Thursday, September 24, 2015

মা আসছেন

-হাওয়ায় একটা ইয়ে টের পাচ্ছেন?


- ইয়ে?

- একটা শারদীয় ফিল আর কী।

- আছে না কি?

- অফকোর্স, মিহি ইয়ে একটা। রোদ্দুর কম্ফর্টেবল হয়ে আসছে। 

- ও।

- একটা এক্সাইটমেন্ট অনুভব করতে পারছি।

- এক্সাইটমেন্ট?

- মা আসছেন। মন ভালো হয়ে যাবে না?

- মা আসছেন?

- অক্টোবরের কুড়ি থেকে সপ্তমী। আসছেন তো বটেই।

- আই সি, আপনার মা আসছেন।ওল্ড এজ হোম কি পুজোর ক'দিন বন্ধ-টন্ধ থাকে নাকি?

Tuesday, September 15, 2015

স্মল স্টেপ জায়ান্ট লিপ


নীল চাঁদে নামতেই গমগমে আওয়াজে কেঁপে উঠলো তার ওয়্যারলেস রিসিভার।

- ওয়েলকাম নীল। ওয়েলকাম। 
- কেমন আছেন স্যার। 
- উজ্জীবিত। মাচ নিডেড ব্রেক। 
- যাক। আপনাকে ফিরে পেয়ে রাষ্ট্রনেতারা আপ্লুত হবেন। 
- তারা তো আপ্লুত হবেনই। এমন সস্তার প্রব্লেম সল্ভার কি সহজে জোটে? সিগারেট আছে?
- সরি স্যার। মানে...চাঁদে তো। 
- অ। তাই তো। যাক গে। ভেবেছিলাম ছেড়ে দেব। তবে কাউকে দেখলেই...বুঝলে কী না...বাতিক। যাক। সে ব্যাটাকে এনেছ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার। অফ কোর্স।
- ইঞ্জেকশন?
- দেওয়া। অজ্ঞান। টোটালি। ফর গুড।
- গুড। লুনার ক্যাম্পে শুইয়ে দাও ওকে। ও এখানেই থেকে যাবে। 
- জানি স্যার। ইন্সট্রাক্‌শন চলে এসেছে। তবে ইয়ে। আপনি নতুন ইমেজ নিয়ে ফিরে যাবেন গোচরের আড়ালে থাকতে সে'টা তো বুঝলাম। কিন্তু আপনার মত চোস্ত বাঙালি কিনা ফিরে যাবে দক্ষিণ ভারতীয় সেট আপে? দক্ষিণ ভারতীয় পরিচয়ে?
- চাঁদকে গ্রীনরুম বানিয়ে এত বছর মেকআপ নিলাম। এত ম্যারাথন মেকআপের পর যদি বাঙালির ব্যাটা বাঙালি হয়েই ফিরি তবে আর থ্রিল কোথায়? 
- তা বটে। মেকআপ জব্বর হয়েছে স্যার। ঠিক যেন উনিশ বছরের দক্ষিণ ভারতীয় যুবক। কে বলবে আপনার বয়স সত্তরের উপরে।
-  সত্তর? হেহ!
- আশি?
- আশি ? হেহ!
- কত স্যার?
- আন্দাজ করে কী হবে, চাঁদে হার্ট অ্যাটাক হলে সে একাকার কাণ্ড হবে। যাক গে। ক্যুইকলি ওই অজ্ঞান বডিকে এই লুনার ক্যাম্পে ডাম্প কর। আর শোন হে নীল, আমার চেহারা দেখে দেশে কেউ সন্দেহ করবে না তো?
- কী যে বলেন স্যার। আপনি চাঁদে বসে মেকআপ নিলেন, কার বাপের সাধ্যি বুঝতে পারে যে আপনিই আসলে রজনীকান্ত নয়।
- রজনীকান্ত? যাকে উঠিয়ে এনেছ তার নাম রজনীকান্ত? সেন নয় তো?
- না না স্যার। ইডলি দোসাওলা রজনীকান্ত। রজ্‌নীকান্থ বলতে পারেন। 
- আই সি। ওটাই তাহলে আমার নতুন নাম। 
- হ্যাঁ স্যার। 
- বেশ। রকেট তোয়ের কর। এবার রওনা হব। নতুন জীবন শুরু করার আগে একবার শুধু গোপনে কলকাতা যেতে হবে। 
- কলকাতা কেন স্যার? 
- পুরোনো মেস বন্ধুর কাছে হাজার খানেক সিগারেটের ঋণ রয়ে গেছে। সে ঋণের বোঝা সামান্য বাড়াব ভেবেছি। অভ্যাস আর স্মৃতি স্নেহ বড় ভয়ানক, বড্ড ভয়ানক। এনিওয়েজ, যাওয়া যাক। আর হ্যাঁ, চাঁদে ল্যান্ড করার সঙ্গে সঙ্গে আমার লিখে দেওয়া কোটেশনটা আউড়ে ছিলে তো বাবা নীল? 


Monday, September 14, 2015

ইন্টারভিউ স্নিপেট্‌স

১। 
-নিজের ব্যপারে কিছু বলুন
-আলুর দম ভালোবাসি
-এটাই আপনার সবার আগে মনে এল?
-ভুল?
-নয়?
-সরি। 
-ইউ শুড বি। আগে লুচি বলুন।তবে তো।
২।
-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
-পাঁচ বছরে এমন জায়গায় থাকতে চাই যাতে সিজন এলে হপ্তায় পাঁচ দিন পাতে ইলিশ থাকে।
৩।
-নিজের দু'টো স্ট্রেন্থ বলুন। 
-এক ব্লেডে দু হপ্তা নিখুঁত ভাবে চালিয়ে নিতে পারি।
মিহিদানা দিয়ে মুড়ি মাখা খেয়ে চার দিন কাটাতে পারি। 
৪।
-নিজের দুটো উইকনেস?
-শাল পাতার দোনা ছাড়া ফুচকা এক্সেপ্ট না করতে পারা। বিজয় দশমীতে সিদ্ধি।
৫।
-দেশের পলিটিকাল সিচুয়েশন সম্বন্ধে আপনার মতামত?
-ঘেঁটে ঘ।
-ইন্ডাস্ট্রি?
-চেটে চ।
-নেগেটিভ শোনাচ্ছে।
-আসুন হিমসাগর নিয়ে গল্প করি

পুজো ট্যুইট সিরিজ

“Go ভিড়ে যাও, আরও Go ভিড়ে যাও…” – পুজো শপিং’য়ের মরশুমে গড়িয়াহাট মোড়ে দাঁড়িয়ে অনুপম রায়।
হনুমান। সে একটি বার হনুমান বলে ডেকে, মিচকি হেসে, আঁচল ভাসিয়ে, মণ্ডপ আলো করে চলে যাবে। এ আশায় জিন্দেগী বয়ে গেল।
প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে। তখন মণ্ডপে ঢাকের বাদ্যির সে এমন তেজ, পেটো পড়লেও টের পাওয়া যেত না। হু দ্য হেল ইজ প্রেম।
-আড্ডা-চেক।খাওয়াদাওয়া-চেক।মণ্ডপে আড্ডা-চেক।ল্যাদ-চেক।পুজোসংখ্যা-চেক।অ্যাম রেডি ফর পুজো।
-দেবীদর্শন?
-ঝাড়ি?
-দুর্গাঠাকুর বে
-ওহ সরি
আমি বিজলিগ্রিলের কর্ণধার হলে বছরে চারদিন নিজের সংস্থার নাম পাল্টে পুজোলিগ্রিল রাখতাম। গিমিক্‌টা পাবলিকে খেত।

বাবারা


- বাবা হবি?



- ইন ফিউ মান্থস।

- রেডি?

- একদম। প্যারেন্টিংয়ের ওপর খানতিনেক বই অলরেডি পড়ে ফেলেছি।

- বইতে পারফেক্টলি মলাট দিতে শিখেছিস?

- মলাট?


- সেনসিটিভ বাবাদের এসেনশিয়াল কোয়ালিটিগুলোর একটা।


- বইয়ে মলাট দেওয়া?


- অফ কোর্স। 


- রিমি ভালো মলাট দেয়। ও সামলে নেবে।


- নো। স্পার্ম যার মলাট তার। মায়েরা মলাট দেওয়া বইতে বিউটিফুলি লেবেল সেঁটে ছেলে বা মেয়ের নাম ক্লাস সাবজেক্ট লিখবে।


- কোন শাস্ত্রে বলা আছে? 


- মামাকে চ্যালেঞ্জ করছিস?


- তোমায় তো কোনদিন মলাট দিতে দেখলাম না। তোমার ছেলেরা তো দিব্যি বেরিয়ে গেল স্কুল ডিঙিয়ে।


- আমি সেনসিটিভ বাবা নই। প্র‍্যাক্টিকাল বাবা।


- প্র‍্যাক্টিকাল বাবারা বইয়ে মলাট দেয় না? 


- না, প্র‍্যাক্টিকাল বাবাদের প্যারেন্টিং মোটো হচ্ছে ম্যানেজ ইওর ওউন হ্যাপা।


- আমায় তাহলে প্র‍্যাক্টিকাল বাবা না হয়ে সেনসিটিভ বাবা হতে বলছ কেন? 


- কারণ তোর নেচার সেনসিটিভ বাপ হওয়ার জন্য টেলর-মেড।


- হাউ? 


- তোর গুপী গাইন বাঘা বাইন বেশি ভালো লাগে, তুই তাই সেনসিটিভ বাপের ট্র‍্যাজেক্টরিতে আছিস। আমি হীরক রাজার দেশের ফেভারে। আমি প্র‍্যাক্টিকাল বাপ।


- এটা তোমার থাম্বরুল?


- একদম।


- আর যে বাপ গুপী বাঘা ফিরে এলো প্রেফার করে?


- সে বাপ সব সাবজেক্টে স্পুন ফীড করিয়ে ফৌত হবে। 


- তোমার থিওরি মামা, বলিহারি।


- মামাকে চিনে রাখ এই বেলা। ওহ বাই দি বাই; কঙ্গ্রাচুলেশন্স।