠেলা; মূর্তি হেলে গেল।

“শালার পো, এই জন্যে গোটা জীবন তোমার পুজো করে হন্যে হলাম? কত লাখ লাখ কিলো লাড্ডু ভোগে হাপিশ হয়ে গেল। এই নিয়ম ওই উপোষে প্রাণ জেরবার হয়ে গেল। আর এই তার আর ও আই? ভগবান না হাতি! একটা ডেডবডি কোথাকার”, উত্তেজনায় হুড়মুড় করে বলে গেল নির্মল। আরও দু’চারটে খিস্তি ঝাড়তে যাচ্ছিলেন নির্মল এমন সময় এক বিরাশি সিক্কার ধাক্কায় সোজা মেঝেয় লুটিয়ে পড়লে নির্মল। অজ্ঞান হওয়ার আগে নির্মল অস্পষ্ট শুনতে পেলেন যেন “শুয়ার, আমার নামে লাড্ডু এনে নিজের ব্লাড শুগার আমি বাড়াতে বলেছি? পরকীয়ায় ল্যাটপ্যাট হয়ে কেস খেতে আমি বলেছি? অফিস টাইমে ঘুমিয়ে ট্যাঁস খেতে আমি বলেছি?”।

গণপতি বাপ্পা মোরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।

অন্য। 

- গণেশ পুজো? আরে ধুর, ও তো মেড়োদের উৎসব মশাই। বাঙালি কালচার ওই দুর্গাপুজোই হচ্ছে রিয়েল ফেস্টিভাল।
- বাঙালি? তা বটে। বাঙালি বই তো নয়। তবে ওই। জননী যেদিন মানুষ স্টেটাসে আপলিফট করবেন - সে'দিন আর চিন্তা থাকবে না।
- টন্ট করছেন?
- অন দ্য কন্ট্রারি, বাহবা দিচ্ছি।
- মানুষ স্টেটাসে আপলিফটেড হতে গেলে বাঙালিকে কী করতে হবে শুনি? আরও হাজার খানেক রবীন্দ্রনাথ পয়দা করতে হবে?
- না! আরও সহজ রাস্তা আছে।
- কী শুনি?
- আপাতত কয়েকদিন মেড়ো না বলে মারোয়াড়ি বলা প্র‍্যাক্টিস করুন। দেখবেন ন্যাজটা দু'দিনে হাফ ইঞ্চি ছোট হয়ে আসবে। প্রমিস।

পান সম্মত

একটা পান সম্মত খুন করতে চেয়েছিল অমিত। একটা পান সম্মত খুন।

অবশেষে পেরেছে। নিজেকে সাইকোপ্যাথ বলে ভাবতে খারাপ লাগে তার, বরং তার বিশ্বাস যে ফাঁসিতে চড়ার আগে অন্তত এ পৃথিবীতে পান সাহিত্যের হয়ে একটা জোরালো সওয়াল রেখে গেল সে।

নাঃ, মাতাল হয়ে খুন করতে চায়নি সে। সে পানে খুন করতে চেয়েছিল। এবং পেরেছে। আহ:, নিশ্চিন্দি। পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছলে সে। পুলিশ আসতে এখনও অন্তত আধ ঘণ্টা।

একটা সিগারেট ধরিয়ে ইজি চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিলে সে। তিন হাত দূরে পড়ে মৃন্ময়ীর নিথর দেহ। মাথাটা থেঁতলানো। আহ, বড্ড রক্ত। বড্ড অল্প বয়েসে চলে যেতে হল মেয়েটাকে; থার্ড ইয়ার আর এমন কী? আর নিজের শ্যালিকা বলে নয়, অমিত জানে যে মেয়েটা সত্যিই ভীষণ ইন্টেলিজেন্ট ছিল। সান্ত্বনা এ’টাই, যে সে পানের বেদীতে বলি হয়েছে।

ইজিচেয়ার থেকে সামনে মেঝের দিকে ঝুঁকে অস্ত্রটাকে কুড়িয়ে নিয়ে ফের গা এলিয়ে দিলে অমিত। পকেট থেকে রুমাল বের করে অস্ত্রের গা থেকে সযত্নে মৃন্ময়ীর রক্ত মুছে দিলে। অস্ত্র বলতে নারকোল তেল ভরা বড় ডিবেটা যা দিয়ে কয়েকশো বার মেয়েটার মাথার বাড়ি মারতে হয়েছে। কী খাটনি। তবে কাজের কাজ হয়েছে শেষ পর্যন্ত। গুণগুণ করে গেয়ে উঠলে অমিত – “মেরা পেয়ার শালিমার”।

ভালো শিঙাড়া

- ভালো মানুষ আর ভালো শিঙাড়ার। বড় অভাব।

- ভালো মানুষে কাজ কী ভাই? তাকে পেলে চায়ের সাথে কামড় 
দেবে না মুড়ি মাখা দিয়ে খাবে?


- শিঙাড়া বেশি ইম্পরট্যান্ট বলছ?

- ঘোড়া পিটিয়ে গাধা পসিবল। হারামি কে বুদ্ধ বা তস্য হারামির পাল্লায় ফেলে দাও, তার ত্যাঁদড়ামি কন্ট্রোলে চলে আসতে বাধ্য। কিন্তু সন্ধ্যার পিওর ক্ল্যাসিকাল মুডে যদি হানি সিংহ লেভেলের রদ্দি শিঙাড়া ইনসার্ট করেছ, তবেই ক্যালামিটি।

- তবে বলি কি..।

- কী?

- যদি মনের মত মানুষই হয়, চা মুড়ির সাথে শিঙাড়ার প্যাশনে তাকে কামড় দিতেই বা ক্ষতি কী? যদি সে মানুষ বনলতাইস্ট ফ্লেভারে নিয়েই আসতে পারে ...।

- মানুষ বনলতা? সে আলটিমেটলি তোমায় ট্রামের তলে টেনে নেবেই। ফিগারেটিভলি অর আদার ওয়াইজ। তাই তো বলি, কীপ ইওর ইনার জীবনানন্দ কাম অ্যান্ড অ্যাক্সেপ্ট শিঙাড়া অ্যাজ দ্য রিয়াল দু'দন্ড শান্তি।

হঠাৎ রাতের দুই


-কখন থেকে নক করছি মশায়। ঘুমিয়ে টুমিয়ে গেসলেন নাকি?


-শুয়ে না ঘুমিয়ে কতক্ষণ থাকা যায়?


-একটা কলিং বেল লাগাতে পারেন তো?


-কলিং বেল দরজায় লাগে। ডালায় নয়।




রাত দু'টোয় ঘরে তিনটে মুর্গি দেখে আঁতকে উঠলেন বিভূতিভূষণবাবু। বালিগঞ্জে এমন মাঝরাত্রে দুম করে মুর্গি আসবে কোথা থেকে? কেউ মস্করা করেছে?

ঘুমন্ত চোখ কচলে ভালো করে দেখলেন তিনি। ঠিক তিনটে মুর্গি; বেডরুমের মেঝে জুড়ে ছটফট করে বেড়াচ্ছে। ছটফট করছে যন্ত্রণায়, কারণ মুর্গিগুলোর আবার ডানা কাটা। মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে চাপ চাপ রক্ত। আর ঘরময় কর্কশ চ্যাঁ চ্যাঁ ডাক।

মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো বিভূতিভূষণবাবুর। অজ্ঞান হওয়ার আগে তার মনে পড়ল যে আজ বাড়ি ফেরার পথে এক প্লেট চিকেন উইং স্ট্রিপ নিয়ে এসেছিলেন প্যাক করিয়ে; কিন্তু খেতে বেমালুম ভুলে গেছেন।

প্রেমে পড়ার গল্প

- আপনার প্রেমে পড়ার গল্প শুনি।

- বড় বেশি স্ট্রেট লাইনে, বড্ড ইউসুয়াল।

- শুনি।

- অ্যাম আ ব্যাড স্টোরি টেলার।

- বাজে গল্প বলে, এমন প্রেমিক আছে?

- কম প্রশ্ন করে, এমন প্রেমিকা আছে?

- সে কী? এখনও খুঁজছেন?

- কী?

- এখনও প্রেমিকা খুঁজছেন? আরও প্রেমিকার প্রয়োজন?

- নাহ, প্রেমের গল্প খুঁজছি, যেমন আপনি খুঁজছেন।

- বেশ, বলতে শুরু করুন।

- একটা কাজ করি; আপনাকে একটা নতুন প্রেমের গল্প বলি, মাত্র বারো লাইনের - কেমন?